*** আব্বাসি খেলাফত***

আজ সুলতান আব্দুল হামিদের মৃত্যু বার্ষিকী

উসমানী খিলাফতের সর্বশেষ শক্তিশালী শাসক সুলতান আব্দুল হামিদ খান ১৯১৮ সালের আজকের এই দিনে মৃত্যুবরণ করেন। আজকের বিশ্বরাজনীতি বুঝতে হলে আমীরুল মুমিনীন সুলতান আব্দুল হামিদ খানকে বুঝতে হবে। ভবিষ্যতে মুসলমানদের মুক্তি কিসে আসবে বুঝতে গেলে আব্দুল হামিদকে বুঝতে হবে। আজকের দুনিয়া কিভাবে আজকের দুনিয়া হল তা বুঝতে গেলে উসমানীদের(অটোমানদের) বুঝতে হবে।

প্রথম বিশ্বযুদ্ধের প্লট সাজানো হয় কয়েকটা বিষয়কে কেন্দ্র করে।
১)জার্মান সাম্রাজ্য ও উসমানী খিলাফতের ধ্বংস
২)পৃথিবীর জ্বালানী সম্পদের একচেটিয়া কর্তৃত্ব দখল
৩)পৃথিবীর মূল বাণিজ্যপথগুলোর একচেটিয়া দখল
৪)ইহুদীদের ইউরোপ থেকে একটা সেইফ এক্সিটের পথ বের করে দেয়া
৫)ইস্তাম্বুল ও জেরুসালেম দখল করে হাজার বছরের ক্রুসেডে একের পর এক পরাজয়ের বদলা নেয়া

এই পরিকল্পনাগুলোর কোনটাই বাস্তবায়ন সম্ভব হত না যদি সুলতান আব্দুল হামিদ খান ক্ষমতায় থাকতেন। কারন, সুলতান আব্দুল হামিদ থাকলে শরীফ হুসাইন উসমানীদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করতেন না। শরীফ হুসাইন ছিলেন সুলতান আব্দুল হামিদের প্রায় অন্ধ ভক্ত। এমনকি, সুলতানকে যখন ফ্রিম্যাসন ইয়াং টার্কসরা নির্বাসনে পাঠায়, শরীফ হুসাইন তাকে মক্কায় এসে খিলাফত ঘোষনার অনুরোধ করেন। কিন্তু আব্দুল হামিদ জানতেন, এই প্রচেষ্টা আসলে ভ্রাতৃঘাতী সংঘাতকেই বাড়াবে। সুলতানকে ক্ষমতা থেকে অপসারনের পর টার্কসদের সাথে শরীফ হুসাইনের সম্পর্কের চরম অবনতি ঘটে। জাতীয়তাবাদী টার্কসদের সাথে আরব, বার্বার বা বা কুর্দ কারোই সম্পর্ক ভাল ছিল না যা উসমানী খিলাফতকে ভেতর থেকে ধ্বংস করে দেয়।

আব্দুল হামিদ ক্ষমতায় থাকলে খুব সম্ভবত প্রথম বিশ্বযুদ্ধই হত না। তিনি এই যুদ্ধ স্রেফ এড়িয়ে যেতেন কোন না কোন উপায়ে। এর আগে কয়েকটা ব্যতিক্রম ছাড়া প্রায় প্রতিবারই তিনি যখন কোন উপায় নেই তখন যুদ্ধ এড়াতে সক্ষম হয়েছিলেন। কাটা দিয়ে কাটা তুলতে ওস্তাদ আব্দুল হামিদ বহুবার ব্রিটেনকে রুশদের বিরুদ্ধে, জার্মানদের ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে এবং রুশদের অস্ট্রো-হাঙ্গেরীয়ানদের বিরুদ্ধে লাগিয়ে দিয়েছিলেন। মূলত তখন এদের কামড়াকামড়ির ওপরেই নির্ভর করতো উসমানী খিলাফাহর টিকে থাকা।

আরব বিদ্রোহ না হলে এবং প্রথম বিশ্বযুদ্ধ না হলে মধ্যপ্রাচ্যের প্রায় পুরোটাই থাকতো উসমানীদের নিয়ন্ত্রনে। ফলে তেল ও গ্যাসসম্পদের নিয়ন্ত্রন থাকতো মুসলিমদের হাতে। জেরুসালেম ও ইস্তাম্বুল এবং সুয়েজ, বাবেল মান্দেব, বসফরাস-দার্দানেলস, শাত-ইল আরবের দখলও উসমানী খিলাফতের হাতে থাকতো।
আব্দুল হামিদ খান ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় জায়োনিস্টরা ফিলিস্তিনে জমি কিনতে পারে নাই, এবং তিনি তা করতেও দিতেন না।

এই কারনে, আমি বিশ্বাস করি, সুলতান আব্দুল হামিদ খান ক্ষমতায় থাকলে আজকের দুনিয়া কখনো আজকের চেহারা পেত না। আধুনিক ইউরোপের মননের গহীনে থাকা ক্রুসেডার মানসকে সবচেয়ে স্পষ্টভাবে বোঝা যায় উসমানী খিলাফতের ইতিহাস পড়লে।

আল্লাহ তার কবরকে জান্নাতের বাগিচা করে দিন, আর আমাদের ভেতর থেকে উত্থান ঘটান নতুন কোন আব্দুল হামিদের। collected from Muhammad Imran khan

**আল্লামা জালালুদ্দিন রুমি**

আজ থেকে ৭৪৭ বছর পূর্বে আজকের এই দিনে (১৭ ডিসেম্বর ১২৭৩ সাল) পরলোকগমন করেন প্রিয় মাওলানা জালালুদ্দিন রুমি (রহ.)। এই লেখায় মাওলানা রুমিকে নিয়ে সংক্ষেপে জানতে পারবেন।

১.
সময়টা ৩০শে সেপ্টেম্বর, ১২০৭ সাল। আনাতোলিয়া উপদ্বীপের বালখ (বর্তমান আফগানিস্তান) শহরের ছোট্ট গ্রাম সুলতানুল উলামা-এর বাসিন্দা বাহাউদ্দিন ওয়ালাদ এবং মুইমিনা খাতুনের ঘর আলোকিত করে জন্ম নেয় এক ফুটফুটে শিশু। বাহাউদ্দিন সন্তানের নাম রাখেন জালাল উদ্দিন।
কে জানতো আনাতোলিয়ার এই শিশুটি একসময় পুরো পৃথিবী জুড়ে যুগের পর যুগ ধর্ম, বর্ণ, নির্বিশেষে সকল মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিবে। হয়ে উঠবেন বিখ্যাত কবি, সাধক, আইনজ্ঞ, মাওলানা ও সুফী। পশ্চিমাদের, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের “সবচেয়ে জনপ্রিয় কবি” কিংবা “বেস্ট সেলিং পয়েট” উপাধীতে ভূষিত হবেন।
হ্যাঁ, বলছিলাম তের শতকের বিখ্যাত উলামা এবং আইনজ্ঞের ঘরে জন্ম নেয়া আমাদের সবার প্রিয় মাওলানা জালাল উদ্দিন রুমির কথা। আজ আমরা এই বিখ্যাত ব্যক্তির গল্প শুনবো। যার উক্তি শুনলে, কবিতা পড়লে আমাদের হৃদয়ে দাগ কাটে, যার কথায় আমরা জীবন বদলে ফেলার প্রেরণা পাই, যার কবিতায় শেখায় নতুন করে ভালোবাসার সংজ্ঞা, খুঁজে পাই স্রষ্ট্রার প্রতি অগাদ ভালোবাসার রসদ।
২.
বাবা বড় কাজী (আইনজ্ঞ), মা খোয়ারিজমী রাজবংশের বংশধর হওয়ার সুবাদে শৈশব থেকেই রুমি সমাজের উঁচু পর্যায়ের জ্ঞানীগুণীদের সাহচর্য পেয়ে ইসলামি শাস্ত্রের বিভিন্ন বিষয়ে গভীরভাবে জ্ঞান অর্জন করার পাশাপাশি ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন মানুষ হিসেবে বেড়ে উঠার সুযোগ পান।
কৈশোর বয়সে রুমি কেমন প্রতিভার অধিকারী ছিলেন, তা আমরা পারস্যের বিখ্যাত আধ্যাত্মিক কবি আত্তার কিশোর রুমিকে দেখে যে মন্তব্য করেন তা শুনলেই অনুমান করতে পারবো। রুমির বয়স তখন ১১ বছর, বালখ শহরের রাজার সাথে এক বিবাদের জের ধরে বাহাউদ্দিন ওয়ালাদ তার পরিবার ও কয়েকশ অনুসারী নিয়ে মধপ্রাচ্যে হিজরতের জন্য বের হয়ে যান। আর এই হিজরত চলাকালেই রুমির সাথে সাক্ষাৎ ঘটতে থাকে সে সময়ের বিখ্যাত সব মনিষীদের।
১৮ বছর বয়সে পরিবারের সাথে রুমি মক্কা যাওয়ার পথে নিশাপুরে দেখা হয় কবি আত্তারের সাথে। তিনি রুমিকে তার বাবার পেছনে হাঁটতে দেখে বলে ওঠেন,“একটি হ্রদের পেছনে একটি সমুদ্র যাচ্ছে”। তিনি রুমিকে ইহজগতের আত্মার উপর লেখা বই ‘আসারনামা’ উপহার দেন। যা রুমির কিশোর বয়সে গভীর প্রভাব ফেলে এবং তিনি মানব রহস্যের উপর আকৃষ্ট হয়ে ওঠেন।
হিজরতে থাকা অবস্থায় ১২২৫ সালে রুমি গওহর খাতুনকে বিয়ে করেন। তার মৃতুর পর বিয়ে করেন এক বিধবা মহিলাকে, দুই সংসার মিলে রুমি পাঁচ সন্তানের জনক ছিলেন। ।
৩.
১২২৮ সাল। আনাতোলিয়ার শাসক আলাউদ্দিন কায়কোবাদ, বাহাউদ্দিন এবং তার পরিবারকে কোনিয়ায় আসতে দাওয়াত করেন। বাহাউদ্দিন কোনিয়ায় এসে একটি মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। কিছুদিন পর তিনি মারা গেলে মাত্র ২৫ বছর বয়সে রুমি উত্তরাধিকার সূত্রে তার স্থলাভিষিক্ত হন এবং ধীরে ধীরে তিনি নিজ যোগ্যতায় সেখানকার প্রধান মৌলভী হয়ে ওঠেন।
শিক্ষক থাকা অবস্থাতেই রুমি পিতা বাহাউদ্দিনের এক ছাত্র সৈয়দ বুরহান উদ্দিন মোহাক্কিকি তীরমিযির কাছে টানা নয় বছর বিভিন্ন ইসলামি শরীয়া এবং সূফীবাদের শিক্ষা গ্রহণ করেন এবং একসময় তিনি কোনিয়ার মসজিদের প্রধান বিচারক হয়ে ওঠেন এবং মানুষকে নৈতিক শিক্ষা দিতে থাকেন। এই সময়কালে রুমি দামেস্ক ভ্রমণ করেন এবং বলা হয়ে থাকে তিনি সেখানে চার বছর অতিবাহিত করেন।
সমাজের উঁচুস্তরের মানুষ হওয়ার পরও তিনি সমাজের সকল শ্রেণীর মানুষের সাথে মেলামেশা করতেন। আর এভাবেই ১২৪৪ সালের ১৫ই নভেম্বর তার সাথে পরিচয় হয়ে যায় একজন চালচুলোহীন ভবঘুরে সাধু, দরবেশ শামস তাবরিজি এর সাথে। মাওলানা রুমী একজন ধর্মীয় গুরু, মৌলভী, সুপ্রতিষ্ঠিত শিক্ষক এবং আইনজ্ঞ থেকে সুফী, দরবেশ, সাধু ও কবি হয়ে উঠার পেছনে এই শামসের ভূমিকা অপরিসীম।
৪.
শামস তাবরিজি দেখতে ভবঘুরে হলেও তিনি ছিলেন উচ্চাঙ্গের জ্ঞানী ও সাধক। তিনি মধ্যপ্রাচ্যের সর্বত্র ভ্রমণ করে কি যেন খুঁজছেন এবং বলছেন “কে আমার সঙ্গ সহ্য করিবে”। একটি কন্ঠ তাকে বলিল, “বিনিময়ে তুমি কি দিবে?” শামস উত্তর দিলেন, “আমার শির!” কন্ঠটি আবার বলল, “তাহলে তুমি যাকে খুঁজছ সে কোনিয়ার জালাল উদ্দিন”। এভাবে মাওলানা রুমি, শামসের সান্নিধ্য এসে তাকে বন্ধু ও উস্তাদ হিসেবে গ্রহণ করেন, পরে অবশ্য তাঁর সাথে সৎ মেয়েকে বিয়ে দেন।
১২৪৮ সালের ৫ ডিসেম্বরের রাত। রুমি এবং শামস কথা বলছিলেন, এমন সময় কেউ একজন শামসকে পিছনের দরজায় ডাকে। তিনি বের হয়ে যান এবং এরপর আর কোথাও কখনো তাকে দেখা যায়নি। কথিত আছে যে, রুমির পুত্র আলাউদ্দিনের মৌনসম্মতিতে শামসকে হত্যা করা হয়, কারণ সে এই পাগলাটে শামসের সাথে নিজের বোনকে বিয়ে দিতে রাজি ছিলেন না।
শামসকে হারানোর এই শোকই রুমির জীবনের গুরুত্বপূর্ণ টার্নিংপয়েন্ট। তাঁর কাব্যসাধনার সূচনা ঘটে এই আঘাতের পর থেকেই। নিজের প্রিয় শিক্ষক এবং বন্ধুর প্রতি ভালোবাসা তাকে করে তোলে প্রেমের ও বন্ধুত্বের কবি। তিনি লেখেন,
তুমি চলে গেলে আমার চোখ দিয়ে রক্ত বাহিত হলো।
আমি কেঁদে কেঁদে রক্তের নদী বহালাম।
দুঃখগুলো শাখা-প্রশাখা বেড়ে বড় হলো, দুঃখের জন্ম হলো।
তুমি চলে গেলে, এখন আমি কীভাবে কাঁদবো?
শুধু তুমি চলে গেছো তা-ই নয়, তোমার সাথে সাথে তো আমার চোখও চলে গেছে।
চোখ ছাড়া এখন আমি কীভাবে কাঁদবো প্রিয়!”
৫.
এরপর থেকে রুমি অনায়সে গজল রচনা করতে শুরু করলেন এবং সেগুলো “দেওয়ান-ই কবির” বা দেওয়ান শামস তাবরিজীতে সংগৃহীত করা হয়। রুমির সবচেয়ে বিখ্যাত গ্রন্থ হচ্ছে “মসনবী”। এই মসনবী লেখার পেছনে আছে আরেক কাহিনী। রুমির সহযোগী এবং প্রিয় ছাত্র হুসাম-এ চালাবি সবসময় রুমির সাথে ছায়ার মতো থাকতেন।
রুমি তাঁর ছাত্রকে নিয়ে একদিন কোনিয়ার বাইরে একটি আঙুরক্ষেতে ভ্রমণে আসেন। তখন হুসাম, রুমিকে একটি কথা বলেন, যা রুমিকে চম্বুকের মতো আকর্ষণ করে, হুসাম বলেন- “যদি আপনি একটি বই লিখেন যেমন সানাই এর “এলাহিনামা” বা কবি আত্তার এর “মাতিক উত-তাইর” এর মত, যেটি অনেকের সঙ্গ দেবে। তারা আপনার কাজ থেকে হৃদয়পূর্ণ করবে এবং সংগীত রচনা করবে, এটির মাঝে মানুষ আপনাকে খুঁজে পাবে”।
রুমি মুচকি হাসলেন এবং এক টুকরো কাগজ বের করে তার “মসনবী” এর প্রথম আঠারো লাইন লিখে ফেললেন,
বাঁশের বাঁশি যখন বাজে, তখন তোমরা মন দিয়া শোন, সে কী বলে,
সে তাহার বিরহ বেদনায় অনুতপ্ত হইয়া ক্রন্দন করিতেছে…….
হুসাম রুমিকে মিনতি করতে লাগলেন আরো লিখার জন্য। রুমি তার পরের বারটি বছর আনাতোলিয়ায় তার সেরা কাজ “মসনবী” এর ছয়টি খন্ডের জন্য নিজেকে উৎসর্গ করেছেন। ১২৭৩ সালের ডিসেম্বরে রুমি অসুস্থবোধ করতে লাগলেন। তিনি তার নিজের মৃত্যুর ভবিষ্যদ্বাণী করে একটি গজল রচনা করেন, যা তাঁর মৃত্যুর পর অনেক জনপ্রিয় হয়, যার শুরু হয় এভাবে,
“কিভাবে জানব কোন ধরণের রাজা আমার মধ্যে আছে আমার সহচর হিসাবে?
আমার উজ্জ্বল মুখে দৃষ্টি দিও না আমার বদ্ধ পা’গুলোর জন্য।“
১৭ ডিসেম্বর ১২৭৩ সালে রুমি কোনিয়ায় মারা যান। তাকে তার পিতার কাছে সমাহিত করা হয় এবং যেটির নাম, “ইয়াসিল তুর্ব” বা সবুজ সমাধি, قبه الخضراء; যা বর্তমানে মাওলানা মিউজিয়াম হিসেবে পরিচিত, তার সমাধিফলকে লেখা আছে,।
“যখন আমি মৃত, পৃথিবীতে আমার সমাধি না খুঁজে, আমাকে মানুষের হৃদয়ে খুঁজে নাও”।
তাঁর জানাযায় সকল ধর্মের মানুষজন উপস্থিত হয়েছিলো। এই দিকে জর্জিয়ার রাণী গুরসু খাতুন ছিলেন রুমির উৎসাহদাতা এবং কাছের বন্ধু। তিনি কোনিয়াতে রুমির সমাধি ও মিউজিয়াম নির্মানে তহবিল প্রদান করেন।
এই অধমের সুযোগ হয়েছিলো, প্রিয় মানুষটির সমাধির পাশে দাঁড়িয়ে সালাম দেয়ার। তাঁর সমাধীর পাশে তৈরি করা হয়েছে মিউজিয়াম, মসজিদ,
সেমা নৃত্যশালা, বিদ্যালয়, বিখ্যাত মৌলভী ব্যক্তিদের কবর ও দরবেশদের থাকার জায়গা। প্রতিদিন দেশ-বিদেশের হাজার হাজার দর্শনার্থী এখানে আসে। তুরস্ক সরকার খুব সুন্দরভাবে মাওলানা রুমির ব্যবহৃত জিনিসপত্র থেকে শুরু করে অনেক কিছু এই মিউজিয়ামে সংরক্ষণ করেছেন। প্রতি শনিবার মাওলানা রুমির লেখা কাসিদাগুলো সেমা নৃত্যের সাথে পরিবেশন করা হয়।
৬.
নানান কারণে কেউ কেউ রুমির ধর্মচর্চা ও অসাম্প্রদায়িক চিন্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেন। হ্যাঁ, সুফী ধারা নিয়ে হয়তো কিছু কথা থাকতে পারে। তবে রুমির বহু কবিতা সাক্ষ্য দেয় মাওলানা রুমি একজন ধর্মভীরু, আল্লাহ ও কোরআন প্রেমিক মানুষ ছিলেন। রুমির অনেক কবিতায় সুপারিশ করে বাহ্যিক ধর্মীয় রীতি এবং কোরাআনকে প্রধান হিসেবে স্থান দেয়ার গুরুত্বকে। যেমন তিনি লিখেন,
আল্লাহর কোরআনের কাছে যাও, তাতে আশ্রয় নাও
সেখানে নবীর আত্মার সাথে মিশো
কিতাবটি বহন করে নবীর বিভিন্ন অবস্থার কথা
সমুদ্রের ন্যায় তাঁর পবিত্র মহিমা প্রকাশ করো।
রুমি আরো বলেন,
যতক্ষণ পর্যন্ত আমার প্রাণ আছে আমি কোরআনের দাস।
আমি মোহাম্মদের রাস্তার ধূলিকণা, নির্বাচিত ব্যক্তি।
যদি কেউ আমার বলা বাণী ছাড়া অন্য কিছু আমার নামে চালায়,
আমি তাকে ত্যাগ করব, সেসকল শব্দের প্রতি ক্ষুব্দ হয়ে।
রুমি আরও বলেন,
আমি আমার দুই চোখকে ‘বিরত’ রেখেছি
এই পৃথিবী আর আখিরাতের অভিলাষ থেকে
যা আমি মুহাম্মদ থেকে শিখেছি।
মসনবীর প্রথম পৃষ্ঠায় রুমি বলেন,
“হাযা কিতাবুল- মসনবী ওয়া হুয়া উসুলু উসুলিদ-দ্বীন ওয়া কাশুশাফুল –কোরআন”
“এই হচ্ছে মসনবী, এবং এটি (ইসলাম) ধর্মের মূলের মূল এবং এটি কোরআনের বর্ণনাকারী।”
রুমি দেওয়ান-এ বলেন,
সুফী হচ্ছে মোহাম্মদকে আবু বকর এর মত আকড়ে ধরা।
৭.
মসবনীর টিকায় রুমির একটা কথা আমাকে খুব বেশি ভীত করে তুলে, তিনি বলেন,
“সে ব্যক্তি সবচেয়ে বড় প্রতারক, যে সমাজের সবার নিকট ভালো”। কারণ আপনি আমি সমাজে ন্যায়ের কথা, ইনসাফের কথা, ইসলামের কথা বললে আমাদের বিরোধিতা থাকবেই। কেবল মুনাফিকরাই দুই পক্ষের সাথে ভালো সম্পর্ক রাখে।
তার কবিতা সারাবিশ্বে ব্যাপকভাবে বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত হয়েছে এবং বিভিন্ন শ্রেণীতে রূপান্তরিত করা হয়েছে। রুমির সাহিত্যকর্ম বেশিরভাগই ফার্সি ভাষায় রচিত হলেও তিনি অনেক স্তবক তুর্কি, আরবি এবং গ্রীক ভাষায়ও রচনা করেছেন। ইরান সাম্রাজ্য এবং বিশ্বের ফার্সি ভাষার লোকেরা এখনও তার লেখাগুলো মূল ভাষায় ব্যাপকভাবে পড়ে থাকে, এমনকি আমাদের দেশের কওমী মাদ্রাসাগুলোতে এখনো মসনবী শরীফ সরাসরি ফার্সী থেকে পড়ানো হয়।
রুমির কিতাবের অনুবাদসমূহও খুব জনপ্রিয়, বিশেষ করে তুরস্ক, আজারবাইজান, যুক্তরাষ্ট্র এবং দক্ষিণ এশিয়ায়। তার কবিতা ফার্সি সাহিত্যকে প্রভাবিত করেছে, শুধু তাই নয় তুর্কি সাহিত্য, উসমানীয় তুর্কি সাহিত্য, আজারবাইজান সাহিত্য, পাঞ্জাবের কবিতা, হিন্দী সাহিত্য, উর্দু সাহিত্যকেও অনেক প্রভাবিত করেছে। এছাড়াও অন্যান্য ভাষার সাহিত্য যেমন তুর্কীয়, ইরানী, ইন্দো-আর্য, চাগাতাই, পাশতো এবং বাংলা সাহিত্য ও বাংলাকে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করেছে।
রুমি তাঁর বিভিন্ন বইয়ে কোরআনের কাব্যিক অনুবাদ করেছেন। রুমির সময়কার একজন মহান জীবিত ব্যক্তিত্ব ছিলেন হাজি হাজরী, তিনি রুমির দেওয়ান এবং মসনবীতে অপ্রকাশিত প্রায় ৬০০০ এর মত পদ্য দেখান, যেগুলো কোরআনের আয়াতের সরাসরি ফার্সী কবিতাতে অনুবাদ।
৮.
মাওলানা রুমি গল্প এক লেখায় শেষ করা আসলেই কষ্টসাধ্য। তাই লেখার শিরোনাম দিয়েছি, মাওলানা রুমি: যার গল্পের শুরু আছে, শেষ নেই। তাই আজ ইচ্ছে করেই লেখা ছোট করিনি। যদিও ইতিমধ্যে আপনাদের ধৈর্য্যচুতি হয়ে গেছে, আর কষ্ট দিতে চাই না। শেষ করি মাওলানা জালাল উদ্দিন মুহাম্মদ বালখী মৌলভী রুমির কয়েকটি বাণী দিয়ে, এই যে এতক্ষণ ধরে রুমির জীবনের গল্প শুনলেন, এই নিয়ে রুমি কি বলেন শুনেন,
“অন্যের জীবনের গল্প শুনে সন্তুষ্ট হয়ো না, নিজের পথ তৈরি করো, নিজের জীবন সাজাও”।
নিজের জীবন সাজাতে হলে কি করতে হবে? এই নিয়ে রুমি বলেন,
“নতুন কিছু তৈরি করো, নতুন কিছু বলো। তাহলে পৃথিবীটাও হবে নতুন”।
নতুন কিছু করতে কোথায় খোঁজ করবেন? তাও রুমি বলে দিচ্ছে,
“তুমি এ ব্রহ্মাণ্ডে গুপ্তধনের খোঁজ করছো, কিন্তু প্রকৃত গুপ্তধনতো তুমি নিজেই”।
আমরা সবাই সুন্দর দিনের প্রত্যাশা করি, তা কি আমাদের কাছে এসে ধরা দিবে? রুমি বলেন,
“সুন্দর ও উত্তম দিন তোমার কাছে আসবেনা, বরং তোমারই এমন দিনের দিকে অগ্রসর হওয়া উচিত”।
সুন্দরের সন্ধানে বের হলে দুঃখ, কষ্ট আসবেই, রুমির ভাষায় শুনুন,
“ঘষা খেতে যদি ভয় পাও, তাহলে চকচক করবে কীভাবে?”
ঘষা খাবেন, আঘাত পাবেন, বাধা আসবে, কিন্তু তখন আপনার করণীয় কী? তাও রুমি বলে দিচ্ছে,
“শব্দ দিয়ে প্রতিবাদ করো, কণ্ঠ উঁচু করে নয়। মনে রাখবে ফুল ফোটে যত্নে, বজ্রপাতে নয়”।
জীবনে বড় হতে হলে আমাদেরকে কত কিছুই না হারাতে হবে, আর তাই রুমি আমাদের সান্ত্বনা দিচ্ছে,
“যা কিছু হারিয়েছো তার জন্য দুঃখ করো না। তুমি তা আবার ফিরে পাবে, আরেকভাবে, আরেক রূপে”।
নাহ, আজ আর নয়, এভাবে বলতে গেলে সারাদিন বলা যাবে, কিন্তু মাওলানা জালাল উদ্দিন রুমিকে পড়া শেষ হবে না। আজ এখানেই ক্ষ্যান্ত দিলাম।
তথ্যসূত্র:
১. জালাল উদ্দিন মুহাম্মদ রুমি-এর সাহিত্যকর্ম ও রচনাবলী (ইংরেজি)
২. মসনবী, (নির্বাচিত ইংরেজি সংস্করণ)
৩. Rumi and Self Discovery by Ibrahim Gamard
ফিচার ইমেজ- মাওলানার দরবারের ডামি, মেভলানার দরগা, কোনিয়া, তুরস্ক। collected md Imran khan ( khan Al Quran Research canter kualalum Pur Malaysia

***পৃথীবির সৃষ্টি হয় যেভাবে***

*** পৃথিবী সৃষ্টির হয় যে ভাবে ***
০১ বাইবেল থেকে সংগৃহীত। তার পর বুখারী শরিফ। তার পর পবিত্র আল কোরআন। ( 1 শুরুতে, ঈশ্বর আকাশ ও পৃথিবী সৃষ্টি করলেন| প্রথমে পৃথিবী সম্পূর্ণ শূন্য ছিল; পৃথিবীতে কিছুই ছিল না|
আদিপুস্তক 1:1

3 তারপর ঈশ্বর বললেন, “আলো ফুটুক!” তখনই আলো ফুটতে শুরু করল|
আদিপুস্তক 1:3

4 আলো দেখে ঈশ্বর বুঝলেন, আলো ভাল| তখন ঈশ্বর অন্ধকার থেকে আলোকে পৃথক করলেন|
আদিপুস্তক 1:4

5 ঈশ্বর আলোর নাম দিলেন, “দিন” এবং অন্ধকারের নাম দিলেন “রাত্রি|”সন্ধ্যা হল এবং সেখানে সকাল হল| এই হল প্রথম দিন|
আদিপুস্তক 1:5

6 তারপর ঈশ্বর বললেন, “জলকে দুভাগ করবার জন্য আকাশমণ্ডলের ব্যবস্থা হোক|”
আদিপুস্তক 1:6

7 তাই ঈশ্বর আকাশমণ্ডলের সৃষ্টি করে জলকে পৃথক করলেন| এক ভাগ জল আকাশমণ্ডলের উপরে আর অন্য ভাগ জল আকাশমণ্ডলের নীচে থাকল|
আদিপুস্তক 1:7

8 ঈশ্বর আকাশমণ্ডলের নাম দিলেন “আকাশ|” সন্ধ্যা হল আর তারপর সকাল হল| এটা হল দ্বিতীয় দিন|
আদিপুস্তক 1:8

9 তারপর ঈশ্বর বললেন, “আকাশের নীচের জল এক জায়গায় জমা হোক যাতে শুকনো ডাঙা দেখা যায়|” এবং তা-ই হল|
আদিপুস্তক 1:9

10 ঈশ্বর শুকনো জমির নাম দিলেন, “পৃথিবী” এবং এক জায়গায় জমা জলের নাম দিলেন, “মহাসাগর|” ঈশ্বর দেখলেন ব্যবস্থাটা ভাল হয়েছে|
আদিপুস্তক 1:10

11 তখন ঈশ্বর বললেন, “পৃথিবীতে ঘাস হোক, শস্যদায়ী গাছ ও ফলের গাছপালা হোক| ফলের গাছগুলিতে ফল আর ফলের ভেতরে বীজ হোক| প্রত্যেক উদ্ভিদ আপন আপন জাতের বীজ সৃষ্টি করুক| এইসব গাছপালা পৃথিবীতে বেড়ে উঠুক|” আর তাই-ই হল|
আদিপুস্তক 1:11

12 পৃথিবীতে ঘাস আর শস্যদায়ী উদ্ভিদ উত্পন্ন হল| আবার ফলদাযী গাছপালাও হল, ফলের ভেতরে বীজ হল| প্রত্যেক উদ্ভিদ আপন আপন জাতের বীজ সৃষ্টি করল এবং ঈশ্বর দেখলেন ব্যবস্থাটা ভাল হয়েছে|
আদিপুস্তক 1:12

13 সন্ধ্যা হল এবং সকাল হল| এভাবে হল তৃতীয় দিন|
আদিপুস্তক 1:13

14 তারপর ঈশ্বর বললেন, “আকাশে আলো ফুটুক| এই আলো দিন থেকে রাত্রিকে পৃথক করবে| এই আলোগুলি বিশেষ সভাশুরু করার বিশেষ বিশেষ সংকেত হিসেবে ব্যবহৃত হবে| আর দিন ও বছর বোঝাবার জন্য এই আলোগুলি ব্যবহৃত হবে|
আদিপুস্তক 1:14

15 পৃথিবীতে আলো দেওয়ার জন্য এই আলোগুলি আকাশে থাকবে|” এবং তা-ই হল|
আদিপুস্তক 1:15

16 তখন ঈশ্বর দুটি মহাজ্যোতি বানালেন| ঈশ্বর বড়টি বানালেন দিনের বেলা রাজত্ব করার জন্য আর ছোটটি বানালেন রাত্রিবেলা রাজত্ব করার জন্য| ঈশ্বর তারকারাজিও সৃষ্টি করলেন|
আদিপুস্তক 1:16

17 পৃথিবীকে আলো দেওয়ার জন্য ঈশ্বর এই আলোগুলিকে আকাশে স্থাপন করলেন|
আদিপুস্তক 1:17

18 দিন ও রাত্রিকে কর্তৃত্ত্ব দেবার জন্য ঈশ্বর এই আলোগুলিকে আকাশে সাজালেন| এই আলোগুলি আলো আর অন্ধকারকে পৃথক করে দিল এবং ঈশ্বর দেখলেন ব্যবস্থাটা ভাল হয়েছে|
আদিপুস্তক 1:18

19 সন্ধ্যা হল এবং সকাল হল| এভাবে চতুর্থ দিন হল|
আদিপুস্তক 1:19

20 তারপর ঈশ্বর বললেন, “বহু প্রকার জীবন্ত প্রাণীতে জল পূর্ণ হোক আর পৃথিবীর ওপরে আকাশে ওড়বার জন্য বহু পাখী হোক|”
আদিপুস্তক 1:20

21 সুতরাং ঈশ্বর বড় বড় জলজন্তু এবং জলে বিচরণ করবে এমন সমস্ত প্রাণী সৃষ্টি করলেন| অনেক প্রকার সামুদ্রিক জীব রয়েছে এবং সে সবই ঈশ্বরের সৃষ্টি| যত রকম পাখী আকাশে ওড়ে সেইসবও ঈশ্বর বানালেন| এবং ঈশ্বর দেখলেন ব্যবস্থাটি ভাল হয়েছে|
আদিপুস্তক 1:21

22 ঈশ্বর এই সমস্ত প্রাণীদের আশীর্বাদ করলেন| ঈশ্বর সামুদ্রিক প্রাণীদের সংখ্যাবৃদ্ধি করে সমুদ্র ভরিয়ে তুলতে বললেন| ঈশ্বর পৃথিবীতে পাখীদের সংখ্যাবৃদ্ধি করতে বললেন|
আদিপুস্তক 1 23 সন্ধ্যা হয়ে গেল এবং তারপর সকাল হল| এভাবে পঞ্চম দিন কেটে গেল|
আদিপুস্তক 1:23

24 তারপর ঈশ্বর বললেন, “নানারকম প্রাণী পৃথিবীতে উত্পন্ন হোক| নানারকম বড় আকারের জন্তু জানোয়ার আর বুকে হেঁটে চলার নানারকম ছোট প্রাণী হোক এবং প্রচুর সংখ্যায় তাদের সংখ্যাবৃদ্ধি হোক|” তখন য়েমন তিনি বললেন সব কিছু সম্পন্ন হল|
আদিপুস্তক 1:24

25 সুতরাং ঈশ্বর সব রকম জন্তু জানোয়ার তেমনভাবে তৈরী করলেন| বন্য জন্তু, পোষ্য জন্তু আর বুকে হাঁটার সবরকমের ছোট ছোট প্রাণী ঈশ্বর বানালেন এবং ঈশ্বর দেখলেন প্রতিটি জিনিসই বেশ ভালো হয়েছে|
আদিপুস্তক 1:25

26 তখন ঈশ্বর বললেন, “এখন এস, আমরা মানুষ সৃষ্টি করি| আমাদের আদলে আমরা মানুষ সৃষ্টি করব| মানুষ হবে ঠিক আমাদের মত| তারা সমুদ্রের সমস্ত মাছের ওপরে আর আকাশের সমস্ত পাখীর ওপরে কর্তৃত্ত্ব করবে| তারা পৃথিবীর সমস্ত বড় জানোয়ার আর বুকে হাঁটা সমস্ত ছোট প্রাণীর উপরে কর্তৃত্ত্ব করবে|”
আদিপুস্তক 1:26

27 তাই ঈশ্বর নিজের মতোই মানুষ সৃষ্টি করলেন| মানুষ হল তাঁর ছাঁচে গড়া জীব| ঈশ্বর তাদের পুরুষ ও স্ত্রীরূপে সৃষ্টি করলেন|
আদিপুস্তক 1:27

28 ঈশ্বর তাদের আশীর্বাদ করে বললেন, “তোমাদের বহু সন্তানসন্ততি হোক| মানুষে মানুষে পৃথিবী পরিপূর্ণ করো এবং তোমরা পৃথিবীর নিয়ন্ত্রণের ভার নাও, সমুদ্রে মাছেদের এবং বাতাসে পাখিদের শাসন করো| মাটির ওপর যা কিছু নড়েচড়ে, যাবতীয় প্রাণীকে তোমরা শাসন করো|”
আদিপুস্তক 1:28

29 ঈশ্বর বললেন, “আমি তোমাদের শস্যদায়ী সমস্ত গাছ ও সমস্ত ফলদাযী গাছপালা দিচ্ছি| ঐসব গাছ বীজযুক্ত ফল উত্‌পাদন করে| এই সমস্ত শস্য ও ফল হবে তোমাদের খাদ্য|
আদিপুস্তক 1:29

30 এবং জানোয়ারদের সমস্ত সবুজ গাছপালা দিচ্ছি| তাদের খাদ্য হবে সবুজ গাছপালা| পৃথিবীর সমস্ত জন্তু জানোয়ার, আকাশের সমস্ত পাখি এবং মাটির উপরে বুকে হাঁটে য়েসব কীট সবাই ঐ খাদ্য খাবে|” এবং এই সব কিছুই সম্পন্ন হল|
আদিপুস্তক 1:30

31 ঈশ্বর যা কিছু সৃষ্টি করেছেন সেসব কিছু দেখলেন এবং ঈশ্বর দেখলেন সমস্ত সৃষ্টিই খুব ভাল হয়েছে| সন্ধ্যা হল, তারপর সকাল হল| এভাবে ষষ্ঠ দিন হল|
আদিপুস্তক 1:31
০২ *** সহীহ বুখারী থেকে- (হাদিস নাম্বার – ২৯৬৫ (০৫-ম খন্ড

উমর ইবনু হাফস ইবনু গিয়াস (রহঃ) ইমরান ইবনু হুসাইন (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আমার উটনীটি দরজার সাথে বেধে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর খেদমতে উপস্থিত হলাম। তখন তাঁর কাছে তামীম সম্প্রদায়ের কিছু লোক এল। তিনি বললেন, হে তামীম সম্প্রদায়! তোমরা সুসংবাদ গ্রহণ কর। উত্তরে তারা বলল, আপনি তো আমাদের সুসংবাদ দিয়েছেন, এবার আমাদেরকে কিছু দান করুন। এ কথা দু’বার বলল। এরপর তাঁর কাছে ইয়ামানের কিছু লোক আসল। তিনি তাদের বললেন, হে ইয়ামানবাসী! তোমরা সুসংবাদ গ্রহণ কর। কারণ বানূ তামীমগণ তা গ্রহণ করে নাই। তারা বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা তা গ্রহণ করলাম। তারা আরো বলল, আমরা দ্বীন সম্পর্কে কিছু জিজ্ঞাসা করার জন্য আপনার খেদমতে এসেছিলাম। তখন তিনি বললেন, (শুরুতেই) একমাত্র আল্লাহই ছিলেন, আর তিনি ব্যতীত আর কোন কিছুই ছিল না। তাঁর আরশ ছিল পানির উপরে। এরপর তিনি লাওহে মাহফুজে সব কিছু লিপিবদ্ধ করলেন এবং আকাশ ও পৃথিবী সৃষ্টি করলেন। ০৩ *** আল কোরআন থেকে -(সুরা হাদিদ ৫৭ আয়াত নং ০৪) তিনিই আসমানসমূহ ও যমীন ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন, তারপর তিনি আরশে উঠেছেন।

( সুরা কাফ ৫০ আয়াত নং ৩৮)
আর অবশ্যই আমি আসমানসমূহ ও যমীন এবং এতদোভয়ের মধ্যস্থিত সবকিছু ছয় দিনে সৃষ্টি করেছি। আর আমাকে কোনরূপ ক্লান্তি স্পর্শ করেনি।

( সুরা আম্ভিয়া ২১ আয়াত নং ৩০)যারা কুফরী করে তারা কি ভেবে দেখে না যে, আসমানসমূহ ও যমীন ওতপ্রোতভাবে মিশে ছিল*, অতঃপর আমি উভয়কে পৃথক করে দিলাম, আর আমি সকল প্রাণবান জিনিসকে পানি থেকে সৃষ্টি করলাম। তবুও কি তারা ঈমান আনবে না?

  • আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের মতে আদিতে আকাশ, সূর্য, নক্ষত্র ও পৃথিবী ইত্যাদি পৃথক সত্তায় ছিল না; বরং সবকিছুই ওতপ্রোতভাবে মিশে ছিল। তখন মহাবিশ্ব ছিল অসংখ্য গ্যাসীয় কণার সমষ্টি। পরবর্তীকালে মহাবিস্ফোরণের মাধ্যমে নক্ষত্র, সূর্য, পৃথিবী ও গ্রহসমূহ সৃষ্টি হয়। এটিই বিগ ব্যাং বা মহাবিস্ফোরণ থিওরী।

তারপর তিনি আসমানের দিকে মনোনিবেশ করেন। তা ছিল ধোঁয়া। তারপর তিনি আসমান ও যমীনকে বললেন, ‘তোমরা উভয়ে স্বেচ্ছায় অথবা অনিচ্ছায় আস’। তারা উভয়ে বলল, ‘আমরা অনুগত হয়ে আসলাম’। ( ৪১ নং সুরা ১১ নং আয়াত) তারপর তিনি দু’দিনে আসমানসমূহকে সাত আসমানে পরিণত করলেন। আর প্রত্যেক আসমানে তার কার্যাবলী ওহীর মাধ্যমে জানিয়ে দিলেন। আর আমি নিকটবর্তী আসমানকে প্রদীপমালার দ্বারা সুসজ্জিত করেছি আর সুরক্ষিত করেছি। এ হল মহা পরাক্রমশালী সর্বজ্ঞের নির্ধারণ। ৪১নং সুরা ফুলসিলাত ১২ নং আয়াত)

তাতিনি যথাযথভাবে আসমানসমূহ ও যমীন সৃষ্টি করেছেন। তিনি রাতকে দিনের উপর এবং দিনকে রাতের উপর জড়িয়ে দিয়েছেন এবং নিয়ন্ত্রণাধীন করেছেন সূর্য ও চাঁদকে। প্রত্যেকে এক নির্ধারিত সময় পর্যন্ত চলছে। জেনে রাখ, তিনি মহাপরাক্রমশালী, পরম ক্ষমাশীল। (সুরা যুমার ৩৯ আয়াত ০৫)

***হতাশ হবার কিছুই নেই***

*** Struggling life is nothing to be disappointed ***
* সংগ্রামী জীবন হতাশ হওয়ার কিছুই নেই,*
সর্ব অবস্থায় ভরসা করুন একমাত্র আল্লাহর উপর, মনে রাখুন বিপদ যত বড়ই হোক না কেন আল্লাহ ব্যতীত অর দ্বিতীয় কেউ নেই আপনাকে বিপদ থেকে রক্ষা করতে পারে। ইন্নাল্লাহা আলা কুল্লি শাইয়িন কাদির ان الله على كل
شيء قدير
নিশ্চয়ই তিনি সকল ক্ষমতার অধিকারী। যে ব্যক্তি আল্লাহর উপর ভরসা করেন আল্লাহ তার জন্য যথেষ্ট। সূরা আত তালাক (আয়াত নং ৩) সুখ দুখ বিপদ-আপদ ধন সম্পদ দিয়ে নিয়ে সন্তান সান্তানাদী দিয়ে নিয়ে আল্লাহ তার বান্দাকে পরীক্ষা করেন, (সূরা বাকারা আয়াত নং 153) আল্লাহর প্রেরিত রাসুল দের দিকে তাকান মহান আল্লাহ পাক কঠিন পরীক্ষার মধ্যে রাসূলদেরকে উদ্ধার করেছেন, রাসূলগণ কখনো হতাশ হয়ে পড়েন নি তাহারা আল্লাহর উপর ভরসা করেছেন। আর মহান আল্লাহ তাদেরকে কুদরতীভাবে রক্ষা করেছেন , তাদের কে দুনিয়াতে বিজয়ী ঘোষণা করেছেন ,সুবহানাল্লাহ আল্লাহ কত মহান। আমরা আল্লাহর প্রেরিত কয়েকজন রাসূলের পরীক্ষা গুলি দেখি কত কঠিন পরীক্ষায় না তারা বিজয়ী হয়েছেন আল্লাহ রক্ষা করেছে। যেমন হযরত ইব্রাহিম আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে যখন আপন পিতা অগ্নিকুন্ডে নিক্ষেপ করেছেন , আল্লাহপাক আগুনকে নির্দেশ করেন ,
قلنا يا نار كوني بردا وسلاما على ابراهيم
হে আগুন তুমি আমার ইব্রাহিম এর জন্য শান্তিদায়ক হয়ে যাও। ইব্রাহিম আলাই সাল্লাম অগ্নিকুন্ডের ভিতরে মনে হয় যেন ফুলের বাগিচা বসে আছে , এই হলো আল্লাহপাকের অসীম ক্ষমতা কত উত্তমরূপে তিনি তার হাবিব কে রক্ষা করেছে। হযরত ইউসুফ আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আপন ভাই তাঁকে একটি কূপে ফেলে দেয় , আল্লাহর অসীম কুদরতে তিনি পানির নিচ থেকে আবার সদাগরের নৌকায় উঠে বেঁচে যান কত মহান সত্তা তিনি আল্লাহ । যার বন্ না আল্লাহ পবিত্র কালামে উল্লেখ করে দিয়েছেন । হযরত মুসা আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে সিন্দুকে ভরে নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া হয় জালিমের ভয়ে আল্লাহ মুসা আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সেই জালিমের ঘরে লালিত-পালিত করেন সুবাহানাল্লাহ। আবার এই জালিমকে নদীতে ডুবিয়ে হযরত মুসা আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বাঁচিয়ে দেন, এই হলো মহান আল্লাহর কুদরতের খেলা। হযরত ইউনুস আলাইহিস সাল্লাম কে মহান আল্লাহ পাক মাছের পেট থেকে রক্ষা করে। হযরত নূহ আলাইহি ওয়াসাল্লামকে নৌকায় তুলে রক্ষা করেন। হযরত আইয়ুব আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দুরারোগ্য ব্যাধি থেকে রক্ষা করেন এই হলো আমাদের জন্য নিদর্শন। আমাদের জীবনেও যদি এমন কোন ঘটনা ঘটে আপনজন ও যদি নিজের বিপক্ষে চলে যায় বিপদ যত কঠিন হোক না কেন সর্ব অবস্থায় ভরসা রাখুন একমাত্র মহান স্রষ্টার প্রতি ইনশাআল্লাহ তিনি রক্ষা করতে পারেন এবং করবেন । আল্লাহ ব্যতীত বিপদ থেকে মুক্তি করার কেউ নেই সর্ব অবস্থায় আল্লাহর উপর ভরসা রাখুন মনে রাখবেন মহান আল্লাহপাক আপনার জন্য যা নির্ধারণ করে রেখেছেন তা ব্যতীত অন্য কিছুই ঘটবে না এবার হোক ভালো-বা মন্দ । সবই আল্লাহর ইচ্ছা মহান আল্লাহ পাক যেন আমাদেরকে সকল প্রকার বিপদ আপদে ধৈর্য ধারণ করার ক্ষমতা দান করেন । মহান আল্লাহ পাক পবিত্র কালামের সূরা বাকারার 154 নং আয়াতে বলেন ঐসকল ধৈর্যশীলদের কে সুসংবাদ দিন যাহারা বিপদে-আপদে ধৈর্য ধারণ করে আর বলে নিচ্ছয় আমরা আল্লাহর জন্য এবং তাঁর নিকট আমোরা ফিরে যাব তিনি বলেন।
الذين اذا اصابتهم مصيبه قالوا انا لله وانا اليه راجعون
সর্বশেষ আমাদের প্রিয় নবী আল্লাহপাকের প্রিয় হাবিব হযরত মুহাম্মদ মোস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন কালেমার দাওয়াত দিতেন আপন গুষ্টি গোত্র আমাদের রাসুলকে কতই না অপবাদ দিয়েছেন । কত কষ্ট দিয়েছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কখনো হতাশ হন নি ভেঙে পড়েননি আল্লাহর সাহায্য চেয়েছেন আল্লাহপাকের ইচ্ছায় রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কা বিজয় করেছেন । এই হল আল্লাহর হেকমত। তাই আমাদের উপর যতই বিপদ আসুক আমরা হতাশ না হয়ে ভেঙ্গে না পড়ে আল্লাহর উপর ভরসা করি তিনি আমাদেরকে রক্ষা করবেন ইনশাআল্লাহ । ওয়া আখের দেওয়ানা আলহামদুলিল্লাহি রব্বিল আলামিন।
واكيد وانا انا الحمد لله رب العالمين
لَا تَقْنَطُواۡ مِن رَّحْمَةِ ٱللَّهِ /ۚতোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না।
আজকের মত এখানেই সমাপ্ত ইনশাআল্লাহ বেঁচে থাকলে আবারো দেখা হবে অন্য কিছু নিয়ে সকলে ভাল থাকুন সুস্থ থাকুন আল্লাহ হাফেজ আসসালামুআলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহি ওয়াবারাকাতুহু ওয়া মাগফেরাতুহ ।
লেখকঃ মোঃ ইমরান খান

***মা ফাতেমার মৃত্যু***

বুকটা কেঁপে উঠলো ঘটনাটি পড়ে।

হযরত ফাতিমা (রাঃ) এর ইন্তেকাল (সম্পূর্ণ ঘটনা)


হযরত আলী (রাঃ), ফজরের নামাজ আদায়
করার জন্য মসজিদে গেছেন ৷
এদিকে হযরত ফাতিমা রাঃআঃ,গায়ে অত্যান্ত জ্বর অবস্থায়৷ ঘরের সমস্ত কাজ, শেষ করেছেন ৷
আলী (রাঃ), মসজীদ থেকে এসে দেখে,
ফাতিমা কাঁদতেছেন, আলী (রাঃ),প্রশ্ন
করলেন,ও ফাতিমা তুমি কাঁদ কেন?
ফাতিমা কোন উত্তর দিলেন না৷
ফাতিমা আরো জোরে জোরে কাঁদতে লাগলেন।
আলী (রাঃ) কয়েকবার প্রশ্ন করার পরে,
ফাতিমা (রাঃ) কাঁদতে কাঁদতে বলেন,
ও আলী,,,,,,,,আমি স্বপ্নের মধ্যে দেখতেছি,
আমার আব্বাজান, হযরত মুহাম্মাদুর
রাসুলুল্লাহ্ (সাঃ) আমার ঘরের মধ্যে ঢুকে কি যেন
তালাশ করতেছেন ঘর থেকে বাহির হওয়ার সময়, আমি পিছন দিক থেকে,আমার আব্বাজান কে ডাক দিলাম৷
ও আব্বাজান আপনি কি তালাশ করতেছেন? আব্বাজান মুহাম্মাদুর রা:(সঃ) বলতেছেন, ও আমার ফাতিমা, আমিতো তোমাকে তালাশ করতেছি, তোমাকে নিয়ে যাওয়ার জন্য৷
আরো বললেনঃ ও আমার ফাতিমা,
আজকে তো তুমি রোজা রাখবা ৷
সাহরী করবা আলীর দস্তরখানায়, আর ইফতার করবা।
আলী (রাঃ) এই স্বপ্ন শোনার পর,
দু’জনের বুঝতে বাকী থাকলোনা,
যে ফাতিমা আজকেই ইন্তেকাল করবেন৷
দুনো জন আরো জোরে জোরে কাঁদতে লাগলেন৷
এই সময়ের মধ্যে হযরত হাসান হুসাইন (রাঃ) এসে জিজ্ঞাসা করতেছেন, ও আব্বাজান ও আম্মাজান আপনারা দুনোজন কাঁদেন কেন?
ফাতিমার (রাঃ) এর একটা
অভ্যাস ছিল, যখন হাসান হুসাইন (রাঃ) কোন কাজে বিরক্ত করতেন, তখন দুনো জনকে নানাজান এর
কবরের কাছে যেতে বলতেন।
আজকে ও ফাতিমা বলেন,
তোমরা দুই-ভাই এখন নানার কবরে চলে যাও,
কবরের নিকট যাওয়ার সাথে সাথে,কবর থেকে আওয়াজ আসলো,ও আমার আদরের নাতীরা,
এই মূহুর্তে তোমরা আমার কাছে কেন আসছো,
আমার কাছে তো সব সময় আসতে পারবা,
এখন যাও, যেয়ে মায়ের চেহারার দিকে তাকায়ে থাক,
আজকের পরে তোমাদের মাকে আর পাবেনা৷
এই কথা শোনার পরে,দুই ভাই কাঁদতেছে আর
দৌড়াতে দৌড়াতে আম্মার নিকট চলে গেলেন।
যেয়ে আম্মাকে বললেন যে,
তোমরা দুনোজন কেন কাঁদতেছ বুঝেছি,
নানাজান আমাদেরকে বলে দিয়েছেন,
আজকের দিনটা তোমার জন্য শেষ দিন।
নানাজান তোমার চেহারার দিকে তাঁকায়ে থাকার জন্য
আমাদের কে বলেছেন৷
বিকেলের দিকে হজরত ফাতিমা (রাঃ) এর শরীর
বেশি খারাপ হলো। তাকে বিছানাতে শোয়ানো
হলো।
ফাতিমা (রাঃ) মৃত্যুর পূর্বক্ষনে আলী (রাঃ) কে, তিনটি কথা বলেন ৷
১।👉 ও আলী যেদিন থেকে আমি আপনার
ঘরে এসেছি, ঐ দিন থেকে নিয়ে, আজ পর্যন্ত
আপনাকে আমি অনেক কষ্ট দিয়েছি।
আলী আপনি যদি আমাকে ক্ষমা না করেন,
তাহলে কিয়ামতের ময়দানে, আমি সন্তানের কারনে, (আমি মেয়ের কারনে) আমার
আব্বাজান অনেক লজ্জীত হবেন৷
বলেন আপনি আমাকে ক্ষমা করলেন কি না,
আলী রাঃ বলেন ও ফাতিমা,
তুমি এসব কি বলতেছো,
আমি আলী তো তোমার যোগ্য ছিলাম না,
তোমার আব্বাজান দয়া করে মেহেরবানী করে তোমাকে আমার,,, কাছে বিয়ে দিয়েছেন,
বিয়ের দিন থেকে নিয়ে আজ পর্যন্ত,
আমি আলী তোমাকে কোনদিন ঠিকমত দুইবেলা খানা খাওয়াতে পারি নাই।
ও ফাতিমা তুমি বল, আমাকে ক্ষমা করছো কি না,
তুমি যদি আমাকে ক্ষমা না কর, তাহলে আমাকে
ও কিয়ামতের দিন কঠিন শাস্তি ভোগ করতে হবে ৷

২।👉 ও আলী আপনার সাথে আমার
দ্বিতীয় কথা হল, আমি মারা যাওয়ার
পরে, আপনি বিয়েকরে নিবেন।
দুনিয়ার যে কোন মহিলাকে, আপনার পছন্দমত৷
আপনাকে আমি অনুমতি দিলাম৷
আর আমার বাচ্চা দুইটাকে, সপ্তাহে একটা দিন
আপনার কোলের মধ্যে করে নিয়ে ঘুমাবেন৷

৩।👉 ও আলী আপনার সাথে আমার তৃতীয় কথা
হল, হাসান হুসাইন যখন বালেগ হবে,
তখন দুই ভাইকে আল্লাহ্’র রাস্তায় সপর্দ করে দিবেন৷ এবং আমাকে রাতের বেলায় দাফন করবেন।
হজরত আলী (রাঃ) বললেনঃ “তুমি নবীর মেয়ে।
আমি সবখানে খবর দিয়ে তোমায় দাফন করবো।
এতে সমস্যা কি?
হজরত ফাতিমা (রাঃ) বললেনঃ
“আামার কাফনের কাপড়ের ওপর দিয়ে সবাই অণুমান করবে যে, নবীর মেয়ে কতটুকু লম্বা ছিলো, কতটুকু সাস্হ ছিলো।এতে আমার পর্দা ভঙ্গ হবে।”

হজরত ফাতিমা (রাঃ) এর ইন্তেকালের পর
তাঁর লাশের খাটিয়া বহন করার মানুষ
মাত্র তিনজন। হজরত আলী (রাঃ) এবং শিশু হাসান ও হোসাইন (রাঃ)আনহুমা ৷
হজরত আলী ভাবছিলেন যে, খাটিয়া বহন করার জন্য মানুষ আরও একজন প্রয়োজন তবেই চার কোনায় চার জন কাঁধে নিতে পারবেন।
এমন সময় হজরত আবু জর গিফারী (রাঃ) এলেন ও
খাটিয়ার এক কোনা বহন করলেন।
হজরত আলী প্রশ্নকরলেন, ও আবুজর আমি তো কাউকে বলিনাই, আপনি জানলেন কিভাবে ?
হজরত আবু জর গিফারী (রাঃ) বলেন,
আমি আল্লাহ্’র রাসুল (সাঃ) কে স্বপ্নে দেখেছি।
তিনি বললেন, হে আবু জর! আমার ফাতিমার লাশ বহন করার জন্য লোকের অভাব,
তুমি তাড়া তাড়ি চলে যাও। ও আলী
আমাকে তো হুজুরে আকরাম (সাঃ) আসতে বলছেন ৷
হযরত ফাতিমা (রাঃ) আনহা কে যখন কবরে
নামাচ্ছেন, তখন হজরত আবু জর গিফারী (রাঃ)
কবরের কাছে গিয়ে কবর কে উদ্দেশ্য করে
বললেন……….

আতাদরী মানিল্লাতী জি’না বিহা ইলায়কা?
হে কবর, তুই কি জানিস, আজ
তোর মধ্যে কাকে রাখছি?

