ইমান কি, কাকে বলে।

ঈমানের দাবীকারী জানে না, ঈমান কাকে বলে, ঈমানের শর্ত কী এবং ঈমান ভঙ্গের কারণ কী: (সংক্ষিপ্ত জরুরী পোষ্ট)

ঈমানের পরিচয়

আল্লামা সাইয়েদ মাহমুদ আলুসি বাগদাদি রহমাতুল্লাহ আলাইহি বলেন,

ঈমান হলো এমন সব বিষয়কে সুদৃঢ়ভাবে সত্য বলে স্বীকার করে নেওয়া, যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম এর আনীত দ্বীনের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার ব্যাপারটি আবশ্যিকভাবে হয়েছে। যে বিষয়গুলো বিস্তৃতভাবে জানা গেছে সেগুলো বিস্তৃতভাবে বিশ্বাস করা এবং যে বিষয়গুলো অস্পষ্টভাবে জানা গেছে সেগুলো অস্পষ্টভাবে বিশ্বাস করা; যদিও তা দলিল বিহীন নয়। অর্থাৎ যদিও তা স্রেফ রাসূলের প্রতি আস্থার ভিত্তিতে হয়।

ইমাম গাজ্জালী রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন,

ঈমান হলো নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা কিছু এনেছেন তার সব কিছুকে স্বীকার করে নেওয়া আর কুফর হলো নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম যাকিছু এনেছেন তার কোন কিছুকে অস্বীকার করা।
এই সংজ্ঞার আলোকে একটা বিষয় বোঝা গেল, ঈমান আনয়নের জন্য পুরো দিন এবং শরিয়ার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করা জরুরী। কিন্তু ঈমান হারানোর জন্য দিন এবং শরীয়াহর যেকোনো একটি বিষয় অস্বীকার করাই যথেষ্ট।

আল্লামা আনোয়ার শাহ কাশ্মিরী রহমাতুল্লাহ আলাইহি বলেন,

নবীর প্রতি আস্থা রেখে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা কিছু এনেছেন সেসব ব্যাপারে তাকে সত্য বলে স্বীকার করে নেওয়া।
এ সংজ্ঞার আলোকে বোঝা যাচ্ছে, যারা নবীর প্রতি আস্থা থেকে নয় বরং আকল এবং বিজ্ঞানের দলিলের ভিত্তিতে ইসলামকে মেনে নেয়, তারা মুসলিম নয়।

ইমাম মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ আলাইহি বলেন,

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা কিছু এনেছেন সেসব ব্যাপারে তাকে সত্য বলে স্বীকার করে নেওয়া; পাশাপাশি তাছাড়া অন্য সকল কিছুর সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করা।
এ সংজ্ঞা থেকে বোঝা যাচ্ছে, ঈমান আনয়নের জন্য সকল কুফুরী তন্ত্র-মন্ত্র, বিধান-সংবিধানের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করা অপরিহার্য। অন্যথায় সারাদিন মুখে কালিমা জপলেও তা ইমান বলে বিবেচিত হবে না।

শাহ আব্দুল আযীয মুহাদ্দিসে দেহলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন,

প্রকাশ্যে এবং গোপনে আল্লাহর কিতাবকে স্বীকার করে নেওয়া এবং তার অর্থকে কুরআন ও সুন্নাহর অনুসারে ব্যবহার করা। এ সংজ্ঞার আলোকে বোঝা যায়, যারা দ্বীনের পরিভাষাগুলোকে কোরআন ও হাদীসের নির্দেশিত প্রয়োগক্ষেত্রে প্রয়োগ না করে যেকোনো স্বার্থসিদ্ধির মানসে অন্য কোন প্রয়োগ ক্ষেত্রে প্রয়োগ করে; যেমন: জিহাদ-শাহাদাতের বিকৃত ব্যাখ্যা উপস্থাপন করে, তারা মুমিন নয়; বরং তারা মুলহিদ ও জিন্দক।

ঈমানের শর্ত সমূহ
ইমান সাব্যস্ত হওয়ার জন্য কিছু অপরিহার্য শর্ত রয়েছে। শর্তগুলো দু’প্রকারের:
ক. জীবনের নিরাপত্তা জনিত শর্তসমূহ।
খ. পরকালে চিরস্থায়ী জাহান্নাম থেকে মুক্তির শর্ত সমূহ।

পার্থিব জীবনে নিরাপত্তার জন্য দুটো শর্ত:

