**ইসলামের পূর্ণাঙ্গ রূপ**

>মানব জীবনের প্রকৃত সাফল্য ।

★মানব জীবনের প্রকৃত সাফল্য★

৬. আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন:
একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের মাধ্যমেই কঠিন জাহান্নামের আযাব হইতে নাজাত এবং জান্নাতের অনন্ত সুখ ও অনাবিল শান্তি লাভের মধ্যেই মানব জীবনের প্রকৃত সাফল্য নিহিত রয়েছে। তাই মহান আল্লাহ তায়ালা সমস্ত জ্বীন ও মানব জাতিকে সৃষ্টি করার উদ্দের্শ এবং কি কাজে তাদের সাফল্য রয়েছে তা জানায়ে দিয়েছেন! মহান আল্লাহ বলেন:

وَمَا خَلَقْتُ الْجِنَّ وَالْإِنسَ إِلَّا لِيَعْبُدُونِ
জিন ও মানুষকে আমি শুধু এজন্যই সৃষ্টি করেছি যে, তারা আমার দাসত্ব করবে। (সূরা যারিয়াত ৫৬)

وَمَن يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُۥ وَيَخْشَ اللَّهَ وَيَتَّقْهِ فَأُولٰٓئِكَ هُمُ الْفَآئِزُونَ
আর সফলকাম তারাই যারা আল্লাহ‌ ও রসূলের হুকুম মেনে চলে এবং আল্লাহকে ভয় করে এবং তাঁর নাফরমানী করা থেকে দূরে থাকে।
( সূরা আন্-নূর ৫২)

قَالَ اللّٰهُ هٰذَا یَوْمُ یَنْفَعُ الصّٰدِقِیْنَ صِدْقُهُمْؕ لَهُمْ جَنّٰتٌ تَجْرِیْ مِنْ تَحْتِهَا الْاَنْهٰرُ خٰلِدِیْنَ فِیْهَاۤ اَبَدًاؕ رَضِیَ اللّٰهُ عَنْهُمْ وَ رَضُوْا عَنْهُؕ ذٰلِكَ الْفَوْزُ الْعَظِیْمُ
তখন আল্লাহ বলবেন, “এটি এমন একটি দিন যেদিন সত্যবাদীদেরকে তাদের সত্যতা উপকৃত করে। তাদের জন্য রয়েছে এমন বাগান যার নিম্নদেশে ঝরণাধারা প্রবাহিত হচ্ছে। এখানে তারা থাকবে চিরকাল। আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন এবং তারাও আল্লাহর প্রতি। এটিই সবচেয়ে বড় সাফল্য।”
(আল-মায়িদাহ ১১৯)

مَنْ یُّصْرَفْ عَنْهُ یَوْمَئِذٍ فَقَدْ رَحِمَهٗؕ وَ ذٰلِكَ الْفَوْزُ الْمُبِیْنُ
সেদিন যে ব্যক্তি শাস্তি থেকে রেহাই পাবে আল্লাহ‌ তার প্রতি বড়ই অনুগ্রহ করেছেন এবং এটিই সুস্পষ্ট সাফল্য। (আল-আনয়াম ১৬)

وَعَدَ اللّٰهُ الْمُؤْمِنِیْنَ وَ الْمُؤْمِنٰتِ جَنّٰتٍ تَجْرِیْ مِنْ تَحْتِهَا الْاَنْهٰرُ خٰلِدِیْنَ فِیْهَا وَ مَسٰكِنَ طَیِّبَةً فِیْ جَنّٰتِ عَدْنٍؕ وَ رِضْوَانٌ مِّنَ اللّٰهِ اَكْبَرُؕ ذٰلِكَ هُوَ الْفَوْزُ الْعَظِیْمُ۠
এ মুমিন পুরুষ ও নারীকে আল্লাহ‌ প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তাদেরকে তিনি এমন বাগান দান করবেন যার নিম্নদেশে ঝর্ণাধারা প্রবাহমান হবে এবং তারা তার মধ্যে চিরকাল বাস করবে। এসব চির সবুজ বাগানে তাদের জন্য থাকবে বাসগৃহ এবং সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে, তারা আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভ করবে। এটিই সবচেয়ে বড় সাফল্য।
(আত-তওবা ৭২)

فَاَمَّا مَنْ تَابَ وَ اٰمَنَ وَ عَمِلَ صَالِحًا فَعَسٰۤى اَنْ یَّكُوْنَ مِنَ الْمُفْلِحِیْنَ
তবে যে ব্যক্তি আজ তওবা করেছে, ঈমান এনেছে ও সৎকাজ করেছে সে-ই সাফল্য লাভের আশা করতে পারে। (আল-ক্বাসাস ৬৭)

وَعَنْه عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «إِنَّ أَهْلَ الجَنَّةِ لَيَتَرَاءَوْنَ أَهْلَ الغُرَفِ مِن فَوْقِهِمْ كَمَا تَرَاءَوْنَ الكَوْكَبَ الدُّرِّيَّ الغَابِرَ فِي الأُفُق مِنَ المَشْرِقِ أَوِ المَغْرِبِ لِتَفَاضُلِ مَا بَيْنَهُمْ» قَالُوا : يَا رَسُولَ اللهِ ؛ تِلْكَ مَنَازِلُ الأَنبِيَاءِ لاَ يَبْلُغُها غَيْرُهُمْ قَالَ: «بَلَى وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ، رِجَالٌ آمَنُوا بِاللهِ وَصَدَّقُوا المُرْسَلِينَ» . متفق عليه

আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ: নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, ‘‘অবশ্যই জান্নাতিগণ তাদের উপরের বালাখানার অধিবাসীদের এমনভাবে দেখতে পাবে, যেমন তোমরা আকাশের পূর্ব অথবা পশ্চিম দিগন্তে উজ্জ্বল অস্তগামী তারকা গভীর দৃষ্টিতে দেখতে পাও। এটি হবে তাদের মর্যাদার ব্যবধানের জন্য।’’ (সাহাবীগণ) বললেন, ‘হে আল্লাহর রসূল! এ তো নবীগণের স্থান; তাঁরা ছাড়া অন্যরা সেখানে পৌঁছতে পারবে না।’ তিনি বললেন, ‘‘অবশ্যই, সেই সত্তার শপথ, যাঁর হাতে আমার প্রাণ আছে! সেই লোকরাও [পৌঁছতে পারবে] যারা আল্লাহর প্রতি ঈমান রেখে রসূলগণকে সত্য বলে বিশ্বাস করেছে।’’
(সহীহুল বুখারী ৩২৫৬, ৬৫৫৬, মুসলিম ২৮৩০, ২৮৩১, আহমাদ ১২৩৬৯, দারেমী ২৮৩০)

দুনিয়ায় যারা যেসব প্রচেষ্টা চালিয়ে ও কাজ করেছে আখেরাতে তার চমৎকার ফল দেখে তারা আনন্দিত হবে। তারা এ ব্যাপারে নিশ্চিন্ত হয়ে যাবে যে, দুনিয়ায় ঈমান, সততা ও তাকওয়ার জীবন অবলম্বন করে তারা নিজেদের প্রবৃত্তি ও কামনা-বাসনার যে কুরবানী দিয়েছে, দায়িত্ব পালন করার ব্যাপারে যে কষ্ট স্বীকার করেছে, আল্লাহর বিধানের আনুগত্য করতে গিয়ে যেসব জুলুম-নিপীড়নের শিকার হয়েছে, গোনাহ থেকে বাঁচতে গিয়ে যেসব ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে এবং যেসব স্বার্থ ও স্বাদ আস্বাদন থেকে নিজেকে বঞ্চিত করেছে তা সবই আসলে বড়ই লাভজনক কারবার ছিল এবং নিজেদের কর্ম সাফল্যে আনন্দিত করবে এর থেকে বড় সাফল্যে আর কি হতে পারে?

আমারা ১থেকে ৬ সাপটারের আলোচনায় সরাসরি কোরআন থেকে যা জানতে পারলাম তার সারসংক্ষেপ হচ্ছে:

এই নিখিল বিশ্বের মালিক এবং আইন প্রণয়নকারী একমাত্র আল্লাহ।

সে আইন পৃথিবীতে বাস্তবায়ণ করার জন্য “মানুষ” আল্লাহর প্রতিনিধি হিসাবে নিয়োগ প্রাপ্ত।

আল্লাহ তায়ালা পৃথিবীর জন্য আইন প্রণয়ন করে যুগ-যুগ ধরে সকল জাতির প্রতি সে আইনের কিতাব প্রেরন করেছেন। যেমন: তৌরত, ইজ্জিল, বাইবেল, কোরআন ইত্যাদি।

সে আইন সঠিক ভাবে আল্লাহর নির্দেশিত পন্তায় বাস্তবায়ণ করার জন্য লিডার বা স্কলার হিসাবে দায়িত্ব সহকারে নবী-রাসূলদের প্রেরণ করেছেন।

মুহাম্মদুর রাসূলুল্লাহ (সাঃ) সর্বশেষ নবী ও রাসূল এবং পবিত্র কোরআন পৃথিবীর সমস্ত মানব জাতির জন্য আইন বা সংবিধান হিসাবে প্রেরণ করেন।

রাসূল (সাঃ) আল্লাহর প্রেরিত কোরআন বা সংবিধান পৃথিবীতে সংঘবদ্ধ প্রচেষ্টার মাধ্যমে আল্লাহর নির্দেশিত পন্তায় বাস্তবায়ণ করে দেখিয়েছেন এবং কিয়ামত পজন্ত সমস্ত মানব জাতিকে রাসূল (সাঃ) এর প্রদর্শিত পন্তায় সে আইন মেনে চলার জন্য আল্লাহ নির্দেশ দিয়েছেন।

জীবনের সর্বক্ষেত্রে যারা আল্লাহ দেওয়া সে বিধান রাসূল (সাঃ) এর প্রদর্শিত পন্তায় মেনে নিবে না তাদেরকে চিরস্হায়ী জাহান্নামের শাস্তি ভোগ করতে হবে।

আর যারা জীবনের সর্বক্ষেত্রে আল্লাহ দেওয়া বিধান রাসূল (সাঃ) এর প্রদর্শিত পন্তায় মেনে চলবে তারা জাহান্নামের আযাব থেকে নাজাত এবং জান্নাতের অনন্ত সুখ ও অনাবিল শান্তি লাভ করবে।

সংগ্রহে মোহাম্মদ ইমরান খান।