০১👉হা-যিহী সায়্যিদাতু নিসায়ী আহলিল জান্নাতী ফা-
তিমাতা(রাঃ) আনহা,এটা জান্নাতের সকল মহিলাদের সর্দার, ফাতিমা (রাঃ)আনহা৷
কবর থেকে কোন আওয়াজ নাই৷

০২👉 হা-যিহী উম্মূল হাসনাইন (রাঃ) আনহুমা ,
এটা হযরত হাসান হুসাইন এর আম্মা ৷
এবার ও কবর থেকে কোন আওয়াজ নাই৷

০৩👉 হা-যিহী ঝাউযাতু আলিয়্যিন কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহ্,
এটা হযরত আলী রাঃ এর স্ত্রী
এবার ও কবর থেকে কোন আওয়াজ নাই৷

০৪👉 হা-যিহী বিনতু রসুলুল্লাহি সল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়াসাল্লাম,
এটা, দো জাহানের বাদশাহের মেয়ে।
খবরদার কবর বেয়াদবী করবি না।
“আল্লাহ্ তায়ালা কবরের জবান খুলে দিলেন,
কবর বললঃ………..
১।👉আনা বায়তুয-যুলমাতি
আমি অন্ধকার ঘর।
২।👉 আনা বায়তুদ-দূদাতী,
আমি সাপ বিচ্ছ্যুর ঘর৷
৩।👉 আনা বায়তুন-নফরাতী,
আমি এমন একটি ঘর,

যার মধ্যে কোন বংশ পরিচয় কাজ হয়না……
“আমি দো জাহানের বাদশাহের মেয়ে ফাতিমা কে চিনিনা। হজরত আলীর স্ত্রীকে চিনিনা।
হাসান হোসাইনের আম্মাকে চিনিনা।
জান্নাতের মহিলাদের সর্দারনীকে চিনিনা।
আমি শুধু চিনি-………….
ঈমান আর আমল।
আমার মধ্যে যদি কেহ্ ভাল আমল নিয়ে
আসে তাহলে আমি কবর তাকে জান্নাতের বিছানা
বিছিয়ে দিবো।
আর যদি কেহ খারাপ আমল নিয়ে আসে,
তাহলে আমি কবর দু’দিক থেকে এমন জোরে চাপা দিবো, হাড় মাংস মিশে একত্রিত হয়ে যাবে।

আমার মুসলমান ভাই ও বোনদের উদ্দেশ্য করে
বলছি, একটু চিন্তা করে দেখুন- যদি নবী (সাঃ) এর আদরের মেয়ে ফাতিমা, যাকে জান্নাতের সর্দারনী বলা
হয়েছে। তার জন্য যদি কবর এমন কথা বলতে
পারে ! তাহলে আমাদের কি অবস্থা হবে?
বুঝতে পারতেছেন ৷ কিসের আশায় কি চিন্তা করে
আল্লাহর হুকুম থেকে এতো গাফেল (ভুলে) আছি।

আল্লাহ্ আমাদের সকলকে ঈমান ও নেক আমল
নিয়ে কবরে যাওয়ার. তৌফিক দান করুন।
👐👐আমিন👐👐 ইমরান খান

*** ধর্ম বোকার কাছে সত্য***

ধর্ম বোকার কাছে সত্য
জ্ঞানীর কাছে মিথ্যা
শাসকের কাছে অস্ত্র,

১-বোকারা!
অন্ধ বিশ্বাসী ও গাধা চারিত্রিক হয়,
তাই তাদের ভালমন্দ বোঝার জ্ঞান নেই এবং বোঝার চেষ্টাও করেননা, নিজের জীবনের চাবিকাঠি অন্যের হাতে তুলে দিয়ে সামাজিক ভাবে ধর্ম প্রেমি রুপে নিজেকে প্রকাশিত করে সমাজে নিজেকে ভাল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চেষ্টা করেন।গাধার সামনে মুলা ঝুলিয়ে দিলে গাধা যেমন সারাদিন বোকার মতো মুলার পেছনে ঘুরতে থাকেন,বোকারাও তেমনি হুর গেলমান ফল মূলের লোভে ঘুরতে থাকেন, তাদের মনের মাঝে হুরের কাল্পনিক ছবি লটকিয়ে দেয়া হয়
যাতে তারা সারাজীবন তার পেছনে ছুটতে থাকে,
এবং বোকারা তাই করেন করেন কোনদিন এর হাকিতত জানার প্রচেষ্টাও করেননা, তাই সাধক এই প্রকৃতির বোকাদের উদ্দেশ্যে বলেন
(ধর্ম বোকার কাছে সত্য,)

২-জ্ঞানীরা!
সকল ধর্মের বানি নিয়ে সুগোভির চিন্তায় মগ্ন হয়ে তার হাকিকত দর্শনে মরিয়া হয়ে উঠেন তাই তারা সুফিবাদী, মানে সত্য দর্শনকারী। তারা ধর্মের বানি চিন্তা করতে করতে তার হাকিকত জানতে পারেন ও তার মর্মার্থ বুঝতে পারেন, তাই সাজানো গুছানো যুগবাদী সার্থবাদী সুবিধাদী ধর্মকে তারা নিমিষেই প্রত্যাহার করেন, মুর্খের মত শুনেই বিশ্বাস করেননা
নিজেকে ভাল দেখানোর জন্য কখনোই মিথ্যাকে গ্রহণ
করেননা, তাই- সাধক বলেন এই প্রকৃয়ার ধর্ম প্রনালী (জ্ঞানীর কাছে মিথ্যা)

আর শাসক তার শোষণ প্রকৃয়া বজায় রাখতে তার নিতি টিকিয়ে রাখতে ধর্মকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেন। যেখানেই সার্থে আগাত হানে সেখানেই ধর্মকে
ঢাল করে সার্থ হাসিল করেন, নিত্য নতুন হাদিস তৈরি করেন আর নতুন নতুন ফতুয়ারতো অভাব নেই।
যুগ উপযোগী সংবেদনশীল ফতুয়া তৈরির জন্যতো
শাসকের বিশ্বস্ত উজির নাজির নায়েব রুপে নব নব মুফতির অভাব নেই, যাদের ফতুয়ার সামনেতো বিশ্বের বড় বড় আদি মুফতি মাওলানারা বৃথা হয়ে পরে।

কিন্তু বোকারা এটা নিয়ে কখনোই মাথা ঘামায়না যে
আল্লাহর বানি কোরানতো একটাই তাহলে একি কোরানের ব্যক্ষা ভিন্ন ভিন্ন হবে কেন? এক ক্লাসের
শতো ছাত্র হোক আর হাজার ছাত্র হোক একটি
প্রশ্নের উত্তর হাজার লোক হয়তো একেক ভাষায় বা একেক ভঙ্গিমায় দিতে পারে কিন্তু তার অর্থ ভিন্ন হয়না
প্রশ্ন একটি হাজার লোকের উত্তর ভিন্ন ভঙ্গিমায় হলেও অর্থ একি হয়। তাহলে একি কোরানের ব্যক্ষা ভিন্ন হওয়ার কারন কি??? ধর্মদ্রোহীরা ধর্ম ব্যবসায়ীরা বা শাসকরা যাই ব্যক্ষা করুক আর যেভাবে প্রচার করুক
বোকারা তা নিয়ে মাথা ঘামায়না তারা সোজা মেনে নেয়, কিন্ত সুফিবাফী সত্য প্রিপাসী জ্ঞানীরা তা মেনে নেয়না, তারা কঠর সাধনা ও গবেষণার মাধ্যমে সত্যতা
উদঘাটন করেন।
তাই সা তোধক এরিস্টটল বলেন!
ধর্ম বোকার কাছে সত্য
ধর্ম জ্ঞানীর কাছে মিথ্যা
ধর্ম শাসকের কাছে অস্ত্র

ভূল ত্রুটি মার্জনার দৃষ্টিতে দেখবেন
ইহা একমাত্রই সুলতান পাগলার মতবাদ ( সংগ্রহে মোহাম্মদ ইমরান খান)

*** আত্মবিশ্বাসের সাথে কাজ করুন***

~ মোহাম্মদ ইমরান খান

যতক্ষণ না নিজেকে কাজে নিয়োজিত করবেন, ততক্ষন আপনি জানতে পারবেন না, আপনার আসলে কী যোগ্যতা রয়েছে? আপনি আপনার শক্তি এবং দুর্বলতা কোনটাই ধরতে পারবেন না। কোন কাজ করার আগে ভয় পাওয়া বন্ধ করুন, উদ্যোগ নিতে ভয় পাবেন না, চেষ্টা করতে গিয়ে ব্যর্থ হওয়ার ভয় পাবেন না। ব্যর্থতা আসলে আপনার জন্যে ভাল। এটা কোথায় ফাটল আছে তা দেখিয়ে দেয়। আপনাকে কোথায় উন্নতি করতে হবে তা দেখিয়ে দেয়। আবার আপনি কিসে ভাল সেইটাও দেখিয়ে দেয়, হয়ত আপনাকে এতে আরও ভাল হতে হবে, কিন্তু এসব কখনই হবেনা যদি আপনি চেষ্টাই না করেন। যতক্ষণ না আপনি নিজেকে কাজের মাঝে নিযুক্ত করবেন।

আমি চাই আপনারা এভাবে চিন্তা করুন, আমাদের রুহ তো আলামুল আমর থেকে, কিন্তু আল্লাহ আমাদেরকে এই যে জীবন দিয়েছেন যা আমরা কাজে লাগাতে পারি তাতো অসীম নয় তাইনা? তাই কখন যে পূর্ণ বয়স্ক হয়ে যাব, ঘুমাতে ঘুমাতে কখন যে বৃদ্ধ হয়ে যাব…এর মধ্যে আমাদের হাতে খুব বেশি সময় নেই নিজেকে আবিষ্কার করার, নিজেকে কাজে নিবেদিত করার। তাই নতুন কিছু করতে ভয় পাবেন না। আল্লাহ আমাদেরকে এই জীবনে এত সুন্দর এক অভিযানের সুযোগ দিয়েছেন, তাই চেষ্টা করতে ভয় পাবেন না।

“আমি কিছু একটা করব, যথা সম্ভব চেষ্টার সাথে করব। ব্যর্থতার প্রথম আগমনেই ভয় পেয়ে পালাবো না। আমি অন্য কিছু করা শুরু করব না। এটা তো জান্নাত নয়, ভাল দিনের সাথে সাথে খারাপ দিনতো থাকবেই। এই জীবনটাই এমন।”

ব্যর্থতার ভয় থেকে আপনাকে মুক্ত হতে হবে, নিজের শাকিলার (ব্যক্তিত্ব, গঠন প্রকৃতি, সামর্থ্য) উপর জোর দিতে হবে। আপনাকে প্রাথমিক ভয় কাটিয়ে উঠতে হবে, আর যখন তা পারবেন দেখবেন জীবনে আশ্চর্যজনক ঘটনা ঘটতে শুরু করেছে।

***সৎ সংগে থাকবে***

আইনস্টাইনের যিনি ড্রাইভার ছিলেন,
তিনি একদিন আইনস্টাইনকে বললেন – আপনি প্রতিটি সভায় যে ভাষণ দেন সেইগুলো শুনে শুনে আমার মুখস্থ হয়ে গেছে।” আইনস্টাইন তো অবাক!

উনি তখন বললেন “বেশ তাহলে এর পরের মিটিংয়ে যেখানে যাবো তারা আমাকে চেনেন না, তুমি আমার হয়ে ভাষণ দিও আর আমি ড্রাইভার হয়ে বসে থাকবো”

এরপরে সেই সভায় তো ড্রাইভার হুবহু আইনস্টাইন-এর ভাষণ গড় গড় করে বলে গেলেন। উপস্থিত সবাই তুমুল করতালি দিলেন। এরপর তাঁরা ড্রাইভারকে আইনস্টাইন ভেবে গাড়িতে পৌঁছে দিতে এলেন।

সেই সময়ে একজন অধ্যাপক ড্রাইভারকে জিজ্ঞেস করলেন “স্যার, ঐ আপেক্ষিক এর যে সংজ্ঞাটা বললেন, আর একবার সংক্ষেপে বুঝিয়ে দেবেন?”

আসল আইনস্টাইন দেখলেন বিপদ, এবার তো ড্রাইভার ধরা পড়ে যাবে। কিন্তু তিনি ড্রাইভার-এর উত্তর শুনে তাজ্জব হয়ে গেলেন। ড্রাইভার উত্তর দিল -“এই সহজ জিনিসটা আপনার মাথায় ঢোকেনি ? আমার ড্রাইভারকে জিজ্ঞেস করুন সে বুঝিয়ে দিবে”

বিঃদ্রঃ- জ্ঞানী ব্যক্তিদের সাথে চলাফেরা করলে আপনিও জ্ঞানী হবেন। আপনি যেমন মানুষের সাথে ঘুরবেন তেমনই হবেন।
এই জন্যে কথায় আছে,
“সৎ সঙ্গে স্বর্গ বাস,
অসৎ সঙ্গে সর্বনাশ”।

***রাসুল মাটির তৈরি***

রাসূল (স:)] মাটির তৈরী, কোরআন-হাদীস থেকে দলীল দ্বারা প্রমাণিত!
প্রশ্ন : যে ব্যক্তি বিশ্বাস করে যে, নবী (সা:) মানুষ নন; বরং তিনি আল্লাহর নূর। অতঃপর সে নবী (দ:) এর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করে এই বিশ্বাসে যে, তিনি কল্যাণ-অকল্যাণের মালিক, তার হুকুম কি?
উত্তর: যে ব্যক্তি এই বিশ্বাস করবে যে, নবী (দ:) আল্লাহর নূর, মানুষ নন, তিনি গায়েবের খবর জানেন, সে আল্লাহ্ এবং রাসূলের (দ:) সাথে কুফরী করল। সে আল্লাহ্ ও তার রাসূলের দুশমন, বন্ধু নয়। কেননা তার কথা আল্লাহ্ ও রাসূলকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করে। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ্ এবং তাঁর রাসূলকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করল, সে কাফের।

মানুষ কিসের তৈরী :
সুতরাং-প্রথমেই বুঝতে হবে মানুষ কিসের তৈরী? কুরআনে কারীমের বিভিন্ন আয়াত এবং সহীহ হাদীসের ভিত্তিতে একথা সুষ্পষ্ট প্রমাণিত যে, মানুষ মাটির তৈরী। নূর বা অগ্নির তৈরী নয়।
কয়েকটি আয়াতের দিকে লক্ষ্য করুন-
ﺇِﺫْ ﻗَﺎﻝَ ﺭَﺑُّﻚَ ﻟِﻠْﻤَﻼﺋِﻜَﺔِ ﺇِﻧِّﻲ ﺧَﺎﻟِﻖٌ ﺑَﺸَﺮًﺍ ﻣِﻦ ﻃِﻴﻦٍ
অনুবাদ-যখন আপনার পালনকর্তা ফেরেস্তাদের বললেন-আমি মাটির তৈরী মানুষ সৃষ্টি করব। {সূরা সোয়াদ-৭১}
অন্যত্র ইরশাদ হয়েছে-
ﻭَﻟَﻘَﺪْ ﺧَﻠَﻘْﻨَﺎ ﺍﻹِﻧﺴَﺎﻥَ ﻣِﻦ ﺻَﻠْﺼَﺎﻝٍ ﻣِّﻦْ ﺣَﻤَﺈٍ ﻣَّﺴْﻨُﻮﻥٍ
নিশ্চয় আমি মানুষকে সৃষ্টি করেছি পঁচা কর্দম থেকে তৈরী বিশুস্ক ঠনঠনে মাটি দ্বারা।{সূরা হিজর-২৮}
অন্যত্র আরো ইরশাদ হয়েছে-
ﺧَﻠَﻖَ ﺍﻟْﺈِﻧﺴَﺎﻥَ ﻣِﻦ ﺻَﻠْﺼَﺎﻝٍ ﻛَﺎﻟْﻔَﺨَّﺎﺭِ
ﻭَﺧَﻠَﻖَ ﺍﻟْﺠَﺎﻥَّ ﻣِﻦ ﻣَّﺎﺭِﺝٍ ﻣِّﻦ ﻧَّﺎﺭٍ
তিনি মানুষকে সৃষ্টি করেছেন পোড়া মাটির ন্যায় শুষ্ক মৃত্তিকা থেকে।
এবং জিনকে সৃষ্টি করেছেন অগ্নিশিখা থেকে।{সূরা আর রাহমান-১৪,১৫}
আরো ইরশাদ হয়েছে-
ﻫُﻮَ ﺍﻟَّﺬِﻱ ﺧَﻠَﻘَﻜُﻢ ﻣِّﻦ ﺗُﺮَﺍﺏٍ
দ-তিনিই তোমাদের সৃষ্টি করেছেন মাটি দ্বারা।{সূরা মুমিন-৬}
আরো ইরশাদ হয়েছে-
ﻭَﻟَﻘَﺪْ ﺧَﻠَﻘْﻨَﺎ ﺍﻹِﻧﺴَﺎﻥَ ﻣِﻦ ﺳُﻼﻟَﺔٍ ﻣِّﻦ ﻃِﻴﻦٍ
আমি মানুষকে মাটির সারাংশ থেকে সৃষ্টি করেছি।{সূরা মুমিনুন-১২}
উপরোক্ত বক্তব্য থেকে মানব সৃষ্টির পদ্ধতি ও মূল উপাদান সম্পর্কে আশা করি সুষ্পষ্ট ধারণা হয়েছে। আল্লাহ তায়ালার বাণী দ্বারা একথা সুষ্পষ্ট প্রমাণিত যে, মানুষ নূর বা আগুনের তৈরী নয়। বরং মাটির তৈরী।

নবীজী (সাঃ) কি ছিলেন? মানুষ? না জিন? না ফেরেস্তা?
রাসূল (সাঃ) জিন নন, এ ব্যাপারে সকলে একমত। তাই এ বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করার কোন প্রয়োজন নেই।
মানব সৃষ্টির প্রথম মানুষ আমাদের আদি পিতা হযরত আদম (আঃ) সহ সকল মানুষ মাটি দ্বারা সৃষ্টি এ মর্মে আল্লাহ পবিত্র কুরআনে এরশাদ করেনঃ-
পালনকর্তা ফেরেশতাগণকে বললেন, আমি মাটির মানুষ সৃষ্টি করব (ছোয়াদ-৭১)
আর আপনার পালনকর্তা যখন ফেরেশতাদেরকে বললেনঃ আমি পচা কর্দম থেকে তৈরী বিশুষ্ক ঠনঠনে মাটি দ্বারা সৃষ্টি একটি মানব জাতির পত্তন করব (হিজর-২৮)
আল্লাহ তাআলা তোমাদেরকে মৃত্তিকা থেকে উদগত করেছেন (নূহ্-১৭)
তিনি মানুষকে সৃষ্টি করেছেন পোড়া মাটির ন্যায় শুষ্ক মৃত্তিকা থেকে (আর রাহমান-১৪)
আমি মানবকে পচা কর্দম থেকে তৈরী বিশুষ্ক ঠনঠনে মাটি দ্বারা সৃষ্টি করেছি (হিজর-২৬)
এ মাটি থেকেই আমি তোমাদেরকে সৃজন করেছি, এতেই তোমাদেরকে ফিরিয়ে দিব এবং পুনরায় এ থেকেই আমি তোমাদেরকে উত্থিত করব (সূরা ত্বো-হা: ৫৫)
আমি মানুষকে মাটির সারাংশ থেকে সৃষ্টি করেছি । অতঃপর আমি তাকে শুক্রবিন্দু রূপে এক সংরক্ষিত আধারে স্থাপন করেছি । এরপর আমি শুক্রবিন্দুকে জমাট রক্তরূপে সৃষ্টি করেছি, অতঃপর জমাট রক্তকে মাংসপিন্ডে পরিণত করেছি, এরপর সেই মাংসপিন্ড থেকে অস্থি সৃষ্টি করেছি, অতঃপর অস্থিওকে মাংস দ্বারা আবৃত করেছি, অবশেষে তাকে এক নতুন রূপে দাঁড় করিয়েছি । নিপুণতম সৃষ্টকর্তা আল্লাহ কত কল্যাণময়। এরপর তোমরা মৃত্যুবরণ করবে । অতঃপর কেয়ামতের দিন তোমরা পুনরুত্থিত হবে (মু’মিনুন-১২, ১৩, ১৪, ১৫, ১৬)
আমি তোমাদেরকে মৃত্তিকা থেকে সৃষ্টি করেছি। এরপর বীর্য থেকে, এরপর জমাট রক্ত থেকে, এরপর পূর্ণাকৃতিবিশিষ্ট ও অপূর্ণাকৃতিবিশিষ্ট মাংসপিন্ড থেকে, তোমাদের কাছে ব্যক্ত করার জন্যে। আর আমি এক নির্দিষ্ট কালের জন্যে মাতৃগর্ভে যা ইচ্ছা রেখে দেই, এরপর আমি তোমাদেরকে শিশু অবস্থায় বের করি; তারপর যাতে তোমরা যৌবনে পদার্পণ কর । তোমাদের মধ্যে কেউ কেউ মৃত্যুমুখে পতিত হয় এবং তোমাদের মধ্যে কাউকে নিষ্কর্মা বয়স পর্যন্ত পৌঁছানো হয়, যাতে সে জানার পর জ্ঞাত বিষয় সম্পর্কে সজ্ঞান থাকে না (হজ্ব-৫)
আমি মানুষকে সৃষ্টি করেছি মিশ্র শুক্রবিন্দু থেকে (দাহ্র-২)
সৃষ্টি করেছেন মানুষকে জমাট রক্ত থেকে (আলাক-১)

হাদীছঃ
নবী (সাঃ) বলেনঃ তোমরা সকলেই আদমের সন্তান, আর আদম মাটি থেকে সৃষ্টি (বায্ যার প্রভৃতি, হাদীছ ছহীহ, দ্রঃ ছহীহুল জামে’ হা/৪৫৬৮)
স্বয়ং নবী বলেছেনঃ মানুষ মাটির তৈরী, ফেরেস্তা নূরের এবং জ্বিনজাত আগুনের তৈরী (মুসলিম, যুহদ ও রাক্বায়িক্ব অধ্যায়, হা/৫৩৪)
“তোমার পূর্বেও জনপদ বাসীদের মধ্যে [নবী হিসেবে] প্রেরণ করেছিলাম মানুষকে, যাদের আমি ওহী প্রেরণ করেছিলাম”-সূরা ইউসুফঃ ১০৯
“তোমাদের পূর্বে আমি যত রাসুল প্রেরণ করেছি তারা সকলেই ছিলো মানুষ যারা খাদ্য গ্রহণ করতো, এবং রাস্তায় চলাফেরা করতো ।
বস্তুতঃ আমি তোমাদের একজনকে অন্যজনের জন্য পরীক্ষা স্বরূপ করেছি । [হে মোমেনগণ] তোমরা কি ধৈর্য্য ধারণ করবে ? নিশ্চয়ই আল্লাহ্ [সব কিছু] দেখেন”-সূরা ফুরকানঃ ২০ ২)
“তোমার পূর্বে যে সব পয়গম্বর আমি প্রেরণ করেছিলাম তারাও ছিলো মানুষ, যাদের জন্য আমি ওহী মঞ্জুর করেছিলাম । যদি তোমরা তা না বুঝে থাক, তবে তাদের জিজ্ঞাসা কর যারা [আল্লাহ্র] বাণীকে ধারণ করে থাকে”-সূরা আম্বিয়াঃ ০৭ ২,৪ “তিনিই জেন্টাইল মানুষের জন্য তাদেরই মধ্য থেকে একজন রসুল পাঠিয়েছেন, যে তাদের নিকট আয়াত সমূহ আবৃত্তি করে, তাদের পবিত্র করে এবং শিক্ষা দেয় কিতাব ও প্রজ্ঞা । যদিও ইতিপূর্বে তারা ছিলো সুস্পষ্ট বিভ্রান্তির মধ্যে”-সূরা জুমুয়াহঃ ২ ২,৫ হে পরওয়ারদেগার! তাদের মধ্য থেকেই তাদের নিকট একজন পয়গম্বর প্রেরণ করুন- যিনি তাদের কাছে তোমার আয়াতসমুহ তেলাওয়াত করবেন, তাদেরকে কিতাব ও হেকমত শিক্ষা দেবেন এবং তাদের পবিত্র করবেন (বাক্বারা-১২৯) ২,৬ তাদেরই একজনকে তাদের মধ্যে রসুলরূপে প্রেরণ করেছিলাম এই বলে যে, তোমরা আল্লাহর বন্দেগী কর (মু’মিনুন-৩২) ২,৭ “তোমাদের মধ্য থেকেই তোমাদের প্রতি রাসূল প্রেরণ করেছি, যে তোমাদের নিকট আমার আয়াতসমূহ আবৃত্তি করে, তোমাদের পরিশুদ্ধ করে, এবং তোমাদের কিতাব ও প্রজ্ঞা এবং নূতন জ্ঞান শিক্ষা দেয়”-সূরা বাকারাঃ ১৫১ ২,৮ “এখন তোমাদের মধ্যে থেকেই তোমাদের নিকট একজন রাসূল এসেছে”-সূরা তাওবাঃ ১২৮ ২,৯ তাদের পয়গম্বর তাদেরকে বলেনঃ আমরাও তোমাদের মত মানুষ, কিন্তু আল্লাহ্ বান্দাদের মধ্য থেকে যার উপরে ইচ্ছা, অনুগ্রহ করেন (ইবরাহীম-১১) ২,১০ ‘নিশ্চয় আল্লাহ মুমিনদের বড় উপকার করেছেন, যেহেতু তাদেরই মধ্য থেকে একজনকে রাসূল হিসাবে পাঠিয়েছেন যিনি তাদের নিকট তাঁর আয়াতসমূহ তিলাওত করেন, তাদেরকে পরিশুদ্ধ করেন, এবং তাদেরকে কিতাব ও হিকমত শিক্ষা দান করেন, যদিও তারা ইতোপূর্বে স্পষ্ট গুমরাহীতে নিমজ্জিত ছিল (সূরাহ আলে ইমরানঃ ১৬৪) ৩) হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) ও (মাটির তৈরী) মানুষঃ-৩,১ “তুমি বল, “আমি তো তোমাদের মত একজন মানুষই , ওহীর মাধ্যমে আমাকে প্রত্যাদেশ দেয়া হয়েছে যে, তোমাদের উপাস্য এক আল্লাহ্ । সুতারাং তাঁর দিকে সত্য পথে চল; এবং তাঁর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা কর”-সূরা হামীম সিজদাহঃ ০৬ ৩,২ “বল, “আমি তোমাদের মত একজন মানুষ; [কিন্তু] আমার নিকট ওহী প্রেরণ করা হয় যে, তোমাদের আল্লাহ্ এক ও অদ্বিতীয় । সুতারাং যে তাহার প্রভুর সাক্ষাৎ কামনা করে, সে যেন সৎ কাজ করে, এবং প্রভুর এবাদতে কাউকে শরীক না করে” -সূরা কাহফঃ ১১০ ৩,৩ “বল:” আমার প্রভু মহিমান্বিত! আমি তো হচ্ছি কেবল একজন মানুষ, একজন রাসুল মাত্র”-বনী ইসরাইলঃ ৯৩ ৩,৪ “এটা কি মানুষের জন্য আশ্চর্য্যের বিষয় যে, আমি তাদেরই একজনের নিকট আমার ওহী প্রেরণ করেছি ?”-সূরা ইউনুসঃ ০২ ৪) ইবলীস ও জানে মানুষ মাটির তৈরীঃ-৪,১ (ইবলীস) বললঃ আমি এমন নই যে, একজন মানবকে সেজদা করব, যাকে আপনি পচা কর্দম থেকে তৈরী ঠনঠনে বিশুষ্ক মাটি দ্বারা সৃষ্টি করেছেন (হিজর-৩৩)৪,২ আল্লাহ বললেনঃ আমি যখন নির্দেশ দিয়েছি, তখন তোকে কিসে সেজদা করতে বারণ করল ? সে বললঃ আমি আমি তার চাইতে শ্রেষ্ঠ । আপনি আমাকে আগুন দ্বারা সৃষ্টি করেছেন, আর তাকে সৃষ্টি করেছেন মাটি দ্বারা । বললেনঃ তুই এখান থেকে নেমে যা । এখানে অহঙ্কার করার অধিকার তোর নাই । অতএব তুই বের হয়ে যা । নিশ্চয় তুই হীনতমদের অন্তর্ভূক্ত (সূরাহ আল্ আরাফঃ ১১-১৩) ৫) কাফেররাও ঈমান আনে নাই নবী রাসুলগণ (মাটির তৈরী) মানুষ বলেঃ-৫,১ “তারা আশ্চর্য হয় যে, তাদের মধ্যে থেকেই তাদের নিকট একজন সতর্ককারী এসেছে । সুতরাং অবিশ্বাসীরা বলে, “এটা তো বড় আশ্চর্য ব্যাপার !”-সূরা কাফঃ ০২ ৫,২ “এরা আশ্চর্য হচ্ছে এই ভেবে যে, তাদের মধ্য থেকেই তাদের জন্য একজন সর্তককারী এসেছে এবং অবিশ্বাসীরা বলে যে,” এ তো একজন যাদুকর , মিথ্যা বলছে”-সূরা ছোয়াদঃ ০৪ ৫,৩ আল্লাহ কি মানুষকে পয়গম্বর করে পাঠিয়েছেন ? তাদের এই উক্তিই মানুষকে ঈমান আনয়ন থেকে বিরত রাখে (বনী ইস্রাঈল-৯৪) ৫,৪ “তাদের অন্তর [তা নিয়ে] তুচ্ছ বিষয়ের মত খেলা করে । পাপীরা তাদের গোপন পরামর্শ লুকিয়ে রেখে [বলে]” সে কি তোমাদের মত একজন মানুষ নয় ? তোমরা কি দেখে শুনে যাদুর কবলে পড়বে ?”-সূরা আম্বিয়াঃ ০৩ ৫,৫ “এবং তারা বলে, “এ কি রকম রসুল, যে [মানুষের মত] আহার করে এবং রাস্তা দিয়ে চলাফেরা করে ? তার নিকট কোন ফেরেশতা কেন অবতীর্ণ করা হলো না, যে তাঁর সাথে থাকতো সতর্ককারীরূপে ? অথবা তাকে ধন ভান্ডার দেয়া হয় নাই কেন অথবা উপভোগের জন্য তার কোন বাগান নাই কেন ?” দুষ্ট লোকেরা বলে, “তোমরা তো এক যাদুগ্রস্থ লোকেরই অনুসরণ করছো”-সূরা ফুরকানঃ ০৭-০৮ ৫,৬ “কিন্তু তাঁর সম্প্রদায়ের অবিশ্বাসীদের প্রধাণগণ বলেছিলো, “আমরা তো তোমাকে আমাদের মত মানুষ ব্যতীত আর কিছু দেখছি না । আমাদের মধ্যে যারা নিম্নস্তরের, অপরিপক্ক বিচারবুদ্ধি সম্পন্ন, তারা ব্যতীত আর কাউকে তোমাকে অনুসরণ করতে দেখছি না । আমরা আমাদের উপর তোমাদের কোন শ্রেষ্ঠত্ব দেখছি না, বরং আমরা তোমাদের মিথ্যাবাদী মনে করি”- সূরা হুদঃ ২৭ ৫,৭ কাফেররা বললঃ এতো আমাদের মতই মানুষ বৈ নয় , তোমরা যা খাও, সেও তাই খায় এবং তোমরা যা পান কর, সেও তাই পান করে । যদি তোমরা তোমাদের মত একজন মানুষের আনুগত্য কর, তবে তোমরা নিশ্চিতরূপেই ক্ষতিগ্রস্থ হবে (মু’মিনুন-৩৩, ৩৪) ৫,৮ তোমরা তো আমাদের মতই মানুষ । তোমরা আমাদেরকে ঐ উপাস্য থেকে বিরত রাখতে চাও, যার ইবাদত আমাদের পিতৃপুরুষগণ করত (ইবরাহীম-১০) ৬) ‘নবী (সাঃ) সৃষ্টিগত দিক থেকে মাটির তৈরী মানুষ’ মর্মে হাদীছ থেকে প্রমাণঃ ৬,১ ‘তিনি আরো বলেনঃ আমি তো একজন মানুষ, আমিও তোমাদের মত ভুলে যাই, কাজেই আমি ভুলে গেলে আমাকে তোমরা স্মরণ করিয়ে দিবে (বুখারী, ছালাত অধ্যায়, হা/৩৮৬, মুসলিম মসজিদ ও ছালাতের স্থান অধ্যায়, হা/৮৮৯) ৬,২ ‘তিনি আরো বলেনঃ আমি তো একজন মানুষ, আমার নিকট বাদী আসে, সম্ভবত তোমাদের একজন অপর জন অপেক্ষা বেশি বাকপটু হবে, তাই আমি ধারণা করে নিতে পারি যে সে সত্য বলেছে কাজেই সে মতে আমি তার পক্ষে ফায়ছালা দিয়ে দিতে পারি । তাই আমি যদি তার জন্য কোন মুসলিমের হক ফায়ছালা হিসাবে দিয়ে থাকি, তাহলে সেটা একটা জাহান্নামের টুকরা মাত্র । অতএব সে তা গ্রহণ করুক বা বর্জন করুক (বুখারী, মাযালিম অধ্যায়, হা/২২৭৮) ৬,৩ ‘মা আয়েশাকে যখন জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বাড়িতে থাকাকালীন কী কাজ করতেন ? তদুত্তরে তিনি বলেছিলেনঃ তিনি তো অন্যান্য মানুষের মত একজন মানুষ ছিলেন । তিনি তার কাপড় সেলাই করতেন, নিজ বকরীর দুধ দোহন করতেন, নিজের সেবা নিজেই করতেন (আহমাদ,হা/২৪৯৯৮, আল আদাবুল মুফরাদ প্রভৃতি, হাদীছ ছহীহ, দ্রঃ ছহীহুল আদাব আল্ মুফরাদ, হা/৪২০, মুখতাতাছার শামায়েলে তিরমিযী, হা/২৯৩, ছহীহাহ, হা/৬৭১) ৭) পর্যালোচনানবী (সাঃ) কে আল্লাহ মাটির তৈরী আদম (আঃ) থেকে স্বাভাবিক মানুষের যে নিয়ম আল্লাহ করেছেন সে পদ্ধতিতেই আবদুল্লাহর ওরসে মা আমিনার গর্ভে এ পৃথিবীতে আগমন ঘটিয়েছেন । মহান আল্লাহ একাধিক স্থানে বলেছেন যে নবী (সাঃ) সৃষ্টিগত দিক থেকে ﺑﺸﺮ তথা আমাদের মতই একজন মানুষ । ৭,১
প্রশ্নঃ নবী মুহাম্মাদ (সাঃ) আদম সন্তানের বাইরে না ভিতরে?
যদি বলে বাইরে তবে তো তার সাথে কথা বলা অনর্থক । কারন মুহাম্মাদ (সাঃ) অন্যান্য মানুষের মতই আদম সন্তান ছিলেন (উপরের ১,১-১,১২ দ্রঃ) । আর যদি বলে যে, তিনিও আদম সন্তানের মধ্যে গণ্য, তখন আমরা বলব আদম (আঃ) কিসের তৈরী, নুরের না মাটির ? যদি বলে ‘মাটির তৈরী’ আর এটা বলতে তারা বাধ্য- তাহলে তাদের নিকট প্রশ্নঃ মাটির তৈরী পিতার সন্তান কিভাবে নূরের তৈরী হল ? ৭,২ মানুষ যেমন পানাহার করে, তেমনি মুহাম্মাদ (সাঃ) ও পানাহার করতেন (উপরের ৫,৫ ও ৫,৭ দ্রঃ) । ৭,৩ অন্যান্য মানুষের যেমন সন্তানাদি ছিল, তেমনি রাসুলদেরও সন্তানাদি ছিল, স্ত্রীও ছিল । ভূল রাসুলেরও হত (উপরের ৬,১ দ্রঃ) । ৭,৪ রাসুল (সাঃ) অতি মানব ছিলেন না যে তিনি মৃত্যু বরণ করবেন না । এরশাদ হচ্ছে- “নিশ্চয়ই তুমি মৃত্যুবরণ করবে এবং তারা সকলে মৃত্যু বরণ করবে” (সূরা যুমার ৩৯:৩০) ৭,৫ আর একথা কিভাবে গ্রহণ করা যায় যে, তিনি নূরের তৈরী, অথচ যাকে মানব জাতির হেদায়েতের জন্য, অনুসরণীয় একমাত্র আদর্শ হিসেবে আল্লাহ পাঠালেন মাটির মানুষদের কাছে । “নিঃসন্দেহে তুমি মহান চরিত্রের ওপর (প্রতিষ্ঠিত) রয়েছো” {সূরা আল ক্বালামঃ আয়াত ৪} ৭,৬ তফসীর মাআরেফুল ক্বোরআন এর ৭৯২ নং পৃষ্টায় আছে- মানবের রাসুল মানবই হতে পারেনঃ ভিন্ন শ্রেণীর সাথে পারস্পরিক মিল ব্যতীত হেদায়েত ও পথ প্রদর্শনের উপকার অর্জিত হয় না । ফেরেশতা ক্ষুধা পিপাসা জানে না, কাম-প্রবৃত্তিরও জ্ঞান রাখে না এবং শীত গ্রীষ্মের অনুভুতি ও পরিশ্রমজনিত ক্লান্তি থেকে মুক্ত । এমতাবস্থায় মানুষের প্রতি কোন ফেরেশতাকে রসুল করে প্রেরণ করা হলে সে মানবের কাছেও উপরোক্ত্ কর্ম আশা করতো এবং মানবের দুর্বলতা ও অক্ষমতা উপলব্ধি করতো না । বলুনঃ যদি পৃথিবীতে ফেরেশতারা স্বচ্ছন্দে বিচরণ করত, তবে আমি আকাশ থেকে কোন ফেরেশতা (নুরের তৈরী) কেই তাদের নিকট পয়গম্বর করে প্রেরণ করতাম (বনী ইস্রাঈল-৯৫) ৭,৭ নবী রাসুল নুরের তৈরী বা ফেরেশতা নন তাও আল্লাক তায়ালা কুরআনে উল্লেখ করেছেনঃ- আর আমি তোমাদেরকে বলিনা যে, আমার কাছে আল্লাহর ভান্ডার রয়েছে এবং একথাও বলি না যে, আমি গায়বী খবরও জানি; একথাও বলি না যে, আমি একজন ফেরেশতা (নুরের তৈরী); আর তোমাদের দৃষ্টিতে যারা লাঞ্ছিত আল্লাহতাদের কোন কল্যাণ দান করবেন না । তাদের মনের কথা আল্লাহ ভাল করেই জানেন । সুতরাং এমন কথা বললে আমি অন্যায় কারী হব (হূদ-৩১) ৮) বিদআতীরা নবীকে নূর প্রমাণ করতে যেয়ে দলীল স্বরূপ কুরআন থেকে কতিপয় আয়াত পেশ করে থাকে । যেমন, ৮,১ মহান আল্লাহ এরশাদ করেনঃ ‘তোমাদের নিকট নূর-তথা একটি উজ্জ্বল জ্যোতি এবং স্পষ্ট কিতাব এসেছে । এর দ্বারা আল্লাহ যারা তার সন্তুষ্টি কামনা করে, তাদেরকে নিরাপত্তার পথ প্রদর্শন করেন, এবং তাদেরকে স্বীয় নির্দেশ দ্বারা অন্ধকার থেকে বের করে আলোর দিকে আনয়ন করেন এবং সরল পথে পরিচালনা করেন’(সূরাহ আল্ মায়িদাহঃ ১৫-১৬) অত্র আয়াতে নবীর গুণ স্বরূপ (অথবা আত্মা) তাকে নূর বা জ্যোতি বলা হয়েছে, সৃষ্টিগতভাবে তাকে নূরের তৈরী বলা হয়নি । আর কিভাবে তিনি গুণগতভাবে নূর বা জ্যোতি হলেন, তা সাথে সাথে আল্লাহ পরের আয়াতেই ব্যাখ্যা করে দিয়েছেন । ৮,২ এরশাদ হচ্ছেঃ ‘হে নবী! আমি আপনাকে সাক্ষী, সুসংবাদ দাতা ও সতর্ককারীরূপে প্রেরণ করেছি । এবং আল্লাহর আদেশক্রমে তাঁর দিকে আহবায়করূপে এবং উজ্জ্বল প্রদীপরূপে । (সূরা আল্ আহযাব: ৪৫-৪৬) নবী (সাঃ) কে উক্ত আয়াতে (রূপে) যে মহান আল্লাহ গুণগত দিক থেকে নূর বা জ্যোতি বলেছেন তা অত্র আয়াতেই স্পষ্ট ।৯,১ এরশাদ হচ্ছে: ‘অতএব তোমরা আল্লাহ তাঁর রাসূল এবং অবতীর্ণ নূরের প্রতি ঈমান আনয়ন কর । তোমরা যা কর, সে বিষয়ে আল্লাহ সম্যক অবগত (সূরাহ আত্ তাগাবুন: ৮) ৯,২ অন্য সূরায় মহান আল্লাহ বলেনঃ ‘সুতরাং যারা তাঁর (মুহাম্মাদ এর) উপর ঈমান এনেছে, তাঁকে সম্মান করেছে, সাহায্য করেছে এবং তার উপর যে নূর অবতীর্ণ করা হয়েছে তার অনুসরণ করেছে তারাই হল প্রকৃত সফলকাম (সূরা আল্ আরাফ: ১৫৭) উক্ত আয়াতদ্বয়ে আল্লাহ কুরআনকেও ‘নূর’ বলেছেন ।নূর পার্টিরা কী বলবে কুরাআনও নূরের সৃষ্টি !অথচ কুরআন মহান আল্লাহর বাণী ইহাই সকল সুন্নী মুসলিমদের বিশ্বাস । কুরআনকে সৃষ্টবস্তু জ্ঞান করা স্পষ্ট কুফরী, অতএব, কুরআনকে নূর বলার পরও যদি নূরের সৃষ্টি না বলা হয়, তবে রাসূলকে নূরের সৃষ্টি কোন্ যুক্তিতে বলা হবে ? কারণ মহান আল্লাহ নবীকে যেমন ‘নূর’ বলেছেন, ঠিক তেমনিভাবে পবিত্র আল কুরআনকেও ‘নূর’ বলেছেন ।১০) প্রশ্ন করতে পারেন যে, আপনি বলেছেন নবী সা. মাটির তৈরী । অথচ, রাসূল সা. তার এক হাদিছে বলেন যে,১০,১ আল্লাহ সর্বপ্রথম আমার নূর সৃষ্টি করেছেন । এর জবাব কী ? এ উত্তরটা একটি হাদিছ দিয়ে-ই দেই । আল্লাহর রাসূল সা. অন্য হাদিছে বলেন যে, ১০,২ আল্লাহ সর্বপ্রথম আমার রূহ সৃষ্টি করেন । ঐ হাদিছ এবং এই হাদিছের মর্ম একই । অর্থাৎ আল্লাহর রাসূলের রুহ মোবারক নূরের তৈরী, সমস্ত শরীর নয় । কেননা মহানবী সা. এর রূহ বা পবিত্র আত্না মাটির তৈরী হবে তো দূরের কথা, কোন মানুষের আত্নাই মাটির তৈরী নয় । বরং সমস্ত মানুষের আত্নাই নূরের তৈরী । ১১) সৃষ্টির উপাদানের উপর ভিত্তি করে কোন ব্যক্তির মর্যাদা নির্ণয় করা সরাসরি কুরআন ও হাদীছ বিরোধী কথা ।১১,১ কারণ মহান আল্লাহ বলেই দিয়েছেনঃ. ‘নিশ্চয় আল্লাহর নিকট তোমাদের মধ্যে ঐব্যক্তি বেশি সম্মানিত যে তোমাদের মধ্যে সর্বধিক তাক্বওয়াশীল’ পরহেযগার (সূরা হুজুরাত: ১৩) ১১,২ নবী (সাঃ) বলেনঃ হে মানব মন্ডলি! নিশ্চয় তোমাদের প্রতিপালক এক, সাবধান! কোন আরবীর আজমীর (অনারব) উপর, কোন আজমীর আরবীর উপর প্রাধান্য নেই । অনুরূপভাবে কোন লাল বর্ণের ব্যক্তির কালো ব্যক্তির উপর, কোন কালো ব্যক্তির লাল বর্ণের ব্যক্তির উপর প্রাধান্য নেই । প্রাধান্য একমাত্র তাকওয়া পরহেযগারিতার ভিত্তিতে হবে । ‘নিশ্চয় আল্লাহর নিকট তোমাদের মধ্যে ঐ ব্যক্তি বেশি সম্মানিত যে তোমাদের মধ্যে সর্বধিক তাক্বওয়াশীল’-পরহেযগার (আহমাদ প্রভৃতি, হাদীছ ছহীহ । দ্রঃ শাইখ আলবানীর গায়াতুল মারাম, পৃঃ১৯০, হা/৩১৩) কাজেই নবী (সাঃ) নূর থেকে সৃষ্টি না হয়ে মাটি থেকে সৃষ্টি হওয়া তাঁর জন্য মোটেও মানহানিকর বিষয় নয় যেমনটি অসংখ্য বিদআতী তাই ধারণা করে বসেছে । বরং নবী (সাঃ) মাটির তৈরী হয়েও সৃষ্টির সেরা ব্যক্তিত্ব, সর্বাধিক মুত্তাক্বী-পরহেযগার । সমস্ত সৃষ্টি কুলের সর্দার, নবীকুল শিরোমণী, আল্লাহর খালীল-অন্তরঙ্গ বন্ধু । আল্লাহর অনুমতি সাপেক্ষে হাশরের মাঠে মহান শাফাআতের অধিকারী, হাওযে কাউছারের অধিকারী, সর্ব প্রথম জান্নাতে প্রবেশকারী । মাক্বামে মাহমূদের অধিকারী, রহমাতুল লিল আলামীন, শাফিঊল লিল মুযনিবীন এসব বিষয়ে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের মাঝে কোনই দ্বিমত নেই । ইহাই ছাহাবায়ে কেরাম, তাবেঈনে ইযাম, আইম্মায়ে মুজতাহিদীনের বিশ্বাস । যুগ পরম্পরায় এই বিশ্বাসই করে আসছেন সকল সুন্নী মুসলিম । ১২) ‘সৃষ্টির উপাদানের ভিত্তিতে ব্যক্তি শ্রেষ্ঠত্ব অজর্ন করে’ এটা ইবলীস শয়তানের ধারণা ও দাবী মাত্র ।১২,১ এই অলিক ধারণার ভিত্তিতেই সে (ইবলীস) আগুনের তৈরী বলে মাটির তৈরী আদমকে সিজদাহ করতে অস্বীকার করে ছিল (উপরের ৪,১ ও ৪,২ দ্রঃ) । ‘নবী (সাঃ) কে নূরের তৈরী গণ্য করা হলে তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব প্রকাশ হবে, আর মাটির তৈরী গণ্য করলে সেই শ্রেষ্ঠত্ব বিলুপ্ত হবে, তাতে তার মানহানী হবে’ মর্মের যুক্তিটি শয়তানের যুক্তির সাথে মিলে কিনা চিন্তা-ভাবনা করার উদাত্ত আহ্বান রইল । ১২,২ কাফেররাও নবী রাসুলকে মাটির তৈরী মানুষ বলে তাঁর প্রতি ঈমাম আনে নাই, অনুসরণ করে নাই, তাকে আদর্শ হিসাবে গ্রহণ করে নাই (উপরের ৫,১ থেকে ৫,৮ দ্রঃ) । আপনারা যারা নূরের তৈরী আক্বীদা পোষণ করেন, মাটির তৈরী বলে কি আদর্শ হিসাবে গ্রহণ করতে চান না ?!! এ রকম ভাবলে কাফেরদের সাথে মিলে যাওয়ার সম্ভাবনা থেকে যায় নয় কি ? আল্লাহ খালেক (সব কিছুর স্রষ্টা) আর সবকিছু তার মাখলুক (সৃষ্টি) আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘আল্লাহ সমস্ত কিছুর স্রষ্টা ও তিনি সমস্ত কিছুর কর্মবিধায়ক । আকাশ ও পৃথিবীর চাবিও তাঁরই কাছে’ {যুমার ৬২-৬৩} আর শ্রেষ্ঠ মাখলুক হল মানুষ (মাটির তৈরী) [যে কারনে আল্লাহ নুরের তৈরী ফেরেশতাকে মাটির তৈরী মানুষ আদম (আঃ) কে সেজদা করার আদেশ দিলেন] মানুষের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ হল বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)। তাঁর শ্রেষ্ঠতের বহু কারন রয়েছে । তন্মধ্যে তাঁর প্রতি আল্লাহর বানী আল কুরআন নাযিল হয়েছে এবং তিনিই আল্লাহর বানীর সর্বাপেক্ষা বুঝদ্বার ও ব্যাখ্যা বিশ্লেষক। আল্লাহ আপনার প্রতি ঐশীগ্রন্থ ও প্রজ্ঞা অবতীর্ণ করেছেন এবং আপনাকে এমন বিষয় শিক্ষা দিয়েছেন, যা আপনি জানতেন না। আপনার প্রতি আল্লাহর করুনা অসীম (নিসা-১১৩) “বলুনঃ আমিও তোমাদের মতই একজন মানুষ, আমার প্রতি প্রত্যাদেশ হয় যে, তোমাদের ইলাহই একমাত্র ইলাহ। অতএব, যে ব্যক্তি তার পালনকর্তার সাক্ষাত কামনা করে, সে যেন, সৎকর্ম সম্পাদন করে এবং তার পালনকর্তার এবাদতে কাউকে শরীক না করে।” সুরা কাহ্ফ :১১০ আল্লাহ্ বলেন:আপনি বলুন, আমি তোমাদের মতই একজন মানুষ…[সূরা কাহফ, আয়াত:১১০]আল্লাহ্ বলেন:আসমান যমিনে আল্লাহ্ ব্যতীত অন্য কেউ গায়েবের খবর জানে না…[সূরা নামল, আয়াত: ৬৫]আল্লাহ্ আরো বলেন:”আপনি বলুন, আমি তোমাদেরকে বলি না যে, আমার কাছে আল্লাহ্র ভাণ্ডার রয়েছে। তাছাড়া আমি অদৃশ্য বিষয়ে অবগতও নই। আমি এমনও বলি না যে আমি ফেরেশতা। আমি তো শুধু ঐ অহীর অনুসরণ করি, যা আমার কাছে আসে..”.[সূরা আন্আ’ম, আয়াত: ৫০]আল্লাহ্ আরো বলেন:আপনি বলে দিন, আমি আমার নিজের কল্যাণ এবং অকল্যাণ সাধনের মালিক নই, কিন্তু যা আল্লাহ্ চান। আর আমি যদি গায়েবের কথা জেনে নিতে পারতাম, তাহলে বহু কল্যাণ অর্জন করে নিতে পারতাম। ফলে আমার কোন অমঙ্গল কখনো হতে পারত না।আমি তো শুধুমাত্র একজন ভীতি প্রদর্শক ও ঈমানদারদের জন্য সুসংবাদদাতা…[সূরা আ’রাফ, আয়াত: ১৮৮] রাসূল (সা:) বলেন:আমি তোমাদের মতই একজন মানুষ। তোমার যেমন ভুলে যাও আমিও তেমনি ভুলে যাই। আমি ভুল করলে তোমরা আমাকে স্মরণ করিয়ে দিও…[বুখারী],যে ব্যক্তি রাসূল (সা:) এর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করল এই বিশ্বাস রাখলো যে, নবী (সা:) ভালমন্দের মালিক, সে কাফের হিসাবে গণ্য হবে।কথা হচ্ছে নবীজী সাঃ নূরের তৈরী ফেরেস্তা কি না? নাকি মাটির তৈরী মানুষ?রাসূল সাঃ মানুষ ছিলেন? নাকি ফেরেস্তা?যদি বলেন ফেরেস্তা তাহলে আরবের মুশরিকদের অভিযোগ করার কি কারণ?
পবিত্র কুরআনে যা বিধৃত হয়েছে এরকম শব্দে-
ﻗُﻞْ ﺳُﺒْﺤَﺎﻥَ ﺭَﺑِّﻲ ﻫَﻞْ ﻛُﻨﺖُ ﺇَﻻَّ ﺑَﺸَﺮًﺍ ﺭَّﺳُﻮﻻً ( 93 ) ﻭَﻣَﺎ ﻣَﻨَﻊَ ﺍﻟﻨَّﺎﺱَ ﺃَﻥ ﻳُﺆْﻣِﻨُﻮﺍْ ﺇِﺫْ ﺟَﺎﺀﻫُﻢُ ﺍﻟْﻬُﺪَﻯ ﺇِﻻَّ ﺃَﻥ ﻗَﺎﻟُﻮﺍْ ﺃَﺑَﻌَﺚَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﺑَﺸَﺮًﺍ ﺭَّﺳُﻮﻻً ( 94 ) ﻗُﻞ ﻟَّﻮْ ﻛَﺎﻥَ ﻓِﻲ ﺍﻷَﺭْﺽِ ﻣَﻶﺋِﻜَﺔٌ ﻳَﻤْﺸُﻮﻥَ ﻣُﻄْﻤَﺌِﻨِّﻴﻦَ ﻟَﻨَﺰَّﻟْﻨَﺎ ﻋَﻠَﻴْﻬِﻢ ﻣِّﻦَ ﺍﻟﺴَّﻤَﺎﺀ ﻣَﻠَﻜًﺎ ﺭَّﺳُﻮﻻً ( 95 )
বলুন, পবিত্র মহান আমার পালনকর্তা, আমি একজন মানব রাসূল ছাড়া কে? লোকদের নিকট হেদায়াত আসার পর তাদেরকে এ উক্তি ঈমান আনয়ন থেকে বিরত টরাখে যে, “আল্লাহ কি মানুষকে রাসূলস্বরূপ প্রেরণ করেছেন?” বলুন যদি পৃথিবীতে ফেরেস্তারা বিচরণ করত, তবে আমি তাদের নিকট আকাশ থেকে ‘ফেরেস্তা রাসূল’ প্রেরণ করতাম।{সূরা বনী ইসরাঈল-৯৩, ৯৪, ৯৫}
অন্যত্র ইরশাদ হয়েছে-
ﻭَﻗَﺎﻟُﻮﺍْ ﻟَﻮْﻻ ﺃُﻧﺰِﻝَ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻣَﻠَﻚٌ ﻭَﻟَﻮْ ﺃَﻧﺰَﻟْﻨَﺎ ﻣَﻠَﻜًﺎ ﻟَّﻘُﻀِﻲَ ﺍﻷﻣْﺮُ ﺛُﻢَّ ﻻَ ﻳُﻨﻈَﺮُﻭﻥَ ( 8 ﻭَﻟَﻮْ ﺟَﻌَﻠْﻨَﺎﻩُ ﻣَﻠَﻜًﺎ ﻟَّﺠَﻌَﻠْﻨَﺎﻩُ ﺭَﺟُﻼً ﻭَﻟَﻠَﺒَﺴْﻨَﺎ ﻋَﻠَﻴْﻬِﻢ ﻣَّﺎ ﻳَﻠْﺒِﺴُﻮﻥَ )
তারা আরো বলে যে, তাঁর কাছে কোন ফেরেস্তা কেন প্রেরণ করা হল না? যদি আমি কোন ফেরেস্তা প্রেরণ করতাম, তবে গোটা ব্যাপারটি খতম হয়ে যেত। এরপর তাদেররকে সামান্য অবকাশও দেয়া হত না। যদি আমি কোন ফেরেস্তাকে রাসূল করে পাঠাতাম, তবে সে মানুষের রূপেই হত। এতেও সে সন্দেহই করত, যা এখন করছে।{সূরা আনআম-৮,৯}

রাসূল (সা:) মানুষ ছিলেন এ ব্যাপারে কাফেরদেরও কোন সন্দেহ ছিল না তার প্রমান :
রাসূল (সাঃ) মানুষ ছিলেন এ ব্যাপারে কোন কাফেরেরও সন্দেহ ছিল না। মক্কার কাফেরদের আশ্চর্যের এটাইতো কারণ ছিল যে, আল্লাহ তাআলা কেন ফেরেস্তা ছাড়া মানুষকে রাসূল বানিয়ে পাঠালেন?এর জবাব আল্লাহ তাআলা কি সুন্দর শব্দে বলে দিলেন। যদি দুনিয়াতে মানুষের বদলে ফেরেস্তারা থাকতো তাহলে আল্লাহ তাআলা ফেরেস্তাই পাঠাতেন রাসূলরূপে। কিন্তু যেহেতু দুনিয়াতে মানুষ বাস করে তাই মানুষকেই পাঠানো হয়েছে রাসূল হিসেবে। এ সহজ কথাটি মক্কার কাফেররা বুঝতো না বলেই আল্লাহ তাআলা আয়াত নাজিল করে বুঝালেন। কিন্তু পরিতাপের বিষয় হল মুসলমান নামধারী কিছু বেদআতীরাও মক্কার কাফেরদের মতই অভিযোগ করে নবীজী সাঃ মানুষ নন। ফেরেস্তাদের মত নূরের তৈরী। যদি নবীজী (সাঃ) কে মানুষ বিশ্বাস করতে হয়, তাহলে পূর্বোক্ত আয়াতের কালীমা অনুযায়ী বিশ্বাস করতে হবে মানুষ মাটির তৈরী, তাই নবীজী সাঃ ও মানুষ তাই তিনিও মাটির তৈরী।আর যদি বলা হয় রাসূল সাঃ মানুষ নন, ফেরেস্তা, তাহলে মক্কার কাফেররা ফেরেস্তা কেন নবীরূপে পাঠানো হলো না এ অভিযোগ কেন করল?