  1. মুখে তাওহীদের কালিমা উচ্চারণ করা এবং এর স্বীকৃতি দেওয়া।
    ২. ঈমান ভঙ্গকারী কোন কাজকর্মে লিপ্ত না থাকা। এর বিস্তারিত বিবরণ আমরা পরে উল্লেখ করব ইনশাআল্লাহ।

পরকালে চিরস্থায়ী জাহান্নাম থেকে মুক্তির জন্য সাতটি শর্ত:

  1. জ্ঞান। তাওহীদ, রেসালাত ও আখিরাতসহ ইসলামের মৌলিক আকিদা সম্পর্কে জ্ঞান।
  2. সুনিশ্চিত বিশ্বাস। কারণ সন্দেহ-সংশয় কুফরের অন্তর্গত।
  3. কালিমার মর্ম কবুল করা। অর্থাৎ একমাত্র আল্লাহ তা’আলার এবাদতকে কবুল করা এবং আল্লাহ ছাড়া অন্য সকলের ইবাদত বর্জন করা।
  4. আত্মসমর্পণ। কবুল এবং আত্মসমর্পণের মধ্যে পার্থক্য হলো কবুল হচ্ছে অন্তরের কর্ম এবং আত্মসমর্পণ হচ্ছে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের কর্ম। প্রথমটি হলো অভ্যন্তরিন ব্যাপার আর দ্বিতীয়টি হলো বাহ্যিক ব্যাপার।
  5. সত্যবাদিতা। অর্থাৎ সত্য মন নিয়ে তাওহীদের কালিমার স্বীকারোক্তি প্রদান করা।
  6. ইখলাস। অর্থাৎ শিরকের যাবতীয় দাগ থেকে আমল কে পরিশুদ্ধ করা। এবাদতে আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো সন্তুষ্টি উদ্দেশ্য না হওয়া।
  7. ভালোবাসা। অর্থাৎ আল্লাহ রাসুল এবং তার পথে জিহাদকে সর্বোচ্চ ভালোবাসা। কোন মানুষকে ভালোবাসলে একমাত্র আল্লাহর জন্য ভালোবাসা। ভালোবাসার বন্ধনও কেবল এমন মানুষের সঙ্গে স্থাপন করা যাকে আল্লাহ ভালবাসেন।পক্ষান্তরে আল্লাহ যাকে ঘৃণা করেন তার প্রতি ঘৃণা লালন করে তার সঙ্গে শত্রুতা পোষণ করা। একইভাবে সেসব কাজকর্মকে ভালোবাসার সঙ্গে পালন করা, যেগুলো আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উপায়।

ঈমান ভঙ্গকারী বিষয় সমূহ মৌলিকভাবে তিন প্রকার:
ক. বিশ্বাস গত।
খ. উক্তি গত।
গ. কর্মগত।

ঈমান ভঙ্গের বিশ্বাস গত কারন:

  1. অস্বীকার ও মিথ্যা প্রতিপন্ন করা।
  2. দ্বীনের সুনিশ্চিত ও সুপ্রমাণিত কোন হারাম বিষয়কে হালাল মনে করা।
  3. রুবুবিয়্যাহ তথা প্রভুত্বের ক্ষেত্রে শিরক। এর বিস্তারিত বিবরণ আমরা পূর্বে উল্লেখ করেছি।
  4. আল্লাহর দ্বীন থেকে বিমুখ হওয়া। এবং দ্বীনের ইলম এবং আমলের ব্যাপারে বিমুখতা প্রদর্শন করা।
  5. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম কর্তৃক আনিত দ্বীনের কোন বিধানের প্রতি অপছন্দ ও ঘৃণামূলক মনোভাব লালন করা।
    ঈমান ভঙ্গের উক্তি গত কারন:
  6. আল্লাহ, তার রাসুল কিংবা তার দ্বীনকে গালি দেওয়া।
  7. আল্লাহ ব্যতীত অন্যরা অপারগ-এমন কোন বিষয়ে গাইরুল্লাহকে অহ্বান করা এবং গাইরুল্লাহর কাছে সাহায্য চাওয়া।
  8. নবুয়াত দাবি করা।
  9. দ্বীনের অকাট্য বিধান কে মিথ্যা প্রতিপন্ন করা।
    ঈমান ভঙ্গের কর্মগত কারণ:
  10. গাইরুল্লাহর জন্য এবাদত করা।
  11. আল্লাহর পরিবর্তে নিজে আইন প্রণয়ন করা।
  12. মুসলমানের বিরুদ্ধে কাফিরদের সাহায্য করা।
    সূরা ফাতিহার আলোকে ইসলামি আকিদা ও মানহাজ কিতাব থেকে সংকলিত।
  • লেখক মুফতি আলী হাসান উসামা

Leave a Reply

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s