নবীজী (সাঃ) মানুষ না হয়ে ফেরেস্তা হলে কাফেরদের প্রশ্ন করার কি প্রয়োজন ছিল :
নবীজী (সাঃ) মানুষ না হয়ে ফেরেস্তা হলে কাফেরদের প্রশ্ন করার কি প্রয়োজন ছিল যে, আল্লাহ তাআলা মানুষকে কেন পাঠালেন নবী করে ফেরেস্তার বদলে?সুতরাং বুঝা গেল নবীজী সাঃ মানুষ ফেরেস্তা নয়। আর মানুষ কিসের তৈরী? তা সুষ্পষ্টই আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনের বিভিন্ন আয়াতের উল্লেখ করেছেন।রাসূল সাঃ মানুষ ছিলেন
ﻗُﻞْ ﺳُﺒْﺤَﺎﻥَ ﺭَﺑِّﻲ ﻫَﻞْ ﻛُﻨﺖُ ﺇَﻻَّ ﺑَﺸَﺮًﺍ ﺭَّﺳُﻮﻻً ( 93 ) ﻭَﻣَﺎ ﻣَﻨَﻊَ ﺍﻟﻨَّﺎﺱَ ﺃَﻥ ﻳُﺆْﻣِﻨُﻮﺍْ ﺇِﺫْ ﺟَﺎﺀﻫُﻢُ ﺍﻟْﻬُﺪَﻯ ﺇِﻻَّ ﺃَﻥ ﻗَﺎﻟُﻮﺍْ ﺃَﺑَﻌَﺚَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﺑَﺸَﺮًﺍ ﺭَّﺳُﻮﻻً ( 94 ) ﻗُﻞ ﻟَّﻮْ ﻛَﺎﻥَ ﻓِﻲ ﺍﻷَﺭْﺽِ ﻣَﻶﺋِﻜَﺔٌ ﻳَﻤْﺸُﻮﻥَ ﻣُﻄْﻤَﺌِﻨِّﻴﻦَ ﻟَﻨَﺰَّﻟْﻨَﺎ ﻋَﻠَﻴْﻬِﻢ ﻣِّﻦَ ﺍﻟﺴَّﻤَﺎﺀ ﻣَﻠَﻜًﺎ ﺭَّﺳُﻮﻻً ( 95 )
অনুবাদ-বলুন, পবিত্র মহান আমার পালনকর্তা, আমি একজন মানব রাসূল ছাড়া কে? লোকদের নিকট হেদায়াত আসার পর তাদেরকে এ উক্তি ঈমান আনয়ন থেকে বিরত রাখে যে, “আল্লাহ কি মানুষকে রাসূলস্বরূপ প্রেরণ করেছেন?” বলুন যদি পৃথিবীতে ফেরেস্তারা বিচরণ করত, তবে আমি তাদের নিকট আকাশ থেকে ‘ফেরেস্তা রাসূল’ প্রেরণ করতাম।{সূরা বনী ইসরাঈল-৯৩, ৯৪, ৯৫}আরো ইরশাদ হয়েছে-
ﻗُﻞْ ﺇِﻧَّﻤَﺎ ﺃَﻧَﺎ ﺑَﺸَﺮٌ ﻣِّﺜْﻠُﻜُﻢْ ﻳُﻮﺣَﻰ ﺇِﻟَﻲَّ ﺃَﻧَّﻤَﺎ ﺇِﻟَﻬُﻜُﻢْ ﺇِﻟَﻪٌ ﻭَﺍﺣِﺪٌ ﻓَﻤَﻦ ﻛَﺎﻥَ ﻳَﺮْﺟُﻮ ﻟِﻘَﺎﺀ ﺭَﺑِّﻪِ ﻓَﻠْﻴَﻌْﻤَﻞْ ﻋَﻤَﻼً ﺻَﺎﻟِﺤًﺎ ﻭَﻻ ﻳُﺸْﺮِﻙْ ﺑِﻌِﺒَﺎﺩَﺓِ ﺭَﺑِّﻪِ ﺃَﺣَﺪًﺍ ( 110 )
অনুবাদ-বলুন, আমিও তোমাদের মতই একজন মানুষ। আমার প্রতি প্রত্যাদেশ হয় যে, তোমাদের মাবুদ হল একজন। অতএব, যে ব্যক্তি তার পালনকর্তার সাক্ষাত কামনা করে, সে যেন সৎকর্ম সম্পাদন করে এবং তার পালনকর্তার ইবাদতে কাউকে শরীক না করে।{সূরা কাহাফ-১১০}অন্যত্র আরো ইরশাদ হয়েছে-
ﻗُﻞْ ﺇِﻧَّﻤَﺎ ﺃَﻧَﺎ ﺑَﺸَﺮٌ ﻣِّﺜْﻠُﻜُﻢْ ﻳُﻮﺣَﻰ ﺇِﻟَﻲَّ ﺃَﻧَّﻤَﺎ ﺇِﻟَﻬُﻜُﻢْ ﺇِﻟَﻪٌ ﻭَﺍﺣِﺪٌ ﻓَﺎﺳْﺘَﻘِﻴﻤُﻮﺍ ﺇِﻟَﻴْﻪِ ﻭَﺍﺳْﺘَﻐْﻔِﺮُﻭﻩُ ﻭَﻭَﻳْﻞٌ ﻟِّﻠْﻤُﺸْﺮِﻛِﻴﻦَ ( 6 )
অনুবাদ-বলুন, আমিও তোমাদের মতই মানুষ। আমার প্রতি অহী আসে যে, তোমাদের মাবুদ হল একজন। অতএব তারই প্রতি একাগ্র হও, এবং তার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা কর। আর মুশরেকদের জন্য রয়েছে। দুর্ভোগ।{সূরা হা-মীম সাজদা-৬}অন্যত্র আরো ইরশাদ হয়েছে- ﻭَﻣَﺎ ﺟَﻌَﻠْﻨَﺎ ﻟِﺒَﺸَﺮٍ ﻣِّﻦ ﻗَﺒْﻠِﻚَ ﺍﻟْﺨُﻠْﺪَ ﺃَﻓَﺈِﻥ ﻣِّﺖَّ ﻓَﻬُﻢُ ﺍﻟْﺨَﺎﻟِﺪُﻭﻥَ ( 34 )অনুবাদ-আপনার পূর্বেও আমি কোন মানুষকে অনন্ত জীবন দান করিনি। সুতরাং আপনার মৃত্যু হলে তারা কি চিরঞ্জীব হবে?{সূরা আম্বিয়া-৩৪}রাসূল সাঃ মানব ছিলেন এর বহু প্রমাণ হাদীসেও পাওয়া যায়। নিম্ন ৩ টি হাদীস উদ্ধৃত করা হল-
ﻋﻦ ﺃﻣﻬﺎ ﺃﻡ ﺳﻠﻤﺔ ﻗﺎﻟﺖ ﺳﻤﻊ ﺍﻟﻨﺒﻲ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭ ﺳﻠﻢ ﺟﻠﺒﺔ ﺧﺼﺎﻡ ﻋﻨﺪ ﺑﺎﺑﻪ ﻓﺨﺮﺝ ﻋﻠﻴﻬﻢ ﻓﻘﺎﻝ ( ﺇﻧﻤﺎ ﺃﻧﺎ ﺑﺸﺮ ﻭﺇﻧﻪ ﻳﺄﺗﻴﻨﻲ ﺍﻟﺨﺼﻢ ﻓﻠﻌﻞ ﺑﻌﻀﺎ ﺃﻥ ﻳﻜﻮﻥ ﺃﺑﻠﻎ ﻣﻦ ﺑﻌﺾ ﺃﻗﻀﻲ ﻟﻪ ﺑﺬﻟﻚ ﻭﺃﺣﺴﺐ ﺃﻧﻪ ﺻﺎﺩﻕ ﻓﻤﻦ ﻗﻀﻴﺖ ﻟﻪ ﺑﺤﻖ ﻣﺴﻠﻢ ﻓﺈﻧﻤﺎ ﻫﻲ ﻗﻄﻌﺔ ﻣﻦ ﺍﻟﻨﺎﺭ ﻓﻠﻴﺄﺧﺬﻫﺎ ﺃﻭ ﻟﻴﺪﻋﻬﺎ ( ﺻﺤﻴﺢ ﺍﻟﺒﺨﺎﺭﻯ – ﻛﺘﺎﺏ ﺍﻷﺣﻜﺎﻡ، ﺑﺎﺏ ﺍﻟﻘﻀﺎﺀ ﻓﻲ ﻛﺜﻴﺮ ﺍﻟﻤﺎﻝ ﻭﻗﻠﻴﻠﻪ، ﺭﻗﻢ ﺍﻟﺤﺪﻳﺚ 6762 – )
অনুবাদ-হযরত উম্মে সালমা রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাঃ নিজের দরজার কাছে বিবাদ-বিতর্ক শুনতে পেয়ে তাদের নিকট এসে বললেন-আমি তো একজন মানুষ মাত্র। আমার কাছে বাদী বিবাদীরা এসে থাকে। কেউ হয়ত অধিক বাকপটু হয়, ফলে আমি তাকে সত্য মনে করে তার পক্ষে রায় দিয়ে দেই। যদি আমি কারো পক্ষে অন্য কোন মুসলমানের হকের ব্যাপারে ফয়সালা দিয়ে থাকি, তাহলে তা জাহান্নামের টুকরো হিসেবে বিবেচিত হবে। সে তা গ্রহণ করতেও পারে, অথবা বর্জনও করতে পারে।{সহীহ বুখারী, হাদীস নং-৬৭৬২, সহীহ মুসলিম, হাদীস নং-৪৫৭২, তাহাবী শরীফ, হাদীস নং-৫৬৮০, মুসনাদুশ শামীন, হাদীস নং-৩১১৬, সুনানে দারা কুতনী, হাদীস নং-১২৬, সুনানে বায়হাকী কুবরা, হাদীস নং-২০৩২১}
ﻭﻟﻜﻦ ﺇﻧﻤﺎ ﺃﻧﺎ ﺑﺸﺮ ﻣﺜﻠﻜﻢ ﺃﻧﺴﻰ ﻛﻤﺎ ﺗﻨﺴﻮﻥ ﻓﺈﺫﺍ ﻧﺴﻴﺖ ﻓﺬﻛﺮﻭﻧﻲ ( ﺻﺤﻴﺢ ﺍﻟﺒﺨﺎﺭﻯ، ﻛﺘﺎﺏ ﺍﻟﺼﻼﺓ، ﺑﺎﺏ ﺍﻟﺘﻮﺟﻪ ﻧﺤﻮ ﺍﻟﻘﺒﻠﺔ ﺣﻴﺚ ﻛﺎﻥ، ﺭﻗﻢ ﺍﻟﺤﺪﻳﺚ 392 – )
অনুবাদ-হযরত আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাঃ বলেছেন-আমিতো তোমাদের মতই একজন মানুষ। তোমরা যেমন ভুলে যাও, আমিও তেমনি ভুলে যাই। তাই আমি ভুলে গেলে তোমরা আমাকে স্বরণ করিয়ে দিও।{সহীহ বুখারী, হাদীস নং-৩৯২, সহীহ ইবনে হিব্বান, হাদীস নং-২৬৬২, মুসনাদে আবী ইয়ালা, হাদীস নং-৫২৪২, মুসনাদে তায়ালিসী, হাদীস নং-২৭১}
ﺟﺎﺑﺮ ﺑﻦ ﻋﺒﺪ ﺍﻟﻠﻪ ﻳﻘﻮﻝ ﺳﻤﻌﺖ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ – ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ – ﻳﻘﻮﻝ « ﺇﻧﻤﺎ ﺃﻧﺎ ﺑﺸﺮ ﻭﺇﻧﻰ ﺍﺷﺘﺮﻃﺖ ﻋﻠﻰ ﺭﺑﻰ ﻋﺰ ﻭﺟﻞ ﺃﻯ ﻋﺒﺪ ﻣﻦ ﺍﻟﻤﺴﻠﻤﻴﻦ ﺳﺒﺒﺘﻪ ﺃﻭ ﺷﺘﻤﺘﻪ ﺃﻥ ﻳﻜﻮﻥ ﺫﻟﻚ ﻟﻪ ﺯﻛﺎﺓ ﻭﺃﺟﺮﺍ ( ﺻﺤﻴﺢ ﻣﺴﻠﻢ، ﻛﺘﺎﺏ ﺍﻟﺒﺮ ﻭﺍﻟﺼﻠﺔ ﻭﺍﻵﺩﺏ، ﺑﺎﺏ ﻣﻦ ﻟﻌﻨﻪ ﺍﻟﻨﺒﻰ – ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ – ﺃﻭ ﺳﺒﻪ ﺃﻭ ﺩﻋﺎ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﻟﻴﺲ ﻫﻮ ﺃﻫﻼ ﻟﺬﻟﻚ ﻛﺎﻥ ﻟﻪ ﺯﻛﺎﺓ ﻭﺃﺟﺮﺍ ﻭﺭﺣﻤﺔ، ﺭﻗﻢ ﺍﻟﺤﺪﻳﺚ 6790 – )
অনুবাদ-হযরত জাবের বিন আব্দুল্লাহ রাঃ থেকে বর্ণিত। আমি রাসূল সাঃ কে বলতে শুনেছি যে, তিনি ইরশাদ করেছেন-আমি তো একজন মানুষমাত্র। আমি আপন প্রতিপালকের নিকট বলে রেখেছি যে, আমি যদি কোন মুসলমানকে মন্দ বলি, তাহলে সেটি যেন তার জন্যে পবিত্রতা ও সওয়াবের কারণ হয়।{সহীহ মুসলিম, হাদীস নং-৬৭৯০, মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং-১২১২৬, সুনানে বায়হাকী কুবরা, হাদীস নং-১৩১৬০}উল্লেখিত আয়াত ও হাদীস একথা দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলছে যে, রাসূল সাঃ মানুষ ছিলেন। ফেরেস্তা বা জিন নয়। আর মানুষ মাটির তৈরী হয় একথা মহান রাব্বুল আলামীন পবিত্র কুরআনে একাধিক স্থানে স্পষ্টই বলেছেন। যা ইতোপূর্বে উদ্ধৃত হয়েছে।রাসূল সাঃ নূরের তৈরী হলে রাসূল সাঃ এর পূর্বসূরী ও উত্তরসূরীরা কিসের তৈরী?
ﻗﺎﻝ ﺍﻟﻌﺒﺎﺱ ﺑﻠﻐﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﺑﻌﺾ ﻣﺎ ﻳﻘﻮﻝ ﺍﻟﻨﺎﺱ ﻗﺎﻝ ﻓﺼﻌﺪ ﺍﻟﻤﻨﺒﺮ ﻓﻘﺎﻝ ﻣﻦ ﺃﻧﺎ ﻗﺎﻟﻮﺍ ﺃﻧﺖ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﻓﻘﺎﻝ ﺃﻧﺎ ﻣﺤﻤﺪ ﺑﻦ ﻋﺒﺪ ﺍﻟﻠﻪ ﺑﻦ ﻋﺒﺪ ﺍﻟﻤﻄﻠﺐ ﺇﻥ ﺍﻟﻠﻪ ﺧﻠﻖ ﺍﻟﺨﻠﻖ ﻓﺠﻌﻠﻨﻲ ﻓﻲ ﺧﻴﺮ ﺧﻠﻘﻪ ﻭﺟﻌﻠﻬﻢ ﻓﺮﻗﺘﻴﻦ ﻓﺠﻌﻠﻨﻲ ﻓﻲ ﺧﻴﺮ ﻓﺮﻗﺔ ﻭﺧﻠﻖ ﺍﻟﻘﺒﺎﺋﻞ ﻓﺠﻌﻠﻨﻲ ﻓﻲ ﺧﻴﺮ ﻗﺒﻴﻠﺔ ﻭﺟﻌﻠﻬﻢ ﺑﻴﻮﺗﺎ ﻓﺠﻌﻠﻨﻲ ﻓﻲ ﺧﻴﺮﻫﻢ ﺑﻴﺘﺎ ﻓﺄﻧﺎ ﺧﻴﺮﻛﻢ ﺑﻴﺘﺎ ﻭﺧﻴﺮﻛﻢ ﻧﻔﺴﺎ – 1/169 ، ﺭﻗﻢ ﺍﻟﺤﺪﻳﺚ 3532 – )
অনুবাদ-হযরত আব্বাস বিন আব্দুল মুত্তালিব রাঃ বলেন-রাসূল সাঃ [একবার কোন কারণে] মিম্বরে দাঁড়িয়ে [সমবেত লোকদেরকে] জিজ্ঞেস করলেন-আমি কে? সাহাবীগণ বললেন-আপনি আল্লাহর রাসূল, আপনার উপর শান্তি বর্ষিত হোক। তখন তিনি বললেন-আমি আব্দুল্লাহ বিন আব্দুল মুত্তালিবের ছেলে মুহাম্মদ। আল্লাহ তাআলা তামাম মাখলূক সৃষ্টি করে আমাকে সর্বোত্তম সৃষ্টির অন্তর্ভূক্ত করেছেন [অর্থাৎ মানুষ বানিয়েছেন]। এরপর তাদেরকে দু’ভাগে [আরব ও অনারব] বিভক্ত করে আমাকে উত্তম ভাগে [আরবে] রেখেছেন এবং আমাকে তাদের মধ্যে সর্বোত্তম গোত্রে পাঠিয়েছেন। এরপর সে গোত্রকে বিভিন্ন পরিবারে বিভক্ত করেছেন এবং আমাকে সর্বোত্তম পরিবারে প্রেরণ করেছেন।
সুতরাং আমি ব্যক্তি ও বংশ সর্বদিক থেকে তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম।{সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং-৩৫৩২, মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং-১৭৮৮, আল মু’জামুল কাবীর, হাদীস নং-৬৭৫, মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, হাদীস নং-৩২২৯৬} রাসুল (সাঃ) মানুষ মাটির তৈরি, যেমন কোরআন তৈরি কাগজ-কালি দিয়ে কিন্তু কোরআনের একনাম নূর বা হেদায়াত, তেমনি রাসূল (সা:) ও রক্তে গুস্তে তৈরি শরীরে মানুষ, কিন্তু তিনি হেদায়াতের নূর বা আলো মহামানব, এবং তিনিই মহৎ চরিত্র মর্যাদা সর্বোচ্ছোস্তরে অধিষ্টিত।এ প্রশ্ন আসাটা স্বাভাবিক যে, রাসূল সাঃ যদি মাটির তৈরী না হয়ে নূরের তৈরী হয়ে থাকেন। তাহলে রাসূল সাঃ এর সম্মানিত আম্মাজান আমিনা ও সম্মানিত আব্বাজান আব্দুল্লাহ যাদের ঔরসে তিনি জন্ম নিলেন তারা কিসের তৈরী? সেই সাথে নবীজী সাঃ এর সন্তানরা কিসের তৈরী? মাটির না নূরের? মাটির তৈরী থেকেতো মাটিই হবে। আর নূর থেকেতো নূরই হবে, তাই নয়কি? সুতরাং চিন্তা ভাবনা করে এসব উদ্ভট দাবি তোলা উচিত যে, রাসূল সাঃ নূরের তৈরী। যেখানে এ ব্যাপারে কোন সুষ্পষ্ট দলিলই নেই। সেখানে শুধুমাত্র নিজের আবেগ আর অন্ধতাকে পূজি করে রাসূল সাঃ কে মাটির থেকে নূরের তৈরী বানিয়ে ফেলাটা বোকামী ছাড়া কিছু নয়।নূরের তৈরী হওয়াই কি শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণবাহী?একথা সম্পূর্ণ ভুল যে, কোন কিছু নূরের তৈরী হলেই তা শ্রেষ্ঠ হয়ে যাবে। বরং শ্রেষ্ঠত্বের মূল বিষয় হল তার অভ্যান্তরীণ গুণ শ্রেষ্ঠ হওয়া। মাটির তৈরী মানুষ নূরের তৈরী ফেরেস্তা থেকে শ্রেষ্ঠ। দলিল- ﻭَﻟَﻘَﺪْ ﻛَﺮَّﻣْﻨَﺎ ﺑَﻨِﻲ ﺁﺩَﻡَ অনুবাদ-নিশ্চয় আমি আদম সন্তানকে মর্যাদা দান করেছি।{সূরা বনী ইসরাঈল-৭০}আগুনের তৈরী জিন বা নূরের তৈরী ফেরেস্তাকে মর্যাদা দান করার কথা বলা হয়নি কুরআনের কোথাও। কিন্তু মাটির তৈরী মানুষকে মর্যাদা দান করার কথা আল্লাহ তায়ালা সুষ্পষ্টই ঘোষণা করেছেন। যা স্পষ্টই প্রমাণ করে নূরের তৈরী হওয়াই কেবল শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ নয়?তাছাড়া আগুনের তৈরী জিন আর নূরের তৈরী ফেরেস্তাদের দিয়ে মাটির তৈরী মানুষ হযরত আদম আঃ কে আল্লাহ তায়ালা সেজদা করিয়ে বুঝিয়ে দিলেন আগুনের তৈরী বা নূরের তৈরী হওয়া কোন শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ নয়। শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণবাহী হল- ভিতরগত গুন যার শ্রেষ্ঠ সেই প্রকৃত শ্রেষ্ঠ। চাই সে মাটির তৈরী হোক, চাই নূরের তৈরী হোক চাই আগুনের তৈরী হোক। ﻓَﺈِﺫَﺍ ﺳَﻮَّﻳْﺘُﻪُ ﻭَﻧَﻔَﺨْﺖُ ﻓِﻴﻪِ ﻣِﻦ ﺭُّﻭﺣِﻲ ﻓَﻘَﻌُﻮﺍْ ﻟَﻪُ ﺳَﺎﺟِﺪِﻳﻦَ ( 29 ) ﻓَﺴَﺠَﺪَ ﺍﻟْﻤَﻶﺋِﻜَﺔُ ﻛُﻠُّﻬُﻢْ ﺃَﺟْﻤَﻌُﻮﻥَ ( 30 অনুবাদ-যখন আমি তাকে পূর্ণতা দিলাম এবং তাতে আত্মা ফুকে দিলাম, তখন সবাই তাকে সেজদা করল। সকল ফেরেস্তারাই একসাথে তাকে সেজদা করল।{সূরা হিজর-২৯,৩০} সূরা কাহাফে মহান আল্লাহ এরশাদ করেনঃ (হে রাসূল!) ‘আপনি বলে দিন, আমি তো তোমাদেরই মত এক জন মানুষ, আমার নিকট এই মর্মে ওহী করা হয় যে, তোমাদের উপাস্য এক ও একক, অতএব যে নিজ প্রতিপালকের দিদার লাভের আশাবাদী সে যেন সৎকর্ম করে এবং নিজ প্রতিপালকের ইবাদতে অন্য কাউকে শরীক না করে’। (সূরা আল্ কাহাফঃ ১১০)অন্যত্রে মহান আল্লাহ বলেনঃ ‘আপনি বলুন আমি আমার প্রতিপালকের পবিত্রতা বর্ণনা করছি। একজন মানব, একজন রাসূল বৈ আমি কে? (সূরা বনী ইসরাইল: ৯৩(তিনি আরো বলেনঃ ‘নিশ্চয় আল্লাহ মুমিনদের বড় উপকার করেছেন, যেহেতু তাদেরই মধ্য থেকে একজনকে রাসূল হিসাবে পাঠিয়েছেন যিনি তাদের নিকট তাঁর আয়াতসমূহ তিলাওত করেন, তাদেরকে পরিশুদ্ধ করেন, এবং তাদেরকে কিতাব ও হিকমত শিক্ষা দান করেন, যদিও তারা ইতোপূর্বে স্পষ্ট গুমরাহীতে নিমজ্জিত ছিল। (সূরাহ আলে ইমরানঃ ১৬৪(তিনি আরো বলেনঃ তোমাদের নিকট আগমন করেছে, তোমাদেরই মধ্যকার এমন একজন রাসূল, যার কাছে তোমাদের ক্ষতিকর বিষয় অতি কষ্টদায়ক মনে হয়, যিনি হচ্ছেন তোমাদের খুবই হিতাকাঙ্খী, মুমিনদের প্রতি বড়ই স্নেহশীল, করুনাপরায়ণ। (সূরা তাওবা: ১২৮)তিনি আরো বলেনঃ এ লোকদের জন্যে এটা কী বিস্ময়কর হয়েছে যে, আমি তাদের মধ্য হতে একজনের নিকট অহী প্রেরণ করেছি এই মর্মে যে, তুমি লোকদেরকে ভয় প্রদর্শন কর এবং যারা ঈমান এনেছে তাদরকে এই সুসংবাদ দাও যে, তারা তাদের প্রতিপালকের নিকট (পূর্ণ মর্যাদা) লাভ করবে, কাফেররা বলতে লাগলো যে, এই ব্যক্তি তো নিঃসন্দেহে প্রকাশ্য যাদুকর। (সূরা ইউনুস: ২( তিনি আরো বলেনঃ তিনিই নিরক্ষরদের মধ্য থেকে একজন রাসূল প্রেরণ করেছেন তাদের নিকট, যিনি তাদের কাছে পাঠ করেন তাঁর আয়াতসমূহ, তাদেরকে পবিত্র করেন এবং শিক্ষা দেন কিতাব ও হিকমত, যদিও তারা ইতোপূর্বে স্পষ্ট গোমরাহীতে লিপ্ত ছিল। (সূরা-আল্ জুমুআহ: ২)
আল্লাহ আরো বলেনঃ আমি তোমাদের মধ্য হতে এরূপ রাসূল প্রেরণ করেছি যে, তোমাদের নিকট আমার নিদর্শনাবলী পাঠ করে ও তোমাদেরকে পবিত্র করে এবং তোমাদেরকে গ্রন্থ ও বিজ্ঞান শিক্ষা দেয়, আর তোমরা যা অবগত ছিলে না তা শিক্ষা দান করেন। (সূরা বাকারা ১৫১ (এখানে মহান আল্লাহ বলেই দিয়েছেন যে, নবী (ছাল্লাল্লাহু আআইহি ওয়া সাল্লাম) ঐসব লোকদেরই একজন, তিনি তাদের বাইরের কোন লোক নন। কাজেই ঐসব লোক যদি নূরের তৈরী হন, তাহলে নবী (ছাল্লাল্লাহু আআইহি ওয়া সাল্লাম) ও নূরের তৈরী হবেন, আর যদি তারা নূরের তৈরী না হন তবে তিনিও নূরের তৈরী হবেন না এটাইতো স্বাভাবিক। আসলে বিদআতীরা কুরআন ও ছহীহ হাদীছ আয়ত্ব করতে এবং এর সঠিক ব্যাখ্যা অনুধাবন করা থেকে চির ব্যর্থ, তাই তারা নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সম্পর্কে কুরআন ও হাদীছ বিরোধী কথা বলে যে, নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মাটির তৈরী নন, বরং তিনি নূরের তৈরী। অথচ এভাবে তারা নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে অধিক সম্মান দিতে গিয়ে আরো তাঁকে খাটো করে দিয়েছে। কারণ নূরের তৈরী ফেরেশতার উপর আল্লাহ মাটির তৈরী আদম (আলাইহিস্ সালাম)কে শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন। তাদেরকে দিয়ে আদমের সিজদা করিয়ে নিয়েছেন। (দ্রঃসূরা আল বাকারাহ: ৩৪, সূরা আল্ আ’রাফ: ১১) তাহলে কার শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণিত হল? নূরের তৈরী ফেরেশতাদের নাকি মাটির তৈরী আদম (আলাইহিস্ সাল্লাম)এর? অবশ্যই মাটির তৈরী আদম (আলাইহিস্ সালাম) এর শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণিত হল। তবে আমরা তর্কের খাতিরে এটা বললেও আমাদের বিশ্বাস, আদম (আলাইহিস্ সালাম) ফেরেশতাদের উপর শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করে ছিলেন তাঁর ইলমের মাধ্যমে। আর এটা একমাত্র আল্লাহর অনুগ্রহেই হয়ে ছিল। তিনিই আদমের প্রতি অনুগ্রহ করে ফেরেশতাদের চেয়ে তাকে বেশি ইলম দান করে ছিলেন।আমি বিশ্বের সকল বিদআতীকে বলতে চাই, এক লক্ষ চব্বিশ হাজার নবী ও রাসূল (অনেকে বলেনঃ নবী ও রাসূলদের সর্ব মোট সংখ্যা হলঃ এক লক্ষ চব্বিশ হাজার, মতান্তরে দুই লক্ষ চব্বিশ হাজার। এভাবে বলে থাকেন, এটা প্রমাণ করে তারা ঐমর্মে নবী এর কোন হাদীছ অবগত হন নি। মুসনাদ আহমাদ, ছহীহ ইবনু ইব্বান প্রভৃতিতে নবী ও রাসূলদের সর্ব মোট সংখ্যা একলক্ষ চব্বিশ হাজার বলা হয়েছে, আরো বলা হয়েছে তাদের মধ্যে রাসূলদের সংখ্যা সর্ব মোট ৩১৫ জন দ্রঃ মুসনাদ আহমাদ ৫/১৭৯,হা/২১৫৯২, ছহীহ ইবনু হিব্বান, হা/ প্রভৃতি হাদীছ ছহীহ, সিলসিলাতুল আহাদীছ আছ ছহীহাহ) এর মধ্যে শুধু নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কিভাবে নূরের তৈরী হলেন? যদি তাঁকে নূরের তৈরী না বলায় তার মান খাটো করা হয়,তবে বাকী এক লক্ষ তেইশ হাজার নয়শো নিরানব্বই জন নবী রাসূলকে মাটির তৈরী বলে কি তাদের মান খাটো করা হয় না? নাকি তারাও নূরের তৈরী? কৈ কোন বিদআতীকে তো বলতে শুনি না যে নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর মত বাকী সমস্ত নবী, রাসূলগণও নূরের তৈরী! বরং তারা এমনটি শুধু নবী মুহাম্মাদ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর ক্ষেত্রেই বলে থাকে।

রাসূল (সা:) শ্রেষ্ঠ মহামানব :
আল্লাহ তাআলার পর তিনিই শ্রেষ্ঠ। তার মত আর কেউ নেই। তিনি সকল সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি। মাটির তৈরী সকল মানুষ, আগুনের তৈরী সকল জিন, নূরের তৈরী সকল ফেরেস্তা থেকে শ্রেষ্ঠ মাটির তৈরী এ মহামানব রাসূল সাঃ। যেমন সকল নূরের তৈরী ফেরেস্তার মাঝে হযরত জিবরাঈল আঃ শ্রেষ্ঠ। তেমনি মাটির তৈরী এ মহামানব রাসূল সাঃ সকল মাটির তৈরী পয়গম্বর আঃ ও সকল মানুষ ও সকল জিনও ফেরেস্তা থেকে শ্রেষ্ঠ ও উত্তম। তার মত উত্তম ও শ্রেষ্ঠ কোন সৃষ্টি আল্লাহ তাআলা কখনো সৃজন করেন নি, কখনো করবেন ও না। রাসুল (সাঃ) মানুষ মাটির তৈরি, যেমন কোরআন তৈরি কাগজ-কালি দিয়ে কিন্তু কোরআনের একনাম নূর বা হেদায়াত, তেমনি রাসূল (সা:) ও রক্তে গুস্তে তৈরি শরীরে মানুষ, কিন্তু তিনি হেদায়াতের নূর বা আলো মহামানব, এবং তিনিই মহৎ চরিত্র মর্যাদা সর্বোচ্ছোস্তরে অধিষ্টিত।এর পরও রাসূল সাঃ কে মাটির তৈরী থেকে নূরের তৈরী বানানোর অযথা চেষ্টা করাটা একটি হাস্যকর প্রচেষ্টা ছাড়া কিছু নয়।

উপসংহার :
আল্লাহ তা’আলা আমাদের এসব অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক থেকে বিরত থেকে আখেরাতের পূজি সংগ্রহ করার তৌফিক দান করুন এবং কোরআন-হাদীসকে সঠিক ভাবে উপলব্দি করার তৌফিক দান করুন আমীন।

**সদকায়ে জারিয়া***

👉💞 পবিত্র জুম্মা মোবারক 💞👈
সাদাকা টিপসঃ

👉১.একটি জায়নামাজ কিনে মসজিদে রেখে দিন, যে ব্যক্তি তাতে নামাজ আদায় করবে, ইনশাআল্লাহ আপনি সেই আমলের জন্য পুরস্কৃত হবেন।

👉২.একটি বাটি বা গ্লাসে কিছু পানি আপনার জানালায় রেখে দিন পাখিদের জন্য; এটাও এক ধরনের সদকা। এটিকে অভ্যাসে পরিণত করুন। আপনি পুরস্কৃত হবেন ইনশাআল্লাহ।

👉৩.আপনার পুরাতন অথবা ব্যবহার হচ্ছে না এমন পোশাক গরিবকে দান করুন। সুযোগ থাকলে নতুন জামা যেদিন কিনবেন, সেদিনই এক সেট পুরাতন জামা দান করুন।

👉৪.আপনার রুমে একটি বক্স রাখুন এবং যখনই আপনি মনে করবেন যে আপনি কোনো অন্যায় করেছেন, তখনই তাতে সাধ্যমতো টাকা-পয়সা রাখুন। মাস শেষে তা খুলে দেখুন এবং তা দান করে দিন। এতে নিজের ভুলগুলোর পরিমাণ বুঝতে পারবেন এবং অনুতপ্ত হয়ে নিজেকে সংশোধনের জন্য এটা সুন্দর একটি পন্থা।

👉৫.বাড়িতে ঢুকার ও বের হবার পথে দুআ লিখে রাখুন একটি কাগজে। যে এই দোয়াগুলো দেখতে পেয়ে পাঠ করবে, ইনশাআল্লাহ আপনি সেজন্য পুরস্কৃত হবেন৷ একইভাবে ঘরের এমন কোনো স্থানে দুআ লিখে রাখতে পারেন, যেটা সবার নজরে আসে।

👉৬.আপনার হাত খরচের টাকা দিয়ে একজন এতিমকে সহায়তা করুন আপনার সাধ্যমতো। মাসের কোনো একদিন নাস্তা না করে এতিম কোনো শিশুকে খাবার খাইয়ে দিন।

👉৭.আপনার বাড়ির আশপাশে যদি কোনো নির্মাণ কাজ চলে কিংবা শ্রমিকেরা কাজ করে, তবে কিছু ঠাণ্ডা পানি বা খাবার তাদেরকে দিতে পারেন। ইনশাআল্লাহ আপনি পুরস্কৃত হবেন।

👉৮.কোনো মসজিদে কুরআন মাজিদ রেখে দিন; যে কোনো ব্যক্তি যখন অন্তত একটি অক্ষর পাঠ করবে, তার জন্য ১০ গুন সওয়াব লিখিত হবে আপনার আমলে।

👉৯.আপনার পান করা গ্লাসে পানি অবশিষ্ট থেকে গেলে তা একটি ফুলদানির পাত্রে রেখে দিন, অপচয় করবেন না।

👉১০.আপনার মুসলমান ভাইবোনদের উৎসাহ দিন, দুর্দিনে সাহায্য করুন, সহানুভূতিশীল হোন, যখন তারা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত থাকে।

👉১১.অসুস্থ আত্মীয় কিংবা পরিচিতদের দেখে আসুন। একটু হাসুন, কথা বলুন। এটাও সাদাকা। মৃদু হাসি বিনিময় করাও সাদাকা।

👉১২.ততক্ষণ পর্যন্ত ঘুমাবেন না, যতক্ষণ পর্যন্ত আপনাকে যারা কষ্ট দিয়েছে তাদের ক্ষমা করেছেন।

👉১৩.কাউকে এক অক্ষর হলেও দ্বীন শিক্ষা দিন। সেই ব্যক্তি যখন তার সন্তানসন্ততি, বন্ধুবান্ধব কিংবা তার সন্তানদের মাধ্যমে তার পরের প্রজন্ম এই দ্বীন অর্জন করবে, সে সকল সওয়াব মৃত্যুর পরেও আপনার কবরে পৌঁছাবে ইনশাআল্লাহ।

👉১৪.সামর্থ্য থাকলে মসজিদ, মাদ্রাসা, হাসপাতাল স্থাপনে সহায়তা করুন। গাছ লাগান, টিউবওয়েল বা পান করার পানির ব্যবস্থা করুন। আপনার মৃত্যুর পরেও মদজিদ মাদ্রাসা দ্বিন শিক্ষা দিতে থাকবে, হাসপাতালে রোগী সেবা পেতে থাকবে, গাছ থেকে মানুষ অক্সিজেন এবং খাবার পাবে, পান করার পানি পান করতে পারবে আপনার ব্যবস্থা করে দেওয়া পানির উৎস থেকে। এসকল কিছু সদকায়ে জারিয়া। এগুলো মৃত্যুর পরেও আপনাকে পরকালের জন্য ধনী করতে থাকবে।

👉১৫.সন্তানদের উত্তম সন্তান হিসেবে গড়ে তুলুন। দ্বীন এবং মানবতা শিক্ষা দিন। এদের দুআ কবর পর্যন্ত পৌঁছাবে, আপনার থেকে প্রাপ্ত শিক্ষা এদের সঠিক মানুষ হতে সাহায্য করবে।

👉১৬.এই সাদাকার পন্থাগুলো মানুষের সাথে শেয়ার করুন, তাদের শিক্ষা দিন। এটিও সাদাকায়ে জারিয়ার অন্তর্ভুক্ত।
ইয়া আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আমাদের সবাইকে সাদকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার তাওফীক দান করুন।
আমিন সুম্মা আমিন

*** মানব দেহ***

মহাস্রষ্টা আল্লাহ রাব্বুল আ’লামিন মানবদেহ এবং
তার ইন্দ্রিয় গুলোকে এমন ভাবে সৃষ্টি করেছেন যে।।

এই ইন্দ্রিয়ের মাধ্যমে পৃথিবীর যাবতীয় বস্তুু অবস্তুুকে নিজের নাগালের ভেতর ধরা যায়,এমন কি যা চোখে দেখা যায় না তা আল্লাহ বান্দার ভিতর সৃষ্টি করেছেন।।

যেমন,আমরা চক্ষু দিয়ে আলোঁ ধরি,
ত্বক দিয়ে শীতাতাপ ধরি।
কান দিয়ে শব্দ ধরি।
নাক দিয়ে ঘ্রাণ ধরি।
জিহ্বা দিয়ে স্বাদ ধরি ইত্যাদি।।

কোন ইন্দ্রিয় যদি বিকল থাকে,তাহলে তার যে কাজ ছিল সে তা ঠিকমতন করতে পারে না ‍যেমন, নাকে যদি সর্দ্দি থাকে তাহলে সে গোলাপের সুগন্ধি আর ধরতে পারে না।।

কানের পর্দায় যদি কোন গন্ডগোল হয় তাহলে সে কোন মধুর সঙ্গিত শুনতে পায় না,চোখে যদি পুরু পর্দা পড়ে তাহলে সে আলোঁ দেখতে পায় না।।

কিন্তুু এই নাকের সর্দ্দি যদি বিশেষ প্রক্রিয়ায় শুকিয়ে দেয়া যায় তবে সে সুগন্ধ ধরতে পারে এবং কানের মধ্যে ঔষধ প্রয়োগ করলে সে কানে শুনতে পায়।
চক্ষু অপারেশন করে দিলে সে আবার পরিস্কার দেখতে পায়।।

যে মহাইন্দ্রিয় মানুষের ভেতর সুপ্ত থেকে পঞ্চ ইন্দ্রিয় গুলোকে পরিচালনা করে, সেই ইন্দ্রিয়টিতে অর্থাৎ আত্মাটিতে যদি লোহার মত জং ধরে থাকে,
তাহলে তা দিয়ে মহাস্রষ্টা আল্লাহকে ধরা যাবে না।।

কারন একমাত্র “আত্মা” দিয়েই আল্লাহকে ধরা যায়।
আমাদের শরীর অসুস্থ হলে আমরা বলি আমার শরীর ভালো না,আর মনে অশান্তি থাকলে বলি আমার মন ভালো না।। এ থেকে বোঝা যায় মানুষের মধ্যে দুইটি জিনিস বিদ্যমান আছে। একটি হলো শরীর বা দেহ,অপরটি হলো রূহ বা আত্মা।।

দেহ হইতে আত্মা যখন চলে যায় তখন দেহের কোন দাম থাকে না, দেহের নাম হয়ে যায় লাশ, একটি মানুষ যখন জন্মগ্রহণ করে তখন আমরা তার নাম রাখি।।

যেমনঃ রহিম,করিম ইত্যাদি। আর যখন সে মারা যায় তখন বলি এটা রহিম বা করিমের লাশ,এ থেকে বোঝা যায় লাশের ভিতর থেকে যে জিনিসটি বেরিয়ে গেলো সেটাই ছিল প্রকৃত রূপে রহিম ও করিম বা তাদের আত্মা।।

মানুষ মাথা হতে পা পর্যন্ত যতখানি লম্বা,
ডান হাতের অঙ্গুলির অগ্রভাগ হইতে
বাম হাতের অঙ্গুলির অগ্রভাগ পর্যন্ত
ততখানি পাশ, সুতরাং মানুষ দৈর্ঘ্য ও
প্রস্থে সমান সমান।।

যে বস্তু দৈর্ঘ্য ও প্রস্থের সমান সে বস্তুই গোলাকার।
সেই বস্তুই বিন্দু সাদৃশ্য, মানুষ বিন্দু রূপে সর্বত্র বিদ্যমান।। অর্থাৎ বিন্দুই মানব রূপ
,প্রথমতঃ মাতৃগর্ভে বিন্দুই নিপাতিত হয়,
সেবিন্দুই ক্রমশঃ বৃহত্তর হয়ে মানবব রূপ
ধারন করে,অদৃশ্য বলে এই বিন্দু
ভৌতিক চোখে দেখা যায় না।।

কিন্তু জ্যোতির্ময় বিন্দু সর্বত্র বিরাজমান
তা জ্ঞান চক্ষু দ্বারা পরিলক্ষিত হয়, ভৌতিক বিন্দু রক্ত, কণিকা, আর জ্যোতির্ময় বিন্দু হলো আল্লাহর নূর।।

ভৌতিক বিন্দু দ্বারা দেহ গঠিত আর জ্যোতিময় বিন্দু দ্বারা গঠিত আত্মা,অনেক সময় দেখা যায় ,দেহ বিছানায় শোয়া থাকলেও আত্মা অন্যত্র চলে যায়, যাকে আমরা সপ্ন বলে থাকি।।

স্বপ্নে যে রূপ নিয়ে আমরা চলাফেরা করি তাই মানুষের আসল রূপ,জাগরনে সেই রূপের সাথে দেহরূপ একাকার করতে পারলেই সেই —
মানুষ আরেফ বা আল্লাহ ওয়ালা হয়ে যায়।।


****নবিজি গায়েব জানেন **আহহালে সুন্নাতের কিছু ভাই আছেন, , তাঁহাদের জন্য পবিত্র কোরানের থেকে কিছু আয়াত এখানে সংখেপে তোলে ধড়া হলো আসা করি কোরান পড়ে বুঝে সেই অনুপাতে কথা বলবো দলিল দিবো। সকল দলিল সকল কথা হবে কোরানের কথা, মানুষের কথা নয়, (ঝালিকাল কিতাবু, সুরায়ে বাকারা) যার কোন সন্দেহ নেই। এবার আশি কোরানেআচ্ছালামোআলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহ, ওয়াবারাকাতুহ ভাই জানেরা, ভিবিন্ন হাদিশের দলিল দিয়ে বলেন নবিজি গায়েব জানেন এমন কি পৃথিবীর সব (যানেন, তার পর হাউজে কাউছারের মালিক নবিজী , আমি আপোনাদের কে পবিএ কোরান থেকে কিছু প্রামান দেখালাম আপোনাদের হাদিশের সাতে মিলিয়ে দেখেন, কোরানে তো কোন সন্দেহ নেই, (০১ নং) গায়েবের খবর এক মাএ আল্লাহ যানেন ( সুঃ হাশর আঃনং ২২) (০২ নং) এমনই তিনি, অদৃশ্য ও দৃশ্যমান সম্পর্কে জ্ঞাত, মহাপরাক্রমশালী, পরম দয়ালু। ( সুরা আস সিজদাহ্ ৩২ আঃনং-৬) (০৩ নং) গায়েবের চাবি তাঁর কাছে তিনি ছারা কেহ যানেন না ( সুরায়ে আনআম ৬/ আঃ নং ৫৯) (০৪ নং) এক মাএ তিনি গায়েবের মালিক ( সুঃ জিন ৭২/ আঃ নং ২৬) (০৫নং) লেকে তোমাকে কিয়ামতের কথা জিঘাংসা করিবে, সে ঞান কি তোমার আছে? ( সুঃ নযি য়াত ৭৯/ আঃ নং ৪২/৪৩) (০৬ নং) লোকেরা জিঘাংসা করবে কেয়ামত কখন হবে , বল সে ঞানত আল্লাহর কাছে ( সুরায়ে মুলক ৬৭/ আঃ নং ২৫/২৬) (০৭ নং) আল্লাহ সব কিছুর অভিভাবক ( সুঃ যুমার ৩৯/ আঃনং ৬২) (০৮ নং) আমি তোমাদের মত মানুষ আমার কাছ অহি আসে তোমাদের কাছে আসেনা, ( সুঃ কাহ্ফ ১৮/ আঃ নং ১১০) ( ০৯ নং) দুর্ভোগ মিত্যাছারদের জন্য, ( সুঃ মুর সালাত ৭৭/ আঃনং ১৫/ এই কথাটি দশ বার বলা হয়েছে এই সুরাতে) (১০ নং) তারা তোমাকে ক্বিয়ামাত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে কখন তা সংঘটিত হবে। বল, ‘এ বিষয়ে জ্ঞান রয়েছে আমার প্রতিপালকের নিকট। তিনি ছাড়া কেউ প্রকাশ করতে পারে না কখন তা ঘটবে। আসমান ও যমীনে তা হবে বড় এক কঠিন দিন। আকস্মিকুবে জিজ্ঞেস করছে যেন তুমি আগ্রহ সহকারে এটার খোঁজে ব্যস্ত আছ। বল, ‘এ বিষয়ের জ্ঞান তো শুধু আল্লাহরই নিকট আছে। কিন্তু (এ সত্যটা) অধিকাংশ লোকই জানে না।’ ( সূরা আল আরাফ আয়াত ১৮৭) ( ১১ নং) আল্লাহ আসমান যমীনের অদৃশ্য বিষয় সম্পর্কে অবগত। অন্তরে যা আছে সে সম্পর্কে তিনি বিশেষভাবে জ্ঞাত। (সূরা ফাতির 35 আয়াত 38)(১২ নং) বল, আকাশ ও পৃথিবীতে যারা আছে তারা কেউই অদৃশ্য বিষয়ের জ্ঞান রাখে না আল্লাহ ছাড়া, আর তারা জানে না কখন তাদেরকে জীবিত ক’রে উঠানো হবে। সুরা আন নামল ২৭ আয়াতনং ৬৫) (১৩ নং)কিয়ামতের জ্ঞান কেবল আল্লাহর নিকটই আছে, (সুরা লুকমান 31 আয়াত নং 34)(১৪ নং) লোকে তোমাকে ক্বিয়ামত সম্পর্কে প্রশ্ন করে। বল, তার জ্ঞান কেবল আল্লাহর নিকটই আছে। কিসে তোমাকে জানাবে- সম্ভবতঃ ক্বিয়ামত নিকটেই। (সূরা আল আহযাব 33 আয়াত নং 63) (১৫ নং)ক্বিয়ামত কখন সংঘটিত হবে সে সম্পর্কিত জ্ঞান একমাত্র তাঁর কাছেই আছে। কোন ফলই তার আবরণ থেকে বেরিয়ে আসে না, এবং কোন নারী গর্ভধারণ করে না আর সন্তান প্রসব করে না তাঁর অজ্ঞাতে।(সূরা ফুসসিলাত 41 আয়াতনং 47) (১৬ নং) আসমান ও যমীনের গোপন বিষয়ের খবর আল্লাহই জানেন। তোমরা যা কর আল্লাহ তা দেখেন। (সূরা হুজুরাত 49 আয়াত নং 18) (১৭ নং)আগমনকারী মুহূর্ত (ক্বিয়ামত) নিকটবর্তী। আল্লাহ ছাড়া কেউ তা সরাতে পারে না (বা প্রকাশ করতে পারে না)। সূরা আন-নাজম ৫৩ আয়াতনং ৫৭/৫৮) (১৮ নং) কোন কিছুই মিত্যাছার করা যাবেনা, সাবধান। কাফির ছাড়া কেহ আল্লাহর আয়াত নিয়ে ঝগড়া করেন না, ( সুরা গাফির ৪০/ আঃ নং ৪) (১৯ নং) বল, আল্লাহ যা ইচ্ছে করেন তা ছাড়া আমার নিজের ভাল বা মন্দ করার কোন ক্ষমতা আমার নেই। আমি যদি অদৃশ্যের খবর জানতাম তাহলে নিজের জন্য অনেক বেশি ফায়দা হাসিল করে নিতাম, আর কোন প্রকার অকল্যাণই আমাকে স্পর্শ করত না। যারা ঈমান আনবে আমি সেই সম্প্রদায়ের প্রতি সতর্ককারী ও সুসংবাদদাতা ছাড়া অন্য কিছু নই। (সূরা আল আরাফ ৭ আয়াত নং ১৮৮) নিবিজি যে গায়েব যানেন না তার কিছু উদহারন (মুরাইসী’) যুদ্ধ হতে ফিরে আসার সময় (সাঃ) ও সাহাবা (রাঃ) গণ মদীনার নিকটবর্তী এক স্থানে রাত্রে বিশ্রাম নিলেন। প্রত্যূষে আয়েশা (রাঃ) নিজের প্রয়োজনে একটু দূরে গেলেন। তখন মোনাফেক নাতা আবদুল্লাহ বিন উবাই মিত্যা ঘটনা রটান, যখন মা আয়শা রাঃ কে ঐ স্তানের থেকে উঠের পিটে করে নিয়ে যায়। এই গঠনা সুরা নুরের ১১ নং আয়াত থেকে ২১ নং আয়াত পর্যন্ত উল্লেখ্য করা হয় । তারপর নিবিজি যদি গায়েবের খবর যাতেন তাহলে কি ইহুদী মহিলা নিবিজি কে রুটি মাংসের সাতে বিষ খাওাতে পারতো ? নিবিজি গায়েবের খবর যানলে ৭০ জন সাহাবি কে কাফেরদের সাত

**নবিজি গায়েব জানেন **
আহহালে সুন্নাতের কিছু ভাই আছেন, , তাঁহাদের জন্য পবিত্র কোরানের থেকে কিছু আয়াত এখানে সংখেপে তোলে ধড়া হলো আসা করি কোরান পড়ে বুঝে সেই অনুপাতে কথা বলবো দলিল দিবো। সকল দলিল সকল কথা হবে কোরানের কথা, মানুষের কথা নয়, (ঝালিকাল কিতাবু, সুরায়ে বাকারা) যার কোন সন্দেহ নেই। এবার আশি কোরানে
আচ্ছালামোআলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহ, ওয়াবারাকাতুহ ভাই জানেরা, ভিবিন্ন হাদিশের দলিল দিয়ে বলেন নবিজি গায়েব জানেন এমন কি পৃথিবীর সব (যানেন, তার পর হাউজে কাউছারের মালিক নবিজী , আমি আপোনাদের কে পবিএ কোরান থেকে কিছু প্রামান দেখালাম আপোনাদের হাদিশের সাতে মিলিয়ে দেখেন, কোরানে তো কোন সন্দেহ নেই, (০১ নং) গায়েবের খবর এক মাএ আল্লাহ যানেন ( সুঃ হাশর আঃনং ২২)
(০২ নং) এমনই তিনি, অদৃশ্য ও দৃশ্যমান সম্পর্কে জ্ঞাত, মহাপরাক্রমশালী, পরম দয়ালু। ( সুরা আস সিজদাহ্ ৩২ আঃনং-৬) (০৩ নং) গায়েবের চাবি তাঁর কাছে তিনি ছারা কেহ যানেন না ( সুরায়ে আনআম ৬/ আঃ নং ৫৯) (০৪ নং) এক মাএ তিনি গায়েবের মালিক ( সুঃ জিন ৭২/ আঃ নং ২৬) (০৫নং) লেকে তোমাকে কিয়ামতের কথা জিঘাংসা করিবে, সে ঞান কি তোমার আছে? ( সুঃ নযি য়াত ৭৯/ আঃ নং ৪২/৪৩) (০৬ নং) লোকেরা জিঘাংসা করবে কেয়ামত কখন হবে , বল সে ঞানত আল্লাহর কাছে ( সুরায়ে মুলক ৬৭/ আঃ নং ২৫/২৬) (০৭ নং) আল্লাহ সব কিছুর অভিভাবক ( সুঃ যুমার ৩৯/ আঃনং ৬২) (০৮ নং) আমি তোমাদের মত মানুষ আমার কাছ অহি আসে তোমাদের কাছে আসেনা, ( সুঃ কাহ্ফ ১৮/ আঃ নং ১১০) ( ০৯ নং) দুর্ভোগ মিত্যাছারদের জন্য, ( সুঃ মুর সালাত ৭৭/ আঃনং ১৫/ এই কথাটি দশ বার বলা হয়েছে এই সুরাতে) (১০ নং) তারা তোমাকে ক্বিয়ামাত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে কখন তা সংঘটিত হবে। বল, ‘এ বিষয়ে জ্ঞান রয়েছে আমার প্রতিপালকের নিকট। তিনি ছাড়া
কেউ প্রকাশ করতে পারে না কখন তা ঘটবে। আসমান ও যমীনে তা হবে বড় এক কঠিন দিন। আকস্মিকুবে জিজ্ঞেস করছে যেন তুমি আগ্রহ সহকারে এটার খোঁজে ব্যস্ত আছ। বল, ‘এ বিষয়ের জ্ঞান তো শুধু আল্লাহরই নিকট আছে। কিন্তু (এ সত্যটা) অধিকাংশ লোকই জানে না।’ ( সূরা আল আরাফ আয়াত ১৮৭) ( ১১ নং) আল্লাহ আসমান যমীনের অদৃশ্য বিষয় সম্পর্কে অবগত। অন্তরে যা আছে সে সম্পর্কে তিনি বিশেষভাবে জ্ঞাত। (সূরা ফাতির 35 আয়াত 38)
(১২ নং) বল, আকাশ ও পৃথিবীতে যারা আছে তারা কেউই অদৃশ্য বিষয়ের জ্ঞান রাখে না আল্লাহ ছাড়া, আর তারা জানে না কখন তাদেরকে জীবিত ক’রে উঠানো হবে। সুরা আন নামল ২৭ আয়াতনং ৬৫) (১৩ নং)
কিয়ামতের জ্ঞান কেবল আল্লাহর নিকটই আছে, (সুরা লুকমান 31 আয়াত নং 34)
(১৪ নং) লোকে তোমাকে ক্বিয়ামত সম্পর্কে প্রশ্ন করে। বল, তার জ্ঞান কেবল আল্লাহর নিকটই আছে। কিসে তোমাকে জানাবে- সম্ভবতঃ ক্বিয়ামত নিকটেই। (সূরা আল আহযাব 33 আয়াত নং 63) (১৫ নং)
ক্বিয়ামত কখন সংঘটিত হবে সে সম্পর্কিত জ্ঞান একমাত্র তাঁর কাছেই আছে। কোন ফলই তার আবরণ থেকে বেরিয়ে আসে না, এবং কোন নারী গর্ভধারণ করে না আর সন্তান প্রসব করে না তাঁর অজ্ঞাতে।(সূরা ফুসসিলাত 41 আয়াতনং 47) (১৬ নং) আসমান ও যমীনের গোপন বিষয়ের খবর আল্লাহই জানেন। তোমরা যা কর আল্লাহ তা দেখেন। (সূরা হুজুরাত 49 আয়াত নং 18) (১৭ নং)
আগমনকারী মুহূর্ত (ক্বিয়ামত) নিকটবর্তী। আল্লাহ ছাড়া কেউ তা সরাতে পারে না (বা প্রকাশ করতে পারে না)। সূরা আন-নাজম ৫৩ আয়াতনং ৫৭/৫৮)
(১৮ নং) কোন কিছুই মিত্যাছার করা যাবেনা, সাবধান। কাফির ছাড়া কেহ আল্লাহর আয়াত নিয়ে ঝগড়া করেন না, ( সুরা গাফির ৪০/ আঃ নং ৪) (১৯ নং) বল, আল্লাহ যা ইচ্ছে করেন তা ছাড়া আমার নিজের ভাল বা মন্দ করার কোন ক্ষমতা আমার নেই। আমি যদি অদৃশ্যের খবর জানতাম তাহলে নিজের জন্য অনেক বেশি ফায়দা হাসিল করে নিতাম, আর কোন প্রকার অকল্যাণই আমাকে স্পর্শ করত না। যারা ঈমান আনবে আমি সেই সম্প্রদায়ের প্রতি সতর্ককারী ও সুসংবাদদাতা ছাড়া অন্য কিছু নই। (সূরা আল আরাফ ৭ আয়াত নং ১৮৮) নিবিজি যে গায়েব যানেন না তার কিছু উদহারন (মুরাইসী’) যুদ্ধ হতে ফিরে আসার সময় (সাঃ) ও সাহাবা (রাঃ) গণ মদীনার নিকটবর্তী এক স্থানে রাত্রে বিশ্রাম নিলেন। প্রত্যূষে আয়েশা (রাঃ) নিজের প্রয়োজনে একটু দূরে গেলেন। তখন মোনাফেক নাতা আবদুল্লাহ বিন উবাই মিত্যা ঘটনা রটান, যখন মা আয়শা রাঃ কে ঐ স্তানের থেকে উঠের পিটে করে নিয়ে যায়। এই গঠনা সুরা নুরের ১১ নং আয়াত থেকে ২১ নং আয়াত পর্যন্ত উল্লেখ্য করা হয় । তারপর নিবিজি যদি গায়েবের খবর যাতেন তাহলে কি ইহুদী মহিলা নিবিজি কে রুটি মাংসের সাতে বিষ খাওাতে পারতো ? নিবিজি গায়েবের খবর যানলে ৭০ জন সাহাবি কে কাফেরদের সাতে দিতেন কোরান তেলোয়াতের জন্য সে খানে ৬৯ জন সাহাবাকে তারা হত্যাকরে। তোমরা কি ভাবে বল নিবিজি গায়েব যানেন ? আসা করি কেহ
আয়াত নিয়ে ঝগরা করবেন না। এই কথা গুলি কোন কবির কলাম নয় আল কোরান, দয়া করে কেহ মনে কষ্টি নিবেন না, আপোনাদের কথা গুলি কোরানের সাতে মিলিয়ে দেখেন, ( ১৯ টি আয়াত ) এখানে দেওয়া হয়েছে ধন্যবাদ। কোথাও যদি বুঝাতে আমার ভুল হয়ে থাকে দয়া করে ক্ষমা করে দিবেন, কিন্তু কোরআনের আয়াত কোন ভুল নেই । মোঃ ইমরান খাঁন **

**উপমহাদেশের শিক্ষাব্যবস্হা ও মুসলিম সাংস্কৃতিক জীবন।বাংলাদেশ ভারত ও পাকিস্তান মিলে এত বিশাল এলাকা যে একে উপমহাদেশ বলা হয় এ এলাকার ৭০০ বছর মুসলিম শাসন ছিল বাংলাদেশে এলাকার এই শাসন ৫০০ বছর ছিল। ঐ সময় যে শিক্ষা ব্যবস্থা ছিল তার ফলে সকল শিক্ষিত লোকে ইসলামী শিক্ষালভের সুযোগ পেত। ১৭৫৭ সালে ইংরেজরা বাংলাদেশ দখল করার পর ঐ শিক্ষাব্যবস্থা উৎখাত করে তাদের নিজস্ব শিক্ষাব্যবস্থা চালু করে; যাতে মানুষের মন- মগজে তাদের অনুরুপ লোক তৈরি হয়। ১৯০ বছর আমরা ইংরেজদের গোলাম ছিলাম। ১৯৪৭ সালে আমরা ইংরেজ থেকে স্বাধীন হয়েছি। তখন থেকে এ দেশে মুসলিম শাসনই চলে আসছে। কিন্তু ইংরেজরা তাদের শিক্ষাব্যবস্থার মাধ্যমে যে ধরনের মন-মগজ ও চরিত্রের লোক তৈরি করেছে, সে ধরনের লোকেরাই দেশ শাসন করছেন। তারা নামে মুসলিম হলেও ইসলামী শিক্ষায় তাদের জীবন গড়ে ওঠেনি। ১৯৪৭ সালে আমরা স্বাধীন পাকিস্তানের অংশ হলাম। কিন্তুু ইংরেজরা চলে গেলেও তাদের শিক্ষাব্যবস্হই চালু থাকলো। ইসলামের নামে পাকিস্তান কায়েম হলেও ইসলামী সরকার কায়েম হয়নি।১৯৭১ সালে এ দেশ পশ্চিম- পাকিস্তান থেকে আলাদা হলো। যাদের হাতে বাংলাদেশ শাসন করার ক্ষমতা এলো তারা শিক্ষা ব্যবস্হায় নিচের দিকে সামান্যযেটুকু ইসলামী শিক্ষাব্যবস্হা ছিল ধর্মনিরপক্ষ দোহায় দিয়ে তাও উঠিয়ে দিলেন। বর্তমানে শুধু মাদ্রাসায় ইসলামের ধর্মীয় শিক্ষাটুকু আছে। স্কুল- কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ধর্মীয় শিক্ষার সামান্য কিছু থাকলেও মূলত ইংরেজ আমলের শিক্ষাব্যবস্থাই এখনও চালু আছে।এ অবস্হায় দেশের শিক্ষিত লোকদের মন-মগজ- চরিত্র ইসলামী শিক্ষা অনুযায়ী তৈরি হতে পারছে না। যেহেতু ইংরেজ এখন নাই এর জন্য তাদের আর দায়ী করা যাচ্ছে না। পরবর্তি যারা দেশ শাষন করছে এর জন্য তারাই দায়ী। তাই শিক্ষিত সংখ্যা বাড়লেও মুসলিম শিক্ষিতদের অনেকের চালচলনের ধরন দেখতে অনেকটা অমুসলিমদের মতোই মনে হয়।অবশ্যই শিক্ষাব্যবস্থা ইসলামী না হওয়া সত্ত্বেও অনেক শিক্ষিত লোককে ব্যক্তিগত প্রচেষ্টায় কিংবা পারিবারিক প্রভাবে মুসলিম হিসেবে জীবনযাপন করতে দেখা যায়।মুসলিম সংস্কৃতিক জীবন:সকল ধর্ম ও সকল দেশের মানুষই নিজদের ধর্মীয় কাজগুলো নিজ নিজ নিয়মে করে থাকে ঐ নিয়মগুলোই হলো সংস্কৃতি। বাংলা কুষ্টি শব্দটিও এ অর্থেই ব্যবহার করা হয়। ইংরেজিতে Culture সেই হিসেবে মুসলিম কালচার, হিন্দু কালচার, খ্রিস্টান কালচার ইত্যাদি বলা হয়। দেশ হিসেবেই আমেরিকান কালচার, চাইনিজ কালচার ইত্যাদি নামে পরিচিত। এর দ্ধারা বোঝা গেল, একজাতি থেকে অন্য জাতির মধ্যে জীবনযাপনের নিয়মে যে তফাৎ আছে ঐ তফাৎটাই সংস্কৃতি বা কালচার।যারা আল্লাহকে একমাত্র হুকুমকর্তা প্রভু, রাসুল (সাঃ) কে একমাত্র আদর্শ নেতা, আখেরাতের জীবনে সাফল্য- লাভকেই জীবনের একমাত্র উদ্দেশ্য বলে বিশ্বাস করে, দুনিয়ার সব কাজ কর্ম তারা আল্লাহ ও রাসূলের শেখানো নিয়মেই করে থাকে। এ সব বিশ্বাসই সংস্কৃতির মূল। যারা এ সব বিশ্বাস করে না তারা যে রকম বিশ্বাস করে তাদের কাজের নিয়ম ঐ সব রকম হওয়ারই কথা। ইসলামী সংস্কৃতি বা সভ্যতার মূলভিত্তি হলো তাওহীদ, রিসালাত ও আখিরাত। এই তিনটি মূলের ভিত্তিতে যাদের জীবন গড়ে ওঠে তারাই মসলিম জাতি। এ সভ্যতার ভিত্তিতেই ইসলামী সংস্কৃতির জন্ম হয়।সুতারাং শিক্ষা ব্যবস্হা ও সংস্কৃতির সাথে মুসলিমদের পরকালের সাফল্য ও আল্লাহর সন্তুষ্টির মাধ্যমে জান্নাত-জাহান্নামে যাওয়ার সম্পর্ক রয়েছে।মহান আল্লাহ বলেন:لَقَدْ كَانَ لَكُمْ فِیْهِمْ اُسْوَةٌ حَسَنَةٌ لِّمَنْ كَانَ یَرْجُوا اللّٰهَ وَ الْیَوْمَ الْاٰخِرَؕ وَ مَنْ یَّتَوَلَّ فَاِنَّ اللّٰهَ هُوَ الْغَنِیُّ الْحَمِیْدُ۠এসব লোকের কর্মপদ্ধতিতে তোমাদের জন্য এবং আল্লাহ‌ ও আখেরাতের দিনের প্রত্যাশী লোকদের জন্য উত্তম আদর্শ রয়েছে। এ থেকে যদি কেউ মুখ ফিরিয়ে নেয় তাহলে আল্লাহ‌ স্বয়ংসম্পূর্ণ ও প্রশংসিত।(আল-মুমতাহিনাহ ৬)هُوَ الَّذِیْۤ اَرْسَلَ رَسُوْلَهٗ بِالْهُدٰى وَ دِیْنِ الْحَقِّ لِیُظْهِرَهٗ عَلَى الدِّیْنِ كُلِّهٖؕ وَ كَفٰى بِاللّٰهِ شَهِیْدًاؕআল্লাহই তো সে মহান সত্তা যিনি তাঁর রসূলকে হিদায়াত ও সত্য দ্বীন দিয়ে পাঠিয়েছেন যেন তাকে সমস্ত দ্বীনের ওপর বিজয়ী করে দেন। আর এ বাস্তবতা সম্পর্কে আল্লাহর সাক্ষই যথেষ্ট। (আল-ফাতাহ্ ২৮)تِلْكَ عُقْبَى الَّذِیْنَ اتَّقَوْا ط وَّ عُقْبَى الْكٰفِرِیْنَ النَّارُ- অন্যদিকে সত্য অমান্যকারীদের পরিণাম হচ্ছে জাহান্নামের আগুন। ( আর-রাদ:৩৫)

** The British library*

পৃথিবীর অন্যতম বৃহৎ লাইব্রেরী হল The British Library । যেখানে আপনি হারিয়ে যাবেন বইয়ের দুনিয়ায়। লাইব্রেরীতে ধারণকৃত বইয়ের পরিমান প্রায় ১৭০ থেকে ২০০ মিলিয়ন। বিল্ডিং এর নিম্নস্তর থেকে বুক শেলফের উচ্চতা ২৪.৫ মিটার বা ৮ তলা বিল্ডিং এর সমান। আপনি যদি প্রতিদিন পাঁচটি করে বই দেখেন তাহলে লাইব্রেরীর সম্পূর্ন বই শেষ করতে আপনার ৮০ হাজার বছর লাগবে। লাইব্রেরীর সবচেয়ে পুরনো বইটি যার বয়স ৩ হাজার বছর । ব্রিটেনের অসাধারণ এক স্থাপত্য কৌশল।

** বান জাদু টোনিং**

অনেকেই জানতে চায়, বান মারা এটা কি ও কেমন…

দেখুন ভালো করে ….

একটি কবরস্থান থেকে উদ্ধার করা হয় একটি পুতুল!! এটিকে একজন বিশেষ মানুষের জামা,চুল,নখ প্রভৃতি দিয়ে একদমই একজন মানুষের মত করে দাফন করে দেয়া হয় একটি কবরের উপরে যাকে কালো যাদুর বান বলে।
যার ফলে যার নামে বান মারা হয়েছে ওই জীবন্ত মানুষটি এর প্রভাবে আস্তে আস্তে শেষ হয়ে মারা যাবে। #নাউজুবিল্লা

নবীজি (স) বলেছেন:- যারা অন্যের ক্ষতির জন্য এমন কাজ করে, তারা ঈমান নিয়ে মরতে পারবেনা।

কিভাবে যাচাই করবেন আসলেই আপনি যাদুগ্রস্থ কিনা তাদের জন্য এই পোস্ট উপকারী হবে, নিচের লক্ষণগুলো মিলিয়ে দেখুন আপনার সাথে কতগুলো লক্ষণ মিলেঃ
১। চোখের অবস্থা অস্বাভাবিক বা অসুন্দর লাগা।
২। কোন কারণ ছাড়াই শরীর গরম থাকা।
৩। ব্যাকপেইন। বিশেষত মেরুদণ্ডের নিচের দিকে ব্যথা করা।
৪। (মহিলাদের ক্ষেত্রে) অনিয়মিত মাসিক (পুরুষদের ক্ষেত্রে) প্রস্রাবে ইনফেকশন এর সমস্যা।
৫। প্রায়সময় পেট ব্যথা থাকা।
৬। দীর্ঘদিন চিকিৎসা করেও কোন রোগ ভালো না হওয়া।
৭। তীব্র মাথা ব্যথা, ঔষধ খেয়েও তেমন লাভ হয়না।
৮। হঠাৎ করে কারো প্রতি তীব্র ঘৃণা বা তীব্র ভালোলাগা অনুভব হওয়া।
৯। পরিবার, বাসা, সমাজের প্রতি তীব্র বিতৃষ্ণা থাকা।
১০। বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত খুব অস্বস্তিতে ভুগা অথবা মেজাজ খারাপ থাকা।
১১। কোন কারণ ছাড়াই বাড়ি থেকে দৌড় দিয়ে বের হয়ে যেতে ইচ্ছা হওয়া।
১২। শরীরের বিভিন্ন জয়েন্টে অতিরিক্ত ব্যথা হওয়া।
১৩। ঠিকমত ঘুমাতে না পারা। ঘুমালেও ভয়ংকর স্বপ্ন দেখা।
১৪। স্বপ্নে কোনো গাড়ি বা প্রাণিকে আক্রমণ করতে বা ধাওয়া করতে দেখা (যেমনঃ কুকুর, বিড়াল, গরু, মহিষ, বাঘ, সিংহ, সাপ)।
১৫। স্বপ্নে কোন ফাঁকা বাড়ি, মরুভূমি বা গোরস্থানে হাঁটাচলা করতে দেখা।
১৬। স্বপ্নে বিভিন্ন যায়গায় পানি দেখা (যেমন সাগর, নদী, পুকুর, ইত্যাদি)।
১৭। স্বপ্নে ঘনঘন কোথাও আগুন জ্বলতে বা কিছু পোড়াতে দেখা।
১৮। স্বপ্নে নিজেকে উড়তে দেখা বা কোন পাখি অথবা বড়বড় গাছ দেখা।
এসব লক্ষণ যদি মিলে যায় তাহলে ভেবে নিবেন আপনি যাদুগ্রস্ত।

হাত 🤲এমন ভাবে করে- শুরা ইখলাস,সূরা নাস,সূরা ফালাক এইভাবে এক সাথে ৩ বার পরে হাতে ফু দিয়ে সারা শরীরে মুছে দিলে সমস্ত প্রকার জাদু,বান,জ্বীনের দৃষ্টি থেকে আল্লাহ বাচিয়ে রাখবেন ইনশা আল্লাহ❤

যখন হযরত মুহাম্মাদ (স) কে বান মারা হয়েছিল তখন এই ৩ টি সূরা নাজিল হয় এবং এইভাবে পড়ার ফলে তিনি বান থেকে মুক্তি পান।😊 সুবানহান আল্লাহ।।

সংগৃহীত copy by

Md imran khan

** মৃত্যু ব্যক্তীর কষ্ট**

রাসুল (সাঃ) বলেছেন-মৃত ব্যক্তির জন্য ঐ সময়টা খুব কষ্টকর হয়, যখন তাকে তার গৃহ হতে বের করা হয় এবং তার পরিবারের সবাই তার জন্য কাঁদতে থাকে।
এর চেয়ে বেশি কষ্ট হয় তখন, যখন তাকে কবরে শুয়ায়ে তাকে মাটি দেয়া হয়, এবং তাকে একা ফেলে সবাই চলে আসে।
আরো কষ্ট হয় যখন শরীর হতে কাপড়,অলংকার,
আংটি,খুলে নেয়া হয়। সেই সময় তার রুহ উচ্চস্বরে চিৎকার করতে থাকে, এ চিৎকার জীন ও মানুষ ছাড়া অন্য সবাই শুনতে পায়। সে তখন চিৎকার করে বলতে থাকে- তোমাদেরকে আল্লাহর কসম আমার শরীরের কাপড় চোপর, অলংকার, ধীরে ধীরে খুলো, যেহেতু এই মাত্র আমি মালাকুল মউতের কঠিন আযাব হতে নিস্কৃতি পেয়েছি।
যখন মৃত ব্যক্তির দেহ মর্দন করা হয়- তখন সে বলেতে থাকে-হে গোসল দাতাগণ, আমার দেহে জোরে মর্দন করোনা, কেননা মালাকুল মউতের কঠিন আযাবে আমার দেহ,ক্ষত -বিক্ষত হয়ে গেছে।
যখন মৃতকে কাফন পড়ানো হয় তখন মৃত দেহ বলতে থাকে, হে কাফন দাতাগণ, আমাকে এত তাড়াতাড়ি কাফন পরাইও না, আমার স্ত্রী/স্বামি,সন্তান,আত্মীয়স্বজন, বন্ধু-বান্ধবদেরকে শেষ বারের মত দেখতে দাও।
তাদের সাথে ইহাই আমার শেষ দেখা। কেয়ামতের আগে আর তাদের সাথে আমার দেখা হবে না।
যখন মৃত ব্যক্তিকে তার বাড়ি থেকে কবরস্থানে নিয়ে যাওয়া হয় তখন সে বলতে থাকে হে আমার আত্মীয়-স্বজন, তোমাদেরকে আল্লাহর কসম, এত তাড়াতাড়ি আমাকে কবরস্থানে নিয়ে যেওনা, আমার বাড়ি,ঘর, স্ত্রী/স্বামি,কন্যা,সবার কাছ থেকে বিদায় লওয়ার
জন্য একটু সুযোগ দাও।
হে আমার আত্মীয় -স্বজন, আমি আমার স্ত্রীকে বিধবা এবং সন্তানদেরকে এতিম করে যাচ্ছি। তোমরা তাদেরকে কষ্ট দিওনা। তাদের প্রতি অবিচার করোনা। আমি এখন সবকিছু ছেড়ে চলে যাচ্ছি, আর কখনো ফিরে আসবো না। তোমরা তাড়াতাড়ি করোনা, আমাকে সবার কাছ থেকে বিদায় লওয়ার সুযোগ দাও। যখন মৃত ব্যক্তিকে-গুরস্তানের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়, তখন সে বলেতে থাকে হে আমার বংশধরগণ, হে আমার আত্মীয়-স্বজন, হে আমার প্রতিবেশী, তোমরা যেন আমার
মত দুনিয়ার মায়ায় পড়ে আরাম আয়েশে আখেরাতের কথা ভুলে যেওনা।
তোমরা লক্ষ করে দেখ, আমি আল্লাহর নাফরমানি করে হালাল হারামের প্রতি লক্ষ না করে,যে ধন দৌলত কামায় করেছিলাম তার কিছুই আমার সাথে যাচ্ছে না। সব ওয়ারীশগণ বন্টন করে নিচ্ছে। আমার সাথে যাচ্ছে শুধু আমার পাপরাশি। যাদের জন্য আমি পাপ করেছিলাম তারা বিন্দুমাত্র পাপের ভাগ নিচ্ছে না।
যখন জানাজার নামাজ শেষে কিছু লোক চলে যেতে থাকে তখন মৃতব্যক্তি বলতে থাকে- হে বন্ধুগণ তোমাদের সাথে আমার কত ভালবাসা ছিল, এখন কেমন করে আমাকে ছেড়ে চলে যাচ্ছো! দাফনের কাজ শেষ করে আমার জন্য একটু দোয়া করে যাও।
হে বন্ধুগণ-সত্যিই তোমাদের কাছে আজ আমি অপ্রিয় হয়ে গেছি। কিন্তু এমন এক সময় ছিলো তোমরা আমাকে না দেখে এক দিনও থাকতে পারতেনা।
টাকা,পয়সা, ধনসম্পদ, সব কিছু তোমাদের জন্য রেখে যাচ্ছি, আর কোনো কিছু তোমাদের কাছে চাইবো না। শুধু একটু দোয়া করে যাও।
টাকা,পয়সা, সবকিছু আমি রেখে গেছি। ভোগ বিলাসে মক্ত হয়োনা। আমার জন্য কিছু দান-খয়রাত করিও, দোয়া কালাম পড়িও, আমার রুহের উপর বখশিশ দিও।
মনে রেখ, আমার মত তোমাদেরকেও একদিন চলে যেতে হবে।
হে আল্লাহ আমাদের সবাইকে তুমি মাফ করে দাও।
(আমিন)🤲

***উপমহাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা***

উপমহাদেশের শিক্ষাব্যবস্হা
ও মুসলিম সাংস্কৃতিক জীবন।

বাংলাদেশ ভারত ও পাকিস্তান মিলে এত বিশাল এলাকা যে একে উপমহাদেশ বলা হয় এ এলাকার ৭০০ বছর মুসলিম শাসন ছিল বাংলাদেশে এলাকার এই শাসন ৫০০ বছর ছিল। ঐ সময় যে শিক্ষা ব্যবস্থা ছিল তার ফলে সকল শিক্ষিত লোকে ইসলামী শিক্ষালভের সুযোগ পেত। ১৭৫৭ সালে ইংরেজরা বাংলাদেশ দখল করার পর ঐ শিক্ষাব্যবস্থা উৎখাত করে তাদের নিজস্ব শিক্ষাব্যবস্থা চালু করে; যাতে মানুষের মন- মগজে তাদের অনুরুপ লোক তৈরি হয়।

১৯০ বছর আমরা ইংরেজদের গোলাম ছিলাম। ১৯৪৭ সালে আমরা ইংরেজ থেকে স্বাধীন হয়েছি। তখন থেকে এ দেশে মুসলিম শাসনই চলে আসছে। কিন্তু ইংরেজরা তাদের শিক্ষাব্যবস্থার মাধ্যমে যে ধরনের মন-মগজ ও চরিত্রের লোক তৈরি করেছে, সে ধরনের লোকেরাই দেশ শাসন করছেন। তারা নামে মুসলিম হলেও ইসলামী শিক্ষায় তাদের জীবন গড়ে ওঠেনি। ১৯৪৭ সালে আমরা স্বাধীন পাকিস্তানের অংশ হলাম। কিন্তুু ইংরেজরা চলে গেলেও তাদের শিক্ষাব্যবস্হই চালু থাকলো। ইসলামের নামে পাকিস্তান কায়েম হলেও ইসলামী সরকার কায়েম হয়নি।

১৯৭১ সালে এ দেশ পশ্চিম- পাকিস্তান থেকে আলাদা হলো। যাদের হাতে বাংলাদেশ শাসন করার ক্ষমতা এলো তারা শিক্ষা ব্যবস্হায় নিচের দিকে সামান্য
যেটুকু ইসলামী শিক্ষাব্যবস্হা ছিল ধর্মনিরপক্ষ দোহায় দিয়ে তাও উঠিয়ে দিলেন। বর্তমানে শুধু মাদ্রাসায় ইসলামের ধর্মীয় শিক্ষাটুকু আছে। স্কুল- কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ধর্মীয় শিক্ষার সামান্য কিছু থাকলেও মূলত ইংরেজ আমলের শিক্ষাব্যবস্থাই এখনও চালু আছে।

এ অবস্হায় দেশের শিক্ষিত লোকদের মন-মগজ- চরিত্র ইসলামী শিক্ষা অনুযায়ী তৈরি হতে পারছে না। যেহেতু ইংরেজ এখন নাই এর জন্য তাদের আর দায়ী করা যাচ্ছে না। পরবর্তি যারা দেশ শাষন করছে এর জন্য তারাই দায়ী। তাই শিক্ষিত সংখ্যা বাড়লেও মুসলিম শিক্ষিতদের অনেকের চালচলনের ধরন দেখতে অনেকটা অমুসলিমদের মতোই মনে হয়।
অবশ্যই শিক্ষাব্যবস্থা ইসলামী না হওয়া সত্ত্বেও অনেক শিক্ষিত লোককে ব্যক্তিগত প্রচেষ্টায় কিংবা পারিবারিক প্রভাবে মুসলিম হিসেবে জীবনযাপন করতে দেখা যায়।

মুসলিম সংস্কৃতিক জীবন:
সকল ধর্ম ও সকল দেশের মানুষই নিজদের ধর্মীয় কাজগুলো নিজ নিজ নিয়মে করে থাকে ঐ নিয়মগুলোই হলো সংস্কৃতি। বাংলা কুষ্টি শব্দটিও এ অর্থেই ব্যবহার করা হয়। ইংরেজিতে Culture সেই হিসেবে মুসলিম কালচার, হিন্দু কালচার, খ্রিস্টান কালচার ইত্যাদি বলা হয়। দেশ হিসেবেই আমেরিকান কালচার, চাইনিজ কালচার ইত্যাদি নামে পরিচিত। এর দ্ধারা বোঝা গেল, একজাতি থেকে অন্য জাতির মধ্যে জীবনযাপনের নিয়মে যে তফাৎ আছে ঐ তফাৎটাই সংস্কৃতি বা কালচার।

যারা আল্লাহকে একমাত্র হুকুমকর্তা প্রভু, রাসুল (সাঃ) কে একমাত্র আদর্শ নেতা, আখেরাতের জীবনে সাফল্য- লাভকেই জীবনের একমাত্র উদ্দেশ্য বলে বিশ্বাস করে, দুনিয়ার সব কাজ কর্ম তারা আল্লাহ ও রাসূলের শেখানো নিয়মেই করে থাকে। এ সব বিশ্বাসই সংস্কৃতির মূল। যারা এ সব বিশ্বাস করে না তারা যে রকম বিশ্বাস করে তাদের কাজের নিয়ম ঐ সব রকম হওয়ারই কথা। ইসলামী সংস্কৃতি বা সভ্যতার মূলভিত্তি হলো তাওহীদ, রিসালাত ও আখিরাত। এই তিনটি মূলের ভিত্তিতে যাদের জীবন গড়ে ওঠে তারাই মসলিম জাতি। এ সভ্যতার ভিত্তিতেই ইসলামী সংস্কৃতির জন্ম হয়।
সুতারাং শিক্ষা ব্যবস্হা ও সংস্কৃতির সাথে মুসলিমদের পরকালের সাফল্য ও আল্লাহর সন্তুষ্টির মাধ্যমে জান্নাত-জাহান্নামে যাওয়ার সম্পর্ক রয়েছে।

মহান আল্লাহ বলেন:

لَقَدْ كَانَ لَكُمْ فِیْهِمْ اُسْوَةٌ حَسَنَةٌ لِّمَنْ كَانَ یَرْجُوا اللّٰهَ وَ الْیَوْمَ الْاٰخِرَؕ وَ مَنْ یَّتَوَلَّ فَاِنَّ اللّٰهَ هُوَ الْغَنِیُّ الْحَمِیْدُ۠
এসব লোকের কর্মপদ্ধতিতে তোমাদের জন্য এবং আল্লাহ‌ ও আখেরাতের দিনের প্রত্যাশী লোকদের জন্য উত্তম আদর্শ রয়েছে। এ থেকে যদি কেউ মুখ ফিরিয়ে নেয় তাহলে আল্লাহ‌ স্বয়ংসম্পূর্ণ ও প্রশংসিত।
(আল-মুমতাহিনাহ ৬)

هُوَ الَّذِیْۤ اَرْسَلَ رَسُوْلَهٗ بِالْهُدٰى وَ دِیْنِ الْحَقِّ لِیُظْهِرَهٗ عَلَى الدِّیْنِ كُلِّهٖؕ وَ كَفٰى بِاللّٰهِ شَهِیْدًاؕ
আল্লাহই তো সে মহান সত্তা যিনি তাঁর রসূলকে হিদায়াত ও সত্য দ্বীন দিয়ে পাঠিয়েছেন যেন তাকে সমস্ত দ্বীনের ওপর বিজয়ী করে দেন। আর এ বাস্তবতা সম্পর্কে আল্লাহর সাক্ষই যথেষ্ট। (আল-ফাতাহ্ ২৮)

تِلْكَ عُقْبَى الَّذِیْنَ اتَّقَوْا ط وَّ عُقْبَى الْكٰفِرِیْنَ النَّارُ

  • অন্যদিকে সত্য অমান্যকারীদের পরিণাম হচ্ছে জাহান্নামের আগুন। ( আর-রাদ:৩৫)

*** নবিজি গায়েব জানে না **

**নবিজি গায়েব জানেন **
আহহালে সুন্নাতের কিছু ভাই আছেন, , তাঁহাদের জন্য পবিত্র কোরানের থেকে কিছু আয়াত এখানে সংখেপে তোলে ধড়া হলো আসা করি কোরান পড়ে বুঝে সেই অনুপাতে কথা বলবো দলিল দিবো। সকল দলিল সকল কথা হবে কোরানের কথা, মানুষের কথা নয়, (ঝালিকাল কিতাবু, সুরায়ে বাকারা) যার কোন সন্দেহ নেই। এবার আশি কোরানে
আচ্ছালামোআলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহ, ওয়াবারাকাতুহ ভাই জানেরা, ভিবিন্ন হাদিশের দলিল দিয়ে বলেন নবিজি গায়েব জানেন এমন কি পৃথিবীর সব (যানেন, তার পর হাউজে কাউছারের মালিক নবিজী , আমি আপোনাদের কে পবিএ কোরান থেকে কিছু প্রামান দেখালাম আপোনাদের হাদিশের সাতে মিলিয়ে দেখেন, কোরানে তো কোন সন্দেহ নেই, (০১ নং) গায়েবের খবর এক মাএ আল্লাহ যানেন ( সুঃ হাশর আঃনং ২২)
(০২ নং) এমনই তিনি, অদৃশ্য ও দৃশ্যমান সম্পর্কে জ্ঞাত, মহাপরাক্রমশালী, পরম দয়ালু। ( সুরা আস সিজদাহ্ ৩২ আঃনং-৬) (০৩ নং) গায়েবের চাবি তাঁর কাছে তিনি ছারা কেহ যানেন না ( সুরায়ে আনআম ৬/ আঃ নং ৫৯) (০৪ নং) এক মাএ তিনি গায়েবের মালিক ( সুঃ জিন ৭২/ আঃ নং ২৬) (০৫নং) লেকে তোমাকে কিয়ামতের কথা জিঘাংসা করিবে, সে ঞান কি তোমার আছে? ( সুঃ নযি য়াত ৭৯/ আঃ নং ৪২/৪৩) (০৬ নং) লোকেরা জিঘাংসা করবে কেয়ামত কখন হবে , বল সে ঞানত আল্লাহর কাছে ( সুরায়ে মুলক ৬৭/ আঃ নং ২৫/২৬) (০৭ নং) আল্লাহ সব কিছুর অভিভাবক ( সুঃ যুমার ৩৯/ আঃনং ৬২) (০৮ নং) আমি তোমাদের মত মানুষ আমার কাছ অহি আসে তোমাদের কাছে আসেনা, ( সুঃ কাহ্ফ ১৮/ আঃ নং ১১০) ( ০৯ নং) দুর্ভোগ মিত্যাছারদের জন্য, ( সুঃ মুর সালাত ৭৭/ আঃনং ১৫/ এই কথাটি দশ বার বলা হয়েছে এই সুরাতে) (১০ নং) তারা তোমাকে ক্বিয়ামাত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে কখন তা সংঘটিত হবে। বল, ‘এ বিষয়ে জ্ঞান রয়েছে আমার প্রতিপালকের নিকট। তিনি ছাড়া
কেউ প্রকাশ করতে পারে না কখন তা ঘটবে। আসমান ও যমীনে তা হবে বড় এক কঠিন দিন। আকস্মিকুবে জিজ্ঞেস করছে যেন তুমি আগ্রহ সহকারে এটার খোঁজে ব্যস্ত আছ। বল, ‘এ বিষয়ের জ্ঞান তো শুধু আল্লাহরই নিকট আছে। কিন্তু (এ সত্যটা) অধিকাংশ লোকই জানে না।’ ( সূরা আল আরাফ আয়াত ১৮৭) ( ১১ নং) আল্লাহ আসমান যমীনের অদৃশ্য বিষয় সম্পর্কে অবগত। অন্তরে যা আছে সে সম্পর্কে তিনি বিশেষভাবে জ্ঞাত। (সূরা ফাতির 35 আয়াত 38)
(১২ নং) বল, আকাশ ও পৃথিবীতে যারা আছে তারা কেউই অদৃশ্য বিষয়ের জ্ঞান রাখে না আল্লাহ ছাড়া, আর তারা জানে না কখন তাদেরকে জীবিত ক’রে উঠানো হবে। সুরা আন নামল ২৭ আয়াতনং ৬৫) (১৩ নং)
কিয়ামতের জ্ঞান কেবল আল্লাহর নিকটই আছে, (সুরা লুকমান 31 আয়াত নং 34)
(১৪ নং) লোকে তোমাকে ক্বিয়ামত সম্পর্কে প্রশ্ন করে। বল, তার জ্ঞান কেবল আল্লাহর নিকটই আছে। কিসে তোমাকে জানাবে- সম্ভবতঃ ক্বিয়ামত নিকটেই। (সূরা আল আহযাব 33 আয়াত নং 63) (১৫ নং)
ক্বিয়ামত কখন সংঘটিত হবে সে সম্পর্কিত জ্ঞান একমাত্র তাঁর কাছেই আছে। কোন ফলই তার আবরণ থেকে বেরিয়ে আসে না, এবং কোন নারী গর্ভধারণ করে না আর সন্তান প্রসব করে না তাঁর অজ্ঞাতে।(সূরা ফুসসিলাত 41 আয়াতনং 47) (১৬ নং) আসমান ও যমীনের গোপন বিষয়ের খবর আল্লাহই জানেন। তোমরা যা কর আল্লাহ তা দেখেন। (সূরা হুজুরাত 49 আয়াত নং 18) (১৭ নং)
আগমনকারী মুহূর্ত (ক্বিয়ামত) নিকটবর্তী। আল্লাহ ছাড়া কেউ তা সরাতে পারে না (বা প্রকাশ করতে পারে না)। সূরা আন-নাজম ৫৩ আয়াতনং ৫৭/৫৮)
(১৮ নং) কোন কিছুই মিত্যাছার করা যাবেনা, সাবধান। কাফির ছাড়া কেহ আল্লাহর আয়াত নিয়ে ঝগড়া করেন না, ( সুরা গাফির ৪০/ আঃ নং ৪) (১৯ নং) বল, আল্লাহ যা ইচ্ছে করেন তা ছাড়া আমার নিজের ভাল বা মন্দ করার কোন ক্ষমতা আমার নেই। আমি যদি অদৃশ্যের খবর জানতাম তাহলে নিজের জন্য অনেক বেশি ফায়দা হাসিল করে নিতাম, আর কোন প্রকার অকল্যাণই আমাকে স্পর্শ করত না। যারা ঈমান আনবে আমি সেই সম্প্রদায়ের প্রতি সতর্ককারী ও সুসংবাদদাতা ছাড়া অন্য কিছু নই। (সূরা আল আরাফ ৭ আয়াত নং ১৮৮) নিবিজি যে গায়েব যানেন না তার কিছু উদহারন (মুরাইসী’) যুদ্ধ হতে ফিরে আসার সময় (সাঃ) ও সাহাবা (রাঃ) গণ মদীনার নিকটবর্তী এক স্থানে রাত্রে বিশ্রাম নিলেন। প্রত্যূষে আয়েশা (রাঃ) নিজের প্রয়োজনে একটু দূরে গেলেন। তখন মোনাফেক নাতা আবদুল্লাহ বিন উবাই মিত্যা ঘটনা রটান, যখন মা আয়শা রাঃ কে ঐ স্তানের থেকে উঠের পিটে করে নিয়ে যায়। এই গঠনা সুরা নুরের ১১ নং আয়াত থেকে ২১ নং আয়াত পর্যন্ত উল্লেখ্য করা হয় । তারপর নিবিজি যদি গায়েবের খবর যাতেন তাহলে কি ইহুদী মহিলা নিবিজি কে রুটি মাংসের সাতে বিষ খাওাতে পারতো ? নিবিজি গায়েবের খবর যানলে ৭০ জন সাহাবি কে কাফেরদের সাতে দিতেন কোরান তেলোয়াতের জন্য সে খানে ৬৯ জন সাহাবাকে তারা হত্যাকরে। তোমরা কি ভাবে বল নিবিজি গায়েব যানেন ? আসা করি কেহ
আয়াত নিয়ে ঝগরা করবেন না। এই কথা গুলি কোন কবির কলাম নয় আল কোরান, দয়া করে কেহ মনে কষ্টি নিবেন না, আপোনাদের কথা গুলি কোরানের সাতে মিলিয়ে দেখেন, ( ১৯ টি আয়াত ) এখানে দেওয়া হয়েছে ধন্যবাদ। কোথাও যদি বুঝাতে আমার ভুল হয়ে থাকে দয়া করে ক্ষমা করে দিবেন, কিন্তু কোরআনের আয়াত কোন ভুল নেই । মোঃ ইমরান খাঁন **

**দুনিয়া একফোঁটা মধুর মত**

শিক্ষনীয় পোষ্ট:
১ ফোঁটা মধু মাটিতে পড়ে আছে!
পাশ দিয়ে ছোট্র একটি পিপীলিকা যাচ্ছিল!
মধুর ঘ্রাণ নাকে ঢুকতেই থমকে দাঁড়াল!
ভাবলো একটু মধু খেয়ে নেই!
তারপর না হয় সামনে যাবো!

এক চুমুক খেলো! বাহ্! খুব মজা তো!
আর একটু খেয়ে নেই! আরেক চুমুক খেলো!
তারপর সামনে চলতে লাগলো!
হাটতে হাটতে ঠোঁটে লেগে থাকা মধু চেটে চেটে খাচ্ছিল!
ভাবলো,এত মজার মধু আরেকটু খেয়ে নিলে কি হয়?
আবার পিছনে ফিরলো!
পূর্বে মধুর একপাশ থেকে খেয়েছিল!
এবার চিন্তা করলো ভিতরে মনে হয় আরও মজা!
এবার আস্তে আস্তে বেয়ে বেয়ে মধু ফোঁটার উপরে উঠে গেল!
বসে বসে আরামছে মধু খাচ্ছে!
খেতে খেতে এক পর্যায়ে পেট ফুলে গেল!
ঐ দিকে আস্তে আস্তে পা দুটো মধুর ভিতরে ঢুকে যাচ্ছে!
তখনই হঠ্যাৎ টনক নড়লো তার!
কিন্তু ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেছে!
মধু থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে নেয়ার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চলছে!
কিন্তু নাহ্! মধুতে তার সমস্ত শরীর মাখামাখি অবস্থা!
অনেক চেষ্টা করেও নিজেকে আর উদ্ধার করতে সক্ষম হলো না!
নাকে মুখে মধু ঢুকে দম বন্ধ হয়ে যেতে লাগল!
অবশেষে.. পিপীলিকাটি মধুর ভিতরে আটকে পড়েই মৃত্যু বরণ করল!!

এই বিশাল বড় দুনিয়াটাও এক ফোটা মধুর মত!
যে এই মধুর পাশে বসে হালাল ও অল্পতে তুষ্ট থাকবে সেই বেঁচে গেল!
আর যে এই স্বাদের মধ্যে ডুব দিতে গিয়ে হালাল-হারাম বাচ-বিচার না করে শুধু খেয়েই গেল,আরেকটু আরেকটু করতে করতে একদিন সে এর মায়াজালে আটকা পড়েই মারা যাবে!
তখন আর কেউই উদ্ধার করতে পারবে না!
ধ্বংস অনিবার্য!
তার দুনিয়া ও আখেরাত দু’টোই শেষ!

*** কেমন হবে জান্নাত***

জান্নাতে সর্ব প্রথম গান শোনাবেন হুরেরা, তাতে কেটে যাবে ৭০ বছর,
জান্নাতি বাতাসে গাছের পাতার সাথে মিলিয়ে অপূর্ব এক বাজনা সৃষ্টি করবে,
আর জান্নাতের হুরদের সাথে সুর মিলাবে সুরের মুর্ছনায় গোটা জান্নাত মুখরিত হয়ে যাবে,
আল্লাহ্ তখন জান্নাতবাসীদের কাছে জানতে চাইবেন,,
—-“কেমন লাগলো?
—-“সকলেই জবাব দিবে, খুব ভালো,
—-“আল্লাহ্ বলবেন,” এর চেয়েও ভালো শোনো।

জান্নাতবাসী বলবে
“হে আল্লাহ্ এর চেয়ে ভালো কি,
তখন আল্লাহ্ হযরত দাউদ (আঃ) কে ডাক দিয়ে বলবেন,
—- “হে দাউদ এবার তুমি শুনাও”
দাউদ (আঃ) বলবেন,
—-“হে আল্লাহ্ আমার কন্ঠ তো দুনিয়াতে ছিল যবুর শরীফে,
আল্লাহ্ বলবেন,
—-তোমার কন্ঠ ফিরিয়ে দিলাম কোরআন শরীফ শোনাও।

♦ হযরত দাউদ (আঃ) কোরআনের ” একটি সুরা শোনাবেন! জান্নাতবাসী মুগ্ধ হয়ে যাবে।
আল্লাহ্ আবার বলবেন,—“কেমন লাগলো?
“জান্নাতিরা বলবে,— মারহাবা, খুব ভালো লাগলো।
আল্লাহ্ বলবেন, এর চেয়ে ভালো শোনো,
জান্নাত বাসীরা, বলবে “হে আল্লাহ্ এর চেয়ে ভালো কি হতে পারে, আল্লাহ্ পাক রাসুলুল্লাহ্ (সাঃ) কে বলবেন,
—-হে আমার প্রিয় হাবিব এবার আপনি ওদের শোনান!

♦রাসুলুল্লাহ্ (সাঃ) কোরআনের হৃদয় “সুরা ইয়াসিন” তেলাওয়াত করবেন। পুরো জান্নাত আনন্দে মুখরিত হয়ে যাবে আর ধ্বনি তুলবে,”
আল্লাহু আকবার “
আল্লাহ্ আবারও জানতে চাইবেন, কেমন লাগলো?জান্নাতবাসীরা বলবেন, আল্লাহ্ সবকিছু থেকে এটাই বেশি ভালো লাগলো!

♦আল্লাহ্ বলবেন,”এর চেয়েও ভালো আছে, “জান্নাতবাসী অবাক হয়ে বলবে, আল্লাহ্ এর চেয়ে ভালো কিছু আছে,
আল্লাহ্ জবাব দিবেন,
“এর চেয়ে ভালো যা তা হলো তোমাদের রব! আল্লাহ্ বলবেন, “রিজওয়ান (একজন ফেরেস্তা) পর্দা সরিয়ে দাও, আজ আমার বান্দা আমার দীদার করবে, আমাকে দেখবে,
“আল্লাহু আকবার”! পর্দা সরে যাবে ও সবাই আল্লাহর দীদার লাভ করবে আল্লাহকে দেখার পরে বান্দা অস্থীর হয়ে যাবে তখন —-শেষে আল্লাহ পাক সুরা আর রহমান পাঠ করবেন তখন মানুষের অবস্থা কি যে হবে আল্লাহ ভাল জানেন।

জান্নাতের হুর কি,
শরাব কি,
নহর কি,
ফল কি,
সব কিছুকে মূল্যহীন মনে হবে
বান্দা বলবে, “আল্লাহ্ কিছুই চাইনা,
শুধু তোমার দীদার চাই!তোমাকে দেখতে চাই,

আল্লাহ্ আমাদের কে জান্নাতে কবুল করুন

আমিন,

**** মৃত্যু থেকে পলায়ন****

.
কবিতার ফেরিওয়ালা মুসাফির
`অনিবার্য মৃত্যু’
.
মৃত্যু অনিবার্য জেনেও দুনিয়ায় বেঁচে থাকার জন্য, সামান্য সুখের জন্য মানুষ কতো কি আয়োজন করে। মানুষের কতো গর্ব হিংসা দেমাগ অহংকার। কতো ঠগবাজি সুদ ঘুষ মারামারি হানাহানি।
.
সূরা বানী ইসরাঈল-এর ৩৭ নম্বর আয়াতে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বলেছেন-‘যমীনে দম্ভ করে চলো না। তুমি কখনোই যমীনকে বিদীর্ণ করতে পারবে না এবং উচ্চতায় পাহাড় সমান হতে পারবে না।’ সূরা লোকমান-এর ১৮ নম্বর আয়াতে আল্লাহ বলেছেন- ‘অহংকারবশে তুমি মানুষকে অবজ্ঞা করো না। পৃথিবীতে গর্বভরে চলাফেরা করো না। নিশ্চয় আল্লাহ কোনো দাম্ভিক অহংকারীকে পছন্দ করেন না।’
.
মানুষ তার অর্থ-সম্পদ, পদ-পদবী, বংশ মর্যাদা, ক্ষমতা, রূপ-লাবণ্য এসবের কতোইনা গর্ব করে, অহংকার করে, বড়াই করে। মৃতুর পর সব গর্ব অহংকার বড়াই মাটিতে মিশে যাবে। পবিত্র কুরআনের ভাষায় মৃত্যুর পর মানুষের নিন্মোক্ত ৯টি আকাঙ্খা হবে, আফসোস হবে। তবে এই আফসোসে কোনো লাভ হবে না।
.
১. হায়! আমি যদি মাটি হয়ে যেতাম।(সূরা নাবা, আয়াত-৪০)
২. হায়! আমি যদি পরকালের জন্য কিছু করতাম।(সূরা ফজর, আয়াত-২৪)
৩. হায়! আমাকে যদি আমার আমলনামা না দেয়া হতো।(সূরা হাক্কা, আয়াত-২৫)
৪. হায়! আমি যদি শয়তানকে বন্ধুরূপে গ্রহণ না করতাম।(সূরা ফুরকান, আয়াত-২৮)
৫. হায়! আমি যদি আল্লাহ ও রাসূল-এর আনুগত্য করতাম।(সূরা আহযাব, আয়াত-৬৬)
৬. হায়! আমি যদি রাসূল-এর পথ অবলম্বন করতাম।(সূরা ফুরকান, আয়াত-২৭)
৭. হায়! আমি যদি নেককারদের সঙ্গে থাকতাম, তা হলে বিরাট সফলতা লাভ করতে পারতাম।(সূরা নিসা, আয়াত-৭৩)
৮. হায়! আমি যদি আমার রবের সঙ্গে কাউকে শরীক না করতাম।(সূরা কাহফ, আয়াত-৪২)
৯. হায়! আমাকে যদি আবার দুনিয়ায় পাঠানো হতো।(সূরা আনআম, আয়াত-২৭)
.
মৃত্যু সম্পর্কে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন পবিত্র কুরআনে আরো বলেছেন-
১. ‘তোমরা যে মৃত্যু থেকে পলায়ন কর, সেই মৃত্যু অবশ্যই তোমাদের মুখামুখি হবে।’(সূরা জুমআ, আয়াত-৮)
২. ‘তোমরা যেখানেই থাক, মৃত্যু তোমাদেরকে পাকড়াও করবেই, যদিও তোমরা সুদৃঢ় দূর্গে অবস্থান কর।’(সূরা নিসা, আয়াত-৭৮)
৩. ‘যখন তাদের মৃত্যু এসে যাবে, তখন এক মুহুর্তও বিলম্বিত কিংবা তরান্বিত করতে পারবে না।’(সূরা নাহল, আয়াত-৬১)
৪. ‘জীবমাত্রই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করবে। অতঃপর তোমরা আমারই কাছে প্রত্যাবর্তিত হবে।’(সুরা আনকাবুত, আয়াত-৫৭)
৫. ‘কেউ জানে না, কোন্ জায়গায় সে মৃত্যুবরণ করবে।’ (সূরা লুকমান, আয়াত-৩৪)
.
মানুষের এতো গর্ব, দম্ভ, অহংকার, দেমাগ, বড়াই, দর্প কয় দিনের? আমি বলি- ‘কবরে কি এসি আছে/নাকি লাইট ফ্যান//তাহলে আল্লাহর কথা/ভুলে থাকো ক্যান? অতএব, পরকালের জন্য আগে থেকেই সাবধান!
.
‘সাবধান’
.
তোমার ত্যাল ত্যালা শরীরে
দোজখের আগুন জ্বলিবে
অন্যায় করিলে
বন্ধু!
অপরাধ করিলে . . .
.
রুপের ধনের বড়াই করো
নামায কালাম নাহি পড়ো
ছাড়া পাবে না তুমি
আজরাইলে ধরিলে
অন্যায় করিলে
বন্ধু!
অপরাধ করিলে . . .
.
দুনিয়াতে চাও যে আরাম
মানো না হালাল হারাম
মরার পরে লাভ হবে না
আফসোস করিলে
অন্যায় করিলে
বন্ধু!
অপরাধ করিলে . . .
.
ইসলামেরি লেবাস ছাড়ি
হাল ফ্যাশনের বাড়াবাড়ি
সাদা কাফন পড়াইবে
খাটিয়ায় চড়িলে
অন্যায় করিলে
বন্ধু!
অপরাধ করিলে . . .
.
কোর্মা পোলাও বিরাণী খাও
গায়ে দামি গয়না জড়াও
সঙ্গে যাবে না কিছুই
নিঃশ্বাস মরিলে
অন্যায় করিলে
বন্ধু!
অপরাধ করিলে . . .
.

***আল্লাহর কাছে সাহায্য**

👉👉👉পাকিস্তানের সাবেক বিচারপতি মুফতি তাকি উসমানী সাহেব বলেছেন, রাসুল সা. বলেন, তোমাদের জুতার ফিতাও যদি ছিরে যায় আল্লাহর কাছে তা ঠিক করার জন্য দোয়া কর। সাধারণ বিষয় তো হলো কারো যদি জুতা ছিড়ে যায় সে মুচির কাছে যাবে ঠিক করতে। কিন্তু রাসুল সা. এর আদর্শ হলো জুতার ফিতা ছিড়ে গেছে তো তুমি আল্লাহর কাছে সর্ব প্রথম বলো হে আল্লাহ আমার জুতার ফিতা ছিড়ে গেছে তা মেরামত করার ব্যবস্থা করে দাও আমি তোমার কাছে সাহায্য পার্থনা করছি। তারপর তুমি মুচির কাছে যাও।
এটা এজন্য যে মানুষ জাহিরি বিষয়ের উপর বেশি বিশ্বাস করে। মূলত কেউ মুচির কাছে যাক বা ডাক্তারের কাছে যাক, এমনও তো হতে পারে যে মুচি থাকবে না বা ডাক্তারকে পাবে না। তাই আল্লাহর কাছে চাইতে হবে। রাসুল সা. এজন্যই বলেছেন, পৃথিবীতে তোমার যাই দরকার হয় তুমি আল্লাহর কাছে সর্বপ্রথম চাইবে।
ঠিক এমনই কারো যদি রোগ হয় প্রথমে আল্লাহর কাছে সুস্থতার জন্য দোয়া করবে। ডাক্তারের কাছে যাওয়ার আগে আল্লাহর দরবারে যেতে হবে, চাইতে হবে। কারণ রোগ মুক্তির ক্ষমতা আল্লাহর আছে কোনো ডাক্তারের নেই।
একই ডাক্তারের কাছে একই রোগের রোগী যায়, কেউ ভালো হয় কেউ ভালো হয় না। তাই ভালো করার মালিক তো ঔষুধ না, ভালো করার মালিক তো আল্লাহ। এ বিশ্বাস মানুষের মনে রাখতে হবে।
আমার অনেক আগের একটি ঘটনার কথা মনে পড়ছে। আমার স্ত্রীর পরিচিত একজন ডাক্তার ছিলো, তিনি বলেন, আমার হসপিটালে একবার এক রোগীর এমন রোগ ধরা পড়লো যার কোনো চিকিৎসা নেই। পড়ে সে আল্লাহর কাছে কান্নাকাটি করলো। সকালে এমন একজন যার আজ রিলিজ পাওয়ার কথা ছিলো তার রিলিজ হলো না। কিন্তু সে লোক যার বেঁচে থাকার কোনো কথাই ছিলো না সে রিলিজ পেয়ে গেলো।
তাই রোগ তো আল্লাহই দান করেন, আবার তিনি তা থেকে মুক্তি দেন। তাই বান্দার উচিৎ রোগসহ সমস্ত বালামুসিবত থেকে আল্লাহর কাছে সর্বপ্রথম মুক্তি চাইবে। অসুস্থ হলে সর্ব প্রথম আল্লাহকেই বলবে।

***পৃথিবী একটি স্কুল***

পৃথিবী একটি বিদ্যালয়***
✓বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম>>
এই পৃথিবীটা হলো একটি বিশাল পাঠশালা অনেক বড় বিদ্যালয়,
শিক্ষা কেন্দ্র, একটি ইউনিভার্সিটি। তার চেয়ে বড় বিদ্যালয় আর পৃথিবীতে নেই, এই বিদ্যালয়ের একটি মাত্র বই , তা হলো al-quran । এর লেখক একমাত্র এই বিশ্বজগতকে সৃষ্টিকারী এই বিশ্ববিদ্যালয় কে সৃষ্টিকারী মহান রাব্বুল আলামিন । আর এই বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র শিক্ষক আল্লাহর প্রিয় হাবিব হযরত মুহাম্মদ মোস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম । এই বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রী সকল মানুষ ও জিন কারণ আল্লাহ পাক সূরা যারিয়াত 56 নাম্বার আয়াতে বলেছেন আমি জিন ও মানুষকে সৃষ্টি করেছি এক মাত্র আমার এবাদতের জন্যে। অতএব এই দুই জাতীয় হল এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রী।এই বিদ্যালয়ের এই বই যে পড়তে পেরেছে, মনে প্রাণে ধারণ করতে পেরেছে, সেই দুনিয়া ও আখেরাতে সফল হয়েছে। আর যে করতে পারেনি, শুধু দুনিয়াতে বসবাস করে গেছে তার জন্য হয়তো দুনিয়ার শান্তি আখেরাতে তার জন্য দুর্ভোগ, একই কলেজের একই ক্লাশে লেখাপড়া করে কেউ ডাক্তার কেউ ইঞ্জিনিয়ার কেউ উকিল ব্যারিস্টার, কেউ নিশা গ্রস্ত কেউ হয় আউল কেউ হয় বাউল । তেমনি এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কেউ যাবে জান্নাতে কে যাবে জাহান্নামে । মানুষ একটি বিষয়ের উপরে পিএইচডি করে হয় ডক্টর । আর পবিত্র কালামের 6666 টি আয়াত মন প্রাণ দিয়ে পরিচালিত করেছে সে সব চেয়ে বড় ডক্টর, সকল সাবজেক্টের উপর সিএসডি কারক। কারণ আল্লাহ পাক পবিত্র কালামে বলেছেন আকাশ ও জমিনের এমন কোনো ভেদ নেই যা পবিত্র কোরানে নেই। ( সুরা আনফল নং;২৭ … আয়াত নং..৭৫.. তাহলে এই কোরআনকে রিচার্জ করতে পারলে আসমান ও জমিনের সকল বিষয়ের উপর পিএইচডি করা হলো । এই পিএইচডি অর্জন করতে পারলে হয়তো দুনিয়ার জীবনে আল্লাহর দেওয়া কোনো না কোনো পরীক্ষায় আপনার জীবন কষ্টকর হতে পারে,পরীক্ষার কথা সুরা বাকারার 154 নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে অবশ্যই আমি তোমাদেরকে পরীক্ষা করব । কিন্তু আখেরাতের জীবন উত্তম জীবন, যাক আল্লাহ পাক পবিত্র কালামের সূরা আদ দুহা তে বলা হয়েছে আখেরাতের জীবন তোমার জন্য উত্তম জীবন । আবার আল্লাহপাক সুরা বাকারার ২০১ নাম্বার আয়াতের আমাদের জন্য দোয়া শিখিয়েছেন রাব্বানা আতিনা ফিদ্দুনিয়া হাসানাতা ওয়াফিল আখিরাতি হাসানাতা ও কিনা আযাবান্নার। আল্লাহ আমাদেরকে দুনিয়াতে কল্যাণ দান করো আখেরাতে ও কল্যাণ দান করুন। আমরা সবাই বেশি বেশি করে, এই দোয়াটি পড়ব, দুনিয়াতে যেন আল্লাহ আমাদেরকে শান্তি দেন, আখিরাতে ও আমাদেরকে শান্তি দেন ।ওয়া আখিরি দেওয়ানা আলহামদুলিল্লাহি রাব্বিল আলামিন ইনশাআল্লাহ আবার দেখা হবে নতুন কোন কোরআন ও হাদিসের বাণী নিয়ে । সে পর্যন্ত সকলে সুস্থ থাকুন ভালো থাকুন । আসসালামু আলাইকুম ওরাহমাতুল্লাহ ওবারাকাতুহু । লেখক ( মোহাম্মদ ইমরান খান) ?

** ঈগলের লাইফস্টাইল**

কাঁক হচ্ছে একমাত্র পাখি, যে ঈগলের ঘাড়ের উপর বসে, ঠোকর মেরে, তাকে বিরক্ত করতে পারে। যে সাহস অন্য কোন পাখির নেই। মজার ব্যাপার হচ্ছে ঈগল কিন্তু , কাঁকের সাথে লড়াই করে, বা তাকে মেরে ফেলতে যেয়ে, তার সময় ও শক্তির অপচয় করে না।
ঈগল যেটা করে, সেটা হচ্ছে, সে দ্রুত গতিতে উপরে উঠতে থাকে। আতি উচ্চতায় অক্সিজেন স্বল্পতার কারনে, এবং ঈগলের প্রচন্ড গতির কারনে, কাঁক দুর্বল হয়ে পড়ে এবং টিকতে না পেরে, ঈগলের ঘাড় থেকে, দ্রুত খসে পড়ে যায়। ঠিক তেমনি ভাবে, আপনার জীবন চলার পথে, কাছের মানুষ, আত্মীয় স্বজন, বন্ধু বান্ধবরূপি অনেক কাঁক, আপনার পিছনে ঠোকর মেরে, আপনার জীবনকে ব্যহত করবে। এদের সাথে লড়তে যেয়ে, সময় এবং শ্রম অপচয় করার কোন দরকার নেই। আপনার চূড়ান্ত লক্ষ্যে পৌঁছানর জন্য, কাজের গতি আর পরিশ্রম আরও বাড়িয়ে দিন। আপনার গতির সাথে তাল মেলাতে না পেরে, এই সব কাকেরা, দুর্বল হয়ে এমনিতেই ঝড়ে পড়ে যাবে। Collection MD.imran khan

***( শোকাবহ ১০ই মহরম ***

★( শোকাবহ ১০ই মহরম এর – কারবালার ঘটনাঃ——

★★ ইয়াজিদের ইসলামী শাসন ব্যবস্থার ঘটোনা ইমাম হুসাইনের মত মুমীন ব্যক্তির পক্ষে সেটা মেনে নেয়া কোন ভাবেই সম্ভব ছিল না। খিলাফত ব্যবস্থার পুনরুজ্জীবনই ছিল ইমাম হোসাইনের (রাঃ) সংগ্রামের মূল লক্ষ্য। মুসলিম জাহানের বিপুল মানুষের সমর্থনও ছিল তার পক্ষে। উপরন্তু কুফাবাসীগন ইয়াজিদের অপশাসনের হাত থেকে বাচার জন্যে বারংবার ইমাম হুসাইন এর সাহায্য প্রার্থনা করতে থাকলে তিনি তাতে সাড়া দেন। তিনি কুফা যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। কুফার অবস্থা জানার জন্যে হুসাইন তার চাচাতো ভাই মুসলিম-বিন-আকিলকে সেখানে প্রেরণ করেন। মুসলিম কুফাবাসীর সাহায্যের আশ্বাস পেয়ে ইমাম হুসাইনকে কুফায় আসতে অনুরোধ করে পত্র লিখেন।
কিন্তু এরিমধ্যে ইয়াজিদের অধিনস্থ ইরাকের শাসনকর্তা কঠিন হৃদয়ের ওবায়দুল্লাহ বিন জিয়াদ মুসলিমকে খুজে বের করে তাকে নৃশংস ভাবে হত্যা করে এবং তাকে সহায়তাকারীদেরও খুজে হত্যা করে। এতে কুফাবাসীরা ভীত হয়ে পড়ে। তারা হুসাইনের সাহায্যে এগিয়ে আসতে আর সাহস পেলো না। কুফাবাসীরা ইমাম হুসাইনকে খলিফা হিসাবে দেখতে চাইলেও ইমাম হুসাইনের জন্য প্রাণ বিসর্জণ দিতে রাজি ছিল না। ইয়াজিদের নির্মমতার কথা জেনেও ইমাম হোসাইন (রাঃ) এর সঙ্গীরা যে জেনে শুনে বুঝেই ইমামের সাথে যোগ দিয়ে ছিলেন তা খুবই স্পষ্ট। ইমামকে ভালো বেসে, তার প্রতি অগাধ শ্রদ্ধা ও বিশ্বাস রেখেই তারা ইমামের সাথে থেকে প্রাণপণে সংগ্রামে অংশ গ্রহণ করেছেন।
ইমাম হোসাইন (রাঃ) এবং তার সঙ্গীদের ওপর যে আঘাত হানা হয়েছে, তরবারীর সেই আঘাতের যন্ত্রণার চেয়ে আরো বেশি কষ্টকর ছিল জনগণের অজ্ঞতা এবং মূর্খতার আঘাত। সে জন্যেই জনতার চিন্তার ভূবন থেকে অজ্ঞতার পর্দা অপসারণ করাটাই ছিল তাদের জন্যে গুরুত্বপূর্ণ জিহাদ।
মুসলিম প্রেরিত পত্র পেয়ে ইমাম হুসাইন স্ত্রী, পুত্র কন্যা, আত্মীয়-স্বজন এবং ২০০ অনুচর সহ কুফার পথে রওনা হন। কুফার ইয়াজিদ বাহিনীর সেনাপতি ওমর হুসাইনকে ইয়াজিদের আনুগত্যের শপথ গ্রহনের নির্দেশ দিলে তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন। ফলে তারা ফোরাত নদীর তীর ঘিরে দর্ন্ডায়মান হলো এবং হুসাইন শিবিরের পানি সরবরাহের পথ বন্ধ করে দিলো।
তাসূয়ার দিনে কারবালার পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে ধাবিত হতে থাকে। মৃত্যু নিশ্চিত জেনেও ইমামের সঙ্গীরা অবিচল আস্থা ও ইমানের সাথে নিজেদের দায়িত্ব পালন কর ছিলেন। চরম সঙ্কটময় পরিস্থিতিতেও তারা ইমামের সাথে কৃত তাদের অঙ্গীকার ভঙ্গ করেননি। এই অনড় ইমানের অধিকারী একজন ছিলেন হযরত আব্বাস (রাঃ)। তিনি ছিলেন হযরত আলি (রাঃ) এর ছেলে।তার মা ছিলেন উম্মুল বানিন। হযরত আব্বাস ছিলেন অকুতোভয় এক যুবক। তার ইমান, বীরত্ব, নৈতিক ও আধ্যাত্মিক গুণাবলির কথা ছিল প্রবাদতুল্য। দেখতেও তিনি ছিলেন খুব সুন্দর। কারবালার অসম যুদ্ধে তিনিই ছিলেন ইমাম পক্ষের প্রধান সিপাহসালা। ইমামের প্রতিরক্ষায়, নারী ও শিশুদের তাবুর প্রতি রক্ষায় এবং ইমাম হোসাইন (রাঃ) এর সন্তানদের জন্যে পানির ব্যবস্থা করতে প্রাণপণে লড়েছেন তিনি।
অবশেষে ওবায়দুল্লাহ ইবেন যিয়াদের ৪ হাজার সৈন্যের একটি বাহিনী ইমাম হোসাইন(রাঃ) কে অবরুদ্ধ করে ফেলে এবং ফোরাত নদীতে যাতায়াতের পথ বন্ধ করে দেয়। মাত্র ২০০ মানুষের বিপক্ষে ৪০০০ সৈন্য। পানি সরবরাহের পথ বন্ধ করে দেয়ায় ইমামের কচি সন্তানেরা প্রচণ্ড তৃষ্ণায় কাতর হয়ে পড়লে হযরত আব্বাস (রাঃ) ফোরাতে যান পানি আনতে। নিজেও তিনি ভীষণ তৃষ্ণার্ত ছিলেন। আজলা ভরে পানি তুলে খেতে যাবেন এমন সময় তার মনে পড়ে যায় ইমাম হোসেন (রাঃ) এর তৃষ্ণার্ত শিশু সন্তানের কথা।পানি ফেলে দিয়ে মশক ভর্তি করে তাবুর উদ্দেশ্যে রওনা দিতেই শত্রু পক্ষের তীরে তার এক হাত কেটে যায়। মশকটাকে তিনি অপর হাতে নিয়ে ইমামের তাবুর দিকে ছুটলেন। এবার অপর হাতটিও কাটা পড়ে। মশকটাকে এবার তিনি মুখে নিয়ে তাবুর দিকে যেতে চাইলেন। শত্রুর তীর এবার সরাসরি তার দেহে আঘাত হানে। এ ভাবে শহীদ হয়ে যান তিনি। এর পর অসম এই যুদ্ধে আলী আকবর শহীদ হয়ে যান। কারবালায় আরো যারা শহিদ হন তাদের মধ্যে রাসূলের প্রিয় সাহাবা হাবিব ইবনে মাজাহের, তার প্রাচীন বন্ধু মুসলিম ইবনে আওসাজা, নওমুসলিম ওহাব সহ আরো অনেকেই।
ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, দুরাবস্থায় পতিত হয়ে হুসাইন ওবায়দুল্লাহর নিকট তিনটি প্রস্তাবের যে কোন একটা গ্রহনের অনুরোধ জানান। তাহলো হয় তাকে মদীনায় ফেরত যেতে দেয়া হোক, কিম্বা তুর্কি সীমান্তের দুর্গে অবস্থান করতে দেয়া হোক, বা ইয়াজিদের সাথে আলোচনার জন্যে দামেস্কে যেতে দেয়া হোক। কিন্তু ক্ষমতাদর্পী ওবায়দুল্লাহ এর কোনটাই মানলো না। এ দিকে পানির অভাবে হুসাইন শিবিরে হাহাকার পড়ে গেলো। ছোট শিশুরা মুর্ছা যেতে লাগলো। নিরুপায় হুসাইন শেষ বারের মত অনুরোধ করলেও, পাষান্ডদের মন গলেনি।
৬৮০ খ্রিষ্টাব্দের ১০ অক্টোবর কারবালার প্রান্তরে এক অসম যুদ্ধ শুরু হলো। হুসাইনের ভ্রাতুষ্পুত্র কাশিম সর্ব প্রথম শত্রুর আঘাতে শাহাদাত বরন করলেন। তৃষ্ণার্ত হুসাইন শিশু পুত্র আসগরকে কোলে নিয়ে ফোরাত নদীর দিকে অগ্রসর হলেন কিন্তু ইয়াজিদ বাহিনীর নিক্ষিপ্ত তীর শিশু পুত্রের শরীরে বিদ্ধ হয়ে শিশু পুত্রটি শাহাদাত বরন করলে একাকী অবসন্ন হুসাইন তাবুর সামনে বসে পড়লেন। এমন সময় এক মহিলা তাকে এক পেয়ালা পানি এনে দিলো। কিন্তু শত্রুর তীর তার মুখ বিদীর্ণ করে দিলো। সীমার নামীয় ইয়াজিদের এক সৈন্য তরবারীর আঘাতে হুসাইনের মস্তক শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করে দিলো। এই ভয়ন্কর দৃশ্যে কঠিন হৃদয়ও বিগলিত হলো।
হুসাইন পরিবারের জীবিত সদস্যদের বন্দী করে দামেস্কে ইয়াজিদের নিকট পাঠানো হয়। এ দিকে হুসাইনের মৃত্যুর এমন ভয়াবহ দৃশ্য পুরো দেশের মানুষকে বিক্ষুদ্ধ করে তুলল। ইয়াজিদ ভয় পেয়ে গেলো। ক্ষমতা নিরাপদ রাখতে এবং জনরোষের ভয়ে কৌশলী ভুমিকায় সে বন্দিদের মুক্ত করে মদীনায় পাঠিয়ে দিলো।

***শিশুর চরিত্র গঠন***

ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তামীরুল মিল্লাত কামিল মাদরাসার সুযোগ্য অধ্যক্ষ ড.মুফতী মুহাম্মদ আবু ইউছুফ খান হাফিঃ লেখাটি আপনার সন্তান গঠনে সহায়ক হবে ইন শা আল্লাহ
https://dailysangram.com/post/424643-%E0%A6%B6%E0%A6%BF%E0%A6%B6%E0%A7%81%E0%A6%B0-%E0%A6%9A%E0%A6%B0%E0%A6%BF%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%B0-%E0%A6%97%E0%A6%A0%E0%A6%A8%E0%A7%87-%E0%A6%AA%E0%A6%BF%E0%A6%A4%E0%A6%BE-%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%A4%E0%A6%BE%E0%A6%B0-%E0%A6%A6%E0%A6%BE%E0%A7%9F%E0%A6%BF%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%AC-%E0%A6%93-%E0%A6%95%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%AC%E0%A7%8D%E0%A6%AF#.Xz4F-x5uKtI.facebook

*** বাবড়ি মসজিদ***

কেন মসজিদ ভেঙ্গে মন্দির ইতিহাস কি বলে?

১৫২৮ সালে মোঘল সালতানাতের প্রতিষ্ঠাতা যহিরুদ্দিন বাবার এর সেনাপতি মীর বাকী ইসফাহানী অযোধ্যায় বাবরী মাসজিদ নির্মাণ শুরু করেন।

১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর মাত্র ৪ ঘন্টা ৪৫ মিনিটে ৪৬৫ বছরের পুরোন ইসলামী সভ্যতার সুমহান নিদর্শন কে ভেঙ্গে চুরমার করে দেওয়া হয়।

বাবরী মসজিদ ভাঙ্গার সবচেয়ে বড় কারন ছিল এখানে হিন্দুদের শ্রী রাম জন্ম গ্রহণ করেছিলেন। পরে বাদশাহ বাবর সেই স্থানের মন্দির ভেঙ্গে মসজিদ নির্মাণ করেন। কিন্তু ইতিহাস কি বলে।

বাবরী মসজিদ কি ভগবান রামের জন্মভূমি ছিল? বিশ্ব হিন্দু পরিষদ এর কোন প্রমাণ পেশ করতে পারেনি যে বাবরী মসজিদের স্থানে রাম মন্দীর ছিল। সেই মন্দীর কে ভেঙ্গে মসজিদ নির্মাণ করা হয়েছে।

মসজিদের গায়ে ফার্সি ভাষায় স্পষ্ট লিখা আছে যে এই মসজিদ ১৫২৮-২৯ খৃষ্টাব্দে নির্মিত হয়েছিল এবং নির্মাণকারীর নাম ও লিপিবদ্ধ করা আছে। এমনকি বাবরের মেয়ে গুলবান্দ বেগম “হুমায়ু নামা” তে এই মসজিদ নির্মাণের কথা স্পষ্ট ভাবে বর্ণনা করেছেন। কিন্তু তিনিও একথা উল্ল্যেখ করেন নি যে “বাবরী মসজিদ মন্দির ভেঙ্গে নির্মাণ করা হয়েছিল। যদি মন্দির ভেঙ্গে মসজিদ নির্মাণ করা হতো অন্তত গর্বের উদ্দ্যেশ্য সে কথা লিখা গুল্বান্দ বেগম লিপিবদ্ধ করতেন।

বাবরী মসজিদ নির্মাণের প্রায় ৫০ বছর পর ১৫৭৫-৭৬ সালে তুলসিদাস রমায়ন লিপিবদ্ধ করেন। কিন্তু দুঃখ জনক হলেও তিনি একজন হিন্দু হয়েও মন্দির ভেঙ্গে মসজিদ তৈরি করা হয়েছে এ কথা লিখলেন না। অন্তত তিনি রামায়ণ লিখার সময় এ কথা বলতেন যে বাবরী মসজিদ রামের জন্মভূমি,এবং সেখানে মন্দির ছিল।
১৬ এবং ১৭ শতাব্দীর অযোধ্যা কেন্দ্রিক কোন ইতিহাস গ্রন্থে এ কথা পাওয়া যায় না যে বাবরী মসজিদের স্থানে রাম মন্দির ছিল।

আবুল ফযল রহ তাঁর লিখিত ইতিহাস গ্রন্থ “আইনে আকবার” গ্রন্থ লিখা সমাপ্ত করেন ১৫৯৮খৃষ্টাব্দে। তিনি তাঁর গ্রন্থে ভারতের গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন স্থান সমূহের মধ্যে আযোধ্যার কথা লিপিবদ্ধ করেন এবং বলে পূর্ব দিকে ৪০ ক্রোশ এবং উত্তর দিকে ২০ ক্রোশ পবিত্র স্থান। অর্থাৎ বুঝা যায় তখনো রামের জন্মস্থানের নির্দিষ্ট কোন ধারণা মওজুদ ছিলনা। কেননা তিনি সেই স্থানে দুই জন নবীর কবরের কথা উল্ল্যেখ করেছেন কিন্তু একবারের জন্য রামের জন্মভূমির দিকে ইশারা করলেন না?!

“এয়ারলি ট্রাভেলস ইন ইন্ডিয়া” গ্রন্থে উইলিয়াম ফোস্টার আযোধ্যার কথা বর্ণনা করেছেন,যখন তিনি ১৬০৮ সেখানে ভ্রমণে গিয়েছিলেন। তিনি তাঁর বর্ণনায় নদীর কথা উল্ল্যেখ করেন যেখানে হিন্দুরা গোসল করে এবং সেই নদী থেকে দুই কিলোমিটার দূরে এক রহস্যপূর্ণ গুহার কথা উল্ল্যেখ করেন। যেই গুহা সম্পর্কে তিনি মন্তব্য করেন এখানে রাম ভগবানের অস্থি দাফন করা আছে। অনেকটা আশ্চর্যের বিষয় হলেও সত্য তিনি রামের জন্ম স্থান নিয়ে কোন মন্তব্য করেন নি।

সুজান রাই ভান্ডারী ১৯৯৫-৯৬ সনে তাঁর কিতাব “খোলাসাতুত তারিখ” গ্রন্থ লিখা সমাপ্ত করেন। তিনি তাঁর বইয়ে ভারত উপমাহাদেশের জিওগ্রাফিক্যাল বর্ণনায় হিন্দুদের পবিত্র স্থান সমূহের কথা উল্ল্যেখ করেন। আওরঙ্গজেব কেশোরাজের এক মন্দির ভেঙ্গে মসজিদ নির্মাণ করেছিলেন একথা লিখতে তিনি ভুলেন নি। কিন্তু তিনি যখন আযোধ্যার জিওগ্রাফিক্যাল বিবরণী পেশ করেন তখন -ভগবান রামের জন্মস্থানে কেউ মসজিদ নির্মাণ করেছে শুধু তাই নয় মন্দির ভেঙ্গে নির্মাণ করেছে- এতো বড় একটা ঘটনা লিখতে ভূলে গেলেন?

স্যার জাদুনাথ সরকার “ইন্ডিয়া অফ আওরাংজেব” গ্রন্থে বলেন অযৌধ্যা পূজার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান। রামচান্দার জী এখানেই জন্ম গ্রহণ করেছিলেন। অর্থাৎ বুঝা যাচ্ছে রামের জন্মভূমি অযৌধ্যা কিন্তু তাঁর জন্মস্থান যে বাবরী মসজিদ নির্মিত হয়েছে তাঁর কোন ধারণা পাওয়া যায়না। বরং তাঁর জন্মের নির্দিষ্ট কোন স্থান উল্ল্যেখ করতে পারেন নি।

বাবরী মসজিদ যে বাদশাহ যহিরুদ্দিন বাবরের আমলে নির্মিত হয়েছিল এতে কোন সন্দেহ নেই। সম্রাট বাবরের উদারতায় তাকে অনেক বড় বড় হিন্দুরা সেকুলার বাদশাহ মনে করতেন। বর্তমান সময়ের হিন্দুপন্থি ফেমাস মোটিভেশনাল স্পিকার বিবেক বিন্দ্রা ও বাবর কে সেকুলার এবং হিন্দু মুসলিম বিবেধ বিরোধি বলে মনে করেন। এমনকি এখানে বাবারের জীবনী নিয়ে “সেকুলার এম্পায়্যার বাবার” নামী কিতাব ও মজুদ আছে। এ ছাড়া “বাবার নামা” “ইন্ডিয়া ডিভাইডেদ” গ্রন্থে হিন্দু মন্দির সমূহের প্রতি বাবরের সহনুভূতিশীল দৃষ্টি এবং হিন্দুদের প্রতি সম্রাট হিসেবে তাঁর ভালবাসা দেখার পরে একথা বলা আসম্ভব যে তিনি মন্দির ভেঙ্গে মসজিদ বানানোর অনুমতি দিবেন। বা তাঁর যুগে কেউ মন্দির ভেঙ্গে মসজিদ নির্মাণ করে এটা অসম্ভব।
রামগীতির সবচেয়ে পুরানা এবং নির্ভরশীল গ্রন্থ হচ্ছে বাল্মিকী রামায়ন। এই রামায়ন গ্রন্থে রামের জন্ম স্থান আযোধ্যা বলা হয়েছে কিন্তু কোন অযোধ্যা তা বলা হয়নি। এবং সেখানে অযোধ্যা শহরের যে বর্ণনা দেওয়া হয়েছে তার সাথে বর্তমান আযোধ্যার কোন মিল পাওয়া যায়না।

ড দিন বন্ধু তেওয়ারীর মতে বাল্মিকি রামায়নে আযোধ্যা শহরের যে বর্ণনা দেওয়া হয়েছে এবং জন্মস্থানের যে কথা বলা হয়েছে তা বর্তমান বানারস শহরের গঙ্গা নদীর তীরে ৪০থেকে৫০ কিলোমিটারের মধ্যে অবস্থিত। এটা ফায়যাবাদ শহরের আযোধ্যা নয়।

“বাবরী মাসজিদ এয়া রাম জানামভূমি” এই বিষয়ের ভারতের চার বিখ্যাত ঐতিহাসিক-প্রফেসর আর এম শারমা,প্রফেসর এম আতহার আলী,প্রফেসর ডী এন ঝা, প্রফেসর প্রফেসর সুরাজভান- একত্রে একটি প্রবন্ধ লিপিবদ্ধ করেন যার খোলসা আমি নিম্নে লিপিবদ্ধ করছি:
১,ষোলশো শতাব্দী এবং নিশ্চিত ভাবে আঠারাশো শতাব্দীর পূর্বে আযোধ্যার নির্দিষ্ট কোন স্থান কে রামের জন্মভূমি হওয়ার কারনে পবিত্রতা এবং সম্মান অর্জন ছিলনা।
২, যেখানে ১৫২৮-২৯ এ বাবরী মসজিদ নির্মাণ করা হয়েছিল সেখানে রাম মন্দির ছিল,এই কথার কোন প্রমাণ নেই।
৩, আঠারোশো শতাব্দীর পূর্বে রামের জন্মভূমিতে বাবরী মসজিদ আছে এরূপ কোন লোক কথাও ছিলনা এমনকি উনিশশো শতাব্দীর পূর্ব শুরুতেও কেই এই মসজিদ ভাঙ্গার দাবী করেন নি।
৪,রামের জন্মভূমিতে বাবরী মসজিদ নির্মাণ করা হয়েছে এ ধারণা নিশ্চিতভাবে ১৮৫০ এর পরে সৃষ্টি হয়।
প্রায় অনেকটা ক্লিয়ার যে রামের জন্মস্থান কে যা চলছে তার পুরোটাই একটা নাটক এবং রাজনৈতিক ফায়দার কারণে করা হচ্ছে।

মূলত রাম মন্দির বা রামের জন্মস্থান ঝগড়ার সূত্রপাত ইংরেজরা করেছিল ভারতে হিন্দু মুসলিম ঐক্য নষ্টের উদ্দ্যেশ্য। তাদের মূল লক্ষ্য ছিল হিন্দু মুসলিমের ঐক্য নষ্ট করতে পারলে তাঁরা এই দেশ আরও অনেক দিন শাসন করতে পারবে। সাথে সাথে মুসলমানদের ভাবমূর্তি ও ক্ষুন্য হবে। মুসলমানদের পুনরায় এই দেশ শাসন করা মুখে এই ঘটনা কে বাধা হিসেবে সৃষ্টি করাও তাদের উদ্দ্যেশ্য ছিল।

বাবরী মসজিদের স্থানে রাম মান্দির আছে এ ধারণা সর্বপ্রথম প্রকাশ পায় ইংরেজদের কূটনীতির একটা অংশ হিসেবে উনিশশো শতাব্দীর প্রথমার্ধে। ইংরেজ লেখক লেডোন এর “মেমোরাইজ অফ রাইস উদ্দীন বাবার,এমপায়ার অফ হিন্দুস্তান” গ্রন্থের মাধ্যমে যা ১৮১৩ সালে প্রথম প্রকাশ পায়।

১৯৪৯ সালের আগে রাম মন্দির এবং বাবরী মসজিদ নিয়ে কোন ঝগড়া হিন্দু মুসলিমদের মধ্যে ছিলনা।
মুসলমানেরা যদি ভারত উপমহাদেশে এই লম্বা শাসন আমলে মন্দির ভেঙ্গে মসজিদ নির্মাণ নীতি গ্রহণ করত তাহলে ভারতের মাটিতে কোন মন্দির পাওয়া যেতনা। সাথে সাথে এই বিশাল সংখ্যক হিন্দুর এক অংশ ভারতে থাকত কিনা সন্দেহ। সাথে সাথে এটাও যে এতো কঠোর পজিশনে মুসলিম শাসক কেন কোন শাসকের পক্ষেই এত লম্বা সময় শাসন করা সম্ভব নয়।

তথ্যসুত্র: বাবরী মসজিদ এক তারিখী দাস্তাবেজ (প্রথম খন্ড ও দ্বিতীয় খন্ড),মুহাম্মাদ আরেফ ইকবাল।
সংকলন ও অনুবাদ: আব্দুর রহমান বিন আব্দুর রাজ্জাক। ফারেগ জমেয়া সালাফিয়্যাহ,বানারাস,ভারত।

***সাইয়্যিদ কুতুব**

সাইয়্যিদ কুতুবকে জেলখানার মাঝে ফাঁসির কাষ্ঠে ঝুলিয়ে হত্যা করা হয়। এমনকি এখনো কেউ বলতে পারবে না, তাঁর কবর কোথায় অবস্থিত!!

যেদিন সাইয়্যেদ কুতুবকে হত্যা করা হলো, সেদিন মিশরের পথে পথে তাঁর রচিত তাফসীর ‘ফি যিলালিল কুরআন’ এর সাত অথবা আট হাজার সেট অর্থাৎ চৌষট্টি হাজার পুস্তক পুড়িয়ে ফেলা হয়েছিলো।

রাষ্ট্রীয়ভাবে ঘোষণা করা হয়েছিল, যার কাছে সাইয়্যেদ কুতুবের গ্রন্থ পাওয়া যাবে, তাকে দশ বছর জেলে রাখা হবে। সাইয়্যেদ কুতুবের গ্রন্থগুলো জাদুর মতো। যে পাঠ করে, সেই তাঁর অনুসারী হয়ে যায়।

তার শাহাদাতের ঘটনা পত্র-পত্রিকা ও বিভিন্ন দেশের বেতারের সম্প্রচারিত হলে সবার মনে একটি প্রশ্ন উঁকি দিলো, এই ব্যক্তি কে? কেন তাকে ফাঁসি দেওয়া হলো?

সেই তাফসীর গ্রন্থটি কেমন যার কারণে তাকে ফাঁসি দেয়া হলো?

তখন বৈরুতের প্রকাশকেরা প্রকাশনা জগতে কোন খ্রিস্টান লোকসান খেলে তাকে বলতো আর তুমি যদি বাঁচতে চাও তাহলে সাইয়্যেদ কুতুবের ‘ফি যিলালিল কুরআন’ ছাপ। হ্যাঁ, যে বছর সাইয়েদ কুতুবকে ফাঁসি দেওয়া হলো সে বছরই তার তাফসীর গ্রন্থটির সাত সংস্করণ ছাপা হলো।

অথচ তাঁর জীবদ্দশায় মাত্র একবার ছাপানো হয়েছিল।

আর এখন তো অবস্থা এমন যে, পৃথিবীর এমন কোন প্রান্ত পাওয়া যাবেনা যেখানে সাইয়্যেদ কুতুবের এই তাফসীরগ্রন্থ গিয়ে পৌঁছে নি। এমন কোন ভাষাও পাওয়া যাবে না যে ভাষায় তা অনূদিত হয়নি।

[তাফসীরে সূরা তাওবা, শহীদ আব্দুল্লাহ আযযাম (রাহিমাহুল্লাহ), পৃষ্ঠা ২৮৪]

ফাঁসির আগের রাতে সায়্যিদ কুতুব (রাহিমাহুল্লাহ) কে কালিমা পড়ানোর জন্য জেলের ইমামকে পাঠানো হলো। জেলের ইমাম এসে সায়্যিদ কুতুবকে কালিমা পড়ানোর চেষ্টা করতে লাগলেন।

তাকে দেখে সায়্যিদ কুতুব জিজ্ঞেস করলেন, আপনি কী জন্য এখানে এসেছেন?

ইমাম বললেন, আমি আপনাকে কালিমা পড়াতে এসেছি। মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার আগে আসামীকে কালিমা পড়ানো আমার দায়িত্ব।

সায়্যিদ কুতুব বললেন, এই দায়িত্ব আপনাকে কে দিয়েছে? ইমাম বললেন, সরকার দিয়েছে।
সায়্যিদ কুতুব বললেন, এর বিনিময়ে কি আপনি বেতন পান?

ইমাম বললেন, হ্যাঁ আমি সরকার থেকে বেতন-ভাতা পাই।

তখন সায়্যিদ কুতুব রহ.বললেন, কী আশ্চর্য! যেই কালিমা পড়ানোর কারণে আপনি বেতন-ভাতা পান, সেই কালিমার ব্যখ্যা মুসলিম উম্মাহকে জানানোর অপরাধেই আমাকে ফাঁসি দেয়া হচ্ছে!

“তোমার কালেমা তোমার রুটি যোগায়,
আর আমার কালেমা আমাকে ফাঁসিতে ঝুলায়!
© সংগৃহিত

আল-বাকারাহ 2:5

আল-বাকারাহ 2:5 أُو۟لَٰٓئِكَ عَلَىٰ هُدًى مِّن رَّبِّهِمْۖ وَأُو۟لَٰٓئِكَ هُمُ ٱلْمُفْلِحُونَ English – Sahih International Those are upon [right] guidance from their Lord, and it is those who are the successful. Bengali – Taisirul Quran তারাই তাদের প্রতিপালকের হিদায়াতের উপর প্রতিষ্ঠিত আছে, আর তারাই সফলকাম। কুরআন অ্যাপ পেতে

**মৃত্যু কখন আসে তা কেউ জানেনা**

আল্লাহ্ বলেনঃ

” তোমরা যেখানে যে অবস্থায়ই থাকো না কেনো , মৃত্যু তোমাদের ধরবেই ।

যতো মজবুত কিল্লার মধ্যেই তোমরা অবস্থান করো না কেনো । ” ( সূরা নিসাঃ ৭৮ )

” যখন তাদের কারো কাঝে মিত্যু আছে, তখন সে বলে , হে আমার পালণকর্তা ! আমাকে পুনরায় ( দুনিয়াতে প্রেরণ করুন । ” ( সূরা আল – মুমিনুনঃ ৯৯ )

” কোনাে প্রাণীই জানে না কোথায় এবং কিভাবে তার মৃত্যু হবে । ” ( সূরা লােকমানঃ ৩৪ )

মৃত্যু কোনাে ব্যক্তির ইচ্ছানুযায়ী , তার সুবিধা মতাে সময় এবং পছন্দনীয় স্থানে আসবে না । বরং তা আসবে আল্লাহর ইচ্ছানুযায়ী , তাঁরই নির্ধারিত সময় ও স্থানে ,

ধনী – গরীব , রাজা – প্রজা সবারই একটি ঠিকানা , ” মাটির কবর ” ।

আল্লাহ্ মৃত্যু হবে এটাই সত্য , অতঃপর সত্য এবং সত্য । আল্লাহ্ ঈমানের সহিত সকল মুসলমানের মৃত্যু দিয়েন । আমিন ।

** মাসজিদে হারামের মারবেল পাথর **

মক্কা-মদিনার মসজিদের নকশা করেছিলেন-
এই সেই ড. মুহাম্মদ কামাল ইসমাঈলী।

সৌদি আরবের মক্কা শহরে অবস্থিত মসজিদুল হারাম ইসলামের সবচেয়ে পবিত্র স্থান যা কাবাকে ঘিরে অবস্থিত। ইবরাহিম আ. ও ইসমাইল আ. এর দ্বারা প্রথম কাবা নির্মাণ করা মুসলিমরা হজ্জ ও উমরার জন্য মসজিদুল হারামে যান।
হজ্জের সময় এখানে উপস্থিত হওয়া মানুষের জমায়েত পৃথিবীর বৃহত্তম মানব সমাবেশের অন্যতম। অপরদিকে মসজিদে নববী হজরত মুহাম্মদ সা. কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত মসজিদ যা বর্তমান সৌদি আরবের মদীনায় অবস্থিত। গুরুত্বের দিক থেকে মসজিদুল হারামের পর মসজিদে নববীর স্থান। হজরত মুহাম্মদ (সাঃ) হিজরত করে মদিনায় আসার পর এই মসজিদ নির্মিত হয়।
নির্মাণের পর অনেকবার পুণ-নির্মাণ কিংবা সংস্কার করা হয়েছে মুসলমানদের এই পবিত্র দুটি মসজিদ। আর মক্কার মসজিদুল হারাম কিংবা মদিনার মসজিদে নববীর সংস্কারে একজন মিশরীয় প্রকৌশলী এবং স্থপতি অনেক ভূমিকা রেখেছেন যিনি খ্যাতি থেকে দূরে থাকতে পছন্দ করেছিলেন। তাই তিনি আজো অনেকেরই অজানা।

সেই মহান ব্যক্তিটির নাম ড. মুহাম্মদ কামাল ইসমাঈল। তিনি মিশরের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ উচ্চ বিদ্যালয়ের সার্টিফিকেটপ্রাপ্ত ব্যক্তি। এবং রয়েল স্কুল অফ ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ভর্তি হওয়া এবং স্নাতক অর্জন করা সবচেয়ে কম বয়সী ব্যক্তিও ছিলেন তিনি। সবচেয়ে কম বয়সে ইসলামী আর্কিটেকচারে তিনটি ডক্টরেট ডিগ্রি প্রাপ্তির জন্য ইউরোপে গিয়েছিলেন। এছাড়াও তিনি রাজার কাছ থেকে নীল স্কার্ফ এবং আয়রন র‌্যাঙ্ক প্রাপ্ত সর্বকনিষ্ঠ ব্যক্তি ছিলেন।
এছাড়াও তার সবচেয়ে বড় পরিচয় তিনিই প্রথম প্রকৌশলী যিনি মক্কা ও মদীনা মসজিদ সম্প্রসারণ প্রকল্পের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন করেছিলেন। বাদশাহ ফাহাদ এবং বিন লাদেন কোম্পানির প্রচেষ্টা সত্ত্বেও তিনি তার ইঞ্জিনিয়ারিং ডিজাইন এবং স্থাপত্যকর্ম তদারকির জন্য কোনো প্রকার অর্থ গ্রহণ করতে রাজী হননি। তাদের লক্ষ লক্ষ টাকার চেক ফিরিয়ে দিয়ে বাকের বিন লাদানকে তিনি বলেন, আমি কেন পবিত্র দুটি মসজিদে আমার কাজের জন্য অর্থ গ্রহণ করব্? তাহলে আমি কীভাবে বিচার দিবসে আল্লাহকে মুখ দেখাব?

তিনি ৪৪ বছর বয়সে বিয়ে করেছিলেন। তার স্ত্রী একটি পুত্রের জন্ম দিয়ে মারা যান। এরপর তিনি আর বিয়ে করেননি এবং তার মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি আল্লাহর ইবাদতে পূর্ণ সময় নিবেদিত করেছিলেন। তিনি গণমাধ্যমের যশ, খ্যাতি এবং অর্থের থেকে দূরে থেকে তিনি দুটি পবিত্র মসজিদের সেবায় ব্যয় করেছিলেন।

এই প্রতিভাবান ব্যক্তিটির মসজিদুল হারাম এর মার্বেলের কাজ সম্পর্কিত একটি চমকপ্রদ গল্প রয়েছে।হজ বা ওমরাহ পালনকারীরা নিশ্চয়ই বিস্ময়ের সঙ্গে অনুভব করেছেন প্রচণ্ড রৌদ্রতাপের মাঝেও মক্কার পবিত্র কাবা শরীফের চারপাশ এবং গ্রান্ড মসজিদের মেঝে ভীষণরকম ঠাণ্ডা থাকে। যখন হজ বা ওমরাহ পালনকারীরা এই মেঝের ওপর দিয়ে হেঁটে চলেন ঠাণ্ডার স্পর্শ নিশ্চয়ই তাদের বিস্মিত করে। কিন্তু এই ঠাণ্ডার রহস্য কোথায়?

সৌদি আরবের শুষ্ক তাপমাত্রা এবং গরমের মধ্যেও অনুভূত হওয়া এই ঠাণ্ডার বিষয়ে অনেক বিতর্ক রয়েছে। তবে দেশটির পবিত্র দুই মসজিদের জেনারেল প্রেসিডেন্সি অ্যাফেয়ার্সের অফিস জানিয়েছে এই রহস্যের কারণ। তারা জানায়, এই ঠাণ্ডার কারণ হচ্ছে বিশেষ ধরণের মার্বেল পাথর। সৌদি আরব মসজিদ ও কাবা শরীফের চারপাশের মেঝের জন্য গ্রিস থেকে আনা বিরল থাসোস মার্বেল পাথর ব্যবহার করেছে। এই পাথরের বিশেষ গুণ হচ্ছে, তা সূর্যের আলো প্রতিফলিত করে তাপও শুষে নিতে পারে। এছাড়াও এই মার্বেল পাথরের নিচে রয়েছে পানির নালা। যা বালির মধ্যে দিয়ে পানি প্রবাহিত করে নিচে ভিজিয়ে রাখে। যার ফলে সৃষ্টি হয় এই ঠাণ্ডার। তিনি তাওয়াফকারিদের জন্য হারাম মসজিদের মেঝেটি ঢাকতে চেয়েছিলেন। আর এই বিশেষ তাপ শোষণক্ষমতাসম্পন্ন মার্বেল কেবল গ্রীসের একটি ছোট পর্বতে পাওয়া যেত। তিনি গ্রীস ভ্রমণ করেন এবং হারামের জন্য প্রায় অর্ধেক পাহাড়ের পরিমাণে মার্বেল কেনার চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।
তিনি চুক্তিতে স্বাক্ষর করলেন এবং মক্কার দিকে ফিরে আসতেই সাদা মার্বেল চলে এসেছিল। এবং প্রকৃতপক্ষে মক্কার পবিত্র মসজিদের মেঝেতে মার্বেলের স্থাপন সমাপ্ত হয়েছিল।
এর ১৫ বছর পরে, সৌদি সরকার তাকে মদীনার পবিত্র মসজিদে অনুরূপ মার্বেল স্থাপন করতে বলে। এ ব্যাপারে ইঞ্জিনিয়ার মুহাম্মদ কামাল বলেন, যখন বাদশাহ তাকে নবীজির মসজিদটিকেও একই মার্বেল দিয়ে ঢাকতে বললেন, তখন আমি খুব বিভ্রান্ত হয়ে পড়েছিলাম, কারণ এই ধরণের মার্বেল পাওয়ার জন্য পৃথিবীতে কেবলমাত্র একটি জায়গা ছিল। এটি ছিল গ্রীস এবং আমি এরইমধ্যে তার অর্ধেক কিনে নিয়েছি।

এরপর তিনি গ্রিসের একই সংস্থায় গিয়ে সিইওর সাথে দেখা করেছিলেন এবং তার প্রয়োজনের পরিমাণ সম্পর্কে জানিয়েছিলেন। সিইও বলেছিলেন যে, ১৫ বছর আগে তিনি চলে যাবার পরে এটি বিক্রি করা হয়ে গিয়েছিল। এতে কামাল খুব মন খারাপ করেন। তিনি সভা ছেড়ে চলে গেলেন এবং অফিস থেকে বেরোনোর সময় তিনি অফিস সেক্রেটারির সাথে দেখা করলেন এবং তাকে অনুরোধ করলেন বাকী পরিমাণ মার্বেল কিনেছেন তার অবস্থান সম্পর্কে জানাতে।
জবাবে ওই ব্যক্তি বলেছিলেন যে এত পুরানো রেকর্ড থেকে জানা কঠিন হবে। তবুও কামালের অনুরোধে তিনি পুরানো রেকর্ড অনুসন্ধান করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কামাল তাকে হোটেলের ঠিকানা ও নম্বর দিয়েছিলেন এবং পরের দিন তার সাথে আবার দেখা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। অফিস ছাড়ার সময় তিনি ভাবছিলেন; আমি কেন জানতে চেয়েছি কে কিনেছে? নিজেকে তিনি নিজেই বলছিলেন, আল্লাহ দারুণ কিছু করবেন।
পরদিন, বিমানবন্দর ছেড়ে যাওয়ার কয়েক ঘন্টা আগে, কামাল একটি ফোন কল পেয়েছিলেন যাতে বলা হচ্ছিলো যে তিনি ক্রেতার ঠিকানা পেয়েছেন। কামাল বহু বছর পেরিয়ে যাওয়ায় ক্রেতার ঠিকানা নিয়ে কী করবেন ভেবে ধীর গতিতে তাদের অফিসে গেলেন।কামাল অফিসে পৌঁছাতেই সেই সেক্রেটারি তাকে সেই সংস্থার ঠিকানা দিলেন যারা বাকি মার্বেল কিনেছিলো। মুহুর্তেই তার হৃদয় চঞ্চল হয়ে পড়ল যখন তিনি জানতে পারেন মার্বেল কেনা সংস্থাটি সৌদি একটি সংস্থা।

কামাল সেইদিনই সৌদি আরব চলে গেলেন। সৌদি পৌঁছে তিনি সরাসরি মার্বেল কেনার সংস্থার অফিসে গিয়ে ডিরেক্টর অ্যাডমিনের সাথে দেখা করলেন। তার কাছে বহু বছর আগে গ্রীস থেকে যে মার্বেল কিনেছিলেন তা দিয়ে কি করেছিলেন তা জানতে চান। তিনি বললেন, আমার মনে নেই। তিনি সংস্থাটির স্টক রুমে গ্রিসের সাদা মার্বেল সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেন। উত্তরে তারা তাকে বলেছিলেন যে সমস্ত পরিমাণ রয়ে গেছে, কখনো ব্যবহার হয় নি।

কামাল শিশুর মতো কাঁদতে শুরু করলেন। এরপর পুরো গল্পটি ওই সংস্থার মালিককে শোনালেন। কামাল ওই সংস্থার মালিককে একটি ব্লাঙ্ক চেক দিয়ে তিনি যত দাম চান তা লিখতে বললেন। মালিক যখন জানতে পারলেন যে, মার্বেলটি মহানবী সা. এর মসজিদটির জন্য, তখন তিনি বলেছিলেন আমি একটি রিয়ালও গ্রহণ করব না। আল্লাহ আমাকে এই মার্বেল কেনার জন্য এবং এটি সম্পর্কে ভুলে যাওয়ার জন্য সৃষ্টি করেছেন। সন্দেহ নেই এই মার্বেল রাসূল সা. এর মসজিদে ব্যবহার করার উদ্দেশ্যেই যে সৃষ্ট।

মুহতারাম Fahim Siddiqi ভাইয়ের টাইম লাইন থেকে।

***এ্যানি খান**

মৃত্যুর পর আমার হিসেব আমাকেই দিতে হবে, আত্মউপলব্ধি থেকেই আমি অভিনয় ছেড়ে দিচ্ছি : এ্যানি খান অভি নেএি ফুল ডিটেল পেজ বেকে সেফ আছে।

***মৃতদেহর আত্তা***


একদিন নবী করিম (সাঃ)এর একজন সাহাবী মারা গেলেন
রাসূল পাক (সাঃ) উনার জানাজা পড়ালেন I তারপর একদল সাহাবী মৃতদেহ কবর দেয়ার জন্য কবরস্থানে নিয়ে আসলেন I সবার সাথে আমাদের নবী করিমও (সাঃ)হেঁটে হেঁটে আসলেন I

দুই জন সাহাবী কবর খুঁড়তে শুরু করলেন I
সবাই মৃত দেহকে ঘিরে বসে আছেন I
কবর খনন শেষ না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করছেন I
সবাই চুপচাপ, নীরব ও শান্ত একটি পরিস্থিতি I

নবীজি গভীর মনোযোগ দিয়ে কবর খোঁড়া দেখছিলেন একটু পর সবার দিকে তাঁকিয়ে জিজ্ঞেস করলেন,
“তোমরা কি জানো, মানুষ মারা যাওয়ার পর, তাঁর আত্মার কি হয় ?”

সবাই খুব আগ্রহ নিয়ে নবীজি কে বললেন,
-ইয়া রাসূলুল্লাহ ! আমাদেরকে বলুন I

নবীজি একটু চুপ করে থাকলেন I সবাই উনার কাছে এসে ঘিরে বসলেন I মৃত্যুর পর আত্মার কি হয়, এই তথ্য তাঁদের জানা ছিল না I আজ সেটা নবীজির মুখে শুনবেন I কত বড় সৌভাগ্য I শুনার জন্য সবাই অধীর আগ্রহে নবীজির কাছে এসে বসলেন I

তিনি একবার কবরের দিকে তাকিয়ে মাথাটা তুলে আকাশের দিকে তাকালেন
তারপর তিনি গল্পের মত করে বলতে শুরু করলেনI

“শুনো, যখন মানুষ একেবারেই মৃত্যু শয্যায়, তখন সে মৃত্যুর ফেরেস্তাকে দেখে ভয় পেয়ে যায় I কিন্তু যে বিশ্বাসী ও ভালো মানুষ তাকে মৃত্যুর ফেরেস্তা হাসি মুখে সালাম দেন I তাকে অভয় দেন এবং মাথার পাশে এসে ধীরে ও যত্ন করে বসেন I তারপর মৃত প্রায় মানুষটির দিকে তাকিয়ে বলেন,
-হে পবিত্র আত্মা ! তুমি তোমার পালনকর্তার ক্ষমা ও ভালোবাসা গ্রহণ করো এবং এই দেহ থেকে বের হয়ে আসোI

মুমিনের আত্মা যখন বের হয়ে আসে তখন সে কোন ধরণের ব্যথা ও বেদনা অনুভব করে না I
নবী আরো একটু ভালো করে উদাহরণ দিয়ে বললেন,
-মনে করো একটা পানির জগ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যাওয়ার পর উপর থেকে এক ফোঁটা পানি যেমন নিঃশব্দে উপর থেকে নিচে নেমে আসে ঠিক তেমনি নীরবে ও কষ্ট ছাড়াই আত্মাটি তার দেহ থেকে বের হয়ে আসেI
সেই সময় দুই জন অন্য ফেরেস্তা বেহেস্ত থেকে খুব সুগন্ধি মাখানো একটা নরম সুতার সাদা চাদর নিয়ে আসেন এবং তারা আত্মাটিকে সেই চাদরে আবৃত করে আকাশের দিকে নিয়ে যান I

তারা যখন আকাশে পৌঁছেন তখন অন্য ফেরেস্তারা সেই আত্মাটিকে দেখার জন্য এগিয়ে আসেনI
কাছে এসে সবাই বলেন,
সুবহানাল্লাহ ! কত সুন্দর আত্মা, কি সুন্দর তার ঘ্রান !
তারপর সবাই জানতে চান,
-এই আত্মাটি কার ?
উত্তরে আত্মা বহন কারী ফেরেস্তারা বলেন,
-উনি হলেন, “ফুলান ইবনে ফুলান”
(নবী আরবিতে বলেছেন, বাংলায় হলো, “অমুকের সন্তান অমুক” )
বাকি ফেরেস্তা গন তখন আত্মাটিকে সালাম দেয়, তারপর আবার জিজ্ঞেস করে,
-উনি কি করেছেন ? উনার আত্মায় এতো সুঘ্রাণ কেন ?
আত্মা বহন কারী ফেরেস্তা গন তখন বলেন,
-আমরা শুনেছি মানুষজন নিচে বলা-বলি করছে, উনি একজন ভালো মানুষ ছিলেন, আল্লাহর ভালো বান্দা, অনেক দয়ালু, মানুষের অনেক উপকার করেছেন I

এতটুকু বলার পর নবী একটু থামলেন I

তারপর সবার দিকে ভালো করে দৃষ্টি দিয়ে, উনার কণ্ঠটা একটু বাড়িয়ে বললেন,
এই কারণেই বলছি, সাবধান ! তোমরা কিন্তু মানুষের সাথে কখনো খারাপ ব্যবহার করবে না I
তুমি মারা যাওয়ার পর মানুষ তোমার সম্পর্কে যা যা বলবে, এই আত্মা বহন কারী ফেরেস্তারাও আকাশে গিয়ে ঠিক একই কথা অন্যদেরকে বলবেI

এই কথা বলে তিনি আবার একটু চুপ করলেন, কবরটার দিকে দৃষ্টি দিলেন I

আবার বলতে শুরু করলেন I

এই সময় মানুষ যখন পৃথিবীতে মৃত দেহকে কবর দেয়ার জন্য গোসল দিয়ে প্রস্তুত করবে তখন আল্লাহ তা’আলা আত্মা বহন কারী ফেরেশতাদেরকে বলবেন, “যাও , এখন তোমরা আবার এই আত্মাকে তার শরীরে দিয়ে আসো, মানুষকে আমি মাটি থেকে বানিয়েছি, মাটির দেহেই তার আত্মাকে আবার রেখে আসো I সময় হলে তাকে আমি আবার পুনরায় জীবন দিবো I”

তারপর মৃতদেহকে কবরে রেখে যাওয়ার পর দুই জন ফেরেস্তা আসবেন I তাদের নাম মুনকার ও নাকির I
তারা মৃতের সৃষ্টিকর্তা, তার ধর্ম ও নবী সম্পর্কে জিজ্ঞেস করবেন I

মুনকার নাকির চলে যাওয়ার পর,
আত্মাটি আবার অন্ধকার কবরে একাকী হয়ে যাবে I
সে এক ধরণের অজানা আশংকায় অপেক্ষা করবে I কোথায় আছে ? কি করবে ? এক অনিশ্চয়তা এসে তাকে ঘিরে ধরবে I

এমন সময় সে দেখবে, খুব সুন্দর একজন তার কবরে তার সাথে দেখা করতে এসেছেন I
তাঁকে দেখার পর আত্মাটি ভীষণ মুগ্ধ হবে I এতো মায়াবী ও সুন্দর তার চেহারা, সে জীবনে কোন দিন দেখেনি I
আত্মাটি তাকে দেখে জিজ্ঞেস করবে,
-তুমি কে ?
সেই লোকটি বলবে,
-আমি তোমার জন্য অনেক বড় সু- সংবাদ নিয়ে এসেছি, তুমি দুনিয়ার পরীক্ষায় উর্তীর্ণ হয়েছো, তোমার জন্য আল্লাহ তা’আলা জান্নাতের ব্যবস্থা করেছেন, তুমি কি সেটা একটু দেখতে চাও?
আত্মাটি ভীষণ খুশি হয়ে বলবে,
-অবশ্যই আমি দেখতে চাই, আমাকে একটু জান্নাত দেখাও I
লোকটি বলবে,
-তোমার ডান দিকে তাকাও I
আত্মাটি ডানে তাকিয়ে দেখবে কবরের দেয়ালটি সেখানে আর নেই I সেই দেয়ালের দরজা দিয়ে অনেক দূরে সুন্দর বেহেস্ত দেখা যাচ্ছে I
বেহেস্তের এই রূপ দেখে আত্মাটি অনেক মুগ্ধ হবে ও প্রশান্তি লাভ করবে I
এবং সেখানে যাওয়ার জন্য অস্থির হয়ে লোকটিকে জিজ্ঞেস করবে,
-আমি সেখানে কখন যাবো ? কিভাবে যাবো ?
লোকটি মৃদু হেসে বলবেন,

  • যখন সময় হবে, তখনই তুমি সেখানে যাবে ও থাকবেI আপাততঃ শেষ দিবস পর্যন্ত তোমাকে অপেক্ষা করতে হবে I ভয় পেও নাI আমি তোমার সাথেই আছি I তোমাকে আমি সেই দিন পর্যন্ত সঙ্গ দিবো I
    আত্মাটি তখন তাকে আবারো জিজ্ঞেস করবে,
    -কিন্তু তুমি কে ?
    তখন লোকটি বলবে,
    -আমি তোমার এতদিনের আমল, পৃথিবীতে তোমার সব ভালো কাজের, তোমার সব পুণ্যের রূপ আমি, আজ তুমি আমাকে একজন সঙ্গীর মত করে দেখছো I আমাকে আল্লাহ তা’আলা তোমাকে সঙ্গ দেয়ার জন্যই এখানে পাঠিয়েছেন I
    এই কথা বলে, লোকটি আত্মাটির উপর যত্ন করে হাত বুলিয়ে দিবেন
    এবং বলবেন,
    -হে পবিত্র আত্মা ! এখন তুমি শান্তিতে ঘুমাও I নিশ্চিন্তে বিশ্রাম নাও I

এই কথা বলার পর, আত্মাটি এক নজরে বেহেস্তের দিকে তাঁকিয়ে থাকবে এবং একসময় এই তাকানো অবস্থায় গভীর প্রশান্তিতে ঘুমিয়ে পড়বে I

নবীজি এতটুকু বলে আবার একটু থামলেনI
সাহাবীরা তখন গায়ের কাপড় দিয়ে ভেজা চোখ মুছলেন I

(বুখারী ও মুসনাদের দুইটি হাদিস অবলম্বনে)

আল্লাহ আমাদের পবিত্র আত্মা হওয়ার তাওফিক দান করুন……….……আমীন।।

***বদরের যুদ্ধ ০২***

নবীজীর_জীবনেরকষ্টের_মুহূর্ত

বদরের যুদ্ধের করুন পরাজয়ে ক্ষোভে ফুঁসছিল মক্কার কাফেররা।এই আগুনে ঘি ঢালল মদিনার ইহুদীরা।কুরাইশরা মদিনা আক্রমণের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিল।

কাফেররা ৩০০০ সৈন্যের সুসজ্জিত বহর নিয়ে উহুদ প্রান্তরে অবস্থান নিল।বিপরীতে নবীজী ৭০০ মুজাহিদ নিয়ে মোকাবিলা করতে গেলেন।একদিকে বিশাল উহুদ পর্বত অপরদিকে একটি ছোট গিরিপথ।নবীজী ৫০ জন তীরন্দাজকে ঐ গিরিপথে নিযুক্ত করলেন আর বললেন যদি আমরা যুদ্ধে পরাজিতও হই।সাহাবায়ে কেরামের লাশ নেওয়ার মতও যদি কেউ না থাকে তবুও যেন তারা এ জায়গা না ছাড়ে।

যুদ্ধ শুরু হল।মুসলমানরা আল্লাহু আকবর ধ্বনির সাথে কাফেরদের ধাওয়া দিলেন। প্রথম ধাক্কাতেই কাফেররা ছত্রভঙ্গ হয়ে পলায়ন শুরু করল।সাহাবায়ে কেরাম ভাবলেন তারা বিজয়ী।তাই গিরিপথের ৪০ জন তীরন্দাজ আল্লাহর হাবীবের আদেশ অমান্য করে ময়দানে নেমে আসল আর মুসলমানরা কঠিন বিপর্যয়ের সম্মুখীন হল।

অপরাজ্য় সেনাপতি খালিদ বিন ওয়ালিদ তখনও কালেমা পড়েন নি।তিনি তার বাহিনী নিয়ে ঐ গিরিপথে ঢুকে পড়লেন।আল্লাহর নবী আক্রান্ত হয়ে গেলেন।ইবনে কামিয়ার তীরের আঘাতে নবীজীর দাঁত মোবারক শহীদ হলো ।ঠোঁট কেটে রক্ত পড়তে লাগল।

হযরত আবু দুযানা নবীজীর ঢাল হিসেবে সামনে দাঁড়ালেন। তার পিঠ শত্রুদের দিকে রাখলেন।হযরত তালহাও দু’হাত উচিয়ে দাড়িয়ে গেলেন।কাফেরদের তীর বৃষ্টির মত তার শরীর ছেদ করল।তিনি শুধু বললেন,ও নবী আমার জীবনটা আপনার জন্য দিয়ে দিলাম।রাসূল, তালহা (র:) উদ্দেশ্য করে বলেন,তালহা নিজের জন্য জান্নাত ওয়াজিব করে নিয়েছে।শেষ পর্যন্ত নবীজীর প্রিয় সাহাবী আবু দুযানাও শহীদ হয়ে গেলেন।

এযুদ্ধে হযরত হামযা (র:) কে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।।তার কান ছিল কর্তিত,পেট ও বুক ছিল ফাঁড়া।মুশরিকা হিন্দা ইবনে উতবা তার কলিজা বের করে চিবিয়ে ছিল।ওয়াশীর বর্শার আঘাতে তিনি শহীদ হন।এ হ্দয় বিদারক দৃশ্য দেখে রাসূল (স:) অন্তর কেপে উঠে।নবীজী বললেন,হামযা ইবনে মোতালিব সকল শহীদদের সর্দার।

মুস’আব বিন উমারের ডান হাতে উহুদ যুদ্ধের পতাকা ছিল।কাফেররা তার ডান হাঁত কেটে ফেলল।তিনি পতাকা বাহাতে উচিয়ে ধরলেন।তার বাঁহাত কেটেও কেটে ফেলল।তিনি মুখে পতাকা তুলে ধরলেন।এবার তার গর্দান কেটে ফেলল।তারপরও মুখে পতাকা উচিয়ে ধরা ছিল।

যুদ্ধে মুসলমানরা হেরে গেল।মদিনায় গুজব রটল নবীজী নিহত হয়েছেন।হযরত হানযালা স্ত্রী সহবাসে ছিলেন।এ খবর শুনে নববধুকে রেখে কোষমুক্ত তরবারি হাতে উহুদের ময়দানে এসে যুদ্ধ করে শহীদ হয়ে যান।

উহুদের যুদ্ধে ৭০ জন শহীদ হন।নবীজী বললেন তাদের রক্তাক্ত অবস্থায় দাফন কর।আমি কেয়ামতের দিন তাদের পক্ষে সাক্ষ্য দিব।হানযালা (র:) এর স্ত্রী রাসূলের কাছে আসলেন।বললেন,তার স্বামী সহবাসজনিত অপবিত্র অবস্থায় জিহাদে অংশগ্রহন করেছিল।

হযরত হানযালার লাশ খুঁজে বের করা হল গোসল দেয়ার জন্য।সাহাবীরা দেখতে পেল তার মাথা বেয়ে পানি পড়ছে।ফেরেশতারা হযরত হানযালাকে গোসল দিয়েছিল।রাসূল (স:) দোয়া করলেন,” আয় পরোয়ারদিগার,আমার কওমকে ক্ষমা করুন,কেননা তারা জানে না।”

***হিন্দুদের পুজনিয়***

❤️হিন্দু ভাইদের বলতেছি ইকটু চিন্তা করে দেখবেন না রেগে❤️
কোলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এম এস সি পাশ করা একজন নওমুসলিমকে জিজ্ঞাস করা হয়েছিল আপনি কি দেখে মুসলিম হলেন।

তিনি জবাবে বললেন, হিন্দুদের যারা পূজনীয় ব্যক্তি তাদের আদর্শ যদি পৃথিবীর সর্বত্র বাস্তবায়ন করা হত তাহলে আজ সমাজের অবস্থা কি দাড়াত তা দেখে আমি মুসলমান হয়েছি।

প্রতি হিন্দু যদি আজ শ্রীকৃষ্ণের চরিত্র ধারণ করে যুবতী মেয়েদের কাপড় নিয়ে গাছে উঠে বসে থাকে তাহলে সমাজের অবস্থা কি দাড়াত তা দেখেই আমি মুসলমান হয়েছি।

হিন্দু ধর্মের দেবতাদের কথাগুলা কাগজেকলমে লিখাও লজ্জাকর। যেমন এই বিংশশতাব্দীতেও শীবের লিঙ্গের পূজার ন্যায়ও দৃষ্টান্ত পাওয়া যায়।মা বাবা ভাই বোন আত্মীয় স্বজন একসাথে লিঙ্গের উপর ভক্তি করে।এটা খুবি লজ্জা লাগে।এগুলা কি কোন ধর্মীয় কাজ হতে পারে?
আমি এসব দেখতে পারব না বলেই মুসলমান হয়েছি।

আপনি ধ্রুপদীর কথা চিন্তা করুন।একজন মহিলাকে পাচ ভাই স্ত্রীর দাবী করে।আবার সেটাকে হিন্দু ধর্মের লোকেরা তাদের জন্য খুব গৌরবের কাজ মনে করে।এটা নিয়ে তারা খুব গর্ববোধ করে।এসব ভেবে আমি আর হিন্দু ধর্মে থাকতে পারি নাই।

আমি চিন্তা করেছি যে কোথায় হিন্দুদের ভগবান দেবতাদের লীলা আর কোথায় মুসলমানদের নবী রাসুল গণের চরিত্র।আমি এসব চিন্তা ভাবনা করে আর হিন্দু থাকতে পারিনি।

ইসলামের দৃষ্টিতে সত্যিকারের পূণ্যবান ব্যক্তি হচ্ছেন যারা দ্বীনের কথা বলে,আল্লাহর কালাম যারা প্রচার করে। দ্বীন সম্পর্কে তাদের জ্ঞান যথেষ্ট। তাদের চলাফেরা, পোষাক, পাক পবিত্রতা থাকা তাদের ধর্মীয় আদেশ এবং তারা কেউ সংসার ত্যাগী নন।
ইসলামে কাউকে সংসার ত্যাগী হতে বলে না।আমি সম্পুর্ণ কোরআন স্টাডি করেছি,এমন কোনো তথ্য আজও পাইনি।

অন্যদিকে আপনি হিন্দু সাধুদের অবস্থা দেখুন।হিন্দু ধর্মের বেশিরভাগ সাধুদের ধর্মীয়জ্ঞান নেই।অশিক্ষিত, গেরুয়া বসন পরিধানকারী, চিমটাধারী সংসারত্যাগী, ল্যাংটা, শ্মশানে বসবাসকারী। যাদের সঙ্গে কিছু বিধবা নারী কদুর বস হাতে নিয়ে শ্মশানে একত্রে বসবাস করে। কলকাতার কালী মন্দিরের চেহারা তো আরো ভয়ঙ্কর। সেখানের সাধুরা মেয়েদের ন্যায় মাথায় লম্বা চুল রাখে আর সমস্ত শরীরে ছাই মেখে উলঙ্গ হয়ে পড়ে থাকে।সকল হিন্দুরা এসে তাদের কাছ থেকে আর্শীবাদ নিতে আসে।

এসব আমার কাছে পছন্দ হয়নি,বরং এটা সম্পুর্ণ একটা কুসংস্কার, ভ্রান্ত,পথভ্রষ্ট হওয়ার একটা সহজ মাধ্যম। এগুলা দেখে ইসলাম গ্রহণ করেছি। আলহামদুলিল্লাহ
তথ্যসূত্রঃ- সত্যের ডাক
পৃষ্ঠা নং-৬৪

হিন্দু দাদারা যারা ভুলের মাধ্যমে পড়ে আছেন,আশাকরি আপনারাও এসব কুসংস্কার পরিত্যাগ করে ইসলামের ছায়াতলে আসবেন।
( কপি পোস্ট)

**আলেমদের পেৎনা **

জরুরী কিছু কথা।
(সবাই পড়বেন)

পড়ে বুঝে শুনে কমেন্ট জ্ঞানীরাই করেন!

ডাক্তারদের মাঝে যেমন বিভিন্ন ক্যাটাগরি রয়েছে। কেউ মেডিসিন বিশেষজ্ঞ, কেউ সার্জন, কেউ স্পেশালিট, কেউ অন্যকিছু।

তেমনি আলেমদের মাঝেও বিভিন্ন ক্যাটাগরি রয়েছে। কেউ শুধু মাওলানা, কেউ মুফতী,কেউ মুহাদ্দিস, কেউ মুফাসসির,কেউ ক্বারী।

মেডিসিন বিশেষজ্ঞ কোন ডাক্তার যদি সার্জনের কাজ শুরু করে দেয় রোগীর কি অবস্থা হবে? ডেন্টাল স্পেশালিস্ট যদি হার্ট সার্জারী করা শুরু করে রোগী কি বাঁচবে?

ঠিক সেইম অবস্থা হচ্ছে বর্তমানে, এক বিষয়ের স্পেশালিস্ট আলেম অন্যবিষয়ে সমাধান দিচ্ছেন। মুফাসসির মুফতীর কাজ করা শুরু করছেন। ক্বারী মুহাদ্দিসের কাজ করা শুরু করেছেন।

ফলে কী হল? সারাদেশে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হল। মানুষ নানা দলে বিভক্ত হল। একবক্তা আরেক বক্তাকে জুতা দেখাল। এক ভক্ত আরেক ভক্তের চৌদ্দগুষ্ঠী উদ্ধার করল।

আসলে মূল সমস্যাটা কোথায়? ফিকহী মতবিরোধ তো আগেও ছিল কিন্তু এই অবস্থা কেন সৃষ্টি হল। তার কারণ বুঝতে চারজন বিখ্যাত ব্যক্তির উপমা তুলে ধরলাম।

১. মাওলানা তারিক জামিল হাফিযাহুল্লাহ. বর্তমান সময়ে সারাবিশ্বে আলোড়ন সৃষ্টিকারী বিখ্যাত আলেম। তার তুলনা তিনি নিজেই। তবে তিনি হচ্ছেন দাওয়াহ স্পেশালিস্ট। তাই মাসআলা বলা, ফতওয়া দেয়া এসব তিনি কৌশলে এড়িয়ে চলেন। এজন্য সারাবিশ্বে তাকে নিয়ে কোন বিতর্ক নেই।। তার কোন হেটার্স নেই। কারণ তিনি তার গন্ডির বাহিরে গিয়ে কখনোই আলোচনা করেন না।

২. ড. জাকির নায়েক হাফি. সারাবিশ্বে আলোড়ন সৃষ্টিকারী আরেক বিখ্যাত ব্যক্তিত্ব। তিনি তুলনামূলক ধর্মত্বত্ত্বে স্পেশালিষ্ট। এ বিষয়ে তিনি সেরাদের অন্যতম। এটা সব আলেমগণই স্বীকার করেন। কিন্তু তাকে নিয়ে সারা বিশ্বে বিতর্ক রয়েছে। বিভিন্ন দেশের বিজ্ঞ আলেমগণ তার গবেষণা মাঝে বহু ভুলত্রুটি খুঁজে পেয়েছেন। কেন? হিংসায়? নাহ,
তিনি যখন ধর্মতত্ত্বের লেকচার দিতেন,ডিবেট করে বিভিন্ন অমুসলিম পণ্ডিতদের হারিয়ে দিতেন তখন সব দেশের বিজ্ঞ আলেমগণ তাকে সাপোর্ট করত। কিন্তু তিনি যখন নিজের গন্ডির বাহিরে গিয়ে ফিকাহ ও ফতওয়া নিয়ে লেকচার দিতে শুরু করেছেন। তখন আলেমগন তার সমালোচনা শুরু করলেন, তার ভুলগুলো তুলে ধরলেন। কেননা তিনি উক্ত বিষয়ে স্পেশালিস্ট ছিলেন না।

৩. মাওলানা দেলাওয়ার হুসাইন সাইদী হাফি. বাংলাদেশের ইতিহাসে বিখ্যাত একজন মুফাসসীর। তিনি ছিলেন তাফসীর স্পেশালিস্ট। এজন্য তিনিও মাসআলা বলা, ফতওয়া দেয়া এসব কৌশলে এড়িয়ে চলতেন। তাই এখনো বাংলার যমীনে তিনি সর্বজনপ্রিয়। মুফাসসীর হিসেবে তাকে নিয়ে কোন বিতর্ক নেই। কারণ তিনি নিজের গন্ডির বাহিরে গিয়ে কিছু বলতেন না।

৪. মাওলানা মিজানুর রহমান আজহারী হাফি. সময়ের আরেক আলোচিত নাম। আল্লাহ তাকে চমৎকার প্রেজেন্টেশনের গুণ দান করেছেন। তিনিও তাফসীর স্পেশালিস্ট। মিশরের জামিয়া আল আজহার থেকে এ ডিগ্রি নিয়েছেন। কিন্তু তিনি ক্ষণে ক্ষণে বিতর্কিত হচ্ছেন। বিজ্ঞ আলেমগণ তার আলোচনায় বহু ভুল খুঁজে পাচ্ছেন। কেন? হিংসায়? ব্যবসা লাটে উঠেছে বলে? নাহ। তিনি যখন নিজের গন্ডির মধ্যে সীমাবদ্ধ থেকে আলোচনা করতেন। বিজ্ঞ আলেমগণ তাকে আল্লাহর বিশেষ নেয়ামত মনে করতেন। কিন্তু তিনি যখন নিজের গন্ডি ভুলে ফিকাহ ও ফতওয়া বিষয়েও সমাধান দেওয়া শুরু করলেন তখনই বিজ্ঞ আলেমগণ তার সমালোচনা শুরু করলেন। তার ভুলগুলো তুলে ধরলেন। কেননা তিনি উক্ত বিষয়ে স্পেশালিস্ট নন।

আশা করি ক্লিয়ার বুঝতে পেরেছেন মূল সমস্যাটা কোথায়।

সুতরাং আপনার যখন মেডিসিন (দাওয়াহ/দ্বীনি অনুপ্রেরণা ) এর প্রয়োজন হবে অভিজ্ঞ মেডিসিন স্পেশালিস্ট (মুফাসসীর) এর কাছে যাবেন। তার প্রেসক্রিপশন (ওয়াজ) মোতাবেক আমল করবেন।

আর যখন অপারেশন (ফতওয়া/হারাম- হালাল,জায়েজ – নাজায়েজ প্রশ্নের উত্তর ) এর প্রয়োজন হবে তখন অভিজ্ঞ সার্জন ( মুফতী) এর কাছে যাবেন। তার সার্জারী (ফতওয়া ) মতো আমল করবেন। এটাই সুস্থ বিবেকের দাবী।

তারপরও কেউ অন্ধভক্তি দেখালে সেটা তার ব্যক্তিগত ব্যাপার। আমার কিছু বলার নেই। কেননা, কুরআনে এ ধরণের ব্যক্তিকেই সালাম বলে ইগনোর করতে বলা হয়েছে।
(সংগৃহীত )

****সাগুদানা ***

সাগুদানার সাথে কমবেশি সবাই পরিচিত। অনেকে ভাবেন এটা কি গাছের ফল? নাকি ফলের বিচি? এই প্রশ্ন ছোটকালে আমারও ছিল, অনেক জনকে বিরক্ত করেছি। মূলত সাগুদানা ফল, ফুল, বিচি কোনটা থেকেই আসেনা! এর উৎপত্তি মূলত এক প্রকার তাল গাছের মজ্জা থেকেই। সাগুদানাকে ইংরেজিতে Sago pearls বা “মুক্তো সাগু” বলা হয়। কোন কিছুর সাথে মিশালে এটা আলাদা হয়ে থাকে এবং মুক্তোর মত চিক চিক করে বলে বলেই এমন নামের উৎপত্তি। খাদ্য সামগ্রীকে লোভনীয় ও আকর্ষণীয় করার গুনের কারণে সাগু দানা সারা বিশ্বে সমাদৃত। এর বৈজ্ঞানিক নাম Metroxylon sagu. এই Metro শব্দটি গ্রীক থেকে এসেছে। যার অর্থ “বৃক্ষ অভ্যন্তরের নরম অংশ”। নামের সাথে সাগুর উৎপত্তির মিল আছে। সে হিসেবে ‘সাগু’ শব্দটি বাংলা নয়। বিদেশী শব্দ। দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার দেশ যথাক্রমে, ইন্দোনেশিয়া, নিউ গিনি, পাপুয়া নিউ গিনি, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, সুমাত্রা অঞ্চলে জন্মে থাকে।

এই গাছটি দেখতে আমাদের দেশের তাল ও সুপারী গাছের মাঝামাঝি ধরনের একটি গাছ। লম্বায় ২৫ মিটার তথা ৫৫ হাত পর্যন্ত উঁচু হতে পারে। এই গাছে জীবনে মাত্র একবার ফুল আসে। ফুল আসার পরে গাছটি মারা যায়। স্বাস্থ্য-ভেদে একটি গাছ ৭ থেকে ১৫ বছরের মধ্যে ফুল দেয়। যখন ফুল আসার সম্ভাবনা দেখা দেয়, তখন গাছটিকে কেটে ফেলতে হয়। সাধারণত তাল প্রজাতির গাছগুলোর ভিতরের অংশ মাংসল, নরম ও আঁশযুক্ত। সাগু গাছেরও একই চরিত্র। তবে সাগুর গাছের ভিতরের অংশ মাংসল অংশ নরম ও আঁশযুক্ত। গাছ কাটার পরে এটাকে ছিঁড়ে মাংসল অংশ পানিতে ভিজিয়ে রেখে কিংবা পানি দিয়ে কচলালে এটার মাংস আশ থেকে আলাদা হয়ে যায়। এই মাংস আটার গুড়োর মত সাদা ও মিহি হয়। পানিতে ভিজালে ভুট্টার কাইয়ের মত আঠালো দেখায়। মূলত এটাই সাগুর মূল কাঁচা মাল। পরবর্তীতে মেশিনের সাহায্যে নির্দিষ্ট আকৃতি দিয়ে সাগু দানায় পরিণত করা হয়। একটি সাগু গাছ থেকে ১৫০ থেকে ৩৫০ কেজি পর্যন্ত সাগু গুড়ো পাওয়া যায়।

সাগু খুবই উপকারী একটি ভেষজ। এটি খুব সহজেই হজম হয় ও দ্রুত শরীরে শক্তি যোগায়। যার কারণে অসুস্থ মানুষকে এটা বেশী মাত্রায় খাওয়ানো হয়। এটি পেশী সংকোচনে দারুণ সহায়ক ভূমিকা পালন করে। যার কারণে ফোঁড়া পাকানোতে এটার ব্যবহার লক্ষণীয়। শরীরে পানির ভারসাম্য রক্ষা করে, অর্থাৎ এটা নিজেই শরীরের ভিতরে পানি ধরে রাখে, তাই ডাইরিয়া রোগীদের জন্য ডাক্তারেরা পরামর্শ দেয়। এটাতে চর্বির পরিমাণ খুবই কম থাকায় হার্টের রোগীদের জন্য ভালো একটি খাবার। কোষ্ঠকাঠিন্য দুর করার জন্য সাগু খুবই উপকারী।

সাগুর নির্দিষ্ট কোন স্বাদ নেই। তাই এটাকে যার সাথে যোগ করা হয়, তারই স্বাদ গ্রহণ করে। ফলে আইসক্রিম, শরবত, পুডিং, চা সহ নানাবিধ মিষ্টান্ন দ্রব্যে এটার ব্যবহার দিন দিন বেড়েই চলছে। তাছাড়া এটাকে কিছুক্ষণ পানিতে ভিজিয়ে রাখলে তার শরীর থেকে পাতলা ঝিল্লী বের হয়। যেটা তাকে আলাদা বিশেষত্ব দান করে। কফির তরলে রাখলে কফির বর্ণটাকে চিকমিকিয়ে আরো সুন্দর করে তোলে! সেভাবে আইসক্রিমেও একই আচরণ করে। এটার বর্ণ স্বচ্ছ-সাদা এবং চরিত্র কিছুটা তোকমার মত। তোকমার বর্ণ কালো গায়ে ঝিল্লি তৈরি হয়। আজকাল এই দুটোকে দিয়ে ভিন্ন মাত্রার নান্দনিক সব খাবার উপকরণ তৈরি হয়।

***রোজাদারের দোয়া ***

হৃদয়ে ঝরুক মাগফিরাতের বৃষ্টি

আল্লাহ যদি নারাজ হন আমরা যাব কই? রোজা রেখে খোদার কাছে সিজদা দিয়ে রই। রহমতের দশক শেষ হয়ে আজ থেকে শুরু হয়েছে মাগফিরাতের দশক। মাগফিরাত মানে ক্ষমা। গেল দশটি দিন পৃথিবীবাসীর ওপর অঝোর ধারায় রহমতের বৃষ্টি ঝরেছে। এখন ঝরছে ক্ষমার বৃষ্টি। মূলত সৃষ্টিরাজি প্রভুর রহমতের চাদরে ঢাকা।

তাই মাহে রমজানের প্রথম দশ দিন প্রভুর বিশেষ রহমত বর্ষিত হয়। পৃথিবীবাসী এ দশ দিনের জন্য দীর্ঘ একটি বছর মুখিয়ে থাকেন। এ দশ দিনের রহমতের অঝোর ধারার একটি ফোঁটাও যদি কোনো মানুষ জীবনে ধারণ করতে পারে, তাহলে দুনিয়া আখেরাতে সে সফল হয়ে গেল।

বহু মানুষ গত রোজায় বেঁচে ছিল, এ রোজায় নেই। এমনকি রোজার আগেও অনেকে দুনিয়া থেকে চিরদিনের ঠিকানা আখিরাতে পাড়ি জমিয়েছেন। তাদের আমলের খাতাটি বন্ধ হয়ে গেছে। চাইলেও তারা এখন আর একটি নেক আমলও যোগ করতে পারবে না। আল্লাহর দরবারে কোটি কোটি শুকরিয়া, তিনি আমাদের এখনও সুস্থভাবে বাঁচিয়ে রেখেছেন, রোজা রাখার তৌফিক দিচ্ছেন।

গত বছর যারা রোজা পেয়েছিল কিন্তু আজ পৃথিবীর বুকে নেই, তাদের অনেকেই রমজানের সোনালি মুহূর্তগুলো পেয়েও হেলায় নষ্ট করেছে। তারা ভেবেছিল, জীবন অনেক বড়। মৃত্যু বহু দূরে। আরও অনেক সময় তাদের জন্য অপেক্ষা করছে। কিন্তু না, আচমকাই মৃত্যুর গাড়ি তাদের পরকালের বাড়ি নিয়ে গেছে। হাদিস শরিফে এ ধরনের মানুষকে হতভাগ্য মানুষ বলা হয়েছে।

আমরা যারা এখনও বেঁচে আছি কিন্তু প্রভুর বিশেষ রহমতের বৃষ্টি থেকে একটি ফোঁটাও বরাদ্দ করাতে পারিনি, অবহেলায় মূল্যবান মুহূর্তগুলো নষ্ট করেছি, আর ভেবেছি আগামী থেকে ঠিক হয়ে যাব, তাদের অনেকের জীবনেই আর আগামী রমজান আসবে না। যে রহমতের জন্য সৃষ্টিকুল বছরব্যাপী অপেক্ষায় থাকে, সে রহমত গতকাল শেষ হয়ে গেল, কিন্তু আমাদের যারা ভিজতে পারল না, তাদের চেয়ে বড় দুর্ভাগা আর কেউ নেই।

তবে যারা অনুতপ্ত, যারা রহমত হারিয়ে এখন কাতর, তাদের জন্য হতাশার কিছু নেই। গতকাল সন্ধ্যা থেকেই প্রভুর মাগফিরাতের বৃষ্টি শুরু হয়েছে। আমরা রহমতের বৃষ্টি পাইনি, যদি মাগফিরাতের অঝোর বর্ষণ থেকে একটি ফোঁটাও জীবনে ধারণ করতে পারি, জীবনের গোনাহর কথা স্মরণ করে এক ফোঁটা চোখের পানিও প্রভুর কদমে পেশ করতে পারি, তাহলে আশা করা যায়, আমরা এ দশকে সফল হব।

হে আল্লাহ, আমরা বড় অপরাধী। আমাদের গোনাহের কারণেই তোমার আজাব করোনা মহামারী পৃথিবীর বুকে নেমে এসেছে। হে আল্লাহ, তুমি আমাদের ক্ষমা করে দাও। তুমি পৃথিবীকে মহামারীমুক্ত করে শান্তিমতো তোমাকে ডাকার সুযোগ করে দাও। আমরা যেন তোমার কথামতো তোমার নবীর বাতলানো পথে জীবনযাপন করতে পারি।

লেখক : মোঃইমরান খাঁন

আল্লাহর

***দাব্বাতুল আরদ:***

দাব্বাতুল আরদ: কেয়ামতের অন্যতম বড় আলামত

এই আখেরী জামানায় কেয়ামতের নিকটবর্তী সময়ে জমিন থেকে দাব্বাতুল আরদ নামক এক অদ্ভুত জন্তু বের হবে। জন্তুটি মানুষের সঙ্গে কথা বলবে। এটি হবে কেয়ামতের নিকটবর্তী হওয়ার অন্যতম সর্বশেষ ভয়াবহ আলামত।
পশ্চিম আকাশে সূর্য উদিত হওয়ার পর তাওবার দরজা বন্ধ হয়ে গেলে এটি বের হবে। সহিহ হাদিস থেকে জানা যায় যে, পশ্চিম আকাশে সূর্য উঠার কিছুক্ষণ পরই জমিন থেকে এই অদ্ভুত জানোয়ারটি বের হবে। তাওবার দরজা যে একেবারে বন্ধ হয়ে গেছে- এ কথাটিকে চূড়ান্তভাবে প্রমাণ করার জন্য সে মুমিনদেরকে কাফির থেকে নির্দিষ্ট চিন্হের মাধ্যমে আলাদা করে ফেলবে। মু‘মিনের কপালে লিখে দেবে ‘মুমিন’ এবং কাফিরের কপালে লিখে দেবে ‘কাফির’। এ ব্যাপারে কোরআন থেকে যা জানা যায়-

পবিত্র কোরআনুল কারিমে সূরা আন নামলের ৮২ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তায়ালা বলেন,

وَإِذَا وَقَعَ الْقَوْلُ عَلَيْهِمْ أَخْرَجْنَا لَهُمْ دَابَّةً مِّنَ الْأَرْضِ تُكَلِّمُهُمْ أَنَّ النَّاسَ كَانُوا بِآيَاتِنَا لَا يُوقِنُونَ

‘যখন প্রতিশ্রুতি (কেয়ামত) সমাগত হবে, তখন আমি তাদের সামনে ভূগর্ভ থেকে একটি জীব নির্গত করব। সে মানুষের সঙ্গে কথা বলবে। এ কারণে যে মানুষ আমার নিদর্শনসমূহে বিশ্বাস করত না।’ (সূরা: নামল, আয়াত: ৮২)।

প্রাণীটির কাজ কি হবে এবং কি বিষয়ে মানুষের সঙ্গে কথা বলবে-এ ব্যাপারে আল্লামা আলূসী বলেন, আয়াতে উল্লেখিত কোরআনের বাণীটিই হবে তার কথা।

অর্থাৎ- أَنَّ النَّاسَ كَانُوا بِآيَاتِنَا لَا يُوقِنُونَ

এই বাক্যটি সে মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে মানুষকে শুনাবে। মর্ম এই যে, আজকের পূর্বে অনেক মানুষই মহান আল্লাহর আয়াত ও নিদর্শনসমূহে বিশ্বাস করেনি। বিশেষ করে কেয়ামতের আলামত ও তা সংঘটিত হওয়ার বিষয়ে এমনকি আমার আগমনের বিষয়েও অনেক মানুষ বিশ্বাসকরত না। এখন সে সময় এস গেছে এবং আমিও বের হয়ে এসেছি।

দাব্বাতুলআরদেরপরিচয়ঃ

আরবিতে ‘দাব্বাতুন’ শব্দের অর্থ হচ্ছে জন্তু বা প্রাণী, যা জমিনে পা ফেলে চলাচল করে। আর ‘আরদ’ অর্থ হচ্ছে ভূমি, ভূপৃষ্ঠ বা ভূগর্ভ। কেয়ামতের আগে পৃথিবীর ভূপৃষ্ঠ থেকে অদ্ভুত ধরনের একটি প্রাণী বের হবে এবং পুরো পৃথিবীতে বিচরণ করবে। এটিকে কেয়ামতের বড় আলামতের একটি গণ্য করা হয়। হাদিসে এসেছে, হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘ওই সময় আসার আগ পর্যন্ত কেয়ামত কায়েম হবে না, যতদিন না পশ্চিম দিক থেকে সূর্যোদয়ের ঘটনা সংঘটিত হবে। পশ্চিম দিক থেকে সূর্যোদয়ের ঘটনা ঘটার পর মানুষ দাব্বাতুল আরদ দেখতে পাবে।’ (বুখারি : ৪৬৩৬; মুসলিম : ১৫৭)।

‘দাব্বাতুল আরদ’ প্রাণীটির নাম নয় বরং অদ্ভুত প্রাণীটির প্রসঙ্গে কোরআনে ব্যবহৃত শব্দ, যার অর্থ ‘ভূগর্ভস্থ প্রাণী’। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘যখন প্রতিশ্রুতি (কেয়ামত) সমাগত হবে, তখন আমি তাদের সামনে ভূগর্ভ থেকে একটি প্রাণী বের করব। সে মানুষের সঙ্গে কথা বলবে।’ (সুরা নামল : ৮২)

ইবনু কাসীর বলেন, আখেরী জামানায় মানুষ যখন নানা পাপাচারে লিপ্ত হবে, মহান আল্লাহর আদেশ পালন বর্জন করবে এবং দ্বীনকে পরিবর্তন করবে তখন আল্লাহ তায়ালা তাদের সামনে এই জন্তুটি বের করবেন।’ (তাফসীরে ইবনু কাসীর-৩/৩৫১)।

ইবনু আব্বাস (রা.) বলেন, ‘জন্তুটি মানুষের মতই কথা বলবে।’(পূর্বোক্ত উৎস)।

দাব্বাতুলআরদেরআকৃতিঃ

‘দাব্বাতুল আরদ’ বা অদ্ভুত প্রাণীটির আকৃতি প্রসঙ্গে বিক্ষিপ্তভাবে বিভিন্ন হাদিসে আলোচনা এসেছে। সেসব পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, এর ভেতর অনেক প্রাণীর বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান থাকবে। অদ্ভুত এই প্রাণী কিছুটা উটের মতো হবে। পা হবে চারটি। মাথা হবে ষাঁড়ের মতো। চোখ হবে শূকরের মতো। কান হবে হাতির মতো। নাক হবে উটপাখির মতো। বুক হবে সিংহের মতো। রঙ হবে নেকড়ের মতো। কপাল হবে ভেড়ার মতো। ঘন পশমবিশিষ্ট হবে। মানুষের মতো চেহারা হবে। (ফাতহুল কাদির: ৪/১৫২; আদ-দুররুল মানসুর : ৬/৩৭৮)। সে পুরো পৃথিবীতে পরিভ্রমণ করবে এবং সব মানুষের সঙ্গে কথা বলবে। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘যখন তাদের ওপর নির্দেশ পতিত হবে (পূর্ব দিক থেকে সূর্য না উঠে পশ্চিম দিক থেকে উদিত হওয়া) তখন আমি তাদের জন্য দাব্বাতুল আরদ বের করব। সে সবার সঙ্গে কথা বলবে। সে সবার কাছে গিয়ে বলবে, ‘লোকেরা আমার নিদর্শনসমূহে বিশ্বাস করত না।’ (সুরা নামল : ৮২)।
আরও বিভিন্ন হাদিসে এসেছে, সে মানুষকে তাকওয়া, তাওয়াক্কুল, আল্লাহর ভয় প্রভৃতি বিভিন্ন সদুপদেশ দিতে থাকবে।

দাব্বাতুলআরদেরকাজঃ

সূর্য পশ্চিমে উদিত হওয়ার পর ঈমান আনয়ন ও তাওবা কবুলের দরজা যে একেবারেই বন্ধ হয়ে গেছে, এ বিষয়টি চূড়ান্ত করতে সে মুমিনদেরকে কাফের থেকে নির্দিষ্ট চিহ্নের মাধ্যমে আলাদা করে ফেলবে। রাসুল (সা.) বলেন, ‘দাব্বাতুল আরদ‌ বের হবে। তার সঙ্গে থাকবে মুসা (আ.)-এর লাঠি এবং সুলায়মান (আ.)-এর আংটি। ঈমানদারদের কপালে মুসা (আ.)-এর লাঠি দিয়ে নুরানি দাগ টেনে দিবে। ফলে তাদের চেহারা উজ্জ্বল হয়ে উঠবে। আর কাফেরদের নাকে সুলায়মান (আ.)-এর আংটি দিয়ে দাগ লাগাবে। ফলে তাদের চেহারা অনুজ্জ্বল হয়ে পড়বে। তখন অবস্থা এমন হবে যে, কোনো খাবারের টেবিল ও দস্তরখানায় কয়েকজন মানুষ বসলে প্রত্যেকেই একে অপরের ঈমান ও কুফুরির বিষয়টি স্পষ্ট দেখতে পাবে।’ (মুসনাদে আহমাদ: ৭৯২৪)। অন্য একটি হাদিসে এসেছে, হজরত আবু উমামা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেন, ‘দাব্বাতুল আরদ বের হবে এবং মানুষের নাকে চিহ্ন দিবে। তারপরও মানুষ পৃথিবীতে জীবনযাপন করবে। প্রাণীটি সকল মানুষের নাকেই দাগ লাগিয়ে দিবে। এমনকি উট ক্রয়কারীকে যদি জিজ্ঞেস করা হয় তুমি এটি কার কাছ থেকে ক্রয় করেছ? সে বলবে, ‘আমি এটি নাকে দাগ লাগানো অমুক ব্যক্তির কাছ থেকে ক্রয় করেছি।’ (মুসনাদে আহমাদ: ৩২২)।
দাব্বাতুল আরদের কাজ শেষ হওয়ার পর অদৃশ্য হয়ে যাবে।

দাব্বাতুলআরদবেরহওয়ারসময়কালঃ

কেয়ামতের বড় বড় কয়েকটি আলামত ঘটে যাওয়ার পর এক বছর জিলহজ মাসের কোরবানির ঈদের দিবাগত রাত এত দীর্ঘ হতে থাকবে যে, সফররত ব্যক্তিরা উৎকণ্ঠিত হয়ে পড়বে, শিশু-বাচ্চারা ঘুমাতে ঘুমাতে ক্লান্ত হয়ে জেগে উঠবে, গবাদি পশুরা চরণভূমিতে বের হতে ছটফট শুরু করবে, লোকেরা ভয়ে ও আতঙ্কে চিৎকার করে কান্নাকাটি ও দোয়া-তওবা করতে থাকবে। এভাবে তিন-চার দিন সময় পরিমাণ দীর্ঘ রাতের অবসান ঘটিয়ে চন্দ্রগ্রহণের মতো টিমটিমে আলো নিয়ে পশ্চিম দিক থেকে সূর্য উদিত হবে। এই নিদর্শন প্রকাশ পাওয়ার পর পৃথিবীর সব মানুষ আল্লাহর প্রতি ঈমান আনয়ন করবে এবং তাওবা করবে। কিন্তু তখন ঈমান ও তওবা আর কবুল করা হবে না। (ফাতহুল বারি : ১১/৩৫৩)। আকাশে আলো ফোটার পর মানুষ যখন বাইরে বের হবে তখন দুপুরের দিকে কাবা গৃহের পূর্ব দিকে অবস্থিত সাফা পাহাড় ভূমিকম্পে ফেটে যাবে। তখন সেখানকার জমিনের ভেতর থেকে দাব্বাতুল আরদ বের হবে। (মুসলিম : ২৯৪১)

দাব্বাতুলআরদসম্পর্কেহাদিসহতেকিছুকথাঃ

(১) সহিহ মুসলিম- এ হুযাইফাহ (রা.) হতে বর্ণিত হয়েছে। তিনি বলেন,

একদা রাসূল (সা.) আমাদের নিকট আগমন করলেন। আমরা তখন কিছু আলোচনা করছিলাম, তখন রাসূল (সা.) বলল, তোমরা কি বিষয়ে আলোচনা করছ? তারা বলল, আমরা কেয়ামতের আলামত সম্পর্কে আলোচনা করছিলাম। তিনি বললেন, যতদিন তোমরা দশটি আলামত না দেখবে ততদিন কেয়ামত হবে না।

(১ ) ধোঁয়া, (২) দাজ্জালের আগমন, (৩) ভূগর্ত থেকে নিগর্ত দাব্বাতুল/দাব্বাতুল আরদ নামক অদ্ভুত এক জানোয়ারের আগমন,(৪) পশ্চিম দিক থেকে সূর্যোদয়, (৫)‘ঈসা ইবনু মারইয়ামের আগমন,(৬) ইয়াজুয-মা‘জুযের আবর্ভাব, (৭) পূর্বে ভূমিধ্বস, (৮) পশ্চিমে ভূমিধ্বস, (৯) আরব উপদ্বীপে ভূমিধ্বস, (১০) সর্বশেষে ইয়ামান থেকে একটি আগুন বের হয়ে মানুষকে সিরিয়ার দিকে হাঁকিয়ে নেবে।

(২) রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন,

‘দাববাতুল/দাব্বাতুল আরদ নামক একটি প্রাণী বের হবে এবং মানুষের নাকে চিহ্ন দেবে। অতঃপর মানুষেরা পৃথিবীতে জীবন-যাপন করবে। প্রাণীটি সব মানুষের নাকেই দাগ লাগিয়ে দেবে। এমনকি উট ক্রয়কারীকে যদি জিজ্ঞেস করা হয় তুমি এটি কার কাছ থেকে ক্রয় করেছ? সে বলবে, আমি এটি নাকে দাগওয়ালা একজন ব্যক্তির নিকট থেকে ক্রয় করেছি।’ (মুসনাদে আহমাদ। সিলসিলায়ে সগিহ-হা: ৩২২)।

(৩) নবী (সা.) আরো বলেন,

‘দাব্বাতুল আরদ বের হবে। তার সঙ্গে থাকবে মূসা (আ.) এর লাঠি এবং সুলায়মান (আ.) এর আংটি। কাফিরের নাকে সুলায়মান (আ.) এর আংটি দিয়ে দাগ লাগাবে এবং মূসা (আ.) এর লাঠি দিয়ে মুমিনের চেহারাকে উজ্জল করে দেবে। লোকেরা খানার টেবিল ও দস্তরখানায় বসেও একে অপরকে বলবে, হে মুমিন! হে কাফির! (আহমাদ-আহমাদ শাকের সহিহ বলেছেন, হা: ৭৯২৪)।

দাব্বাতুলআরদেরপরের_অবস্থাঃ

দাব্বাতুল আরদের অন্তর্ধানের পর আল্লাহ তায়ালা ইয়েমেনের দিক থেকে রেশমের মতো মোলায়েম একটি বাতাস প্রবাহিত করবেন। যার অন্তরে সামান্য পরিমাণও ঈমান থাকবে তার শরীরে এই বাতাস স্পর্শ করবে। ফলে সব ঈমানদার ব্যক্তির ইন্তেকাল হয়ে যাবে। তারপর পৃথিবীতে কেবল নিকৃষ্ট লোকেরা থাকবে। তাদের ওপর কেয়ামত কায়েম হবে। (মুসলিম : ১১৭, ১৯২৪)।

অন্য হাদিসে এসেছে, পৃথিবীতে তখন শুধু নিকৃষ্ট আর পাপাচারী লোকেরা থাকবে। তাদের জীবনযাত্রা অত্যান্ত সুখময় হবে। পাখির মতো ক্ষিপ্রতা থাকবে তাদের। পশু-পাখির মতো স্বাধীনভাবে চলাফেরা করবে। কোনো কল্যাণকর কাজ তারা করবে না। কেউ কোনো মন্দ কাজ করলে বারণ করবে না। তখন শয়তান তাদের সামনে মানুষের আকৃতিতে এসে বলবে আমি তোমাদেরকে যা করতে বলব তোমরা কি তা করবে না? লোকেরা বলবে, তুমি আমাদেরকে কী করতে বল? তখন শয়তান তাদেরকে মূর্তিপূজার আদেশ করবে। সে যুগে মানুষের প্রাচুর্য ও সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য অনেক বৃদ্ধি পাবে। অতঃপর শিঙ্গায় ফুক দেওয়া হবে। (মুসলিম : ২৯৪০)।

অন্য একটি হাদিসে এসেছে, হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘পশ্চিমাকাশে সূর্যোদয় ও দাব্বাতুল আরদের আবির্ভাবের পর পৃথিবী আর একশ বিশ বছর অবশিষ্ট থাকবে।’ (ফাতহুল বারি : ৩৬১)।

আবার কোনো হাদিসে এসেছে, ‘পশ্চিমাকাশে সূর্যোদয় ও দাব্বাতুল আরদের আবির্ভাবের পর একশ বছর পর কেয়ামত হবে।’
অর্থাৎ মোট কথা, পশ্চিমাকাশে সূর্যোদয় ও দাব্বাতুল আরদের আবির্ভাবের পর একশ বা একশ বিশ বছর পর কেয়ামত হবে।

মোঃ ইমরান খাঁন

**গান নিয়ে কিছু কথাঃ**

🛑ইসলামে গান শোনা হারাম ।এটা শুনলে অনেকে ক্ষেপে যায়।কি রে ভাই!!!!! ইসলামে সব হারাম হারাম।
কিন্তু কেন হারাম এটা পড়ার পর কিছুটা বুঝবেন হয়তো।আল্লাহ তো আলীমুল গায়েব♥️তিনি তো জানতেন যে ভবিষ্যতে গানের দ্বারা অনেক মুসলিম শিরক করে বসবে,তাই রাসূল(সা:) হয়তো সতর্ক করেছিলেন।
আর যাই হোক,Post টা পড়ার পর গান বাদ না দিলেও কেউ আর না বুঝে বা যাচাই না করে শুনবেন না।একসময় আমারও গানের নেশা ছিল।সেই আমি ছাড়তে পারলে আপনারা কেন না?
হিন্দি গান শুনার আগে বুঝে নিয়েন একটু কি করছেন🚫🚫
সত্যি আমি আর গান শুনি না

আমরা বাংলাদেশীরা কম-বেশি সবাই হিন্দি গান শুনেছি বা শুনি।অনেকে বুঝে না বুঝে গুনগুনিয়ে সেগুলো গেয়েছিও কতবার। কিন্তু আমরা কি গাইতেছি, বা গান গাইতে গিয়ে নিজের অজান্তে কি উচ্চারণ করতেছি তা জানলে অনেকেই শিউরে উঠবেন।হয়তো আমরা সেইভাবে ভাবিও না এইসব নিয়ে।আমি গুগল থেকে কিছু গানের লিরিক্স সংগ্রহ করে অনুবাদ করেছি সকলের বোঝার সুবিধার্থে।যে গানগুলো গাওয়া আর নিজেকে মুশরিক হিসেবে ঘোষণা দেওয়া একই।
আমি এখানে জাস্ট ৫টি গান দিয়েছি।আরও কত শত গান আছে এমন যা আমরা হয়তো শুনেছি, কিন্তু এইভাবে ভেবে দেখিনি কখনও।

Dhvani Bhanushali এর এই গানটা কয়েকদিন আগে সবার মুখে মুখে ছিলোঃ
Vaaste Jaan Bhi Du
Main Gawah Emaan Bhi Du
Kismato Ka Likha Mod Du
Badle Mein Main Tere
Jo Khuda Khud Bhi De
Jannate Sach Kahu Chhod Du
অনুবাদ করলে অর্থ অনেকটা এমন দাঁড়ায়ঃ
{তোমার জন্য জীবনও দিব
ঈমানও বিসর্জন দিব
ভাগ্যের লেখাও বদলে দিব
তোমার বিনিময়ে
ঈশ্বর নিজেও যা দেন
সত্যি বলছি (তোমার জন্য)জান্নাতও ছেড়ে দিব}

নাউজুবিল্লাহ, এই গান যে একবার হলেও গেয়েছে তার তো সাথে সাথে তওবা করা উচিত।জান্নাত পাওয়ার জন্য দুনিয়ায় এসে, কি করে আপনি কাউকে ভালোবেসে জান্নাত ছেড়ে দেওয়ার কথা উচ্চারণ করতে পারেন!

Tujh Mein Rab Dikhta Hai, Yaara Mein Kya Karun
Sajde Sar Jhukta Hai, Yaara Mein Kya Karun
Rab Ne Bana Di Jodii…
অনুবাদ-
{তোমার মধ্যে রবকে দেখতে পাই , আমার কি করা উচিত!
সিজদায় মাথা নত হয়, আমার কী করা উচিত!
রব বানিয়ে দিয়েছেন এমন জুটি……}
“Rab Ne Bana Di Jodii” শাহরুখ খানের খুব হিট মুভি। তার মেইন গান এটা।
কষ্টটা তখন লাগে যখন তার মত মুসলিম একজন আর্টিস্টও এইরকম শিরক গানের সাথে হেলে দুলে নাচতে আপত্তি করেন না।

অক্ষয় কুমারের কোনো এক মুভির গানঃ
Tujhse Mohabbat Ho Gayi, Allah Maaf Kare
Tauba Qayamat Ho Gayi, Allah Maaf Kare
Dekha Tujhe Toh Saansein Ruk Gayi
Sajde Mein Yeh Aankhein Jhuk Gayi
Teri Ibaadat Ho Gayi, Allah Maaf Kare
অনুবাদঃ
{তোমার সাথে ভালোবাসা হয়ে গেছে, আল্লাহ যেন মাফ করে দেন
তওবা কিয়ামত হয়ে গেছে, আল্লাহ মাফ করেন যেন এইজন্য
তোমাকে দেখে শ্বাস বন্ধ হওয়ার উপক্রম
তোমার সেজদায় এই চোখ ঝুকে গেছে
তোমার ইবাদত হয়ে গেছে আমার দ্বারা , আল্লাহ যেন মাফ করে দেন।}
আল্লাহ তায়ালাকে ছেড়ে আপনার দৃষ্টি অন্য কারো সিজদাহ করবে,আপনি অন্য কারো ইবাদাত করবেন, আর সেটা তিনি মাফও করে দিবেন, তা কি করে হতে পারে!!

“Krish 3” নামক বিখ্যাত মুভির গানের অংশবিশেষঃ
God Allah Aur Bhagwan
Ne Banaya Ek Insaan
অনুবাদ-
{ঈশ্বর আল্লাহ অার ভগবান
মিলে বানিয়েছে এক মানুষ।}
ঈশ্বর ভগবানের মাঝে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআ’লাকে টেনে আনার কি দরকার। এই গানও প্রকাশ্য শিরক।সরাসরি মানুষ সৃষ্টিতে আল্লাহর সাথে ঈশ্বর, ভগবানকে ক্রেডিট দেওয়া তো শিকরই।

Sapna Jahan গানের অংশবিশেষঃ
Mere Dil Mein Jagah Khuda Ki Khaali Thi…
Dekha Wahan Pe Aaj Tera Chehra Hai…
Main Bhatakta Hua Sa Ek Baadal Hoon…
Jo Tere Aasmaan Pe Aake Thehra Hai…
অনুবাদ-
{আমার হৃদয়ের ভিতরে ঈশ্বরের জন্য একটি জায়গা খালি ছিল
আজ আমি সেখানে তোমার চেহারা দেখতে পাচ্ছি
আমি ঘোরাঘুরি করা একটা মেঘের মতো
যা তোমার আকাশে এসে এখনও থেমে আছে।}
ঈশ্বরের জায়গা খালি থাকে তো নাস্তিকদের। একজন মুসলিমের মুখে এই গান বেমানান।
.
.

শিরক নিয়ে কিছু কথাঃ

শিরক এমন একটি গুনাহ যা করলে ঈমান এবং পূর্বের সমস্ত আমল সম্পুর্ন নষ্ট হয়ে যায়। কিয়ামতের দিন আল্লাহ সুবাহান্তায়ালা যেকোন গুনাহ ইচ্ছা করলে ক্ষমা করে দিবেন কিন্তু শিরকের গুনাহ কস্মিনকালে ও ক্ষমা করবেন না।
আল্লাহ বলেন,,
নিসন্দেহে আল্লাহ ইচ্ছা করলে যেকোন গুনাহ ক্ষমা করে দিবেন কিন্তু শিরকের গুনাহ কখনো ক্ষমা করবেন না
(সুরা নিসা :৪৮,১১৬)

নিশ্চয় যে ব্যাক্তি আল্লাহর সাথে অংশীদার স্থির করে আল্লাহ তার জন্য জান্নাতকে হারাম করে দেন এবং জাহান্নামকে অবধারিত করে দেন (সুরা মায়িদাহ:৭২)

রাসুল্লাহ (সা) বলেছেন,,
“আমার সামনে জিব্রাঈল আবির্ভূত হলেন। তিনি বললেন, আপনি আপনার উম্মতদের সুসংবাদ দিন, যে ব্যাক্তি আল্লাহর সংগে কাউকে শরিক না করা অবস্থায় মারা যাবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। আমি বললাম, যদিও সে যিনা করে এবং যদিও সে চুরি করে থাকে? তিনি বললেন: যদিও সে যিনা করে এবং যদিও সে চুরি করে থাকে।
[সহিহ বুখারি :১২৩৭,মুসলিম:৯৪]

শিরক হচ্ছে সবচেয়ে বড় ধ্বংসত্মাক বিষয়। শত পাপ করলে ও কিয়ামতের দিন তা ক্ষমার সম্ভবনা আছে কিন্তু শিরকের পাপ ক্ষমার কোন সম্ভবনাই নেই এবং তা নিসন্দেহে জাহান্নামে নিয়ে যাবে।

তথ্যসূত্রঃ Al-Quran।The solution to humanity Page

গান আমরা শুনি বিনোদনের জন্য,মন ভালো করতে,ডিপ্রেশন দুর করতে।আদতে এই তিনটির কোনো শক্তিই গানের মধ্যে নেই।গান আল্লাহর স্মরণ থেকে মানুষকে উদাসীন,বিমুখ করে রাখে।নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বাদ্যের আওয়াজ শুনলে কানে আঙুল ঢুকিয়ে রাখতেন।
শায়খুল ইসলাম ইমাম ইবনু তাইমিয়্যাহ্ রাহিমাহুল্লাহ বলেন, ‘‘গান হচ্ছে অন্তরের মদ।’’ [মাজমু‘উ ফাতাওয়া: ১০/৪১৭]
তাঁরই সুযোগ্য ছাত্র হাফিয ইবনুল কায়্যিম রাহিমাহুল্লাহ্ বলেন, ‘‘কোনো বান্দার অন্তরে কোনো অবস্থাতেই গানের মহব্বত এবং কোরআনের মহব্বত একত্র হতে পারে না।’’ [ইগাসাতুল লাহফান]
ইয়া আল্লাহ আমাদের সকলকে শিরক থেকে বাঁচার তৌফিক দান করুন।কষ্ট করে পড়ার জন্য জাযাকাল্লাহু খইরন।ভূল-ত্রুটি ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।

ইসলামের পথে

ডলার ও কাগুজে মুদ্রাব্যবস্থা :

ডলার ও কাগুজে মুদ্রাব্যবস্থা : ধোঁকাপূর্ণ অর্থনীতির ভয়ংকর এক জাল

সুইস ব্যাংকে আপনি দশ মিলিয়ন ডলার জমা করে রেখেছেন। কিংবা আপনার হাতে আছে একটি ক্রেডিট কার্ড, যা দিয়ে যেকোনো সুপার শপ থেকে যেকোনো সময় আপনি ইচ্ছেমতো পণ্য ক্রয় করতে পারেন। আপনি নিজেকে অনেক ধনী ভাবছেন। ভবিষ্যৎ-সংকটে এটাকে শক্তিশালী রিজার্ভ মনে করছেন। ক্রেডিট কার্ড নিয়ে অনেক ফুরফুরে মেজাজে আছেন। নিশ্চিন্তে রঙিন জীবনের প্ল্যান সাজিয়ে চলছেন। কিন্তু হায়, যদি জানতেন যে, আপনি কত বড় ভুলের মধ্যে আছেন! শুধু ভুলই নয়; এ যে এক মহাভুল! দুঃসময়ে যে মহাভুলের মাশুল গোনারও সুযোগটুকু পাবেন না। আপনার এ দশ মিলিয়ন ডলার যেকোনো মুহূর্তেই গায়েব হয়ে যেতে পারে। হয়ে যেতে পারে সব হঠাৎ করেই মূল্যহীন কিছু কাগজ। কোনো এক সকালে ঘুম থেকে উঠে শুনবেন, আপনার জীবনের সঞ্চিত সব ডলার আজ থেকে কেবলই কাগজের কিছু টুকরো। জি হ্যাঁ, কেবলই কাগজের টুকরো; বরং তার চাইতেও মূল্যহীন। আপনার বিশ্বাস হচ্ছে না, তাই তো! পাগল ভাবছেন? জি না, আমি ভুল বলছি না, পাগলামিও করছি না। আপনাকে শোনাচ্ছি আমি আশু বিপর্যয়ের এমন কিছু তিক্ত সত্য, যে ব্যাপারে অধিকাংশ মানুষই উদাসীন।

পৃথিবীতে মজুত সমুদয় স্বর্ণের বিরাট একটি অংশই আজ আমেরিকার হাতে। পৃথিবীতে সর্বাধিক স্বর্ণের মালিক আমেরিকার হাতে রয়েছে ৮১৩৪ টন স্বর্ণ। দ্বিতীয় সর্বাধিক স্বর্ণের দেশ জার্মানির হাতে রয়েছে ৩৩৬৭ টন স্বর্ণ। এরপর ইতালির কাছে রয়েছে ২৪৫২ টন, এরপর ফ্রান্সের কাছে ২৪৩৬ টন, এরপর রাশিয়ার কাছে ২২১৯ টন, এরপর চীনের কাছে ১৯৩৭ টন, এরপর সুইজারল্যান্ডের কাছে ১০৪০ টন, এরপর জাপানের কাছে ৭৬৫ টন, এরপর ভারতের কাছে ৬১৮ টন, এরপর নেদারল্যান্ডের কাছে ৬১৩ টন। দেখা যাচ্ছে, স্বর্ণ মজুতের তালিকায় বিশ্বের প্রথম দশটি রাষ্ট্রের মধ্যে কেবল আমেরিকার হাতেই রয়েছে এক তৃতীয়াংশের বেশি স্বর্ণ। এত স্বর্ণ সে পেল কোথায়? নিজেরা স্বর্ণ তৈরি করেছে? নিজ দেশের খনি থেকে স্বর্ণ উত্তোলন করেছে? জি না; বরং সে লুট করেছে। বলা যায়, এক প্রকারের ডাকাতি করেছে। বিশ্বকে ডলার নামে কিছু কাগজের টুকরো দিয়ে বিনিময়ে তারা স্বর্ণ গ্রহণ করে নিজ দেশে গড়ে তুলেছে স্বর্ণের বৃহৎ মজুত। কিন্তু কীভাবে সে বিশ্বকে বোকা বানিয়ে এটা চালু করল? সে এক ভিন্ন ইতিহাস। পরে কখনো সুযোগ হলে এটা নিয়েও আলোচনা করব, ইনশাআল্লাহ।

আপনি কি জানেন, ডলারের পিছনে বিশ্বের রথী-মহারথীদের সুদূরপ্রসারী কী ভয়ংকর ষড়যন্ত্র লুকিয়ে রয়েছে? আজকের পোস্টে শুধু সতর্ক করা উদ্দেশ্য, দীর্ঘ আলোচনার অবকাশ নেই। সংক্ষেপে এতটুকু জেনে নেওয়াই যথেষ্ট যে, নানা দেশে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ করা সত্ত্বেও আমেরিকা আজ পর্যন্ত যতটুকু টিকে আছে, তা শুধু এ ধোঁকাপূর্ণ ডলারব্যবস্থার কারণেই। যদিও ইদানিং তাদের অর্থব্যবস্থায় বড় ধরনের ধস নামতে যাচ্ছে। পৃথিবীর ইতিহাসে আজ পর্যন্ত বিশ্বকে বোকা বানানোর যতগুলো কৌশল অবলম্বন করা হয়েছে, তন্মধ্যে ডলারভিত্তিক এ মুদ্রাব্যবস্থার প্রচলনটা ছিল সবচেয়ে ভয়ানক, সূক্ষ্ম ও ক্ষতিকর। আজ যদিও বিশ্বের অনেক দেশ ধোঁকাপূর্ণ এ ব্যবস্থার বিষয়টি বুঝতে পারছে, কিন্তু ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেছে। রাশিয়া, চীন, ইন্ডিয়াসহ এ মুহূর্তে সবাই গোল্ড জমা করার চেষ্টায় নেমেছে। আর জনগণ যেন এ ব্যাপারে সতর্ক ও সজাগ হওয়ার অবকাশ না পায়, তারা যেন গোল্ডের পিছনে না ছোটে, সেজন্য দাজ্জালি মিডিয়াগুলো বিভিন্নভাবে গোল্ড কিনতে অনুৎসাহিত করছে এবং রাষ্ট্রীয়ভাবেও এর ওপর বিভিন্ন বিধিনিষেধ আরোপ করা হচ্ছে।

আমেরিকা আজ ডলারকে বাতিল ঘোষণা করে গোল্ড সিস্টেম মুদ্রা চালু করলে আমি আপনি সবাই হয়ে পড়ব কর্পদহীন পথের ফকির। আপনার দশ মিলিয়ন ডলার দিয়ে শুধু ঘরের দেয়ালটাই সাজাতে পারবেন, আর কিছু নয়। এ আশঙ্কা এতদিন হালকাভাবে দেখা হলেও বর্তমান বিশ্বের নানা প্রেক্ষাপটে এটা এখন ভয়ংকর এক বাস্তবতা হয়ে দেখা দিচ্ছে। বেশিদিন আগের কথা নয়, যখন সাদ্দাম হোসেনের সরকার পতনের পর নতুন দিনার ইস্যু করা হলো, তখন পুরাতন সব দিনার হয়ে গেল একেবারে মূল্যহীন। মানুষ তাদের দিনারের নোটগুলো রাস্তায় ফেলে দিল। এক টুকরো সাদা কাগজের মূল্যও ছিল না সেগুলোর! কারণ, ওই দিনারগুলো দিয়ে আর কোনো লেনদেন করার সুযোগ ছিল না। অনুরূপ করোনা-পরবর্তী বৈশ্বিক বিপর্যয় ও অর্থনৈতিক নানা সমস্যার কারনে এদেশের অর্থব্যবস্থায়ও পরিবর্তন আসতে পারে। আর সেটা হলে আপনিও কিন্তু বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হবেন। আপনার টাকাগুলো যেকোনো মুহূর্তে মূল্যহীন হয়ে যেতে পারে; যেমনটি ভারতে একবার ঘটেছিল। আর ব্যাংক যদি দেউলিয়া ঘোষণা করা হয়, তাহলে আপনার সারাজীবনের কষ্টার্জিত সঞ্চয়ের কী অবস্থা হবে, তা কি কখনো ভেবে দেখেছেন?

আমাদের পর্যবেক্ষণ অনুসারে শীঘ্রই হয়তো কাগজের মুদ্রাব্যবস্থা ধ্বংস হয়ে যাবে। আর এটার সূচনা হতে পারে আন্তর্জাতিকভাবে ডলারভিত্তিক লেনদেন বাতিল হওয়ার মধ্য দিয়ে। বিভিন্ন ঘটনাবলী ও নিদর্শন থেকে অনুমেয় হচ্ছে, অচিরেই হয়তো বৃহৎ শক্তিগুলোর মাঝে যুদ্ধ শুরু হবে। হাদিসে বর্ণিত মালহামা বা রক্তক্ষয়ী মহাযুদ্ধের কালও সন্নিকটে মনে হচ্ছে। করোনা-পরবর্তী বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও যে বড় ধরনের পরিবর্তন আসছে, এ ব্যাপারে কারও সন্দেহের অবকাশ নেই। এছাড়াও বিভিন্ন দুর্যোগ, ভূমিকম্প, সিস্টেম ক্রাশ বা বিদ্যুৎ ও নেটব্যবস্থা নষ্ট হয়ে গেলে ব্যাংকে রাখা টাকাগুলো যে সব জলে যাবে, সেটাও সুনিশ্চিত। এগুলো শুধু সম্ভাবনার কথাই বলছি না; বাস্তবেই ঘটতে পারে বলে এ ব্যাপারে অনেক বিশেষজ্ঞ ও গবেষক কঠিনভাবে সতর্ক করেছেন। সবগুলো বিষয় সামনে রাখলে বিবেকবান মাত্রই উপলব্ধি করতে সক্ষম হবেন যে, ব্যাংকে কাগুজে টাকা রাখা ও এর ওপর নির্ভর করে বসে থাকাটা কত বড় বোকামি! বুঝতেই পারছেন, ফালতু এই কাগুজে মুদ্রাব্যবস্থার কারণে আমরা কতটা রিস্কের মধ্যে আছি!? এটা ঠিক যে, জঘন্য এ ডলারব্যবস্থা বা কাগুজে মুদ্রা আমরা এখন ইচ্ছে করলেও পরিবর্তন করতে পারব না। তবে আমরা সবাই সচেতন হয়ে কমপক্ষে নিজে বা নিজের ঘনিষ্ঠদের তো সর্তক করতে পারি।

শীঘ্রই দাজ্জালের আবির্ভাব ঘটতে যাচ্ছে। সে পৃথিবীর সব সম্পদ নিজ হাতে নিয়ে নেবে। তখন মুসলমানদের জন্য সবচেয়ে বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়াবে হবে খাদ্য ও পানির সংকট। প্রস্তুতিহীন দুর্বল ইমানদাররা ক্ষুধার তাড়নায় অস্থির হয়ে দাজ্জালকে নিজেদের ইলাহ ও রব হিসেবে মেনে নেবে। অথচ তারা যদি আগ থেকেই এ ব্যাপারে সচেতন থাকত, হাদিসের নির্দেশনা অনুযায়ী নিজের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করে রাখত, তাহলে সে কঠিন মুহূর্তে তাকে ইমান হারাতে হতো না। তাই এখনই সঠিকভাবে আর্থিক পরিকল্পনা করে রাখুন। মনে রাখবেন, দেশের সরকার বহাল থাকুক বা না থাকুক, আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতে পরিবর্তন আসুক বা না আসুক, মুদ্রাব্যবস্থা ভেঙে পড়ুক বা না পড়ুক, সর্বাবস্থায় আপনার স্বর্ণ, রূপা ও ভোগ্য পণ্যসমূহের মূল্য কখনোই পরিবর্তন হবে না। কারণ, এগুলোর নিজস্ব মূল্য (সেলফ ভ্যালু) ও উপযোগ আছে। কেউ চাইলেও তা বাতিল করতে পারবে না।

মুদ্রার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো, এটার নিজস্ব মূল্য বা তার উপযোগ থাকতে হবে এবং তা কখনো মূল্যহীন বস্তু (যেমন, কাগজ) হতে পারবে না। স্বর্ণ-রূপা এমন দুটি পদার্থ, যা মানবসভ্যতার শুরু থেকে নিয়ে কিয়ামত পর্যন্ত মূল্যবান হিসেবে পরিগণিত। এ দুটি জিনিস কখনো ভ্যালু হারিয়ে মূল্যহীন হবে না। অনুরূপ চাল-ডাল, গম, চিনি, আটা, লবণ ইত্যাদি প্রতিটি ভোগ্য পণ্যের নিজস্ব উপযোগ আছে এবং তা হলো আমাদের ক্ষুধা মেটানোর ক্ষমতা। এমন নয় যে, সরকারের অধ্যাদেশে এসব ভোগ্য পণ্যের উপযোগ কখনো বাতিল হয়ে যেতে পারে। তাই পৃথিবীর যেখানেই যান না কেন, প্রতিটি ভোগ্য পণ্যের উপযোগ প্রায় একই থাকে, অর্থাৎ তাদের নিজস্ব একটি মূল্য সব সময়ই থাকে। একইভাবে গবাদি পশু-পাখির কথাও বলা যায়। এগুলোর উপযোগেও তেমন কোনো পরিবর্তন হয় না।

আমাদের অনেকেরই হয়তো জানা নেই যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম চৌদ্দশ বছর পূর্বেই উম্মতকে এ ব্যাপারে সতর্ক করে দিয়ে গেছেন। তিনি ইরশাদ করেন :
لَيَأْتِيَنَّ عَلَى النَّاسِ زَمَانٌ لَا يَنْفَعُ فِيهِ إِلَّا الدِّينَارُ وَالدِّرْهَمُ
‘মানুষের সামনে নিশ্চিতই এমন এক সময় আসবে, যখন দিনার (গোল্ড) ও দিরহাম (সিলভার) ছাড়া কোনো কিছুই কাজে আসবে না।’ (মুসনাদু আহমাদ : ১৭২০১)

মুজামে কাবিরের বর্ণনায় এসেছে :
يَأْتِي عَلَى النَّاسِ زَمَانٌ، مَنْ لَمْ يَكُنْ مَعَهُ أَصْفَرُ وَلَا أَبْيَضُ لَمْ يَتَهَنَّ بِالْعَيْشِ
‘মানুষের সামনে এমন একটি সময় আসছে, যখন যার কাছে হলুদ (গোল্ড) ও সাদা (সিলভার) বস্তু থাকবে না, সে স্বাচ্ছন্দ্যে নিদ্রাও যেতে পারবে না।’ (আল-মুজামুল কাবির : ২০/২৭৮)

আরেকটি সনদে এভাবে বর্ণিত হয়েছে :
إِذَا كَانَ فِي آخِرِ الزَّمَانِ لَا بُدَّ لِلنَّاسِ فِيهَا مِنَ الدَّرَاهِمِ وَالدَّنَانِيرِ يُقِيمُ الرَّجُلُ بِهَا دِينَهُ ودُنْيَاهُ
‘যখন শেষ জমানা আসবে তখন লোকদের দিনার (গোল্ড) ও দিরহাম (সিলভার) ছাড়া কোনো উপায় থাকবে না। (মুমিন) লোক তখন এগুলোর দ্বারা তার দ্বীন ও দুনিয়ার সকল বিষয় পরিচালনা করবে।’ (আল-মুজামুল কাবির : ২০/২৭৯)

সনদগত দিক থেকে হাদিসগুলো যদিওবা একটু দুর্বল, তবে বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট ও বর্তমান বাস্তবতা আমাদের সামনে হাদিসের সত্যতা দিন দিন স্পষ্ট করে তুলছে। স্পষ্টভাবেই আমরা বুঝতে পারছি, কাগুজে মুদ্রা ও ডলারের অন্ধকার ভবিষ্যৎ। আমাদের সামনে কী যে মহাসংকট ও দুর্যোগ অপেক্ষা করছে, তা কল্পনা করতে গেলেও শরীর শিহরিত হয়ে ওঠে! তাই এখন কে কত দ্রুত সবকিছু সামলে নেবে, সেটাই দেখার বিষয়। এক যুগ আগে একসময় আমারও বুঝে আসত না যে, মানুষ কেন গণহারে দাজ্জালকে রব বলে মেনে নেবে। পরে আস্তে আস্তে বিষয়টি ক্লিয়ার হতে থাকে। আর এখন তো আলহামদুলিল্লাহ, এটা সূর্যের মতো স্পষ্ট হয়ে গেছে। বস্তুত দাজ্জালের ফিতনার বিভিন্ন কার্যক্রম শুরু হয়ে গেছে অনেকদিন আগেই। এখন কেবল পূর্ণতায় পৌঁছতে বাকি। আর পূর্ণতায় পৌঁছতেও বেশি সময় নেই বলে মনে হচ্ছে। আল্লাহ তাআলা-ই ভালো জানেন। আল্লাহ আমাদের সব ধরনের ফিতনা থেকে হিফাজত করুন এবং এসব ব্যাপারে সজাগ থেকে অগ্রীম প্রস্তুতি নেওয়ার তাওফিক দান করুন।

-কপি পোষ্ট

**নবিজি গায়েব জানেন **


আচ্ছালামোআলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহি, ওয়াবারাকাতুহ, ওয়া মাগপেরাত, ওমা তাউপিকই ইল্লাহ্ বিল্লাহ, কোরানের কথা বলার জন্য আল্লাহ জেনো সকলকে তাউপিক দান করেন, আমিন।
কিছু আলেম ওলামা ভাই আছেন, যারা বলেন নবিজি গায়েব জানেন নবিজি হাউজে কাউছারের মালিক, তাঁহাদের জন্য পবিত্র কোরানের থেকে কিছু আয়াত এখানে সংখেপে তোলে ধড়া হলো আসা করি কোরান পড়ে বুঝে সেই অনুপাতে কথা বলবো দলিল দিবো। সকল দলিল সকল কথা হবে কোরানের কথা, মানুষের কথা নয়, (ঝালিকাল কিতাবু, সুরায়ে বাকারা) যার কোন সন্দেহ নেই। এবার আশি কোরানে
ভাই জানেরা, ভিবিন্ন হাদিশের দলিল দিয়ে বলেন নবিজি গায়েব জানেন এমন কি পৃথিবীর সব যানেন, তার পর হাউজে কাউছারের মালিক নবিজী , আমি আপোনাদের কে পবিএ কোরান থেকে কিছু প্রামান দেখালাম আপোনাদের হাদিশের সাতে মিলিয়ে দেখেন, কোরানেতো কোন সন্দেহ নেই, গায়েবের খবর এক মাএ আল্লাহ যানেন ( সুঃ হাশর আঃনং ২২) ( সুরা আস সিজদাহ্ আঃনং-৬)( গায়েবের চাবি তাঁর কাছে তিনি ছারা কেহ যানেন না ( সুরায়ে আনআম ৬/ আঃ নং ৫৯) ( এক মাএ তিনি গায়েবের মালিক ( সুঃ জিন ৭২/ আঃ নং ২৬) ( লেকে তোমাকে কিয়ামতের কথা জিঘাংসা করিবে, সে ঞান কি তোমার আছে? ( সুঃ নযি য়াত৭৯/ আঃ নং ৪২/৪৩) লোকেরা জিঘাংসা করবে কেয়ামত কখন হবে , বল সে ঞানত আল্লাহর কাছে ( সুরায়ে মুলক ৬৭/ আঃ নং ৩৫/২৬) আল্লাহ সব কিছুর অভিভাবক ( সুঃ যুমার ৩৯/ আঃনং ৬২) আমি তোমাদের মত মানুষ আমার কাছ অহি আসে তোমাদের কাছে আসেনা, ( সুঃ কাহ্ফ ১৮/ আঃ নং ১১০) ( দুর্ভোগ মিত্যাছারদের জন্য, ( সুঃ মুর সালাত ৭৭/ আঃনং ১৫/ এই কথাটি দশ বার বলা হয়েছে এই সুরাতে) কোন কিছুই মিত্যাছার করা যাবেনা, সাবধান। কাফির ছাড়া কেহ আল্লাহর আয়াত নিয়ে ঝগড়া করেন না, ( সুরা গাফির ৪০/ আঃ নং ৪) আসা করি কেহ আয়াত নিয়ে ঝগরা করবেন না। এই কথা গুলি কোন কবির কলাম নয় আল কোরান, দয়া করে কেহ মনে কষ্টি নিবেন না, আপোনাদের কথা গুলি কোরানের সাতে মিলিয়ে দেখেন, ধন্যবাদ। মোঃ ইমরান খাঁন **

মেঘের ভেলা

ছোট ছোট মেঘের ভেলা ভাসে আকাশে।
সুন্দর ফুল গুলো নাচে বাতাসে।
পাখায় ভর করে পাখিরা ভাসে,
চাঁদের কিরণ পেয়ে ফুলেরা হাসে।

নয়নের জলে যদি নয়ন না ভেজে,
রাতের আকাশে যদি তারা না ফোটে।
দিনের আলোয় যদি আধাঁর নামে,
প্রেমের খাতায় যদি কলংক জাগে।

আঁধার রাতে যারা করে বিচরণ,
দিনের আলোয় তাদের জাগে শিহরণ।
ডুবরিরা ডুব দেয় গভীর সাগরে,
নভোচারী ভেসে বেড়ায় শূন্য বাতাসে।

ক্ষমতার লোভে যারা করে বিচরণ,
প্রজার স্বার্থে তাদের নাই আচরণ।
মোঃ ইমরান খাঁন

**সিহাহ সিত্তার ইমামদের হাদীস শরীফ**

সিহাহ সিত্তার ইমামদের হাদীস শরীফ মুখস্ত সংখ্যা ও সে অনুযায়ী বর্ণিত সংখ্যার পরিসংখ্যান

সালাফী ওহাবীরা জবাব আছে কি ?
সিহাহ সিত্তার ছয় জন ইমামের মোট মুখস্তকৃত সহীহ হাদীস শরীফ সংখ্যা ২৩ লক্ষ। উনাদের কিতাবে বর্ণনা করেছেন পূরাবৃত্তি ব্যাতীত সর্বমোট ২৩,৩৪৬ টি হাদীস শরীফ। মজার কথা হচ্ছে সালাফীরা আবার সিহাহ সিত্তার মধ্যে অনেক হাদীস শরীফকেও মওজু বলে। যাক সেটা অন্য কথা। এখন হাদীস শরীফ যদি ২৩,৩৪৬ টি হয় বাকি ২২,৭৬,৬৫৪ টি হাদীস শরীফের কি ফয়সালা? সেগুলো কোথায়?

সিহাহ সিত্তার বাইরে আরো অর্ধশত হাদীস শরীফের কিতাবের নাম

এখনকার সময়ের মানুষের জন্য আফসোস তারা পবিত্র হাদীস শরীফ সম্পর্কে জানে না। আর বিশেষ করে ওহাবী সম্প্রদায়ের অপপ্রচারের ফলে মানুষের অজ্ঞতা আরো বৃদ্ধি পেয়েছে। তারা প্রচার করে থাকে সিহাহ ছিত্তাহর বাইরে আর কোন হাদীস শরীফ নেই। নাউযুবিল্লাহ!!

মূলতঃ সিহাহ ছিত্তার বাইরেও অসংখ্য সহীহ হাদীসের কিতাব রয়েছে। এ প্রসঙ্গে বিখ্যাত মুহাদ্দিস ইমাম নববী রহমাতুল্লাহি আলাইহি , ইবনুস সালাহ রহমাতুল্লাহি আলাইহি , হযরত শাহ আব্দুল আযীয মুহাদ্দিস দেহলবী রহমাতুল্লাহি আলাইহি প্রমূখ বিখ্যাত হাদীস শরীফ বিশারদগন বলেন, সিহাহ ছিত্তাহ ছাড়াও আরো ৫০ এরও বেশি সহীহ হাদীস শরীফের কিতাব আছে।

নিম্নে এর কতিপয় কিতাবের নাম মুবারক উল্লেখ করা হলো-

◾(১) মুসনাদুল ইমাম আবু হানীফা।
বিলাদাত- ৮০ হিজরী, ওফাত- ১৫০ হিজরী।

◾(২) আল মুয়াত্তা লি ইমাম মালেক।
জন্ম- ৯৫ হিজরী, ওফাত- ১৭৯ হিজরী।

◾(৩) আল মুয়াত্তা লি ইমাম মুহম্মদ ।
জন্ম- ১৩৫ হিজরী, ওফাত- ১৮৯ হিজরী।

◾(৪) আল মুছান্নাফ লি আব্দুর রাজ্জাক।
জন্ম- ১২০/১২৬ হিজরী, ওফাত- ২১১ হিজরী।

◾(৫) মুসনদে আহমদ বিন হাম্বল।
জন্ম- ১৬৪ হিজরী, ওফাত- ২৪১ হিজরী।

◾(৬) মুসনাদুত তায়লাসী।
জন্ম-_, ওফাত- ২০৪ হিজরী।

◾(৭) কিতাবুল আছার লি ইমাম আবু ইউছুফ।
জন্ম- ১১৩ হিজরী, ওফাত- ১৮২ হিজরী।

◾(৮) মুসনাদুল হুমায়দী।
জন্ম-__ , ওফাত- ২১৯ হিজরী

◾(৯) মুছান্নাফে ইবনে আবী শায়বাহ।
জন্ম- ১৫৯ হিজরী, ওফাত- ২৩৫ হিজরী।

◾(১০) আল জামিউল মুসনাদুছ ছহীহুল মুখতাছারু মিন উমুরি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ওয়া সুনানিহী ওয়া আইয়ামিহী ( বুখারী শরীফ)
জন্ম- ১৯৪ হিজরী, ওফাত- ২৫৬ হিজরী।

◾(১১) আছ ছহীহুল মুসলিম ।
জন্ম- ২০৪ হিজরী, ওফাত- ২৬১ হিজরী।

◾(১২) সুনানু আবু দাউদ।
জন্ম- ২০২ হিজরী, ওফাত- ২৭৫ হিজরী।

◾(১৩) আল জামিউ ওয়াস সুনানুত তিরমিযী।
জন্ম- ২১০ হিজরী, ওফাত ২৭৯ হিজরী।

◾(১৪) সুনানুন নাসায়ী।
জন্ম- ২১৫ হিজরী, ওফাত- ৩০৩ হিজরী।

◾(১৫) সুনানু ইবনে মাজাহ।
জন্ম- ২০৯ হিজরী, ওফাত- ২৭৩ হিজরী।

◾(১৬) সুনানুদ দারিমী।
জন্ম- ১৮১ হিজরী, ওফাত- ২৫৫ হিজরী।

◾(১৭) মুসনাদুল বাযযার।
জন্ম-_ , ওফাত- ২৯২

◾(১৮) শরহু মা’আনিল আছার (ত্বাহাবী শরীফ)
জন্ম- ২২৯ হিজরী, ওফাত- ৩২১ হিজরী।

◾(১৯) ছহীহ ইবনে হিব্বান।
জন্ম- ৩৫৪ হিজরী, ওফাত- ৪৬৫ হিজরী।

◾(২০) মাছাবিহুস সুন্নাহ ও মিশকাত।
জন্ম- ৪৩৬ হিজরী, ওফাত- ৫১৬ হিজরী।

◾(২১) আল মু’জামুছ ছগীর লিত তাবরানী।
জন্ম- ২৬০ হিজরী, ওফাত- ৩৬০ হিজরী।

◾(২২) আল মু’জামুল আওসাত লিত ত্বাবরানী।
জন্ম- ২৬০ হিজরী, ওফাত- ৩৬০ হিজরী।

◾(২৩) আল মু’জামুল কবীর লিত তাবরানী।
জন্ম- ২৬০ হিজরী, ওফাত- ৩৬০ হিজরী।

◾(২৪) আল মুস্তাদরাক আলাছ ছহীহাইন।
জন্ম- ৩২১ হিজরী, ওফাত- ৪৫০ হিজরী।

◾(২৫) ছহীহ ইবনু খুযাইমাহ।
জন্ম- ২২৩ হিজরী, ওফাত- ৩১১ হিজরী।

◾(২৬) আস সুনানুল কুবরা লিল বাইহাক্বী।
জন্ম- ৩৮৪ হিজরী, ওফাত- ৪৫৮ হিজরী।

◾(২৭) আস সুনানুছ ছগীর লিল বাইহাক্বী।
জন্ম- ৩৮৪ হিজরী, ওফাত- ৪৫৮ হিজরী।

◾(২৮) শুয়াইবুল ঈমান লিল বাইহাক্বী।
জন্ম- ৩৮৪ হিজরী, ওফাত- ৪৫৮ হিজরী।

◾(২৯) মা’রিফাতুস সুনান ওয়াল আছার লিল বাইহাক্বী।
জন্ম- ৩৮৪ হিজরী, ওফাত- ৩৫৮ হিজরী।

◾(৩০) শরহুস সুন্নাহ লিল বাগবী।
জন্ম- ৪৩৬ হিজরী, ওফাত- ৫১৬ হিজরী।

◾(৩১) মা’রিফাতুছ ছাহাবা লি আবী নুয়াইম।
জন্ম- ৩৩৬ হিজরী, ৪৩০ হিজরী।

◾(৩২) জামিউল আহাদীস লিছ সূয়ুতি।
জন্ম- ৮৪৯ হিজরী, ওফাত- ৯১১ হিজরী।

◾(৩৩) গায়াতুল মাক্বছাদ ফী যাওয়ায়িদিল মুসনাদ।
জন্ম- ৭৩৫, ওফাত- ৮০৭ হিজরী।

◾(৩৪) কানযুল উম্মাল।
জন্ম-_ , ওফাত- ৯৭৫ হিজরী।

◾(৩৫) আখবারু মক্কতা লি আযরাক্বী।
◾(৩৬) ছহীহ ইবনে ওয়ায়না।
◾(৩৭) সহীহ ইবনুস সাকান।
◾(৩৮) সহীহ মোন্তাকা।
◾(৩৯) মুখতাসা রেজিয়াহ।
◾(৪০) সহীহ যুরকানী।
◾(৪১) সহীহ ইসফেহানী।
◾(৪২) সহীহ ইসমাঈলী।
◾(৪৩) কিতাবুল খেরাজ।
◾(৪৪) কিতাবুল হেজাজ।
◾(৪৫) কিতাবুল আ’মলী।
◾(৪৬) মুসনাদে শাফেয়ী।
◾(৪৭) মুসনাদে আবু ইয়ালা।
◾(৪৮) মুসনাদে দারে কুতনী।
◾(৪৯) কিতাবুল ই’তিকাদ।
◾(৫০) কিতাবুদ দোয়া।
◾(৫১) মুসনাদে হারেস ইবনে উমামা।
◾(৫২) মুসনাদে বাজ্জার।
◾(৫৩) সুনানে সাঈদ ইবনে মনছুর।
◾(৫৪) সুনানে আবী মুসলিম।
◾(৫৫) শিফা শরীফ।
◾(৫৬) আল হুলইয়া।
◾(৫৭) তাহযীবুল আছার।
◾(৫৮) আল মুখতারা।
◾(৫৯) জামিউল মাসানিদ ওয়াস সুনান

(((( রহমাতুল্লাহি আলাইহিম )))

এছাড়াও আরো অসংখ্য অগনিত সহীহ হাদীস শরীফের কিতাব রয়েছে। সুবহানাল্লাহ্!

মুলত হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দুনিয়াতে তাশরীফ মুবারক হতে শুরু করে বিছাল শরীফ পর্যন্ত অর্থাৎ ৬৩ বছর পর্যন্ত যত কথা, কাজ, সম্মতি প্রকাশ করেছেন সবই পবিত্র হাদীস শরীফের অন্তর্গত। কিন্তু উছুল অনুযায়ী যদি ৪০ বছর মুবারক থেকে ৬৩ বছর মুবারক পর্যন্ত ২৩ বছরও যদি ধরি, এই ২৩ বছরে যত কথা, কাজ, সম্মতি প্রদান করেছেন সবই হাদীস শরীফ।
অংক করে দেখুন,
২৩×৩৬৫= ৮৩৯৫ দিন।
আবার, ৮৩৯৫×২৪= ২০১৪৮০ ঘন্টা।
আবার, ২০১৪৮০×৬০= ১২০৮৮৮০০ মিনিট।
অর্থাৎ মিনিটে হিসাব করলেও এক কোটি বিশ লক্ষ আটাশি হাজার আটশত মিনিট।

এখন সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতিটা কওল, ফেল, তাকরীর সবই যদি হাদীস শরীফ হয় চিন্তা এবং ফিকিরের বিষয় ২৩ বছরে কতগুলো হাদীস শরীফ হবে।

অথচ আজকাল কিছু ওহাবী খারেজীরা বলে বুখারী মুসলিম ছাড়া আর কিছু মানি না। নাউযুবিল্লাহ!!

তাদের কাছে প্রশ্ন তবে কি হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ২৩ বছরে মাত্র দশ হাজার কওল (কথা), ফেল (কাজ), তাকরীর( মৌন সম্মতি) করেছেন ?
বিবেক বোধ কি কিছু আছে নাকি নষ্ট হয়ে গেছে ???
এই কিতাবের তালিকাই দেখুন। ওহাবীরা এর কয়টা নাম জানে ? এসব কিতাব কি তারা কখনো দেখেছে না গবেষনা করেছে ?

এসব কিতাব দেখাতো দূরের কথা তারা মূল আরবি বুখারী শরীফ মুসলিম শরীফই চোখে দেখে নাই। শুধু বুখারী শরীফ পড়তেই এদের সারা জীবন লেগে যাবে আর এসকল কিতাব যাচাই করবে কখন? উক্ত তালিকায় এমনও অনেক কিতাব আছে যার এক একটাতেই ২০-৫০ হাজারেরও বেশি হাদীস শরীফ আছে। কয়টা তারা পড়েছে? কয়টার রাবির জীবনি সম্পর্কে ধারনা আছে? কোন যোগ্যতায় তারা হাদীস অস্বীকার করে?

অাল্লাহ অামাদের সকলকে সহীহ বুঝ দান করুন- অামিন।

**তোমরা মৃত্যু থেকে পালায়ন**

***তোমরা মৃত্যু থেকে পালায়ন করতে ছাও *** করুনার ভয়ে আজ সমাজে কি চলেছে? সন্তান মা, বাবা, থেকে পালায়ন, স্বামী স্তী থেকে পালায়ন, বন্ধ বান্ধব আপ্তিয় সজন, পাড়া প্রথি বেশি, কেহ একে অপড়ের কাছে আসেনা, মৃত্যুর ভয়ে পালিয়ে যায়। এমন কি মাঠি ও জায়নামাজে পযন্ত আসেনা, একবার ও ছিন্তা করেনা আমি কি মরবো না। এখন দেখে নেই মহান
আল্লাহ কি বলেন পবিএ কালামে , >
০১-সকল প্রানি মৃত্যুর স্বাদ গ্রহন করবে , দুনিয়ার জিবন তো ধোকা ছাড়া আর কিছু নয়। ( সুঃ আল ইমরান -৩/১৮৫)
০২–কোন প্রণিই আল্লাহ র অনুমতি ছারা মারা যায় না , সু নিদিষ্ট লিখিত যে দুনিয়াতে প্রতিদান ছায় তাকে দুনিয়াতে দেই আর যে আখেরাতে ছায় তাকে আখেরাতে দেই। ( সুঃ আল ইমরান -৩/১৪৫)
০৩–তোমরা মৃত্যু থেকে পালাতে চাও তার সাতে সাক্ষাত হবেই, ( সুঃ আল জুম আহ ৬২/৮)
০৪–যেখানেই থাকনা কেন যত মঝবুত ইমারতেই থাক মৃত্যু খোজে নিবেই। (সুঃ নিসা -০৪/৭৮)
০৫–তিনিই জীবন দান করেন এবং মৃত্যু ঘটিয়ে থাকেন; আর তোমাদের জন্য আল্লাহ ছাড়া না কোন বন্ধু আছে, আর না কোন সাহায্যকারী। ( সুঃ আত তাওবা -৯/১১৬)
০৬–আর যদি আল্লাহ তোমাকে ক্লেশদান করেন, তাহলে তিনি ব্যতীত আর কেউ তার মোচনকারী নেই। আর যদি তিনি তোমার কল্যাণ করেন, তাহলে তিনিই তো সর্ব বিষয়ে শক্তিমান। ( সুঃ আল আন আম -৬/১৭)
০৭–এবং আল্লাহকে ভয় কর। আর বিশ্বাসীগণের উচিত, কেবল আল্লাহর উপরেই ভরসা করা। ( সুঃ মায়েদা -৫/১১)
কোরান পড়ি কোরান পড়ি কোরান দিয়েই জিবন ঘড়ি। মোঃইমরান খাঁন ***

Thinking Hitler

দেশকে কিভাবে বেইমান মুক্ত করতে হয় তা হিটলারের কাছ থেকে শেখা উচিত।

হিটলার যুবক বয়সে জার্মানির হয়ে প্রথম বিশ্বযুদ্ধে লড়াই করেছেন। সেই যুদ্ধে অটোমান ও জার্মান জোটের পরাজয় হলে মুসলিমদের শেষ খেলাফত অটোমান সম্রাজ্যের পতন ঘটে ও জার্মানি ব্যাপক অর্থনৈতিক দুর্দশায় পতিত হয়।

জার্মানির পরাজয়ের অন্যতম একটি কারন ছিলো যুদ্ধ চলাকালীন সময় জার্মানি আত্মসমর্পণ করেছে বলে জার্মানির ভেতরে মিথ্যা গুজব ছড়িয়ে দেয়া হয়েছিলো। এর জন্য জার্মান সমরাস্ত্র কারখানাগুলোর শ্রমিকরা কাজ বন্ধ করে দেয়। এতে করে ফ্রন্টলাইনে জার্মান সেনারা মারাত্মক অস্ত্র, খাদ্য ও ওষুধ ঘাটতির সম্মুখীন হয়। অটোমানরাও বিপাকে পড়ে যায় কারন সেই সময় নতুন আবিষ্কার হওয়া বিমান ও আধুনিক সব আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে তুরস্ককে সাহায্য করতে মিত্র জার্মানি। এই গুজবটি ছড়িয়েছিলো ইহুদিরা। যুদ্ধের পর হিটলার দেখতে পান কীভাবে একসময় বিদেশ থেকে আসা রিফিউজি ইহুদিরা জার্মানির সব সরকারি গুরুত্বপূর্ণ পদ দখল করে দেশের অর্থনিতীকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। নিজের সাহস ও যোগ্যতায় মাটির তলা থেকে উঠে এসে জার্মানির রাষ্ট্রনায়ক হন তিনি। তারপর প্রথমে জার্মানিকে ইহুদি প্রভাবমুক্ত করে পরে ২য় বিশ্বযুদ্ধ লাগিয়ে পুরো ইউরোপে ইহুদি নিধন চালান।

হিটলারের ইহুদি নিধনের জন্য সবাই তাকে গালাগাল করলেও আমি ব্যাক্তিগতভাবে তার প্রতি কৃতজ্ঞ। হিটলার তখন ৬০ লাখ ইহুদি না মারলে আজ কমপক্ষে ৫ কোটি ইহুদি থাকতো পৃথিবীতে। সামান্য দেড় কোটি ইহুদি আজকে ৭০০ কোটি মানুষের জীবন নরক বানিয়ে রেখেছে সেখানে ৫-৬ কোটি ইহুদি থাকলে কেমন অবস্থা হতো চিন্তা করে দেখেছেন? এছাড়াও মুসলমানদের একদিন সকল ইহুদিদের হত্যা করতে হবে একথা কুরআনেই লেখা আছে। সেই একই কাজ এগিয়ে রাখার জন্য হিটলারকে কেন ঘৃণা করা হবে?

হিটলারের সময় জার্মানির মতো অবস্থা এখন বাংলাদেশে বিদ্যমান। দেশের অধিকাংশ প্রশাসনিক পদ হিন্দুদের দখলে। প্রত্যেকটা ক্রিটিকাল পদে হিসাব করে করে হিন্দু আর নাস্তিকদের বসানো হয়েছে। যার ফল আজকে ৯০% মুসলমানদের দেশে মাত্র ৮% হিন্দুর অবাধ ইসলাম অবমাননার মাধ্যমে দেখতে পাই। শাপলা চত্বরে রাতের আধারে হাজার হাজার আলেমদের উপর গণহত্যা চালানো হয়। দেশটা ভারতের হাতে তুলে দিতে চেষ্টার কোন ঘাটতি রাখছেনা এই বেইমান সম্প্রদায়টি। বাংলাদেশেও তাই এখন একজন হিটলার প্রয়োজন।

নুসাইবা বিনতে কা’আব (রাঃ): ইসলামের প্রথম নারী যোদ্ধা

নুসাইবা বিনতে কা’আব (রাঃ) ছিলেন ইসলামের প্রথম নারী যোদ্ধা এবং হযরত সুমাইয়া (রা:) ছিলেন ইসলামের প্রথম নারী শহীদ।।।

নুসাইবা বিনতে কা’আব (রা:) যিনি নবী করিম (সাঃ) এর পাশে থেকে যুদ্ধ করেছেন। মাত্র দু’জন নারী ব্যক্তিগতভাবে রাসূল (সাঃ) এর নিকট থেকে সরাসরি কালিমার শপথ গ্রহণ করেন। নুসাইবা (রাঃ) ছিলেন তাঁদের একজন। তিনি সম্ভ্রান্ত, সাহসী ও ছকে বাঁধা চিন্তাধারা থেকে মুক্ত একজন সপ্রতিভ নারী ছিলেন যিনি উপলব্ধি করেছিলেন যে, নতুন একটি ধর্মকে রক্ষা করার জন্যে মুসলিম নারীদেরও ভূমিকা রাখা প্রয়োজন। তাই তিনি বিভিন্ন যুদ্ধের ময়দানে সশরীরে উপস্থিত থাকতেন। তিনি উহুদ, আক্বাবাহ্‌, আল-হুদাইবিয়্যাহ, খায়বার, হুনাইন, ইয়ামামার যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। তন্মধ্যে উহুদের যুদ্ধে তিনি যেভাবে মানব বর্মের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে হযরত মুহাম্মদ (সা:)কে রক্ষা করেন তা ছিল নারীদের জন্য একটি ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত।

উহুদের যুদ্ধের শুরুর দিকে তিনি অন্যান্য নারীদের মতো তৃষ্ণার্ত সৈন্যদের জন্যে পানি আনা-নেওয়া এবং আহতদের সেবাযত্ন করার কাজে নিয়োজিত ছিলেন। যুদ্ধের ফলাফল যখন মুসলিমদের অনুকুলে আসতে শুরু করে তখন সৈন্যরা নবীজির নির্দেশ অমান্য করে বসলো। ফলে কাঙ্খিত জয় পরাজয়ে রূপ নিতে লাগল। লোকজন নিজেদের বাঁচানোর তাগিদে দৌড়াদৌড়ি শুরু করে দিলো। এমনকি মহানবী (সাঃ) অরক্ষিত হয়ে পড়লেন। এমন সময়ে নুসাইবা (রাঃ) এক হাতে উন্মুক্ত তরবারি আর অন্য হাতে ঢাল নিয়ে এগিয়ে এলেন।

হযরত মুহাম্মাদ (সাঃ) কে কাফেরদের তীরের আঘাত থেকে রক্ষা করার জন্যে লড়াই করতে থাকা ছোট দলটির সাথে তিনি যোগ দিলেন। নুসাইবা একজন শত্রুর দ্বারা ঘাড়ে মারাত্মকভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হওয়ার পরও যুদ্ধের ময়দান থেকে পালিয়ে গেলেন না। বরং যতবার যতদিক থেকে নবীজির ওপর আক্রমণ এসেছে তিনি সেদিকেই তরবারি হাতে তা প্রতিহত করতে ছুটে গিয়েছিলেন।

হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) বিষয়টি লক্ষ করেন এবং পরবর্তীতে বলেন, “ডানে, বামে যেদিকেই আমি তাকিয়েছি, দেখেছি নুসাইবা আমার জন্যে লড়াই করে চলেছেন। তিনি অনেক পুরুষ যোদ্ধাদের থেকেও ভালো লড়াই করেছেন।” শুধু তাই নয়, তিনি আল্লাহর কাছে তাঁর জন্য দুআ করে বলেন, “হে আল্লাহ, তুমি নুসাইবা ও তাঁর পরিবারকে আমার জান্নাতের সঙ্গী বানিয়ে দাও।”

এই দুআ শুনে নুসাইবা (রাঃ) বলে উঠলেন, “দুনিয়ার আর কোনো কিছুতে আমার কিছু যায় আসে না।” এভাবেই ইসলাম এবং তাঁর নবীকে রক্ষা করার বিনিময়ে তিনি ইহলৌকিক কোন কিছু প্রত্যাশা করেননি বরং পারলৌকিক লাভকে প্রাধান্য দিয়েছেন।

উহুদের যুদ্ধে তিনি মোট ১৩টি স্থানে আঘাতপ্রাপ্ত হন এবং তাঁর ঘাড়ের ক্ষত সারতে প্রায় ১ বছর সময় লাগে। এরপরও তিনি বিভিন্ন যুদ্ধে অংশ নেয়া থেকে বিরত ছিলেন না। ইয়ামামার যুদ্ধে অংশ নিয়ে তিনি ১১টি স্থানে আঘাত পান এবং একটি হাত হারান।

নুসাইবা (রাঃ) উমার বিন আল খাত্তাবের খিলাফতকাল পর্যন্ত জীবিত ছিলেন। সাহাবীরা সবাই তাঁকে তাঁর সাহসিকতার জন্য অত্যন্ত সম্মান করতেন। একবার উমার (রাঃ) এর নিকট বাইরের দেশ থেকে একটি উপহার আসে। উপহারটি ছিল মূলত অত্যন্ত মূল্যবান রেশমের তৈরি এক টুকরো কাপড় । উপস্থিত সাহাবীরা উপহারটি খলিফার কন্যা বা পুত্রবধূকে পাঠিয়ে দেয়ার পরামর্শ দিলেন। উমার ( রাঃ)দুইটি প্রস্তাব-ই নাকচ করে দেন। তিনি বলেন, এই উপহারটির দাবিদার কেবল একজন নারী এবং তিনি হলেন নুসাইবা (রাঃ)। এরপর তিনি তা নুসাইবাকে পাঠিয়ে দেন।

নুসাইবা (রাঃ)কোনো সৌন্দর্য সর্বস্ব বা দুর্বল ব্যক্তিত্বের নারী ছিলেন না। তিনি ছিলেন ক্ষীপ্রতার সাথে তরবারি চালাতে সক্ষম একজন অকুতোভয় যোদ্ধা, যিনি মাথা উঁচু করে ইসলামকে রক্ষা করার জন্য বিভিন্ন যুদ্ধে লড়াই করে গেছেন। তাঁর এই অবদান তাঁকে আজও ইসলামের ইতিহাসে এক স্বতন্ত্র মর্যাদার আসনে আসীন করে রেখেছে।


 ̄ ̄ ̄ ̄ ̄ ̄ ̄ ̄ ̄

ফু্লের ভালো বাসায়



অনেকের জীবনে প্রেম নাকি একবারই আসে। কিন্তু আমার জীবনে প্রেম এসেছে বারবার। আমার প্রেমিকাও অনেক। রুটিন মতো তারা সবাই প্রতিনিয়ত আমার কাছে আসে, ভালোবাসে। তাদের নিত্যদিনের অভিসারে আমি বিমুগ্ধ হই, বিমোহিত হই। আমি হারিয়ে যাই সুবাসের নিখুঁত মায়াজালে। আমার প্রেমিকারা সবাই আমাকে প্রেম নিবেদন করলেও, আমি মুসাফির তাদের প্রেমের কোনো প্রতিদান দিতে পারিনি।
.
প্রেমের প্রতিদান
.
সব কিছু দিয়ে দেবো
বলেছিলো হেনা
রাতের আঁধারে এসে
বসেছিলো কোল ঘেঁষে
সুবাসের প্রেম দিয়ে
বাড়িয়েছে দেনা।
.
সেফালিও বলেছিলো
দিয়ে দেবো সব
সাদা শাড়ি লাল ঠোঁটে
হাসির ফোয়ারা ছোটে
রাত পোহাতেই ঝরা
ব্যথা অনুভব।
.
জবা প্রিয়া দিয়েছিলো
খিলখিল হাসি
ডেকেছিলো বারেবারে
পিরিতের অভিসারে
বলেছিলো মুসাফির
তোরে ভালোবাসি।
.
কামিনীটা বসে ছিলো
একেবারে কাছে
বলে কবি হাত দাও
টেনশন বাদ দাও
এখনো বুকের মাঝে
প্রেম সুধা আছে।
.
বলেশ্বরের তীরে
কাশের সে মেয়ে
বলেছিলো ধরো হাত
যাক মান কুল জাত
আমি তোরে ভালোবাসি
বেশি সব চেয়ে।
.
মালতি মাধবি চাঁপা
কার কথা কই
গোলাপি বকুলি জুঁই
আদর করেই ছুঁই
ফুল পরীদের প্রেমে
দেওয়ানাই হই।
.
সবাই করেছে প্রেম
ভালোবাসা দান
মধুর সুবাস আর
রাত জাগা অভিসার
আমিতো দেইনি কিছু
তার প্রতিদান।
.

স্বামী স্ত্রীর মোহাব্বত

স্বামী স্ত্রী ঝগড়া করে এক পর্যায়ে স্বামী
তার স্ত্রীর গায়ে হাত তুললো।

তাতে স্ত্রী রাগ করে বললো: আমি অভিযোগ করতে যাচ্ছি।
স্বামী: তোমাকে বাহিরে যাওয়ার অনুমতি কে দিবে?
স্ত্রী: তুমি কি মনে করছ তুমি আমাকে বাধা দিয়ে ফিরিয়ে রাখবে ?
স্বামী: দেখি তোমার দৌড় কতটুকু?
স্ত্রী সাথে সাথে বাথরুমে ঢুকে পড়লো।
স্বামী চিন্তা করল মনে হয় আত্তহত্তা করবে বা জানালা দিয়ে পালিয়ে যাবে তাই লোকটি বাসার বাহিরে গিয়ে ভালো ভাবে দেখলো। না….. তেমন কিছু বুঝা যাচ্ছেনা।
একটু পর ঘরে এসে দেখলো যে, স্ত্রী ওযু করে বাথরুম থেকে বাহির হয়েছে। লোকটিকে উদ্দেশ্য করে বললো: আমি তার কাছেই অভিযোগ জানাবো যিনি আমাকে তোমার অধিনস্ত বানিয়েছেন। সেখানে তোমার কোন দেয়াল নেই, নেই কোন দরজা যা দিয়ে তুমি আমাকে বাধা দিবে। তার দরজা তো বন্ধ করা যায়না।
লোকটি আর কিছু বললোনা। টেনশনে পড়ে গেলো।
স্ত্রী লোকটি নামাযে দাড়িয়ে পড়লো। নামাযের মধ্যে সিজদা অনেক লম্বা করে দিলো। সময় গড়িয়ে যাচ্ছে কিন্তু সিজদা তো শেষ হয়না। অনেক ক্ষন পর নামায শেষ হলো।
নামায যখন শেষ করে স্ত্রী যখন দু’হাত উঠালো তখন লোকটি তার হাত ধরে ফেলে বললো: সিজদায় আমার জন্য যে পরিমাণ বদ দোয়া করেছো তাতে কি যতেষ্ট হয়নি? আল্রাহর শপথ করে বলছি: এই একটু রাগারাগি আমি ইচ্ছা করে করিনি। তুমি আর বদ দোয়া করোনা। প্লীজ!!
তখন স্ত্রী বললো: এই জন্যই আমি তোমার জন্য বদ দোয়া করিনি। আমি বদ দোআ করেছি শয়তানের জন্য। আমি কি এতই বোকা যে, আমার স্বামীর জন্য বদ দোয়া করবো। যাকে আমি জীবন দিয়ে ভালোবাসি।
কথাটি শুনে লোকটির চোখে অশ্রু চলে আসে। এবং ক্ষমা চেয়ে বলল আমি তোমাকে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি: আর কখনো তোমাকে কষ্ট দিবোনা।

বর্তমান যুগের মেয়েরা হয়তো থানায় যাইত অথবা বাবার বাড়ি চলে গিয়ে কোর্টে মামলা দায়ের করতে ঠিক কিনা বন্ধুরা?

***বদরের যুদ্ধ***

মুহাজির সাহাবীঃ
১. হযরত আবু বকর (রাঃ)
২. হযরত উমর ফারুক (রাঃ)
৩. হযরত উসমান (রাঃ)
৪. হযরত আলী মোর্তাজা (রাঃ)
৫. হযরত হামজা (রাঃ)
৬. হযরত যায়েদ বিন হারেছা (রাঃ)
৭. হযরত আবু কাবশাহ সুলাইম (রাঃ)
৮. হযরত আবু মারছাদ গানাভী (রাঃ)
৯. হযরত মারছাদ বিন আবু মারছাদ(রাঃ)
১০. হযরত উবাইদা বিন হারেছ(রাঃ)
১১. হযরত তোফায়েল বিন হারেছ(রাঃ)
১২. হযরত হুসাইন বিন হারেছ (রাঃ)
১৩. হযরত আউফ বিন উসাসা (রাঃ)
১৪. হযরত আবু হুযায়ফা (রাঃ)
১৫. হযরত ছালেম (রাঃ)
১৬. হযরত সুহইব বিন সিনান (রাঃ)
১৭. হযরত আব্দুল্লাহ্ বিন জাহাশ(রাঃ)
১৮. হযরত উক্বাশা বিন মিহসান(রাঃ)
১৯. হযরত শুজা’ বিন ওহাব (রাঃ)
২০. হযরত ওতবা বিন রবীআহ (রাঃ)
২১. হযরত ইয়াযীদ বিন রুকাইশ (রাঃ)
২২. হযরত আবু সিনান (রাঃ)
২৩. হযরত সিনান বিন আবু সিনান(রাঃ)
২৪. হযরত মুহরিয বিন নাজলা (রাঃ)
২৫. হযরত রবীআ’ বিন আক্সাম (রাঃ)
২৬. হযরত হাতেব বিন আমর (রাঃ)
২৭. হযরত মালেক বিন আমর (রাঃ)
২৮. হযরত মিদ্লাজ বিন আমর (রাঃ)
২৯. হযরত সুওয়ায়েদ ইবনে মাখশী(রাঃ)
৩০. হযরত উৎবা বিন গাযওয়ান (রাঃ)
৩১. হযরত জুবাইর বিন আউওয়াম(রাঃ)
৩২. হযরত হাতেব বিন আবিবালতাআহ(রাঃ)
৩৩. হযরত সা’দ বিন খাওলা (রাঃ)
৩৪. হযরত মুসআব বিন উমায়ের (রাঃ)
৩৫. হযরত মাসউদ বিন সা’দ (রাঃ)
৩৬. হযরত আঃ রহমান বিন আউফ(রাঃ)
৩৭. হযরত সা’দ বিন আবু উবায়দা(রাঃ)
৩৮. হযরত উমায়ের বিনআবিওয়াক্কাস(রাঃ)
৩৯. হযরত মিক্বদাদ বিন আমর (রাঃ)
৪০. হযরত আব্দুল্লাহ্ বিন মাসউদ(রাঃ)
৪১. হযরত মাসউদ বিন রাবীআ (রাঃ)
৪২. হযরত যুশ্ শিমালাইন (রাঃ)
৪৩. হযরত খাব্বাব বিন আরাত (রাঃ)
৪৪. হযরত বিলাল বিন রবাহ্ (রাঃ)
৪৫. হযরত আমের বিন ফুহায়রা (রাঃ)
৪৬. হযরত ছুহাইব বিন সিনান (রাঃ)
৪৭. হযরত তালহা বিন উবাইদুল্লাহ্(রাঃ)
৪৮. হযরত আবু সালমা বিন আব্দুলআসাদ(রাঃ)
৪৯. হযরত শাম্মাস বিন উসমান (রাঃ)
৫০. হযরত আকরাম বিন আবুল আকরাম(রাঃ)
৫১. হযরত আম্মার বিন ইয়াছির (রাঃ)
৫২. হযরত মুআত্তিব বিন আউফ (রাঃ)
৫৩. হযরত যায়েদ ইবনে খাত্তাব(রাঃ)
৫৪. হযরত আমর বিন সুরাকা (রাঃ)
৫৫. হযরত ওয়াকেদ বিন আব্দুল্লাহ্(রাঃ)
৫৬. হযরত খাওলা বিন আবু খাওলা(রাঃ)
৫৭. হযরত আমের বিন রবীআহ (রাঃ)
৫৮. হযরত আমের বিন হারিছ (রাঃ)
৫৯. হযরত আমের বিন আব্দুল্লাহ্(রাঃ)
৬০. হযরত খালেদ বিন বুকাইর (রাঃ)
৬১. হযরত ইয়ায বিন গানাম (রাঃ)
৬২. হযরত সাঈদ বিন যায়েদ (রাঃ)
৬৩. হযরত উসমান বিন মাজউন (রাঃ)
৬৪. হযরত সাইব বিন উসমান (রাঃ)
৬৫. হযরত কুদামা বিন মাজউন (রাঃ)
৬৬. হযরত আব্দুল্লাহ্ বিন মাজউন(রাঃ)
৬৭. হযরত মা’মার বিন হারেছ (রাঃ)
৬৮. হযরত আবু উবায়দা ইবনুলজাররাহ(রাঃ)
৬৯. হযরত আব্দুল্লাহ্ বিন মাখ্রামা(রাঃ)
৭০. হযরত খাব্বাব মাওলা উৎবাবিনগযওয়ান(রা)
৭১. হযরত আবুস্ সাইব উসমান বিনমাজউন(রাঃ)
৭২. হযরত আমর বিন আবু সারাহ (রাঃ)
৭৩. হযরত সাকাফ বিন আমর (রাঃ)
৭৪. হযরত মুজায্যার বিন যিয়াদ(রাঃ)
৭৫. হযরত খাব্বাব ইবনুল মুনযির (রাঃ)
৭৬. হযরত উমায়ের বিন আবীওয়াক্কাছ(রাঃ)
৭৭. হযরত মিকদাদ বিন আমর (রাঃ)
৭৮. হযরত নোমান বিন আসার বিনহারেস(রাঃ)
৭৯. হযরত মিহ্জা’ মাওলা উমরফারুক(রাঃ)
৮০. হযরত ওহাব বিন আবী সারাহ(রাঃ)
আনসার সাহাবীঃ
৮১. হযরত সা’দ বিন মুআজ (রাঃ)
৮২. হযরত আমর বিন মুআজ (রাঃ)
৮৩. হযরত হারেস বিন আউস (রাঃ)
৮৪. হযরত হারেস বিন আনাস (রাঃ)
৮৫. হযরত আব্বাদ বিন বিশর (রাঃ)
৮৬. হযরত সালামা বিনসাবেত(রাঃ)
৮৭. হযরত হারেস বিন খাযামা(রাঃ)
৮৮. হযরত মুহাম্মদ বিন মাসলামা(রাঃ)
৮৯. হযরত সালামা বিন আসলাম(রাঃ)
৯০. হযরত উবায়েদ বিন তাইয়িহান(রাঃ)
৯১. হযরত কাতাদা বিন নোমান(রাঃ)
৯২. হযরত উবায়েদ বিন আউস (রাঃ)
৯৩. হযরত নসর বিন হারেস (রাঃ)
৯৪. হযরত আব্দুল্লাহ্ বিন তারেক(রাঃ)
৯৫. হযরত আবু আব্স বিন জব্র (রাঃ)
৯৬. হযরত আবু বুরদাহ্ হানী বিননিয়্যার(রাঃ)
৯৭. হযরত আসেম বিন সাবেত (রাঃ)
৯৮. হযরত মুআত্তিব বিন কুশাইর (রাঃ)
৯৯. হযরত আমর বিন মা’বাদ (রাঃ)
১০০. হযরত সাহল বিন হুনাইফ (রাঃ)
১০১. হযরত মুবাশ্শির বিন আব্দুলমুনযির(রাঃ)
১০২. হযরত রিফাআ বিন আঃ মুনযির(রাঃ)
১০৩. হযরত খুনাইস বিন হুযাফা (রাঃ)
১০৪. হযরত আবু সাবরা কুরাইশী(রাঃ)
১০৫. হযরত আব্দুল্লাহ্ বিন সালামা(রাঃ)
১০৬. হযরত আব্দুল্লাহ্ বিন সুহাইল(রাঃ)
১০৭. হযরত সা’দ বিন মুআয (রাঃ)
১০৮. হযরত উমায়ের বিন আউফ (রাঃ)
১০৯. হযরত আমের বিন সালামা(রাঃ)
১১০. হযরত ছফওয়ান বিন ওহাব (রাঃ)
১১১. হযরত ইয়ায বিন বুকাইর (রাঃ)
১১২. হযরত সা’দ বিন উবায়েদ (রাঃ)
১১৩. হযরত উওয়াইম বিন সায়েদাহ(রাঃ)
১১৪. হযরত রাফে বিন আনজাদা(রাঃ)
১১৫. হযরত উবায়েদ বিন আবুউবয়েদ (রাঃ)
১১৬. হযরত সা’লাবা বিন হাতেব(রাঃ)
১১৭. হযরত আবু লুবাবাহ আব্দুলমুনযির(রাঃ)
১১৮. হযরত হারেস বিন হাতেব(রাঃ)
১১৯. হযরত আসেম বিন আদী (রাঃ)
১২০.হযরত আনাছ বিন কাতাদা(রাঃ)
১২১. হযরত মাআন বিন আদী (রাঃ)
১২২. হযরত সাবেত বিন আকরাম(রাঃ)
১২৩. হযরত আব্দুল্লাহ্ বিন ছাহল(রাঃ)
১২৪. হযরত যায়েদ বিন আসলাম(রাঃ)
১২৫. হযরত রিব্য়ী বিনরাফে’ (রাঃ)
১২৬. হযরত সা’দ বিন যায়েদ (রাঃ)
১২৭. হযরত সালমা বিন সালামা (রাঃ)
১২৮. হযরত আব্দুল্লাহ্ বিন যায়েদ(রাঃ)
১২৯. হযরত আসেম বিন কায়েস (রাঃ)
১৩০. হযরত আবুস্ সয়্যাহ বিননোমান(রাঃ)
১৩১. হযরত আবু হাব্বাহ বিন আমর (রাঃ)
১৩২. হযরত হারেস বিন নোমান (রাঃ)
১৩৩. হযরত খাওয়াত বিন যুবাইর (রাঃ)
১৩৪. হযরত মুনযির বিন মুহাম্মদ (রাঃ)
১৩৫. হযরত আবু আকীল আব্দুর রহমান (রাঃ)
১৩৬. হযরত আবু দুজানা (রাঃ)
১৩৭. হযরত সা’দ বিন খায়সামা (রাঃ)
১৩৮. হযরত মুনযির বিন কুদামা (রাঃ)
১৩৯. হযরত মালেক বিন কুদামা(রাঃ)
১৪০. হযরত হারেস বিন আরফাজা(রাঃ)
১৪১. হযরত জাবের বিন আব্দুল্লাহ(রাঃ)
১৪২. হযরত মালেক বিন নুমায়লা(রাঃ)
১৪৩. হযরত খারেজা বিন যায়েদ(রাঃ)
১৪৪. হযরত সা’দ বিন রবী’ (রাঃ)
১৪৫. হযরত আব্দুল্লাহ্ বিনরাওয়াহা(রাঃ)
১৪৬. হযরত বশির বিন সা’দ (রাঃ)
১৪৭. হযরত সিমাক বিন সা’দ (রাঃ)
১৪৮. হযরত সুবাঈ বিন কায়েস (রাঃ)
১৪৯. হযরত আব্বাদ বিন কায়েস(রাঃ)
১৫০. হযরত ইয়াযিদ বিন হারেস(রাঃ)
১৫১. হযরত খোবায়ের বিন য়াসাফ(রাঃ)
১৫২. হযরত আব্দুল্লাহ্ বিন কায়েস(রাঃ)
১৫৩. হযরত হারিস বিন যিয়াদ (রাঃ)
১৫৪. হযরত তামীম বিন য়াআর (রাঃ)
১৫৫. হযরত আব্দুল্লাহ্ বিন উমায়ের(রাঃ)
১৫৬. হযরত যায়েদ বিন মুযাইন (রাঃ)
১৫৭. হযরত আব্দুল্লাহ্ বিন উরফুতাহ্(রাঃ)
১৫৮. হযরত আব্দুল্লাহ্ বিনরবী’ (রাঃ)
১৫৯. হযরত আব্দুল্লাহ্ বিনআব্দুল্লাহ্(রাঃ)
১৬০. হযরত আউস বিন খাওলা (রাঃ)
১৬১. হযরত যায়েদ বিন উবায়েদ(রাঃ)
১৬২. হযরত উকবাহ বিন ওহাব (রাঃ)
১৬৩. হযরত রিফাআহ বিন আমর (রাঃ)
১৬৪. হযরত উসায়ের বিন আসর (রাঃ)
১৬৫. হযরত মা’বাদ বিন আব্বাদ(রাঃ)
১৬৬. হযরত আমের বিন বুকাইর (রাঃ)
১৬৭. হযরত নওফল বিন আব্দুল্লাহ্(রাঃ)
১৬৮. হযরত উবাদা বিন সামেত(রাঃ)
১৬৯. হযরত নোমান বিন মালেক(রাঃ)
১৭০. হযরত সাবেত বিন হায্যাল(রাঃ)
১৭১. হযরত মালেক বিন দুখশুম (রাঃ)
১৭২. হযরত রবী’ বিন ইয়াছ (রাঃ)
১৭৩. হযরত ওয়ারাকা বিন ইয়াছ(রাঃ)
১৭৪. হযরত আমর বিন ইয়াছ (রাঃ)
১৭৫. হযরত আমর বিন কয়েস (রাঃ)
১৭৬. হযরত ফাকেহ বিন বিশ্র (রাঃ)
১৭৭. হযরত নওফল বিন সা’লাবা(রাঃ)
১৭৮. হযরত আব্দুল্লাহ্ বিন সা’লাবা(রাঃ)
১৭৯. হযরত মুনযির বিন আমর (রাঃ)
১৮০. হযরত আবু উসায়েদ মালেক(রাঃ)
১৮১. হযরত মালেক বিন মাসউদ(রাঃ)
১৮২. হযরত আবদে রাব্বিহি (রাঃ)
১৮৩. হযরত কা’ব বিন জাম্মায (রাঃ)
১৮৪. হযরত জমরাহ বিন আমর (রাঃ)
১৮৫. হযরত যিয়াদ বিন আমর (রাঃ)
১৮৬. হযরত হুবাব বিন মুনযির (রাঃ)
১৮৭. হযরত উমায়ের বিন হারাম(রাঃ)
১৮৮. হযরত উমায়ের বিন হুমাম (রাঃ)
১৮৯. হযরত আব্দুল্লাহ্ বিন আমর (রাঃ)
১৯০. হযরত মুআজ বিন আমর (রাঃ)
১৯১. হযরত মুআউওয়াজ বিন আমর (রাঃ)
১৯২. হযরত খাল্লাদ বিন আমর (রাঃ)
১৯৩. হযরত উকবাহ্ বিন আমের (রাঃ)
১৯৪. হযরত সাবেত বিন খালেদ(রাঃ)
১৯৫. হযরত বিশ্র বিন বারা (রাঃ)
১৯৬. হযরত তোফায়েল বিন মালেক(রাঃ)
১৯৭. হযরত তোফায়েল বিন নোমান(রাঃ)
১৯৮. হযরত সিনান বিন সাঈফী(রাঃ)
১৯৯. হযরত আব্দুল্লাহ্ বিন জাদ (রাঃ)
২০০. হযরত উৎবা বিন আব্দুল্লাহ্(রাঃ)
২০১. হযরত জাব্বার বিন সাখর (রাঃ)
২০২. হযরত খারেজা বিন হিময়ার(রাঃ)
২০৩. হযরত আব্দুল্লাহ্ বিনহুমায়্যির(রাঃ)
২০৪. হযরত ইয়াযিদ বিন মুনযির (রাঃ)
২০৫. হযরত আব্দুল্লাহ্ বিন নোমান(রাঃ)
২০৬. হযরত জহহাক বিন হারেসা(রাঃ)
২০৭. হযরত আসওয়াদ বিন যুরাইক(রাঃ)
২০৮. হযরত মা’বাদ বিন কায়েস(রাঃ)
২০৯. হযরত আব্দুল্লাহ্ বিন কায়েসখালেদ(রাঃ)
২১০. হযরত আব্দুল্লাহ্ বিন আব্দেমানাফ্(রাঃ)
২১১. হযরত খালিদ বিন কায়েস(রাঃ)
২১২. হযরত সুলাইম বিন আমর (রাঃ)
২১৩. হযরত কুতবা বিন আমের (রাঃ)
২১৪. হযরত আন্তারা মাওলা বনীসুলাইম(রাঃ)
২১৫. হযরত আব্স বিন আমের (রাঃ)
২১৬. হযরত সা’লাবা বিন আনামা(রাঃ)
২১৭. হযরত আবুল য়াসার বিন আমর(রাঃ)
২১৮. হযরত উবাদা বিন কয়েস (রাঃ)
২১৯. হযরত আমর বিন তাল্ক (রাঃ)
২২০. হযরত মুআজ বিন জাবাল (রাঃ)
২২১. হযরত কয়েস বিন মুহ্সান (রাঃ)
২২২. হযরত হারেস বিন কয়েস (রাঃ)
২২৩. হযরত সা’দ বিন উসমান (রাঃ)
২২৪. হযরত উকবা বিন উসমান (রাঃ)
২২৫. হযরত জাকওয়ান বিন আবদেকয়েস(রাঃ)
২২৬. হযরত মুআজ বিন মায়েস (রাঃ)
২২৭. হযরত আয়েজ বিন মায়েজ(রাঃ)
২২৮. হযরত মাসউদ বিন সা’দ (রাঃ)
২২৯. হযরত রিফাআ বিনরাফে’ (রাঃ)
২৩০. হযরত খাল্লাদ বিনরাফে’ (রাঃ)
২৩১. হযরত উবায়েদ বিন যায়েদ(রাঃ)
২৩২. হযরত যিয়াদ বিন লাবীদ(রাঃ)
২৩৩. হযরত ফারওয়াহ বিন আমর(রাঃ)
২৩৪. হযরত আতিয়্যা বিন নুওয়াইরা(রাঃ)
২৩৫. হযরত খলিফা বিন আদী (রাঃ)
২৩৬. হযরত উমারা বিন হায্ম(রাঃ)
২৩৭. হযরত সুরাকা বিন কা’ব (রাঃ)
২৩৮. হযরত হারেসা বিন নোমান(রাঃ)
২৩৯. হযরত সুলাইম বিন কয়েস (রাঃ)
২৪০. হযরত সুহাইল বিন কয়েস (রাঃ)
২৪১. হযরত আদী বিন আবুয্ যাগ্বা(রাঃ)
২৪২. হযরত মাসউদ বিন আউস (রাঃ)
২৪৩. হযরত আবু খুজাইমাহ্ বিন আউস(রাঃ)
২৪৪. হযরত রাফে’ বিন হারেস(রাঃ)
২৪৫. হযরত মুআওয়াজ বিন হারেস(রাঃ)
২৪৬. হযরত নোমান বিন আমর (রাঃ)
২৪৭. হযরত আমের বিন মুখাল্লাদ(রাঃ)
২৪৮. হযরত উসাইমা আশযায়ী (রাঃ)
২৪৯. হযরত ওদীআহ বিন আমর (রাঃ)
২৫০. হযরত আবুল হামরা মাওলাহারেস(রাঃ)
২৫১. হযরত সা’লাবা বিন আমর (রাঃ)
২৫২. হযরত সুহাইল বিন আতীক (রাঃ)
২৫৩. হযরত হারেস বিন আতীক (রাঃ)
২৫৪. হযরত হারেস বিন ছিম্মাহ(রাঃ)
২৫৫. হযরত উবাই বিন কা’ব (রাঃ)
২৫৬. হযরত আনাস বিন মুআজ (রাঃ)
২৫৭. হযরত আউস বিন সামেত (রাঃ)
২৫৮. হযরত আবু তাল্হা যায়েদ বিনছাহল(রাঃ)
২৫৯. হযরত হারেসা বিন সুরাকা(রাঃ)
২৬০. হযরত আমর বিন সা’লাবা (রাঃ)
২৬১. হযরত সাবেত বিন খানছা(রাঃ)
২৬২. হযরত আমের বিন উমাইয়াহ্(রাঃ)
২৬৩. হযরত মুহ্রিয বিন আমের (রাঃ)
২৬৪. হযরত সাওয়াদ বিনগাযিয়্যাহ(রাঃ)
২৬৫. হযরত আবু যায়েদ কয়েস বিনসাকান(রাঃ)
২৬৬. হযরত আবুল আওয়ার বিনহারেস(রাঃ)
২৬৭. হযরত হারাম বিন মিল্হান(রাঃ)
২৬৮. হযরত কয়েস বিন আবী সা’সা(রাঃ)
২৬৯. হযরত আব্দুল্লাহ্ বিন কা’ব(রাঃ)
২৭০. হযরত উসাইমা আসাদী (রাঃ)
২৭১. হযরত আবু দাউদ উমাইর (রাঃ)
২৭২. হযরত সুরাকা বিন আমর (রাঃ)
২৭৩. হযরত কয়েস বিন মাখলাদ (রাঃ)
২৭৪. হযরত নোমান বিন আব্দে আমর(রাঃ)
২৭৫. হযরত জহ্হাক বিন আব্দে আমর(রাঃ)
২৭৬. হযরত সুলাইম বিন হারেস (রাঃ)
২৭৭. হযরত জাবের বিন খালেদ(রাঃ)
২৭৮. হযরত সা’দ বিন সুহাইল (রাঃ)
২৭৯. হযরত কা’ব বিন যায়েদ (রাঃ)
২৮০. হযরত বুজাইর বিন আবিবুজাইর(রাঃ)
২৮১. হযরত ইৎবান বিন মালেক (রাঃ)
২৮২. হযরত মুলাইল বিন ওবারাহ(রাঃ)
২৮৩. হযরত হেলাল বিন মুআল্লাহ(রাঃ)
২৮৪. হযরত আনাছাহ আল হাবাশী(রাঃ)
২৮৫. হযরত বাহ্হাস বিন সালাবা(রাঃ)
২৮৬. হযরত জাব্র বিন আতীক (রাঃ)
২৮৭. হযরত আবু আয়্যুব আনছারী (রাঃ)
২৮৮. হযরত খিরাশ ইবনুস সিম্মাহ(রাঃ)
২৮৯. হযরত খুরাইম বিন ফাতেক(রাঃ)
২৯০. হযরত খুবাইব বিন ইছাফ (রাঃ)
২৯১. হযরত খুবাইব বিন আদী (রাঃ)
২৯২. হযরত খিদাশ বিন কাতাদা(রাঃ)
২৯৩. হযরত খালেদ বিন সুওয়াইদ(রাঃ)
২৯৪. হযরত রাফে’ বিন আল মুআল্লা(রাঃ)
২৯৫. হযরত রুখায়লা বিন সা’লাবা(রাঃ)
২৯৬. হযরত সাব্রা বিন ফাতেক(রাঃ)
২৯৭. হযরত সুহাইল বিনরাফে’ (রাঃ)
২৯৮. হযরত সুওয়াইবিত বিনহারমালা(রাঃ)
২৯৯. হযরত তুলাইব বিন উমাইর (রাঃ)
৩০০. হযরত উবাদা বিন খাশখাশকুজায়ী(রাঃ)
৩০১. হযরত আব্দুল্লাহ্ বিন জুবাইরবিননোমান (রাঃ)
৩০২. হযরত আবু সালামা বিন আব্দুলআসাদ (রাঃ)
৩০৩. হযরত আব্দুল্লাহ্ বিন আব্স (রাঃ)
৩০৪. হযরত আব্দুল্লাহ্ বিন উনায়েছ(রাঃ)
৩০৫. হযরত উবাইদ বিন সা’লাবা(রাঃ)
৩০৬. হযরত উমায়ের বিন নিয়ার(রাঃ)
৩০৭. হযরত মালেক বিন আবীখাওলা(রাঃ)
৩০৮. হযরত মালেক বিন কুদামা(রাঃ)
৩০৯. হযরত মুরারা বিনরবী’ (রাঃ)
৩১০. হযরত মাসউদ বিন খাল্দাহ(রাঃ)
৩১১. হযরত মুআজ বিন হারেস (রাঃ)
৩১২. হযরত মা’কিল বিন আলমুনযির(রাঃ)
৩১৩. হযরত নোমান বিন আছার বিনহারেছ (রাঃ)

তারাবির নামাজ

তারাবি নামাজ পড়িতে যাইব মোল্লাবাড়িতে আজ,মেনাজদ্দীন, কলিমদ্দীন, আয় তোরা করি সাজ।চালের বাতায় গোঁজা ছিল সেই পুরাতন জুতা জোড়া,ধুলাবালু আর রোদ লেগে তাহা হইয়াছে পাঁচ মোড়া।তাহারি মধ্যে অবাধ্য এই চরণ দুখানি ঠেলে,চল দেখি ভাই খলিলদ্দীন, লুন্ঠন-বাতি জ্বেলে।ঢৈলারে ডাক, লস্কর কোথা, কিনুরে খবর দাও।মোল্লাবাড়িতে একত্র হব মিলি আজ সারা গাঁও। গইজদ্দীন গরু ছেড়ে দিয়ে খাওয়ায়েছে মোর ধান,ইচ্ছা করিছে থাপপড় মারি, ধরি তার দুটো কান।তবু তার পাশে বসিয়া নামাজ পড়িতে আজিকে হবে,আল্লার ঘরে ছোটোখাটো কথা কেবা মনে রাখে কবে!মৈজদ্দীন মামলায় মোরে করিয়াছে ছারেখার,টুটি টিপে তারে মারিতাম পেলে পথে কভু দেখা তার।আজকে জামাতে নির্ভয়ে সে যে বসিবে আমার পাশে,তাহারো ভালর তরে মোনাজাত করিব যে উচ্ছাসে।মাহে রমজান আসিয়াছে বাঁকা রোজার চাঁদের ন্যায়,কাইজা ফেসাদ সব ভুলে যাব আজি তার মহিমায়।ভুমুরদি কোথা, কাছা ছাল্লাম আম্বিয়া পুঁথি খুলে,মোর রসুলের কাহিনী তাহার কন্ঠে উঠুক দুলে।মেরহাজে সেই চলেছেন নবী, জুমজুমে করি স্নান,অঙ্গে পরেছে জোছনা নিছনি আদমের পিরহান।নুহু আলায়হুছালামের টুপী পরেছেন নবী শিরে,ইবরাহিমের জরির পাগরী রহিয়াছে তাহা ঘিরে।হাতে বাঁধা তার কোরান-তাবিজ জৈতুন হার গলে,শত রবিশশী একত্র হয়ে উঠিয়াছে যেন জ্বলে।বুরহাকে চড়ে চলেছেন নবী কন্ঠে কলেমা পড়ি,দুগ্ধধবল দূর আকাশের ছায়াপথ রেখা ধরি।আদম ছুরাত বামধারে ফেলি চলে নবী দূরপানে,গ্রহ-তারকার লেখারেখাহীন ছায়া মায়া আসমানে। তারপর সেই চৌঠা আকাশ, সেইখানে খাড়া হয়ে,মোনাজাত করে আখেরী নবীজী দুহাত উর্ধ্বে লয়ে।এই যে কাহিনী শুনিতে শুনিতে মোল্লা বাড়ির ঘরে,মহিমায় ঘেরা অতীত দিনেরে টানিয়া আনিব ধরে। বচন মোল্লা কোথায় আজিকে সরু সুরে পুঁথি পড়ি,মোর রসুলের ওফাত কাহিনী দিক সে বয়ান করি।বিমারের ঘোরে অস্থির নবী, তাঁহার বুকের পরে,আজরাল এসে আসন লভিল জান কবজের তরে।আধ অচেতন হজরত কহে, এসেছ দোস্ত মোর,বুঝিলাম আজ মোর জীবনের নিশি হয়ে গেছে ভোরএকটুখানিক তবুও বিমল করিবারে হবে ভাই!এ জীবনে কোন ঋণ যদি থাকে শোধ করে তাহা যাই।******মাটির ধরায় লুটায় নবীজী, ঘিরিয়া তাহার লাশ,মদিনার লোক থাপড়িয়া বুক করে সবে হাহুতাশ।আব্বাগো বলি, কাঁদে মা ফাতিমা লুটায়ে মাটির পরে,আকাশ ধরনী গলাগলি তার সঙ্গে রোদন করে।এক ক্রন্দন দেখেছি আমরা বেহেস্ত হতে হায়,হাওয়া ও আদম নির্বাসিত যে হয়েছিল ধরাছায়;যিশু-জননীর কাঁদন দেখেছি ভেসে-র পায়া ধরে,ক্রুশ বিদ্ধ সে ক্ষতবিক্ষত বেটার বেদন স্মরে।আরেক কাঁদন দেখেছি আমরা নির্বাসী হাজেরার,জমিনের পরে শেওলা জমেছে অশ্রু ধারায় তার;সবার কাঁদন একত্রে কেউ পারে যদি মিশাবার,ফাতিমা মায়ের কাঁদনের সাথে তুলনা মেলে না তার। আসমান যেন ভাঙ্গিয়া পড়িল তাহার মাথায় হায়,আব্বা বলিতে আদরিয়া কেবা ডাকিয়া লইবে তায়।গলেতে সোনার হারটি দেখিয়া কে বলিবে ডেকে আর,নবীর কনের কন্ঠে মাতাগো এটি নহে শোভাদার।সেই বাপজান জনমের মত গিয়াছে তাহার ছাড়ি।কোন সে সুদূর গহন আঁধার মরণ নদীর পাড়ি।জজিরাতুল সে আরবের রাজা, কিসের অভাব তার,তবু ভুখা আছে চার পাঁচদিন, মুছাফির এলো দ্বার।কি তাহারে দিবে খাইবারে নবী, ফাতেমার দ্বারে এসে;চারিটি খোরমা ধার দিবে মাগো কহে এসে দীন বেশে।সে মাহভিখারী জনমের মত ছাড়িয়া গিয়াছে তায়,আব্বাগো বলি এত ডাক ডাকে উত্তর নাহি হায়।এলাইয়া বেশ লুটাইয়া কেশ মরুর ধূলোর পরে,কাঁদে মা ফাতেমা, কাঁদনে তাহার খোদার আরশ নড়ে।কাঁদনে তাহার ছদন সেখের বয়ান ভিজিয়া যায়,গৈজদ্দীন পিতৃ-বিয়োগ পুন যেন উথলায়!খৈমুদ্দীন মামলায় যারে করে ছিল ছারেখার,সে কাঁদিছে আজ ফাতিমার শোকে গলাটি ধরিয়া তার।মোল্লাবাড়ির দলিজায় আজি সুরা ইয়াসিন পড়ি,কোন দরবেশ সুদূর আরবে এনেছে হেথায় ধরি।হনু তনু ছমু কমুরে আজিকে লাগিছে নূতন হেন,আবুবক্কর ওমর তারেখ ওরাই এসেছে যেন।সকলে আসিয়া জামাতে দাঁড়াল, কন্ঠে কালাম পড়ি,হয়ত নবীজী দাঁড়াল পিছনে ওদেরি কাতার ধরি।ওদের মাথার শত তালী দেওয়া ময়লা টুপীর পরে,দাঁড়াইল খোদা আরশ কুরছি ক্ষনেক ত্যাজ্য করে। *** মোল্লাবাড়িতে তারাবি নামাজ হয় না এখন আর,বুড়ো মোল্লাজি কবে মারা গেছে, সকলই অন্ধকার।ছেলেরা তাহার সুদূর শহরে বড় বড় কাজ করে,বড় বড় কাজে বড় বড় নাম খেতাবে পকেট ভরে।সুদূর গাঁয়ের কি বা ধারে ধার, তারাবি জামাতে হায়,মোমের বাতিটি জ্বলিত, তাহা যে নিবেছে অবহেলায়।বচন মোল্লা যক্ষ্মা রোগেতে যুঝিয়া বছর চার,বিনা ঔষধে চিকিৎসাহীন নিবেছে জীবন তার।গভীর রাত্রে ঝাউবনে নাকি কন্ঠে রাখিয়া হায়,হোসেন শহিদ পুঁথিখানি সে যে সুর করে গেয়ে যায়।ভুমুরদি সেই অনাহারে থেকে লভিল শূলের ব্যথা,চীৎকার করি আছাড়ি পিছাড়ি ঘুরিতে যে যথা তথা।তারপর সেই অসহ্য জ্বালা সহিতে না পেরে হায়,গলে দড়ি দিয়ে পেয়েছে শানি- আম্রগাছের ছায়।কাছা ছাল্লাম পুঁথিখানি আজো রয়েছে রেহেল পরে,ইদুরে তাহার পাতাগুলি হায় কেটেছে আধেক করে।লঙ্কর আজ বৃদ্ধ হয়েছে, চলে লাঠিভর দিয়ে,হনু তনু তারা ঘুমায়েছে গায়ে গোরের কাফন নিয়ে। সারা গ্রামখানি থম থম করে স্তব্ধ নিরালা রাতে;বনের পাখিরা আছাড়িয়া কাঁদে উতলা বায়ুর সাথে।কিসে কি হইল, কি পাইয়া হায় কি আমরা হারালাম,তারি আফসোস শিহরি শিহরি কাঁপিতেছে সারা গ্রাম।ঝিঁঝিরা ডাকিছে সহস্র সুরে, এ মূক মাটির ব্যথা,জোনাকী আলোয় ছড়ায়ে চলিছে বন-পথে যথা তথা।

facebook sharing button
twitter sharing button
linkedin sharing button
messenger sharing button

ধয্যের গুন

✅১. কথা হজম করতে শিখুন। এইটা অনেক বড় গুণ। আপনাকে জীবনে জিততে সহায়তা করবে।

✅২. কখনও তর্কে জিততে যাবেন না। এটা সময়ের অপচয়।

✅৩.আপনার প্রতিপক্ষকে জিতিয়ে দিন। আপনার প্রতিপক্ষ যদি খুশী হয় সে জিতে গেছে ভেবে। আপনি একটু হাসুন।

✅৪. মনে রাখবেন, কখনও কখনও জিততে হলে হারতে হবে। আর আপনার আজকের এই হারই আপনাকে বড় জয় এনে দিবে।

✅৫. হারতে শিখুন। সব জায়গায় জিততে নেই। এটা বোকামি।

✅৬. মনে রাখবেন, কথায় কাজ হবে না। তাই কাজ শুরু করুন নিরবে। আপনার কাজই কথা বলবে।

✅৭. আপনাকে যারা বিশ্বাস করে না, তাদের চিন্তা বাদ দিন। নিজেকে বিশ্বাস করুন। নিজের প্রতি বিশ্বাস আপনাকে সবার মাঝে বিশ্বাসী করে তুলবে।

✅৮. আপনি অনেক কিছু পারেন। কি দরকার বলে বেড়ানোর। কাজ করুন। যার প্রয়োজন সে আপনাকে এমনেতেই খুজে বের করবে।

✅৯. মনে রাখবেন, চিতা বাঘ কখনও কুকুরের সাথে দৌড় প্রতিযোগিতা করে না। কুকুরদের জিততে দিন। আপনি যে চিতা বাঘ তা বোঝানোর জন্য সঠিক সময়ের অপেক্ষায় থাকুন।

✅১০. নিজের প্রয়োজনেই তর্ক এড়িয়ে চলুন। আর নিরবে কাজ করুন। আপনার কাজই কথা বলবে।

বাদরের যুদ্ধ

আজ ১৭ ই রমজান ঐতিহাসিক বদর দিবস। এই সেই বদর প্রান্তর যেখানে সংগঠিত হয়েছিল ইসলামের সেই প্রথম বদর যুদ্ধ। গত ৩ মাস পূর্বে ১৭ জানুয়ারী-২০ আমি, আমার বড় ছেলে উবাইদুল্লাহ মিসবাহ ইয়াহইয়া, ছোট ছেলে সাঈদ মিসবাহ যাকারিয়া, আমার আহলিয়া ও আমার মাসহ স্বপরিবারে গিয়েছিলাম ওমরার সফরে। তখন আমরা গিয়েছিলাম এ বদর প্রান্তর পরিদর্শন করতে। ছবিটা আমার নিজ হাতে তোলা। ২০১৭ সালে আল্লাহ তায়ালা হজ্বে যাওয়ার তাওফিক দিয়েছিলেন। তখন অনেক স্থান পরিদর্শন করলেও যাওয়া হয়নি বদর প্রান্তরে। তাই মনের কোঠায় একটা শুণ্যতা বিরাজ করছিল। হ্যা, আল্লাহ তায়ালা তা ওমরার সফরে পূরণ করে দিলেন, ফালিল্লাহিল হামদ।
আল্লাহ আমাদের সকল বন্ধুকে এ বদর প্রান্তর দেখে ঈমানকে শাণিত করার তাওফিক দান করুন।

**আমার জন্মভূমি**

ধন্য আমার জন্মভূমি ধন্য আমার মা,
ধন্য আমার মাতৃভাষা, ধন্য আমার গাঁ।
সকল দেশের সেরা দেশটি আমরা পেয়েছি,
এই দেশেতে জন্ম নিয়ে ধন্য হয়েছি।
ছয়টি ঋতু ছয়টি রংঙ্গে সাজে আমার দেশ।
এ যেন এক অদৃশ্য মেলা নাইতো রূপের শেষ।
গৃষ্মের প্রখরতায় মাঠ চৌচির।
বর্ষায় অথৈ পানি ডুবে মাঠ-বিল।
সরতে আকাশ যেন নীল আর নীল।
হেমন্তের আগমনে মৌ মৌ গ্ৰান,
মাঠ ভরা দেখা যায় ধান আর ধান।
শীতের সকালে কুয়াশার মেলা,
ঘাসের উপর শিশির বিন্দু করে কত খেলা।
বসন্তের আগমনে গাছে গাছে ফুল,
আবার ও ভাসিয়ে উঠে নদীর দুই কূল।জৈষ্ট মাসে চার দিকে মুহু মুহু মকাটালের গ্রান।
মোঃইমরান খাঁন।

সত্য প্রকাশ

স্বামী বাজারে গিয়ে স্ত্রীকে
ফোন করছে,
কিন্তু নাম্বার ওয়েটিং, স্বামী
বাসায় এসে
দরজার ওপাশ থেকে স্ত্রীকে
সালাম
দিলেন, তারপর জিজ্ঞাসা করলেন
কেমন
আছো??
স্ত্রী বলল ভাল, স্বামী বলল,
তোমায়
ফোন
করেছিলাম, কিন্তু নাম্বার
ওয়েটিং
ছিলো,
কোথায় কথা বলছিলে, স্ত্রী বলল
আমার
বান্ধবীর সাথে,
স্বামী বলল, আমার আল্লাহ
সুবহানাহু তায়ালা আদেশ করেছেন
সত্য বলার
জন্য, যদিও তোমার জীবন বিপন্ন
হয়ে
যায়,
আর বান্দা যখন মিথ্যা কথা বলে,
তখন
তাহার
মিথ্যা কথার দুর্গন্ধে ফেরেশতা ১
মাইল দূরে
চলে যায়। আর আল্লাহর রাসূল
বলেছেন,
আমার উম্মত কখনো মিথ্যাবাদী
হতে
পারেনা।
স্ত্রী কিছুক্ষণ চুপ থাকার পর বলল,
আমার
এক
বন্ধুর সাথে কথা বলছিলাম,
স্বামী বলল দেখ
আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা, স্বামী
স্ত্রীর
সম্পর্ক হালাল, আর তুমি যে ছেলের
সাথে
কথা বললে, এমন ছেলেদের সাথে
কথা
বলা
হারাম, তুমি কি জানো জান্নাত
কোথায়।
স্ত্রী বলল না,
স্বামী বলল, হুজুর পাক (সাঃ)
বলেছেন, জান্নাত তোমার দু উরু ও দু
চোয়ালের মধ্যেখানে, যে ব্যক্তি
এই
দুটি
জিনিসের হেফাজত করবে, সে
জান্নাতি।
স্বামী নামাজে দাঁড়ালেন,
নামাজ
শেষে
স্ত্রীর জন্য দোয়া করলেন, ইয়া
আল্লাহ
তুমি
যদি হযরত ওয়াশী( রাঃ)মতো কঠিন
হৃদয়ের
মানুষকে, দ্বীনের বুঝ দিতে পারো,
হযরত
উমার ফারুক (রাঃ) মতো কঠিন
মানুষকে
দ্বীনের বুঝ দিতে পারো, তাহলে
আমার
স্ত্রীকে ও তুমি হেদায়েত দাও,
তার
মাধ্যমে
আমাকে নেক্কার সন্তান দাও।
স্ত্রী স্বামীর মোনাজাত শুনে,
চিন্তা করলো
আমি যার সাথে কথা বলি সে তো,
এই
মানুষের জুতা টানার যোগ্যতা
নাই, সব
কিছু
জেনেও আমাকে এতোটা
ভালবাসে।
আর
নয়, আজই তওবা করবো, আর স্বামীর
পায়ে
ধরে ক্ষমা চাইবো।
গভীর রাতে স্ত্রী তার স্বামীর
পায়ে ধরে
ক্ষমা চাইছে, স্বামী বলছে, আমি
জানি তুমি
অবুঝ, তাই ভূল করেছো, আল্লাহ
তোমায়
হেফাজত করুন, স্বামী তাহার
স্ত্রীকে
বুকে
টেনে নিয়ে চোখের পানি ছেড়ে,
আল্লাহর
দরবারে
শুকরিয়া আদায় করলো।
আমাদের সমাজে আজকাল এমন
ছেলে
পাওয়াই কষ্টকর, আপনার স্ত্রী তো
আর
ফেরেশতা নয়,
তাহলে তার ভূল গুলো কেন
সুধরে নিতে পারেন না।
আল্লাহ্ সবার ভাগ্যে এমন নেককার
স্বামী স্ত্রী নসিব
করে দিও, #আমিন,,,,,
যদি পোস্ট ভালো লাগে শেয়ার করতে বুলবেন না,, আপনার শেয়ার করার কারনে কারো হয়তো আলোর চোখ খোলে যেতে পারে,, ধন্যবাদ

আরবি শব্দ শিখা

১২৫ টি শব্দের অর্থ জানলে কুরআনের ৫৫% শব্দের অর্থ জানা হয়ে যায় আর ৩২০ টি জানলে জানা হয় ৭৫%!!!

এভাবে যদি আগে কখনও ভাবতাম!

জ্বি, ঠিক তাই। কুরআনের শব্দ সংখ্যা ৭৭,৪০০ এর কিছু বেশি হলেও ধাতু ও মৌলিকত্বের বিচারে শব্দ মাত্র ১৮২০ টি। এই শব্দগুলোর অনেক শব্দেরই ঘটেছে পুনরাবৃত্তি। তাই, বেশি ব্যবহৃত শব্দগুলো আগে শিখলে কুরআনের আয়াতগুলোর অর্থ বুঝতে সহজ হয়।

আমার মত যারা মাদ্রাসায় পড়েনি বা আরবী যাদের ভাষা নয়, তারা এসব পুনরাবৃত্তিমূলক শব্দগুলো হতে ৫-১০ টি দৈনিক মনে রাখলে বেশিদিন লাগবে না এসব জানতে ইনশা-আল্লাহ। দ্রুতই তখন কুরআন পড়ার সময় দেখবেন অর্থ পুরো না বুঝলেও অনেক আয়াতেরই অর্থের অনুবাদ ছাড়াই অনেকটা কাছাকাছি যেতে পারবেন।

আল্লাহ আমাদের জন্য কুরআন বুঝা ও মানা সহজ করুন, আমীন।

আমাদের মাতৃভাষা বাংলা,সেজন্য আমরা যখন কোরআন পড়ি ,না বুঝেই তেলাওয়াত করতে হয় কারণ আমরা কোরআনিক আরবী জানিনা,কোরআন পড়ার পাশাপাশি বুঝে পড়াটা খুব জরুরী।তেলাওয়াতের সময় যখন তেলাওয়াত করি তখন শুধু আবৃত্তি করি কিন্তু কী পড়তেছি কী এটার ব্যাখা, এটার অর্থ কী আমরা জানিনা!নামাযে যখন ইমামের পেছনে শুনি তখন যদি আমরা কুরআনের আরবী বুঝতে পারতাম তাহলে নামাযে খুশু খুযু আসতো,মনোযোগ দিতে পারতাম।কিন্তু আমরা কী করি?
সারাটা জীবনই এভাবে না বুঝে কাটিয়ে দেই ,কখনও কুরআনের আরবী শেখার চেষ্টাও করিনা!কতোই অভাগা আমরা!
পার্থিব জীবনের সফলতার জন্য বইয়ের পর বই আমরা মুখস্ত করতে পারি। গেগ্রাসে গিলতে পারি শত শত থিওরী,শুধুমাত্র এই দুনিয়ায় কয়টা বছর ভালো থাকার জন্য।অথচ কখনোই দ্বীনি ইলম জানার জন্য চেষ্টা করিনা আমরা।
রাসুলুল্লাহ (স) বলেন :জ্ঞান অর্জন প্রত্যেক মুসলিম নর নারীর উপর ফরয।
কোরআনিক আরবী শিখতে হলে আমরা ভয় পাই,মনে করি না জানি এটা কতো কঠিন।আসলে যারা শিখেছেন তাদের অভিজ্ঞতা মতে এটা ততোটাই সহজ শুধুমাত্র একটু চেষ্টা দরকার।আপনাকে পুরো আরবী ভাষা শিখতে হবেনা। vocabulary শিখতে হবে যতো বেশি পারেন।আজকে ইনশাআল্লাহ পবিত্র কোরআনে অনেক বেশি ব্যবহৃত ১০০ টি শব্দ দেয়ার চেষ্টা করবো।এগুলো একদম বেসিক noun,pronoun, adjective, verb,preposition and question words.জোড়া তালি দেয়ার শব্দগুলো শিখতে পারলে ইনশাআল্লাহ যখন vocabulary আরো বেশি করে জানবেন তখন আরবী পড়ে নিজেই অর্থ বুঝে নিতে পারবেন।প্রতিদিন পাচটি করে শব্দ শিখবেন এটাই যথেষ্ট।

1st day:
1.هَذَا[হাযা](this(male-এটা
2.هَـذِهِ -[হাযিহি]this(female এটা)
3.هَـؤُلآءِ -[হা-উলা-ই]these (এইসকল)
4.ذَلِكَ -[যালিকা]that(male যাহা, যে)
5.تِلْكَ -[তিলকা]that(female যাহা,যে)

2nd day :
6.أُولَئِكَ -[উলাইকা]those(যাহারা,সেগুলো)
7.اَلَّذِىْ -[আল্লাযি]who(male যে)
8.اَلَّتِىْ -[আল্লাতি]who (female)
9.اَلَّذِيْنَ -[আল্লাযিনা]those who(তোমরা যারা)
10.تَحْتَ -[তাহতা]under(তলদেশে,নিচে)

3rd day :
11.فَوْقَ -[ফাওক্বা]above(উপর)
12.قَبْلَ -[ক্ববলা](before -(সামনে,আগে
13.ﺑَﻌْدَ -[বা’দা]after(পরে,পরবর্তী কালে,)
14.بَيْنَ -[বাইনা]between(মধ্যবর্তী স্থানে)
15.دُونَ -[দুনা]besides(তুলনায়,পার্শ্বে)

4th day :
16.عِنْدَ -[‘ইন্দা]near (নিকটবর্তী, প্রায়)
17.يَمِيْنْ -[ইয়ামিন]right(ন্যায়,ঠিক,সত্য)
18.شِمَالْ -[শিমাল]left(বাদিকে)
19.ٱللَّه -Allah
20.رَب -রব

5th day :
21.أَرْض -[আরদ্বা](পৃথিবী (World
22.قَوْم -[ক্বওম]nation জাতি
23.ءَايَة -[আয়াহ]চিহ্ন /আায়াত
24.كُل -[কুল্লু]every (প্রত্যেক, সব)
25.رَسُول -[রসূল]messenger (দূত)

6th day :
26.يَوْم -[ইয়াওম] day (দিন)
27.عَذَاب – [‘আযাব] punishment (আজাব)
28.سَمَآء -[সামা’] sky(আকাশ)
29.شَىْء -[শাইই্] thing(জিনিস,ঘটনা,ব্যাপার)
30.كِتَاب -[কিতাব

7th day :
31.حَق -[হাক্ব] truth (সত্য)
32.نَاس – [নাস] people (সম্প্রদায়)
33.مِن – [মিন] from (হতে, থেকে)
34.فِى -[ফী] in (অভ্যন্তরে, মধ্যে)
35.عَلَى -[‘আলা] upon (সন্নিকটে)

8th day :
36.اِلَى -[ইলা] to (কাছে, প্রতি)
37.عَن -[‘আন] about (সম্পর্কিত,সম্পর্ক)
38.حَتَّی -[হাঁত্তা] until (যতক্ষণ না)
39.مَعَ -[মা’আ]with(একত্রে, সঙ্গে)
40.بِ -[বি]with(সাথে)

9th day:
41.كَ -[কা]like (মত,প্রায়)
42.لِ -[লি] for (জন্য)
43.مَن -[মান] who (যে)
44.مَا / مَاذَا -[মা যা] (what (কী, যাহা
45.أَيْنَ -[আইনা] where (যেথায়,কোথায়)

10 the day :
46.مَتى -[মাতা] when(কখন,তখন)
47.لِمَ / لِمَاذَا -[লিমা/লিমা যা] why(কেন,কী জন্য)
48.كَيْفَ -[কাইফা] how (কেমন,কিভাবে)
49.هَلْ -[হাল] are (হয়)
50.أَيُّ -[আইয়্যু] which (যেটি, যেগুলো)
11 the day :
51.كَمْ -[কামা] how much (কতোটুকু)
52.لَا -[লা] no(না)
53.مَا -[মা] not (মোটেই নয়)
54.لَمْ -[লাম] not (নয়)
55.لَنْ -[লান] never (কখনোও না)

12 th day :
56 .كَلَّا -[কুল্লা] nay (বস্তুত)
57.لَيْسَ -[লাইসা] it is not (মতো নয়)
58.بَلَى -[বালা] of course (নিশ্চয়ই)
59.نَعَمْ [নাআ’ম]-yes
60.مُؤْمِن -[মু’মিন] believer(বিশ্বাসী)

13 th day :
61.سَبِيل -[সাবিল] way (পথ,উপায়)
62.أَمْر -[আম্র]command (আজ্ঞা, নির্দেশ)
63.بَعْض -[বা’দ] some (কেহ,কিছু)
64.خَيْر -[খইর] better (উত্তম, শ্রেষ্ঠ)
65.إِلَٰه -ইলাহ

14 th day :
66.آخِر -[আখির] last ( শেষ)
67.جَنَّة -[জান্নাহ] বাগান
68.نَار -[নার] fire ( আগুন)
69.غَيْر -[গইর] without (ব্যতিরেকে,ব্যতীত)
70.قَلْب -[ক্বলব] heart ( অন্তর)

15th day :
71.عَبْد -[আব্দ]slave (গোলাম)
72.أَهْل -[আহল] family (দল,পরিবার)
73.يَد -[ইয়াদ] hand(আয়ত্তে,হাত)
74.قَالَ -[ক্বলা] he said (বলেছেন)
75.كَانَ [কানা] -he was

16th day :(verbal)
76.ءَامَنَ- [আমানা-he believed (তিনি বিশ্বাস করেছিলেন)
77.عَلِمَ -[আলিমা]he knew (তিনি জানতেন)
78.جَعَلَ -[জা’আলা]he made (তৈরী করেছেন)
79.كَفَرَ -[কাফার] he disbelieved (অবিশ্বাস করেছিলো)
80.جَآءَ [জাআ]-he came

17th day :
81.عَمِلَ -[আমিলা]he did (করেছিলেন)
82.آتَى -[আ—তা] he gave (তিনি দিয়েছেন/লেন)
83.رَءَا -[—রআ]he saw (তিনি দেখেছিলেন)
84.أَتَى -[আতা]he came (তিনি এসেছিলেন)
85.شَآءَ -[শা—আ] he wished (ইচ্ছে পোষণ করেছিলেন)

18th day :
86.خَلَقَ -[খলাক্ব] he created (তিনি তৈরী করেছেন)
87.أَنزَلَ -[আংযালা]he sent down(তিনি প্রেরণ করলেন)
88.كَذَّبَ -[কাযযাবা] he denied (মিথ্যে বলা অর্থে ব্যবহৃতও হয়,অস্বীকার করা অর্থেও)
89.دَعَا -[দা’আা] he invoked (প্রার্থনা করা অর্থে)
90.ٱتَّقَى -[আত্তাক্বা] he feared (ভয়)

19th day :
91.هَدَى -[হাদা] he guided (পরিচালিত করলেন)
92.هُوَ -[হুয়া] he (তিনি,সে)
93.هُمَا -[হুমা] they both (উভয়েই)
94.هُمْ -[হুম] they (male -তারা)
95.هِيَ -[হিয়া] she (এটা স্ত্রীবাচক)(সে)

20 th day :
96.هُنَّ -[হুন্না] they (female তারা)
97.أَنْتَ -[আংতা] you (male,তুমি)
98.أَنْتُمَا -[আংতুমা] you both (তোমরা উভয়েই)
99.أَنَا -[আনা] I (আমি)
100.نَحْنُ -[নাহঁনু] we (আমরা)

উপরিউক্ত শব্দগুলোর সম্ভাব্য বাংলা অর্থ আমি দেয়ার চেষ্টা করেছি,তবে বিভিন্ন আয়াতে শব্দগুলোর অর্থ ভিন্ন হতে পারে সে ব্যাপারে ইনশাআল্লাহ খেয়াল রাখবেন।
যেহেতু কোরআনে কারিম আমাদের জীবনের সঠিক গাইড লাইন দেয়। সে জন্যে অর্থ বুঝে পড়ার চেষ্টা করতে হবে। সকাল, কিংবা রাতে অথবা সাহরির আগে-পরে তাফসির চর্চার কাজ করতে পারেন। কোরআনে কারিমকে বুক সেলফে সাজিয়ে রেখে লাভ নেই। অনুবাদসহ বাংলা তাফসির গ্রন্থ কিনে ঘরের শোভা বাড়িয়ে লাভ নেই। কোরআন শরিফ এবং তাফসিরগুলোকে সেলফ থেকে নামিয়ে পড়ার টেবিলে আনতে হবে, নিয়মিত পড়তে হবে।
আল্লাহ্‌ কোরআনে ৪ বার বলেছেন–

আমি কোরআনকে সহজ করে দিয়েছি বোঝার জন্যে । অতএব, কোন চিন্তাশীল আছে কি ? (সূরা কামার ৫৪:১৭, ২২, ৩২, ৪০)

তাই চলুন কোরআনকে কোরআনের ভাষাতেই বুঝার চেষ্ঠা করি ।

[পুরো লেখাটি কয়েকটি পৃথক লেখার সমন্বয়ে গঠিত। ঈষৎ পরিমার্জিত]
সূত্রঃ তাদাব্বুরে কুরআন ও পাঠশালা গ্রুপ।

সিয়াম

◼ সারাদিন অভুক্ত থেকে গার্লফ্রেন্ড
নিয়ে ঘুরাঘুরির নাম “সিয়াম” নয়।
⏩বরং গার্লফ্রেন্ড থেকে দূরে থাকার
নামই “সিয়াম”।
.
◼ ক্ষুধার্ত পেটে নাটক মুভি দেখে সময় কাটানোকে “সিয়াম” বলে না।
⏩সংযমের জন্য মুভি দেখা থেকে বিরত থাকার নামই “সিয়াম”।
.
◼ অনাহার থেকে মাথা গরম করে
রিকশাওয়ালাকে থাপ্পর
দেওয়াকে “সিয়াম” বলে না।
⏩”সিয়াম” তো তাকেই বলে,যে চরম
বাজে পরিস্থিতিতেও মানুষের সাথে
সদয় ব্যবহার করে।
.
◼ সারাদিন অনাহার থেকে সন্ধ্যাবেলায়
গলা পর্যন্ত ডুবিয়ে খাওয়া “সিয়াম” এর শিক্ষা নয়।
⏩সিয়াম তো পরিমিতিবোধ শেখায়।
.
◼ মাথা গরম করে কাউকে গালি
দেওয়ার নাম “সিয়াম” নয়।
⏩বরং কেউ গালি দিলে, ” আমি সিয়াম” বলে গালি দেওয়া থেকে বিরত থাকার নামই সিয়াম।
.
◼ অবসর পেয়ে “কে সিয়াম রাখে না”
“কার ছেলে-মেয়ে নষ্ট হয়ে গেছে”
ইত্যাদিসহ অন্যের গীবত করে সময় কাটানোর নাম “সিয়াম” নয়।
⏩সব ধরনের গীবত করা থেকে বেঁচে
থাকার নামই “সিয়াম”।
.
◼ আসন্ন ঈদ উপলক্ষ্যে সেজে-গুজে
মার্কেটে ঘুরে বেড়ানো “সিয়াম” এর
শিক্ষা নয়।
⏩বরং নিজেকে হেফাজত করা আর
চোখের গুনাহ থেকে বেঁচে থাকাই
“সিয়াম” এর শিক্ষা।
.
◼ আগেভাগে সেহরী খেয়ে নামাজ বাদ দিয়ে ঘুমিয়ে পড়ার নাম “সিয়াম” নয় ।
⏩বরং সব ওয়াক্ত নামাজ পড়ার
নামই “সিয়াম”।
.
রাসুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ
“ধ্বংস তার জন্য, যে সিয়াম মাস পেল,
অথচ নিজেকে সংশোধন করতে
পারলো না”।
♻ শেয়ার করার অনুরোধ রইল।

সিয়াম

◼ সারাদিন অভুক্ত থেকে গার্লফ্রেন্ড
নিয়ে ঘুরাঘুরির নাম “সিয়াম” নয়।
⏩বরং গার্লফ্রেন্ড থেকে দূরে থাকার
নামই “সিয়াম”।
.
◼ ক্ষুধার্ত পেটে নাটক মুভি দেখে সময় কাটানোকে “সিয়াম” বলে না।
⏩সংযমের জন্য মুভি দেখা থেকে বিরত থাকার নামই “সিয়াম”।
.
◼ অনাহার থেকে মাথা গরম করে
রিকশাওয়ালাকে থাপ্পর
দেওয়াকে “সিয়াম” বলে না।
⏩”সিয়াম” তো তাকেই বলে,যে চরম
বাজে পরিস্থিতিতেও মানুষের সাথে
সদয় ব্যবহার করে।
.
◼ সারাদিন অনাহার থেকে সন্ধ্যাবেলায়
গলা পর্যন্ত ডুবিয়ে খাওয়া “সিয়াম” এর শিক্ষা নয়।
⏩সিয়াম তো পরিমিতিবোধ শেখায়।
.
◼ মাথা গরম করে কাউকে গালি
দেওয়ার নাম “সিয়াম” নয়।
⏩বরং কেউ গালি দিলে, ” আমি সিয়াম” বলে গালি দেওয়া থেকে বিরত থাকার নামই সিয়াম।
.
◼ অবসর পেয়ে “কে সিয়াম রাখে না”
“কার ছেলে-মেয়ে নষ্ট হয়ে গেছে”
ইত্যাদিসহ অন্যের গীবত করে সময় কাটানোর নাম “সিয়াম” নয়।
⏩সব ধরনের গীবত করা থেকে বেঁচে
থাকার নামই “সিয়াম”।
.
◼ আসন্ন ঈদ উপলক্ষ্যে সেজে-গুজে
মার্কেটে ঘুরে বেড়ানো “সিয়াম” এর
শিক্ষা নয়।
⏩বরং নিজেকে হেফাজত করা আর
চোখের গুনাহ থেকে বেঁচে থাকাই
“সিয়াম” এর শিক্ষা।
.
◼ আগেভাগে সেহরী খেয়ে নামাজ বাদ দিয়ে ঘুমিয়ে পড়ার নাম “সিয়াম” নয় ।
⏩বরং সব ওয়াক্ত নামাজ পড়ার
নামই “সিয়াম”।
.
রাসুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ
“ধ্বংস তার জন্য, যে সিয়াম মাস পেল,
অথচ নিজেকে সংশোধন করতে
পারলো না”।
♻ শেয়ার করার অনুরোধ রইল।

রহমত, মাগপেরাত, নাজাত,

হৃদয়ে ঝরুক মাগফিরাতের বৃষ্টি

আল্লাহ যদি নারাজ হন আমরা যাব কই? রোজা রেখে খোদার কাছে সিজদা দিয়ে রই। রহমতের দশক শেষ হয়ে আজ থেকে শুরু হয়েছে মাগফিরাতের দশক। মাগফিরাত মানে ক্ষমা। গেল দশটি দিন পৃথিবীবাসীর ওপর অঝোর ধারায় রহমতের বৃষ্টি ঝরেছে। এখন ঝরছে ক্ষমার বৃষ্টি। মূলত সৃষ্টিরাজি প্রভুর রহমতের চাদরে ঢাকা।

তাই মাহে রমজানের প্রথম দশ দিন প্রভুর বিশেষ রহমত বর্ষিত হয়। পৃথিবীবাসী এ দশ দিনের জন্য দীর্ঘ একটি বছর মুখিয়ে থাকেন। এ দশ দিনের রহমতের অঝোর ধারার একটি ফোঁটাও যদি কোনো মানুষ জীবনে ধারণ করতে পারে, তাহলে দুনিয়া আখেরাতে সে সফল হয়ে গেল।

বহু মানুষ গত রোজায় বেঁচে ছিল, এ রোজায় নেই। এমনকি রোজার আগেও অনেকে দুনিয়া থেকে চিরদিনের ঠিকানা আখিরাতে পাড়ি জমিয়েছেন। তাদের আমলের খাতাটি বন্ধ হয়ে গেছে। চাইলেও তারা এখন আর একটি নেক আমলও যোগ করতে পারবে না। আল্লাহর দরবারে কোটি কোটি শুকরিয়া, তিনি আমাদের এখনও সুস্থভাবে বাঁচিয়ে রেখেছেন, রোজা রাখার তৌফিক দিচ্ছেন।

গত বছর যারা রোজা পেয়েছিল কিন্তু আজ পৃথিবীর বুকে নেই, তাদের অনেকেই রমজানের সোনালি মুহূর্তগুলো পেয়েও হেলায় নষ্ট করেছে। তারা ভেবেছিল, জীবন অনেক বড়। মৃত্যু বহু দূরে। আরও অনেক সময় তাদের জন্য অপেক্ষা করছে। কিন্তু না, আচমকাই মৃত্যুর গাড়ি তাদের পরকালের বাড়ি নিয়ে গেছে। হাদিস শরিফে এ ধরনের মানুষকে হতভাগ্য মানুষ বলা হয়েছে।

আমরা যারা এখনও বেঁচে আছি কিন্তু প্রভুর বিশেষ রহমতের বৃষ্টি থেকে একটি ফোঁটাও বরাদ্দ করাতে পারিনি, অবহেলায় মূল্যবান মুহূর্তগুলো নষ্ট করেছি, আর ভেবেছি আগামী থেকে ঠিক হয়ে যাব, তাদের অনেকের জীবনেই আর আগামী রমজান আসবে না। যে রহমতের জন্য সৃষ্টিকুল বছরব্যাপী অপেক্ষায় থাকে, সে রহমত গতকাল শেষ হয়ে গেল, কিন্তু আমাদের যারা ভিজতে পারল না, তাদের চেয়ে বড় দুর্ভাগা আর কেউ নেই।

তবে যারা অনুতপ্ত, যারা রহমত হারিয়ে এখন কাতর, তাদের জন্য হতাশার কিছু নেই। গতকাল সন্ধ্যা থেকেই প্রভুর মাগফিরাতের বৃষ্টি শুরু হয়েছে। আমরা রহমতের বৃষ্টি পাইনি, যদি মাগফিরাতের অঝোর বর্ষণ থেকে একটি ফোঁটাও জীবনে ধারণ করতে পারি, জীবনের গোনাহর কথা স্মরণ করে এক ফোঁটা চোখের পানিও প্রভুর কদমে পেশ করতে পারি, তাহলে আশা করা যায়, আমরা এ দশকে সফল হব।

হে আল্লাহ, আমরা বড় অপরাধী। আমাদের গোনাহের কারণেই তোমার আজাব করোনা মহামারী পৃথিবীর বুকে নেমে এসেছে। হে আল্লাহ, তুমি আমাদের ক্ষমা করে দাও। তুমি পৃথিবীকে মহামারীমুক্ত করে শান্তিমতো তোমাকে ডাকার সুযোগ করে দাও। আমরা যেন তোমার কথামতো তোমার নবীর বাতলানো পথে জীবনযাপন করতে পারি।

লেখক : মোঃইমরান খাঁন,

ইয়া আল্লাহ আমাদের কে ক্ষমা করে দাও।

***মুরতাদ ***

রাসূলের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারকারী এক মুরতাদের শাস্তি
হযরত ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত আছে যে, মদীনায় বিশর নামক একজন মুনাফিক বাস করতো। একবার জনৈক ইহুদীর সাথে তার বিবাদ বেধে যায়। ইহুদী বললোঃ চল, আমরা মুহাম্মদ(সা) এর কাছে গিয়ে এর মীমাংসা করে আসি। বিশর প্রথমে এ প্রস্তাবে রাজী হলো না। সে ইহুদী নেতা কা’ব ইবনে আশরাফের কাছে মীমাংসার জন্য যাওয়ার প্রস্তাব করলো।কা’ব ইবনে আশরাফ ছিল মুসলমানদের কট্টর দুশমন। বিস্ময়ের ব্যাপার এই যে, এই ইহুদী নেতার কাছ থেকে মীমাংসা কামনা করেছিল মুসলমান পরিচয় দানকারী বিশর। অথচ ইহুদী লোকটি স্বয়ং রাসূল এর উপর এর বিচারের ভার অর্পণ করতে চাইছিল। আসলে এর কারণ ছিল এই যে, রাসূল(সা) এর বিচার যে পুরোপুরি ন্যায়সংগত হবে তা উভয়ে জানতো। কিন্তু ন্যায়সংগত মীমাংসা হলে মুনাফিক হেরে যেত আর ইহুদী জয়লাভ করত। অনেক তর্ক বিতর্কের পর শেষ পর্যন্ত ইহুদীর মতই স্থির হল।
উভয়ে রাসূল(সা) এর কাছে গিয়ে বিবাদটার মীমাংসার ভার তাঁর ওপর অর্পণ করলো। রাসূল(সা) মামলার ব্যাপক তদন্ত চালিয়ে ইহুদীর পক্ষে রায় দিলেন এবং বিশর হেরে গেল। সে এ মীমাংসায় অসন্তুষ্ট হয়ে ইহুদীকে এই মর্মে সম্মত করে যে, বিষয়টির চূড়ান্ত মীমাংসার জন্য তারা হযরত উমারের নিকট যাবে। বিশর ভেবেছিল যে, হযরত উমার যেহেতু কাফেরদের ব্যাপারে অত্যন্ত কঠিন, তাই তিনি ইহুদীর মোকাবিলায় তার পক্ষে রায় দেবেন।

দু’জনেই হযরত উমারের নিকট উপস্থিত হলো। ইহুদী তাঁকে পুরো ঘটনা জানালো এবং বললো, এ ব্যাপারে রাসূল(সা) যে ফায়সালা করেছেন, তা আমার পক্ষে। কিন্তু এ লোকটি তাতে সম্মত নয়। তাই আমাকে আপনার নিকট নিয়ে এসেছে।
হযরত উমার বিশরকে জিজ্ঞেস করলেন, ঘটনা কি এরূপ?
সে বললো, হাঁ। তখন হযরত উমার বললেন, তাহলে একটু অপেক্ষা কর।
এই বলে তিনি ঘরের ভেতর থেকে একখানা তলোয়ার নিয়ে এলেন এবং “যে লোক রাসূলের ফায়সালা মেনে নিতে রাজী হয় না, উমারের কাছে তার ফায়সালা হলো এই……” এই বলে চোখের নিমেষে বিশরকে দ্বিখন্ডিত করে ফেললেন।

এরপর বিশরের উত্তরাধিকারীরা রাসূল(সা) এর নিকট হযরত উমারের(রা) বিরুদ্ধে এই বলে অভিযোগ করলো যে, তিনি শরীয়ত সম্মত কারণ ব্যতীত একজন মুসলমানকে হত্যা করেছেন। এ সময় রাসূল(সা) এর মুখ দিয়ে স্বতঃস্ফূর্তভাবে এ কথা বেরিয়ে আসে যে, “উমার কোনো মুসলমানকে হত্যা করার ধৃষ্টতা দেখাতে পারে এটা আমি মনে করি না।”

আসলে হযরত উমার(রা) তাকে এই মনে করে হত্যা করেছেন যে, সে যেহেতু আল্লাহর রাসূলের ফায়সালা প্রত্যাখ্যান করেছে, তখন সে স্পষ্টতই মুরতাদ ও কাফের হয়ে গিয়েছে। ইসলামী শরীয়তে মুরতাদের সর্বসম্মত শাস্তি যে মৃত্যুদন্ড সেটাই তিনি তাকে দিয়েছেন। আর এর অব্যাহতি পর সূরা নিসার ৬০ থেকে ৬৮ নং আয়াত নাযিল হয়ে হযরত উমারের(রা) অভিমতকে সঠিক প্রমাণিত করে।

হাদিসের শিক্ষা:
(১)আল্লাহ ও আল্লাহর রাসূল(সা) এর আদেশ, নিষেধ বা সিদ্ধান্তকে যারা প্রকাশ্যভাবে অস্বীকার ও প্রত্যাখ্যান করে, তাদেরকে মুসলমান বলে মনে করা বৈধ নয়।
(২) ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত থাকলে এ ধরনের লোকদের মৃত্যুদন্ড দেয়া অপরিহার্য। অন্যথায়, এ ধরনের মুরতাদদের সমাজচ্যূত করা ও নিন্দা প্রতিবাদের মাধ্যমে কোনঠাসা করে রাখতে হবে, যাতে আর কেউ মুরতাদ হবার ধৃষ্টতা না দেখায়।

***তাগুত বর্জন করা:***

ঈমানের পূর্ব শর্ত তাগুত বর্জন করা:

আল্লাহ তা’আলা ইরশাদ করেন-
‎فَمَن يَكْفُرْ بِالطَّاغُوتِ وَيُؤْمِن بِاللَّهِ فَقَدِ اسْتَمْسَكَ بِالْعُرْوَةِ الْوُثْقَىٰ لَا انفِصَامَ لَهَا ۗ وَاللَّهُ سَمِيعٌ عَلِيمٌ
অর্থ: তোমাদের মধ্যে যদি কোন ব্যক্তি তাগুত (বাতিল মতাদর্শ) কে বর্জন করলো এবং আল্লাহর (দেয়া জীবনাদর্শের) ওপর ঈমান আনলো সে এর মাধ্যমে এমন এক শক্তিশালী রশি ধরলো, যা কোনদিনই ছিঁড়ে যাবার নয়; আল্লাহ তা’আলা (সবকিছুই) শোনেন এবং (সবকিছুই) জানেন।
সুরা বাকারা, আয়াত : ২৫৬

প্রিয় পাঠক!
লক্ষ্য করুন, উক্ত আয়াতাংশে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন ‘তাগুত বর্জন করা ঈমানের পূর্ব শর্ত সাব্যস্ত করেছেন।
সু. এখন আমাদের জানতে হবে তাগুত কাকে বলে? কারণ তাগুতকে না চিনলে তাকে বর্জন করা কোনদিনই সম্ভব হবে না।

ইমাম ইবনুল কায়্যিম রহ. বলেন-

যার কারণে বান্দা আল্লাহর সীমা লংঘন করে, তারা সকলেই তাগুত। চাই সে মা’বুদ বা অনুসরনীয় কিংবা আনুগত্য করা হয় এমন কেউ হোক। সুতরাং প্রত্যেক কওমের তাগুত হচ্ছে আল্লাহ ও রাসূল কে বাদ দিয়ে জনগণ যার কাছে বিচার প্রার্থনা করে, অথবা আল্লাহ ব্যতিত যার ইবাদত করে, অাল্লাহর পক্ষ থেকে কোন প্রমাণ ছাড়া যার অনুসরন করে, অথবা আল্লাহর আনুগত্য না জেনে যার আনুগত্য করে, এরা সবাই বিশ্বের তাগুত গোষ্ঠি।
ই’লামুল মুওয়াক্কিয়ীন-১/৫০

মুফতি তাকি উসমানি মা.জি. বলেন-
তাগুতের শাব্দিক অর্থ ঘোর অবাধ্য। কিন্তু শব্দটি শয়তানের জন্যও ব্যবহৃত হয় এবং বাতিল ও মিথ্যার জন্যও। এস্থলে শব্দটির দ্বারা এমন বিচারক ও শাসককে বুঝানো হয়েছে, যে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিধানাবলীর বিপরীতে নিজ খেয়াল-খুশিমতো পায়সালা দেয়। আয়াতে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে, কোন ব্যক্তি যদি মুখে নিজেকে মুসলিম বলে দাবি করে কিন্তু আল্লাহ ও রাসুলের বিধানাবলীর উপর অন্য কোন বিধানকে প্রাধান্য দেয় তবে সে মুসলিম থাকতে পারে না।
তাওজিহুল কুরআন, ১/৩০১
(সূরা নিসা, আয়াত নং ৬০ এর টিকা দ্র:)

প্রিয় পাঠক!
এখন কি চিনতে পারছেন আপনার সমাজের তাগুতকে? সে আপনার মান্যবর কি মান্যবর নয়? আসুন অতিতের ভুলের জ্যন্য তাওবা করি। কোভিড-১৯ আমাদের চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে, কঠিন বিপদের সময় আপনরাও দূরে সরে যায়, চিন্তা করুন শেষ বিচারের দিন কঠিন মুহূর্তে কাউকে সাহায্য কারী পবেন কি না?
হাঁ সেদিন একমাত্র আল্লাহ রাব্বুল আলামিনই হতে পারে আপনার সাহায্য কারী। সু. সকল তাগুতকে প্রত্যাখ্যান করে সকল তন্ত্র-মন্ত্র ছেড়ে সে রবকেই আপনার লাইফের প্রতিটি মুহূর্তের প্রতিটি কর্মের উপাস্য বানিয়ে নিন। তাহলে অবশ্যই তিনি শেষ বিচার দিবসে আপনার সাহায্য কারি হবে-ইনশাআল্লাহ। আল্লাহ সবাইকে হক বুঝার তাওফিক দিন। আমিন

সালাত / নামাজ

*** আস সালাতু মিরাজুল মুমিনিন, সালাত হলো মুমিনের জন্য মিরাজ,যার মাধ্যমে সরা সরি আল্লাহর সাক্ষাত লাভ করা, পবিত্র কোরানের ৮২ যায়গাতে এই নামাজের কথা বল হয়েছে, আমোরা অনেকেই নামাজ আদায় করে থাকি, তার মধ্যে অনেকেই জানিনা নামাজের নিয়ম কানন। আবার অনেকেই নিয়ম জানলেও নামাজের তাসবি গুলির অর্থ জানিনা, কি বলতেছি কি চাচ্ছি আল্লাহর কাছে এই জন্যই নামাজে আমাদের অনেকেরই মননিবেশ হয়না, যে কোন জিনিষ তার অর্থ না বুঝলে ঐ কাজে মন বসেনা। আজ আমোরা নামাজের তাসবি তাহলিম গুলি কি পড়ি, ও তার অর্থ কি তা দেখি প্রথমে পবিএ হয়ে অজু গোসল করে পরিষ্কার জামা কাপর পড়ে পবিএ যায়গা পবিএ বিছানায় দ্বারিয়ে নামাজ আদায় করতে হবে,শুরুতেই তাকবিরে তাহরিমা। বলি আল্লাহু আকবার ( আল্লাহ বড় ) তার পর সানা পড়ি সোবাহানাকা আল্লাহম্মা ওয়া বি হামদিকা ওতাবারা কাসমুকা ওয়া তাআলা জাদ্দুকা ওয়া লাইলাহা গাইরুকা। অর্থ -হে আল্লাহ আমি আপোনার পবিত্রা ঘোষণা করছি এবং মহিমা বর্ণনা করছি। আপোনার নাম বরকত ময়, আপোনার মাহাত্ম্য সর্বোচ্ছ, আপোনি ব্যথিত আর কেহই এবাদতের যোগ্য নয়। তার পর পড়ি ( তাসমিয়া) বিসমিল্লাহিররাহমানির রাহিম ( শুরু কড়ছি পরম করুময় দয়াল আল্লাহর নামে। (পাতেহা পড়ে সাতে যে কোন একটি সুরা মিলাবো যে যাহাই পাড়ি। আল্লাহু আকবার বলে রুকুতে যাবো , সোবাহানা রাব্বিয়াল আযীম তিন বার বলবো এর অর্থ ( আমি মহান প্রতিপালকের পবিএতা ঘোষণা করছি। রুকু থেকে দাঁড়াবে সামি আল্লাহুলিমান হামিদা, সোজা হয়ে তাহমিদ রাব্বানা লাকাল হামদ অর্থ ( হে আমার প্রথিপালক সকল প্রশংসা আপোনার জন্য। আল্লাহুআকবার বলে সেজদাহ্তে যাবো তাসবি পড়বো, সোবহানারাব্বিয়াল আলা এ অর্থ (আমার প্রতিপালক যিনি সর্বশ্রেষ্ঠ তাঁরই পবিএতা বর্নানা করছি। তার পড় দুই সেজদাহ্রর মাজ খানে বসে দোয়া পড়বো, আল্লাহম্মাগফিরলী, ওয়ারহামনি, ওয়াহদিনী, ওয়ার যুকুনি। অর্থ (হে আল্লাহ আমাকে ক্ষমা করুন, আমাকে রহম করুন, আমাকে হেদায়েত দান করুন, আমাকে রিজিক দান করুন।
তার পর এই ভাবে দুই রাকাত বা চার রাকাত নামজ পড়ে তাশাহুদ (আত্তাহিয়াতু পড়ি) দোয়ায়ে মাসুরা পড়ি, সালাম পিরাই। ইনশাআল্লাহ এই ভাবে নামাজ পড়বো আল্লাহ পাক যেন আমাদের নামাজ কভুল করেন। পাতেহা, তাশাহুদ, দোয়ায়ে মানসুরা অর্থ সহ দেওয়া হলো, যদি আমার লেখাতে কোথাও ভুল হয়ে থাকে সংশোধন করে নিবেন আমাকে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন , আসসালামুআলাই কুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া অবারাকাতুহ। ***

কদম আলি।

এটাই বাস্তবতা নয় কি…?

কদম আলী বনাম গণস্বাস্থ্যের করোনাকীট

কদম আলী নামে এক ভদ্রলোকের উপর ঝড়ে গাছ উপড়ে পড়লে, কদম আলী গাছে নীচে চাপা পড়ে…. সে চিৎকার করে তাকে বাঁচাতে।

এলাকাবাসী কুড়াল, খুন্তী, দা নিয়ে দৌড়ে আসে। গাছে কোপ দিতে যাবে, এসময় একজন বললো, “এটা বন বিভাগের গাছ। তাদের অনুমিত ছাড়া গাছ কাটা যাবেনা।” সেখানে মিটিং হল। মিটিংয়ে সিদ্ধান্ত হল, দরখাস্ত লিখা হবে। সে দরখাস্ত বন বিভাগের অফিসে নিয়ে যাবে অনুমোদন পেতে। এদিকে কদম আলী গাছের চাপায় মরণ যন্ত্রণায় ছটফট করছে। সমাজের লোকজন তাকে ধমকে উঠলো, “ ঐ মিয়া, আমরা কি বসে আছি? তোমার জন্যই তো সবাই কাজ করছি।”

এর পরের ঘটনা আরো করুন। বন বিভাগে দরখাস্ত জমা দিলে তারা তদন্ত কমিটি করলো। সে কমিটি সরেজমিনে তদন্ত করতে আসলো। তখনো কদম আলী গাছের নীচে মরণ যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে আর বলছে, “আগে আমাকে বাচান।” বন বিভাগের লোকজন আরো গরম হয়ে বললো, ” ঐ মিয়া চিল্লাও কেন? আমরা তো ঘরে বসে নেই। এই ঝড়ের দিনেও শুধু তোমার জন্য এখানে আসলাম। তোমাকে উদ্ধারের অফিসিয়াল প্রসেস চালাচ্ছি। চিল্লাইবা না।”

যাই হোক, বন বিভাগ রিপোর্ট নিয়ে তাদের অফিসে গেল। ফাইল বনবিভাগের কর্তার সামনে গেল। তিনি খানিক কন ভেবে বললেন, আরে, এটা তো আমার কাজ নয়। ঝড়ে গাছ পড়েছে মানে হল, এটা অপসারন করা এখন ত্রাণ ও দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের কাজ।

ত্রাণ ও দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের কাছে খবর পৌছানো হল। তারা আবার সরেজমিন তদন্ত করলো। রিপোর্ট গেল অফিসে। কর্তার সামনে গেলে তিনি কিছুক্ষণ ভেবে বললেন, “তোমরা কি তদন্ত করেছো? তোমরা কি জান, এই গাছ বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী এদেশ সফরে এসে সম্প্রীতি স্মারক হিসেবে লাগিয়েছিল??তাদের অনুমতি ছাড়া এ গাছ কাটলে আন্তর্জাতিক আন্তরাষ্ট্রীয় সম্পর্ক বিপন্ন হবে।”

এদিকে কদম আলী মৃত্যু যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে আর বলছে তাকে উদ্ধার করতে। উপস্থিত কর্তারা তাকে শাসাচ্ছে আর বলছে, “তুমি কি জানো, শুধু তোমাকে উদ্ধার করতে কত লোক, কত বিভাগ কাজ করছে??”

অপরদিকে ফাইল রেডি করা হল। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ব্রিটিশ এম্বাসি হয়ে ফাইল গেলো বৃটিশ মন্ত্রণালয়ে। তিনমাস পর গাছ কাটার অনুমোদন সহ ফাইল আসলো। গাছ কাটতে লোকজন গেলো ঘটনাস্থলে। গাছ ঠিকই কাটা হল। তবে তত দিনে কদম আলীর হাড় ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট ছিলনা ঐ গাছের নীচে।

করোনা সনাক্তকরনে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র উদ্ভাবিত ”রেপিড ডট ব্লটস” এর অবস্থাও ঠিক এই পর্যায়ে পৌছেছে। প্রতিষ্ঠানটি সময়ের বিবেচনায় ত্বরিত সনাক্তকরনের জন্য কিটস আবিষ্কার ও প্রস্তুত করলো। কিন্তু এখন আমরা তাদেরকে হাইকোর্ট দেখাচ্ছি। সিস্টেম ফলো করেছে কিনা সে প্রশ্ন তুলছি। সিস্টেম ফলো করে হয়তো একদিন কিটস অনুমোদন পাবে। কিন্তু ততদিনে বাংলাদেশের কদম আলীদের কি অবস্থা হবে, তা ভেবে দেখার বিষয়।

লেখক : মোঃ ইমরান খাঁন

ইমান কি, কাকে বলে।

ঈমানের দাবীকারী জানে না, ঈমান কাকে বলে, ঈমানের শর্ত কী এবং ঈমান ভঙ্গের কারণ কী: (সংক্ষিপ্ত জরুরী পোষ্ট)

ঈমানের পরিচয়

আল্লামা সাইয়েদ মাহমুদ আলুসি বাগদাদি রহমাতুল্লাহ আলাইহি বলেন,

ঈমান হলো এমন সব বিষয়কে সুদৃঢ়ভাবে সত্য বলে স্বীকার করে নেওয়া, যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম এর আনীত দ্বীনের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার ব্যাপারটি আবশ্যিকভাবে হয়েছে। যে বিষয়গুলো বিস্তৃতভাবে জানা গেছে সেগুলো বিস্তৃতভাবে বিশ্বাস করা এবং যে বিষয়গুলো অস্পষ্টভাবে জানা গেছে সেগুলো অস্পষ্টভাবে বিশ্বাস করা; যদিও তা দলিল বিহীন নয়। অর্থাৎ যদিও তা স্রেফ রাসূলের প্রতি আস্থার ভিত্তিতে হয়।

ইমাম গাজ্জালী রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন,

ঈমান হলো নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা কিছু এনেছেন তার সব কিছুকে স্বীকার করে নেওয়া আর কুফর হলো নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম যাকিছু এনেছেন তার কোন কিছুকে অস্বীকার করা।
এই সংজ্ঞার আলোকে একটা বিষয় বোঝা গেল, ঈমান আনয়নের জন্য পুরো দিন এবং শরিয়ার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করা জরুরী। কিন্তু ঈমান হারানোর জন্য দিন এবং শরীয়াহর যেকোনো একটি বিষয় অস্বীকার করাই যথেষ্ট।

আল্লামা আনোয়ার শাহ কাশ্মিরী রহমাতুল্লাহ আলাইহি বলেন,

নবীর প্রতি আস্থা রেখে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা কিছু এনেছেন সেসব ব্যাপারে তাকে সত্য বলে স্বীকার করে নেওয়া।
এ সংজ্ঞার আলোকে বোঝা যাচ্ছে, যারা নবীর প্রতি আস্থা থেকে নয় বরং আকল এবং বিজ্ঞানের দলিলের ভিত্তিতে ইসলামকে মেনে নেয়, তারা মুসলিম নয়।

ইমাম মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ আলাইহি বলেন,

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা কিছু এনেছেন সেসব ব্যাপারে তাকে সত্য বলে স্বীকার করে নেওয়া; পাশাপাশি তাছাড়া অন্য সকল কিছুর সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করা।
এ সংজ্ঞা থেকে বোঝা যাচ্ছে, ঈমান আনয়নের জন্য সকল কুফুরী তন্ত্র-মন্ত্র, বিধান-সংবিধানের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করা অপরিহার্য। অন্যথায় সারাদিন মুখে কালিমা জপলেও তা ইমান বলে বিবেচিত হবে না।

শাহ আব্দুল আযীয মুহাদ্দিসে দেহলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন,

প্রকাশ্যে এবং গোপনে আল্লাহর কিতাবকে স্বীকার করে নেওয়া এবং তার অর্থকে কুরআন ও সুন্নাহর অনুসারে ব্যবহার করা। এ সংজ্ঞার আলোকে বোঝা যায়, যারা দ্বীনের পরিভাষাগুলোকে কোরআন ও হাদীসের নির্দেশিত প্রয়োগক্ষেত্রে প্রয়োগ না করে যেকোনো স্বার্থসিদ্ধির মানসে অন্য কোন প্রয়োগ ক্ষেত্রে প্রয়োগ করে; যেমন: জিহাদ-শাহাদাতের বিকৃত ব্যাখ্যা উপস্থাপন করে, তারা মুমিন নয়; বরং তারা মুলহিদ ও জিন্দক।

ঈমানের শর্ত সমূহ
ইমান সাব্যস্ত হওয়ার জন্য কিছু অপরিহার্য শর্ত রয়েছে। শর্তগুলো দু’প্রকারের:
ক. জীবনের নিরাপত্তা জনিত শর্তসমূহ।
খ. পরকালে চিরস্থায়ী জাহান্নাম থেকে মুক্তির শর্ত সমূহ।

পার্থিব জীবনে নিরাপত্তার জন্য দুটো শর্ত:

  1. মুখে তাওহীদের কালিমা উচ্চারণ করা এবং এর স্বীকৃতি দেওয়া।
    ২. ঈমান ভঙ্গকারী কোন কাজকর্মে লিপ্ত না থাকা। এর বিস্তারিত বিবরণ আমরা পরে উল্লেখ করব ইনশাআল্লাহ।

পরকালে চিরস্থায়ী জাহান্নাম থেকে মুক্তির জন্য সাতটি শর্ত:

  1. জ্ঞান। তাওহীদ, রেসালাত ও আখিরাতসহ ইসলামের মৌলিক আকিদা সম্পর্কে জ্ঞান।
  2. সুনিশ্চিত বিশ্বাস। কারণ সন্দেহ-সংশয় কুফরের অন্তর্গত।
  3. কালিমার মর্ম কবুল করা। অর্থাৎ একমাত্র আল্লাহ তা’আলার এবাদতকে কবুল করা এবং আল্লাহ ছাড়া অন্য সকলের ইবাদত বর্জন করা।
  4. আত্মসমর্পণ। কবুল এবং আত্মসমর্পণের মধ্যে পার্থক্য হলো কবুল হচ্ছে অন্তরের কর্ম এবং আত্মসমর্পণ হচ্ছে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের কর্ম। প্রথমটি হলো অভ্যন্তরিন ব্যাপার আর দ্বিতীয়টি হলো বাহ্যিক ব্যাপার।
  5. সত্যবাদিতা। অর্থাৎ সত্য মন নিয়ে তাওহীদের কালিমার স্বীকারোক্তি প্রদান করা।
  6. ইখলাস। অর্থাৎ শিরকের যাবতীয় দাগ থেকে আমল কে পরিশুদ্ধ করা। এবাদতে আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো সন্তুষ্টি উদ্দেশ্য না হওয়া।
  7. ভালোবাসা। অর্থাৎ আল্লাহ রাসুল এবং তার পথে জিহাদকে সর্বোচ্চ ভালোবাসা। কোন মানুষকে ভালোবাসলে একমাত্র আল্লাহর জন্য ভালোবাসা। ভালোবাসার বন্ধনও কেবল এমন মানুষের সঙ্গে স্থাপন করা যাকে আল্লাহ ভালবাসেন।পক্ষান্তরে আল্লাহ যাকে ঘৃণা করেন তার প্রতি ঘৃণা লালন করে তার সঙ্গে শত্রুতা পোষণ করা। একইভাবে সেসব কাজকর্মকে ভালোবাসার সঙ্গে পালন করা, যেগুলো আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উপায়।

ঈমান ভঙ্গকারী বিষয় সমূহ মৌলিকভাবে তিন প্রকার:
ক. বিশ্বাস গত।
খ. উক্তি গত।
গ. কর্মগত।

ঈমান ভঙ্গের বিশ্বাস গত কারন:

  1. অস্বীকার ও মিথ্যা প্রতিপন্ন করা।
  2. দ্বীনের সুনিশ্চিত ও সুপ্রমাণিত কোন হারাম বিষয়কে হালাল মনে করা।
  3. রুবুবিয়্যাহ তথা প্রভুত্বের ক্ষেত্রে শিরক। এর বিস্তারিত বিবরণ আমরা পূর্বে উল্লেখ করেছি।
  4. আল্লাহর দ্বীন থেকে বিমুখ হওয়া। এবং দ্বীনের ইলম এবং আমলের ব্যাপারে বিমুখতা প্রদর্শন করা।
  5. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম কর্তৃক আনিত দ্বীনের কোন বিধানের প্রতি অপছন্দ ও ঘৃণামূলক মনোভাব লালন করা।
    ঈমান ভঙ্গের উক্তি গত কারন:
  6. আল্লাহ, তার রাসুল কিংবা তার দ্বীনকে গালি দেওয়া।
  7. আল্লাহ ব্যতীত অন্যরা অপারগ-এমন কোন বিষয়ে গাইরুল্লাহকে অহ্বান করা এবং গাইরুল্লাহর কাছে সাহায্য চাওয়া।
  8. নবুয়াত দাবি করা।
  9. দ্বীনের অকাট্য বিধান কে মিথ্যা প্রতিপন্ন করা।
    ঈমান ভঙ্গের কর্মগত কারণ:
  10. গাইরুল্লাহর জন্য এবাদত করা।
  11. আল্লাহর পরিবর্তে নিজে আইন প্রণয়ন করা।
  12. মুসলমানের বিরুদ্ধে কাফিরদের সাহায্য করা।
    সূরা ফাতিহার আলোকে ইসলামি আকিদা ও মানহাজ কিতাব থেকে সংকলিত।
  • লেখক মুফতি আলী হাসান উসামা

মুনাফেকের পড়িচয়।

প্রশ্নঃ মোনাফেক্বের আত্মপ্রকাশ হয় কখন এবং এদের চেনার উপায় কি?

উত্তরঃ প্রিয়বন্ধু! আস্-সালামু আলাইকুম। মোনাফেক্ব ভয়ংকর একটা নাম। যে ব্যক্তি মুখে সাধুতা প্রকাশ করে আর অন্তরে অসাধুতা পোষণ করে তাকে মোনাফেক্ব বলে। এরা আল্লাহর কাছে সবচেয়ে বেশি ঘৃণিত। পরকালে এদেরকে কাফির ও মুশরিকের থেকে বেশি শাস্তি দেওয়া হবে। এবারে আমরা প্রশ্নের বিষয়টি জেনে নিই।

মোনাফেক্বের আত্মপ্রকাশঃ

মোনাফেক্বের আত্ম প্রকাশ সূচনালগ্ন থেকেই হয়েছে। হযরত আদাম (আ)-এর সাথে প্রথম মোনাফেক্বী করেছে ইবলিস। চরম হিতাকাংখী হয়েই সে তাকে জান্নাতের ফল ভক্ষন করিয়ে ছিল। হযরত নূহ (আ)-এর স্ত্রী ও হযরত লূত (আ)-এর স্ত্রী স্ব স্ব স্বামীর সাথে থেকে মোনাফেক্বীতে মত্ত থাকায় আল্লাহর গজব তাদেরকে রক্ষা করেনি। বিশ্বনাবী (ছা)-এর সাথে মোনাফেক্বী করেছে মুমিনের ছুরাতে মদীনাহর নেতা আব্দুল্লাহ বিন উবাই। কূফাহ নগরীর মুনাফেক্বীতে ইমাম হুসাইনের শাহাদাত সংঘঠিত হয়। আর মীর জাফরের মোনাফেক্বীতে আমাদের উপর দুই শত বছরের গোলামী চেপে বসে।
মহান আল্লাহ নাবী (ছা)-কে মোনাফিক্বের জানাঝাহ, ক্ববর জিয়ারাত ও দুআ করতে নিশেধ করে আয়াত অবতীর্ণ করেছেন। তবে তাদের আত্ম প্রকাশের ক্ষেত্রে এতটুকু বলা যায় যে, মোনাফেক্ব বস্তুর ছায়ার মত। সূর্যের আলোর সম্মুখীন হবেন তো ছায়ার আত্মপ্রকাশ হবে। নতুবা হবে না। ঠিক তদ্রুপ মুমিন যখনই পূর্ণ গতিতে আত্মপ্রকাশ করে তখন মোনাফেক্ব ছায়ার মত বেরিয়ে আসে। আবার যখন মুমিন দুর্বল হয়ে পড়ে তখন মোনাফেক্বীরও বিলুপ্তি ঘটে। অর্থাৎ সে তখন কাফির-মুশরিকদের মাঝে একাকার হয়ে যায়।

মোনাফেক্ব চেনার উপায়ঃ

এদেরকে চেনার ভাল কোন নাম-নিশানা নেই। কেননা পৃথিবীতে কেউ নিজেকে মোনাফেক্ব বলে স্বীকার করে না। তবে কাজে কর্মে এদেরকে চিনে রেখে সাবধানতা অবলম্বন করতে হয়। মোনাফেক্ব চেনার উপায় হিসেবে কয়েকটি আয়াতে কুরআনীর প্রতি লক্ষ্য করুন।

(১) যখন তারা মুমিনদের সাথে মিলিত হয়, তখন বলে, আমরা ঈমান এনেছি, আর যখন নিরিবিলিতে নিজেদের শায়ত্বানদের সাথে মিলিত হয় তখন বলে আমরা তো আসলে তোমাদের সাথেই রয়েছি। ওদের সাথে তো নিছক তামাশা করছি। (বাক্বারাহ্-১৪)
(২) যারা মাসযিদ নির্মাণ করেছে সত্যের দাওয়াতকে ক্ষতিগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যে, আল্লাহর বন্দেগী করার পরিবর্তে কুফরী করার জন্য, মুমিনদের মাঝে বিভেদ সৃষ্টি করার লক্ষ্যে এবং এমন এক ব্যক্তির জন্য গোপন ঘাঁটি বানাবার উদ্দেশ্যে, যে ইতোপূর্বে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছিল। তারা অবশ্যই ক্বাসম খেয়ে বলবে, ভালো ছাড়া আর কোন ইচ্ছাই আমাদের ছিল না। (তাওবাহ্-১০৭)
(৩) তোমরা আর এক ধরনের মোনাফেক্ব পাবে, যারা তোমাদের থেকে নিরাপদ থাকতে চায় এবং নিজেদের সম্প্রদায় থেকেও। কিন্তু যখনই ফিতনাহ্-র (অর্থাৎ “প্রলোভন, দাংগা-বিশৃংখলা, গৃহযুদ্ধ, শিরক, কুফর, ধর্মীয় নির্যাতন ইত্যাদী”) সুযোগ পাবে তখনই তাতে ঝাপিয়ে পড়বে। (নিসা-৯১)
(৪) নিশ্চয়ই মোনাফেক্বেরা তো আল্লাহর সাথে ধোঁকাবাজি করে। অথচ আল্লাহই তাদেরকে ধোঁকার মধ্যে ফেলে রেখেছেন। তারা যখন নামাযে দাঁড়ায়, তখন শৈথিল্যের সাথে দাঁড়ায়। ইবাদাতে শামিল হয় কেবল লোক দেখানোর জন্যই এবং তারা আল্লাহকে খুব কমই স্মরণ করে। (নিসা-১৪২)
(৫) মোনাফেক্ব নর এবং মুনাফিক্ব নারী একে অপরের অনুরূপ। তারা অসৎ কর্মে আদেশ দেয় এবং সৎ কর্মে নিষেধ করে এবং হাত বন্ধ করে রাখে। অর্থাৎ আল্লাহর রাস্তায় কোন ধরনের ব্যয় করে না। তারা আল্লাহকে ভুলে গেছে ফলে আল্লাহও তাদেরকে ভুলে গেছেন। নিশ্চয়ই মোনাফেকেরা পাপাচারী। (তাওবাহ্-৬৭)
(৬) তোমাদের ভাল হলে তাদের খারাপ লাগে এবং তোমাদের উপর কোন বিপদ এলে তারা তাতে খুশি হয়। তোমরা যদি ধৈর্যশীল এবং মুত্তাক্বী হও তাহলে তাদের কোন ষড়যন্ত্রই তোমাদের কোন ক্ষতি করতে পারবে না। তারা যা করে আল্লাহ তাআলা নিশ্চয়ই তা পরিবেষ্টন করে রেখেছেন। (আলি-ইমরান-১২০)
(৭) তারাতো তাদের শপথগুলোকে ঢালরূপে ব্যবহার করছে। আর লোকদেরকে আল্লাহর পথ থেকে নিবৃত্ত করছে। নিশ্চয়ই তারা যা করছে তা কতই মন্দ। (মুনাফিকূন-২)
(৮) মানুষের মধ্যে এমন কতক লোক আছে, যে আল্লাহর ইবাদাত করে দ্বিধার সাথে অর্থাৎ ঈমান ও কুফরীর মধ্যবর্তী স্থানে দাঁড়িয়ে। এর দ্বারা যদি মঙ্গল হয় কেবল তখনই তার চিত্ত প্রশান্ত হয় এবং কোন বিপর্যয় ঘটলে তখন সে পূর্বাবস্থায় ফিরে যায়। সে তো দুন্ইয়া ও আখিরাতে ক্ষতিগ্রস্থ হলো। আর এটাই তো প্রকৃত ক্ষতি। (হজ্ব-১১)
(৯) মানুষের মধ্যে এমনও কতক লোক আছে, যারা বলে আমরা আল্লাহকে বিশ্বাস করি। অতঃপর যখন তারা আল্লাহর পথে নিগৃহীত হয় তখন তারা মানুষের নিপীড়নকে আল্লাহর শাস্তির মত মনে করে। আর যদি তোমার প্রতিপালকের পক্ষ হতে কোন সাহায্য আসে তখন বলতে থাকে, আমরা তো তোমাদের সাথেই ছিলাম। বিশ্ববাসীর অন্তঃকরণে যা আছে, আল্লাহ কি তা সম্যক অবগত নন।?(আনকাবুত-১০)
(১০) যদি তুমি তাদেরকে জিজ্ঞেস কর যে, তোমরা কি কথা বলছিলে? তখন তারা ঝটপট করে বলবে, আমরা তো হাসি-তামাশা ও পরিহাস করছিলাম। তাদেরকে বল, তোমাদের হাসি-তামাশা কি আল্লাহ, তাঁর আয়াত ও তাঁর রাসূলের সাথে ছিল? এখন আর ওজর পেশ কর না। তোমরা তো ঈমান গ্রহণের পর কুফরী করেছো। যদি আমরা তোমাদের একটি দলকে মাপও করে দেই তাহলে আর একটি দলকে তো আমরা অবশ্যই শাস্তি দিব কারণ তারা অপরাধী। (তাওবাহ্-৬৫-৬৬)
(১১) তাদেরকে যখন বলা হয় পৃথিবীতে ফাসাদ সৃষ্টি কর না। তখন তারা বলে, না, আমরা তো শান্তি স্থাপনকারী। সাবধান! এরাই প্রকৃত অশান্তি সৃষ্টিকারী কিন্তু তারা তা বুঝে না। (বাক্বারাহ্-১১-১২)
(১২) মোনাফেক্বেরা কুফর ও ঈমানের মাঝে দোটানায় দোদুল্যমান থাকে। না পুরাপুরি এদিকে, না পুরাপুরি ওদিকে। (নিসা-১৪৩)
(১৩) তোমরা তো তাদেরকে ভালোবাস কিন্তু তারা তোমাদেরকে ভালোবাসে না। অথচ তোমরা কিতাবকে মানো, তারা তোমাদের সাথে মিলিত হলে বলে আমরাও তোমাদের রাসূল ও কিতাবকে মেনে নিয়েছি। কিন্তু তোমাদের থেকে আলাদা হয়ে যাবার পর তোমাদের বিরুদ্ধে তাদের ক্রোধ-আক্রোশ এতো বেশি বেড়ে যায় যে, তারা নিজেদের আঙ্গুল কামড়াতে থাকে। (আলি-ইমরান-১১৯)
এভাবে আরো আয়াতে কারীমা আছে।
কাজেই এ আয়াত সমূহে মোনাফেক্ব চেনার উপায় বিবৃত হয়েছে। আমরা এর দ্বারা সতর্কতা অবলম্বন করলে মুক্ত থাকবো। ইনশাআল্লাহ। ধন্যবাদ।

ফুটা বালতি হতে সাবধান … !

১. আপনি নামাজ পড়ে কপালে দাগ ফেলে দিয়েছেন কিন্তু আপনি ঘুষ খান, সুদের ব্যবসা করেন !
আপনি ফুটা বালতি।

২. আপনি নিজেকে পীর দাবী করেন কিন্তু মেয়েদের মুরিদ বানান আর তাদের গায়ে হাত দিয়ে দোয়া করেন !
আপনি ফুটা বালতি।

৩. আপনি নামাজ পড়েন, রোজা রাখেন, হজ্বও করেন কিন্তু আপনি খাদ্যে ভেজাল মিশান, অন্যের জমি দখল করেন আর অন্যের হক নষ্ট করেন !
আপনি ফুটা বালতি।

৪. সাধারণ মানুষের সামনে আপনি খুবই বিনয়ী কিন্তু বাসায় আসলেই পরিবারের সাথে কর্কষভাষী আর বদমেজাজি ! আপনি ফুটা বালতি।

৫. নিজের হক বুঝে নিতে আপনি সদা তৎপর অথচ নিজের ভাই বোন আর গরীব আত্নীয় স্বজনের হক আপনার মাথাতেই নাই !
আপনি ফুটা বালতি।

৬. আপনি অনেক দানসদকা করেন আবার যাদেরকে দান করলেন তাদেরকে খোঁটা দিয়েও কথা বলেন !
আপনি ফুটা বালতি।

৭. আপনি প্রতিদিন তাহাজ্জুদ পড়েন, কুরআন তিলাওয়াত করেন কিন্তু আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করে রেখেছেন !
আপনি ফুটা বালতি।

৮. আপনি রোযা রেখে ক্ষুধা-তৃষ্ণার কষ্ট সহ্য করছেন অথচ আপনিই গরীব মানুষ-ভিখারী মানুষ দেখলে গালি দেন, উপহাস করেন !
আপনি ফুটা বালতি।

৯. আপনি মানুষের অনেক উপকার করেন কিন্তু সেটা করেন মানুষের মধ্যে আপনার নামধাম প্রচার হওয়ার জন্য, খ্যাতির জন্য, আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য নয় !
আপনি ফুটা বালতি।

ফুটা বালতিতে যতই পানি ভরেন, পানি কি আর বালতিতে থাকে ?! ঠিক তেমনি যতোই নেক আমল করেন কিন্তু সাথে যদি এসব বদ আমলও থাকে তবে সব নেক আমল (আল্লাহ না করেন) বরবাদ হয়ে যেতে পারে।

আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে এসব বিষয় উপলব্ধি করার তাওফিক দান করুন।

Md.imran khan